• ই-পেপার

কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ভেনেজুয়েলা

নৌ চলাচলের স্বাধীনতা কোন বিলাসিতা নয়: শেহবাজ শরিফ

অনলাইন ডেস্ক
নৌ চলাচলের স্বাধীনতা কোন বিলাসিতা নয়: শেহবাজ শরিফ
সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথে নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, এটি এখন আর শুধু একটি সুবিধা নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অপরিহার্য প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।

শনিবার সকালে পাকিস্তান নৌবাহিনী একাডেমিতে দেওয়া এক বক্তব্যে শেহবাজ শরিফ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলের পরিবর্তিত পরিস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে যে, সমুদ্র নিরাপত্তা বিশ্ব অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যের বড় একটি অংশ সমুদ্রপথে হয়। তাই এই পথ নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখা সবার স্বার্থে প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, নৌপথে অবাধ যাতায়াতের অধিকার এবং জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা এখন আর বিলাসিতা নয়। বর্তমান বাস্তবতায় এটি পুরো বিশ্বের জন্য একটি অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাকিস্তানের নৌবাহিনীর ভূমিকাও তুলে ধরেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পাকিস্তান নৌবাহিনী শুধু দেশের সমুদ্রসীমা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছে না, একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

শেহবাজ শরিফ বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও পাকিস্তান নৌবাহিনী সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।

'প্রধান গো ব্যাক' স্লোগানে ভারতজুড়ে আন্দোলনে নামছে সিজেপি

অনলাইন ডেস্ক
'প্রধান গো ব্যাক' স্লোগানে ভারতজুড়ে আন্দোলনে নামছে সিজেপি
সংগৃহীত ছবি

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে শুক্রবার এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, কৃষক এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনকে ২৮ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিজিৎ দীপকে জানান, শিক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়ম এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই আন্দোলন শুরু হচ্ছে। তবে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি আরো জানান, সমাজকর্মী ও পরিবেশ আন্দোলনের নেতা সোনম ওয়াংচুক রোববার থেকে যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া 'প্রধান গো ব্যাক' কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। একই দিন তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করবেন। অভিজিৎ দীপকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দ্রুত পদত্যাগ করানো উচিত। তা না হলে এই ঘটনার দায় প্রধানমন্ত্রীকেও নিতে হবে। তার ভাষায়, কোনো ব্যবস্থা না নিলে মোদিকে একজন অযোগ্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখা হবে।

ডিজিটাল ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করা সিজেপি গত ২০ জুন থেকে যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। দলটির দাবি, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়মের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। দীপকে বলেন, আন্দোলন শুরুর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ধর্মেন্দ্র প্রধান এখনো কোনো দায়িত্ব স্বীকার করেননি। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের কেউ জবাবদিহি করছেন না। তার দাবি, এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এই পরিস্থিতিতে একজন শিক্ষক ও বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত সোনম ওয়াংচুককে অনশনে বসতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের সমালোচনা করে দীপকে বলেন, শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর নৈতিক দায় শিক্ষামন্ত্রীর। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী বলা হলেও প্রকৃত দায় সরকারের। তিনি বলেন, 'প্রধান গো ব্যাক' কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের কাছে জবাবদিহি চাওয়া হবে। পাশাপাশি সারা দেশে এই দাবিকে ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।  অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কৃষক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাইকে একসঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষার দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো ভুলের পরও সরকারের একজন মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করছেন না। তার মতে, জবাবদিহি ছাড়া গণতন্ত্র কার্যকর হতে পারে না। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর দায় থেকেও তিনি মুক্ত থাকতে পারবেন না। আত্মহত্যা করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানান সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা। 

কংগ্রেসের ঘোষিত আন্দোলন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দীপকে বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সব দলেরই শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাঁড়ানো উচিত। ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে আন্দোলন শেষ হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনই সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব নয়। আর শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করলেও জনরোষ পুরোপুরি কমবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থলে বিক্ষোভকারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর হামলার অভিযোগও করেন অভিজিৎ দীপকে। তার দাবি, অভিযোগ করার পরও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার নিয়ে আসা মানুষদেরও হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি এক স্বেচ্ছাসেবকের শ্বশুরবাড়িতেও লোকজন গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার মামলা করার দাবি জানান দীপকে।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাসও পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এক স্বেচ্ছাসেবক মাথায় গুরুতর আঘাত পেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ যথাযথ ধারায় মামলা করেনি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিভাবকদের উদ্দেশে অভিজিৎ দীপকে বলেন, সন্তানদের আন্দোলনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া উচিত নয়। তার মতে, এই আন্দোলন তাদের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত।

মূল্যসীমা মানলে রাশিয়ার তেল বিক্রি নয়, নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ালেন পুতিন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
মূল্যসীমা মানলে রাশিয়ার তেল বিক্রি নয়, নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ালেন পুতিন

