• ই-পেপার

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে নৌকায় মার্কিন হামলা, নিহত ৩

পাকিস্তানে হামলার দাবি আফগানিস্তানের

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানে হামলার দাবি আফগানিস্তানের
ছবি : রয়টার্স।

আফগান তালেবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আফগান বাহিনী পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানায় বিমান হামলা চালিয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে এটি কাবুলের প্রথম বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ, যা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের ভেতরে থাকা কয়েকটি গোপন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়। তবে হামলাটি কিভাবে পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানের কোনো যুদ্ধবিমান না থাকলেও তাদের কাছে অন্তত ছয়টি বিমান এবং ২৩টি হেলিকপ্টার  রয়েছে। অতীতে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে ড্রোন ব্যবহারের খবরও পাওয়া গেছে।

তালেবান দাবি করেছে, এসব ঘাঁটি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের জন্য ব্যবহার করা হতো এবং অতীতের বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলার সঙ্গেও জড়িত ছিল। হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে কিছু জানানো না হলেও তালেবান বলেছে, অভিযানে নির্ধারিত প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত করা হয়েছে।

এদিকে পাকিস্তানের সামরিক ও তথ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক ক্রমেই খারাপ হয়েছে। 

ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তান পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র যোদ্ধা আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা সমস্যা তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়।

গত সপ্তাহে পাকিস্তানও আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালায়। তালেবানের দাবি, ওই হামলায় ১১ শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়। অন্যদিকে পাকিস্তান বলেছে, তাদের অভিযানে ২৬ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে।

তালেবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, আফগানিস্তান তার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে কোনো হুমকি আর সহ্য করবে না এবং প্রয়োজন হলে সব ধরনের সক্ষমতা ব্যবহার করে হুমকির উৎসকে মোকাবেলা করবে।

এক সংস্কৃতির বিতর্কে উত্তাল অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতি

শিপন আহমদ (সিডনি) অস্ট্রেলিয়া
এক সংস্কৃতির বিতর্কে উত্তাল অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতি
পলিন হ্যানসন

বহুসংস্কৃতিবাদ নাকি একক সাংস্কৃতিক পরিচয়—এই প্রশ্নে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতি। ওয়ান নেশন নেতা পলিন হ্যানসনের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকার, ধর্মীয় সংগঠন ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিশ্বের অন্যতম বহুসংস্কৃতির দেশ হিসেবে পরিচিত অস্ট্রেলিয়ায় আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে জাতীয় পরিচয়, অভিবাসন ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রশ্ন। সরকার, বিরোধী দল, ধর্মীয় সংগঠন এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের নেতারা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন।

জানা গেছে, গত ১৭ জুন ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে দেওয়া ভাষণে পলিন হ্যানসন বলেন, অস্ট্রেলিয়া বহু জাতিগোষ্ঠীর দেশ হলেও সাংস্কৃতিকভাবে ‘এক ছাতার নিচে’ থাকা উচিত। তার এ বক্তব্য ঘিরেই দেশটির রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বক্তব্যে তিনি বহুসংস্কৃতিবাদকে ‘ব্যর্থ নীতি’ হিসেবে উল্লেখ করে অস্ট্রেলিয়ার জন্য একক সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে অভিবাসন কমানো, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসবিএস বিলুপ্ত করা এবং সম্প্রচার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি।

হ্যানসনের দাবি, অস্ট্রেলিয়া বহু জাতিগোষ্ঠীর মানুষের আবাসভূমি হলেও সাংস্কৃতিকভাবে একটি অভিন্ন পরিচয় থাকা প্রয়োজন। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত বহুসংস্কৃতিবাদ নীতি সামাজিক সংহতি দুর্বল করেছে এবং জাতীয় মূল্যবোধকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ফলে বিভিন্ন সংস্কৃতিকে সমানভাবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার ফলে জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভাষণে তিনি অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে উচ্চ অভিবাসন প্রবাহ আবাসন সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। তাই অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা এবং ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তবে হ্যানসনের বক্তব্যের পরপরই এর বিরোধিতা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়ার শক্তি তার বৈচিত্র্য ও সামাজিক সম্প্রীতির মধ্যে নিহিত।

তিনি বলেন, বিভাজনের রাজনীতি দেশের মানুষের প্রকৃত সমস্যার সমাধান দিতে পারে না। বরং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতাই অস্ট্রেলিয়ার অগ্রগতির ভিত্তি।

বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও ওয়ান নেশনের প্রস্তাবগুলোর বাস্তবতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অভিবাসন ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মতো বিষয়গুলো আবারও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসছে।

এদিকে, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল এক বিবৃতিতে হ্যানসনের বক্তব্যের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটি বলেছে, আবাসন সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি কিংবা অন্যান্য অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য অভিবাসী বা মুসলিম সম্প্রদায়কে দায়ী করা বাস্তবসম্মত নয়। তাদের মতে, মুসলমানরা দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার সমাজ, অর্থনীতি ও ইতিহাসের অংশ এবং কোনো ব্যক্তি বা ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের দায় পুরো সম্প্রদায়ের ওপর চাপানো সামাজিক সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর।

সংগঠনটি আরো বলেছে, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমঅধিকার, পারস্পরিক সম্মান এবং বহুসংস্কৃতিবাদ আধুনিক অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ভিত্তি। এসব মূল্যবোধ দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টা সমাজে বিভাজন বাড়াতে পারে। 