যারা জি-৭ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মূল্যসীমা মানবেন, তাদের কাছে জ্বালানি সরবরাহ না করার মেয়াদ আরো বাড়িয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। পুতিন সেটা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। গত শুক্রবার প্রেসিডেন্টের এক নির্বাহী আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশে বলা হয়, কোনো বিদেশি কম্পানি বা ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তিতে যদি মূল্যসীমা নির্ধারণের কোনো শর্ত থাকে, তবে তাদের কাছে রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহ করা নিষিদ্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্ত ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহের সব কয়টি ধাপের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর জি৭ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার জ্বালানি কেনার ওপর মূল্যসীমা আরোপ করে। প্রথমে ক্রুড অয়েলের ব্যারেল প্রতি সর্বোচ্চ মূল্য ৬০ ডলার নির্ধারণ করা হলেও পরে তা কমিয়ে আনা হয় ৪৪ ডলার ১০ সেন্টে। বেঁধে দেওয়া এ দামের চেয়ে বেশি দামে কেউ রাশিয়ার তেল কিনলে তারা পশ্চিমা জাহাজ পরিবহন ও বীমা সুবিধা পাবেন না। জ্বালানি তেল বিক্রি থেকে রাশিয়ার আয় কমিয়ে তাদের চাপে ফেলার জন্যই পশ্চিমারা এ মূল্যসীমা আরোপ করেছিল। রাশিয়া হলো অন্যতম শীর্ষ জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ। আর শিপিং এবং বীমা সুবিধার বেশির ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে পশ্চিমা দেশগুলো। পশ্চিমারা ভেবেছিল, মূল্যসীমা বেঁধে দিলে রাশিয়া প্রবল চাপে পড়বে, তাদের আয় কমে যাবে এবং রাশিয়া পশ্চিমাদের কাছে নতি স্বীকার করবে। কিন্তু ঘটনা ঘটেছে উল্টো। রাশিয়া ব্যাপারটিকে নিয়েছে নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে। তাদের তেলের দামের সীমা বেঁধে দেবে পশ্চিমারা, এটা মানতে পারেননি পুতিন। উল্টো তিনি যারা পশ্চিমাদের মূল্যসীমা মানবেন তাদের কাছে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেন। ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বেড়েছে। সর্বশেষ বাড়ল গত শুক্রবার। রাশিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে, প্রয়োজনে তারা তেল উৎপাদন কমিয়ে দেবে, তবুও পশ্চিমাদের বেঁধে দেওয়া মূল্যসীমা মানবে না।

মূল্যসীমা আরোপের মাধ্যমে রাশিয়াকে চাপে ফেলতে চাইলেও উল্টো চাপে পড়েছে পশ্চিমারা। তাদের এখন চড়া দামে দূর থেকে তেল কিনতে হচ্ছে। মূল্যসীমার পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রাশিয়া পশ্চিমাদের উল্টো চাপে ফেলেছে। পশ্চিমারা জ্বালানি তেলের মূল্যসীমা বেঁধে দেওয়ায় শুরুতে রাশিয়ার অর্থনীতিও প্রবল চাপের মুখে পড়েছিল। তবে রাশিয়া দ্রুত কৌশল পাল্টে চাপ কমিয়ে নেয়। ইউরোপ থেকে তারা বাজার সরিয়ে এনেছে এশিয়ায়। চীন, ভারত এখন রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা। এখানে দুপক্ষেরই লাভ। রাশিয়া তার তেলের জন্য বড় বিকল্প বাজার পেয়ে গেছে। আবার চীন, ভারতও বাজারমূল্য থেকে কম দামে তেল কিনতে পারছে। তবে ছাড় দিয়েও রাশিয়া চীন-ভারতের কাছে যে দামে তেল বিক্রি করছে, তাও পশ্চিমাদের বেধে দেয়া মূল্যসীমার চেয়ে বেশি। ফলে রাশিয়া দ্রুত তাদের চাপ কমিয়ে ফেলতে পেরেছে। কিন্তু পশ্চিমাদের তেল কিনতে হচ্ছে চড়া দামেই।

আর পশ্চিমা শিপিং পরিবহন ও বিমা সুবিধাকে ফাঁকি দিতে রাশিয়া শ্যাডো ফ্লিট বা ছদ্মবেশী জাহাজের বিশাল বহর সমূদ্রে নামায়। তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামে নিবন্ধিত এসব পুরোনো ট্যাংকারের বিমা সুবিধা দিচ্ছে রাশিয়া। শ্যাডো ফ্লিটের মাধ্যমে রাশিয়া কার্যত পশ্চিমাদের মূল্যসীমার অস্ত্র, জাহাজ পরিহন ও বিমা সুবিধার অস্ত্রকে অকার্যকর করে ফেলেছে। চীন ও ভারতের সাথে রাশিয়ার বেচাকেনা হয় ইউয়ান ও রুপিতে। ফলে অস্ত্র হিসেবে ডলারের ধারও অনেকটা কমিয়ে আনতে পেরেছে রাশিয়া। ফলে রাশিয়াকে দুর্বল করতে পশ্চিমাদের আরোপ করা জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ মূল্যসীমা উল্টো রাশিয়াকে আরো শক্তিশীলী ও কৌশলী করেছে। তারা বিকল্প বাজার খুঁজে পেয়েছে, ডলারের ধার কমছে আর পশ্চিমাদের জ্বালানি কেনার খরচ বাড়ছে।

যুক্তরাজ্য সফরে হ্যারি-মেগান, থাকবেন রাজপরিবারের সরকারি বাসভবনে

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাজ্য সফরে হ্যারি-মেগান, থাকবেন রাজপরিবারের সরকারি বাসভবনে
সংগৃহীত ছবি

চার বছর পর আবারও যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। আগামী মাসে তারা দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাজ্য সফর করবেন। এই সফরে তারা প্রথমবারের মতো রাজপরিবারের একটি সরকারি বাসভবনে থাকবেন। ফলে রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের দূরত্ব কমতে পারে বলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যারি ও মেগানের সঙ্গে তাদের দুই সন্তানও থাকবে। তারা হলেন সাত বছর বয়সী প্রিন্স আর্চি এবং পাঁচ বছর বয়সী প্রিন্সেস লিলিবেট। ২০২২ সালের পর এটিই হবে তাদের প্রথম পারিবারিক যুক্তরাজ্য সফর। ওই বছর তারা প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্লাটিনাম জুবিলির অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আগে থেকেই হ্যারি ও মেগানকে রাজপ্রাসাদের এস্টেটের একটি সরকারি বাসভবনে থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা এত দিন সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। এবারই প্রথম তারা সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছেন। সফরের সময় তারা কিছুদিন রাজপরিবারের সরকারি বাসভবনে থাকবেন। বাকি সময় ব্যক্তিগত একটি বাসভবনে অবস্থান করবেন।

২০২০ সালে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এরপর তারা যুক্তরাজ্য ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস শুরু করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল রাজপরিবারের বাইরে থেকে স্বাধীনভাবে জীবন গড়ে তোলা। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। পরে বিভিন্ন টেলিভিশন সাক্ষাৎকার এবং হ্যারির আত্মজীবনীতে এই দম্পতি অভিযোগ করেন, ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড গণমাধ্যমের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ, পরিবারের ভেতরের জটিল সম্পর্ক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বর্ণবাদের অভিজ্ঞতা তাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

রাজপরিবার ছাড়ার পর হ্যারি কয়েকবার যুক্তরাজ্যে গেলেও পরিবারের সবাইকে নিয়ে আর সফর করেননি। ২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে তিনি ও মেগান একসঙ্গে যোগ দেন। এরপর ২০২৩ সালে রাজা তৃতীয় চার্লসের অভিষেক অনুষ্ঠানে হ্যারি একাই উপস্থিত ছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রায় ১৯ মাস পর বাবা রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেন হ্যারি। সে সময় ক্ল্যারেন্স হাউসে তারা একসঙ্গে চা পান করেন। তখন রাজা চার্লস ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ওই বৈঠকের পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বাবা-ছেলের দীর্ঘদিনের দূরত্ব কমতে শুরু করেছে। এরপরও তাদের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। তবে হ্যারির সঙ্গে তার বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের সম্পর্ক এখনো আগের মতো স্বাভাবিক হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে। সবশেষে চলতি বছরের জানুয়ারিতে একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে লন্ডনে যান হ্যারি। তিনি এবং আরো কয়েকজন ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘ডেইলি মেইল’-এর প্রকাশকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, অবৈধভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং ফোনে আড়ি পাতা হয়েছিল।

রাজপরিবারের দায়িত্ব ছাড়ার পর যুক্তরাজ্য সরকার করদাতাদের অর্থে হ্যারির জন্য দেওয়া সরকারি নিরাপত্তা সুবিধা তুলে নেয়। এরপর গত বছর বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হ্যারি বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ তিনি দেখছেন না। আসন্ন সফরে হ্যারি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে তারা যখন রাজপরিবারের সরকারি বাসভবনে থাকবেন, তখন সেখানে বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকবেন।

জুলাইয়ের এই সফরে হ্যারি ২০২৭ সালের ইনভিকটাস গেমসকে সামনে রেখে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। আগামী বছর ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে এই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়া সামরিক সদস্যদের জন্য এক দশকেরও বেশি আগে এই প্রতিযোগিতা চালু করেছিলেন হ্যারি। এ ছাড়া ইংল্যান্ডের মিডল্যান্ডস অঞ্চলে তার সমর্থিত আরো কয়েকটি সামাজিক উদ্যোগের কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন তিনি। সফর শুরু হবে লন্ডনে ইনভিকটাস গেমস-সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। সেখানে মেগানও তার সঙ্গে থাকবেন, তবে তাদের দুই সন্তান কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের ব্যক্তিগত সফরসূচিও প্রকাশ করা হয়নি।