হ্যানসনের ভাষণ চলাকালে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের ভেতরেও প্রতিবাদ দেখা যায়। একদল কর্মী ব্যানার প্রদর্শন করে তার নীতির বিরোধিতা করেন। পরে কর্তৃপক্ষ ব্যানারটি সরিয়ে দেয় এবং ঘটনাটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে পাঠানোর কথা জানায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পলিন হ্যানসনের বক্তব্য শুধু অভিবাসন নীতিকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি করেনি বরং অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ পরিচয়, সামাজিক কাঠামো এবং বহুসংস্কৃতিবাদ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। নির্বাচন সামনে রেখে এই বিতর্ক আগামী মাসগুলোতে দেশটির রাজনৈতিক আলোচনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

মুহুর্মুহু হামলা

লেবানন ছেড়ে পালাচ্ছে হাজারো মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
লেবানন ছেড়ে পালাচ্ছে হাজারো মানুষ
সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি ভয়াবহ বিমান হামলার পর নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে হাজারো বেসামরিক মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে শুরু করেছে।

সংবাদ মাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার টাইর ও সাইদা শহরের মধ্যবর্তী কাসমিয়েহ সেতু দিয়ে হাজারো লেবানিজ নাগরিক উত্তরাঞ্চলের নিরাপদ এলাকায় আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। 

এতে সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, কারণ পরিবারগুলো সম্ভাব্য আরো হামলার আশঙ্কায় নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের নেতাদের মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা হলেও দক্ষিণ লেবাননে সহিংসতা থামেনি। বরং সাম্প্রতিক হামলা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে এবং স্থিতিশীলতার আশা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও তাদের কয়েকজন সেনা সদস্য হতাহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে সংঘাত আরো বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে আন্তর্জাতিক মহলেও বাড়ছে উদ্বেগ।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চলমান সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলে নতুন মানবিক সংকটের সৃষ্টি হতে পারে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। তবু সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কাঠামোর আওতায় লেবানন থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার চুক্তির শর্ত নয় এবং আত্মরক্ষার অধিকার ইসরায়েলের থাকছে।

ইরান চুক্তির জন্য সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছেন হতাশ ট্রাম্প : মোজতবা খামেনি

অনলাইন ডেস্ক
ইরান চুক্তির জন্য সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছেন হতাশ ট্রাম্প : মোজতবা খামেনি
ছবি : রয়টার্স

সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের একদিন পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি প্রথম এই বিবৃতি দেন। 

বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে বলেন, ‘মার্কিন নেতা (ট্রাম্প) একটি চুক্তির জন্য ‘মরিয়া’ হয়েছিলেন এবং এই চুক্তি করতে তিনি ‘সব ধরনের চাপ’ দিয়েছেন।’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান খসড়া চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার দেওয়া নিজের প্রথম বিবৃতিতে মোজতবা ইরানের জনগণকে বলেন, তিনি প্রাথমিকভাবে ‘নীতিগত কারণে’ চুক্তিটির বিরোধিতা করেছিলেন। তবে রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের কাছ থেকে ‘ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষার’ আশ্বাস পাওয়ার পর অবশেষে এতে অনুমোদন দেন।

তিনি আরো বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আন্তরিক উদ্বেগ ও সদিচ্ছা থেকে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তবে অবশ্যই মার্কিন প্রেসিডেন্টই মরিয়া হয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের প্রভাব খাটিয়েছেন।’

গতকাল ১৮ জুন ট্রাম্প এবং পেজেশকিয়ান কয়েক মাসের সংঘাতের অবসান এবং বৃহত্তর আলোচনার পথ উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ প্রাথমিকভাবে স্বাক্ষর করার পর, উভয় নেতা ভার্চুয়ালি এই দলিলে স্বাক্ষর করেন।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি মেনে না নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। 

মোজতবার লিখিত বিবৃতিতে চুক্তি নিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ আলোচনার একটি বিরল চিত্র উঠে এসেছে। তিনি বলেন, ‘ইরানের প্রেসিডেন্ট তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অতিরিক্ত বা বাড়াবাড়ি দাবি তেহরান প্রত্যাখ্যান করবে।’

তিনি আরো জানান, ‘প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে বলেছেন, মার্কিন পক্ষ যদি অতিরিক্ত দাবি তোলে, তাহলে ইরান তা মেনে নেবে না।’ তিনি চুক্তিকে সমর্থন করে বলেন, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনা হলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান মেনে নেওয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতের এই আলোচনার অর্থ কোনোভাবেই শত্রুপক্ষের অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া নয়। 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি খামেনির বার্তাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার সময় ইরান তার স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তিনি বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরবর্তী আলোচনা পর্যায়ে সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা অনুসরণ করবে এবং দেশের অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু করেছে

চুক্তির প্রথম বাস্তব প্রভাবগুলো দেখা দিতে শুরু করার সময়ই মোজতবার এই মন্তব্য আসে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির চারপাশে সামুদ্রিক অবরোধ সংক্রান্ত সব অভিযান স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, এখন আর ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না।

এদিকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরানও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, জাহাজগুলোকে দ্রুত চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে এবং আগামী ৬০ দিনের জন্য প্রণালি ব্যবহার ফি মওকুফ করা হবে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই চুক্তি একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো, চূড়ান্ত সমাধান নয়। এতে দুই পক্ষ সামরিক অভিযান বন্ধে সম্মত হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।