• ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে কিউবার পর্যটন খাতে বিরাট ধাক্কা, পর্যটক কমেছে অর্ধেকের বেশি

সমঝোতাকে 'বিজয়' হিসেবে তুলে ধরছে ইরান, বাড়ছে প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক
সমঝোতাকে 'বিজয়' হিসেবে তুলে ধরছে ইরান, বাড়ছে প্রশ্ন
সংগৃহীত ছবি

ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা স্মারককে সরাসরি 'পিছু হটা' হিসেবে না দেখিয়ে বরং 'রাজনৈতিক প্রতিরোধ ও কৌশলগত বিজয়' হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। ইরানের সরকারি অবস্থান এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যাতে বোঝানো যায়- চাপের মুখে নয়, বরং নিজেদের শর্তেই এই পর্যায়ে এসেছে দেশটি। কিন্তু বাস্তবতা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই ব্যাখ্যাকে জটিল করে তুলছে।

যুদ্ধ-পরবর্তী এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে ইরান। সাম্প্রতিক সংঘাতে দেশটির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। একই সঙ্গে দেশটির ভেতরে রাজনৈতিক বিভাজনও তীব্র। ক্ষমতাসীন ইসলামি ব্যবস্থার ভেতরের একটি অংশ কয়েক মাস ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সমঝোতার বিরোধিতা করে আসছে।

এই বিভক্ত বাস্তবতার মধ্যেই তেহরান চুক্তিটিকে 'গ্রহণযোগ্য সাফল্য' হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ইতোমধ্যে চুক্তির পক্ষে ইতিবাচক বার্তা দিতে শুরু করেছে। পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ এই সমঝোতাকে চূড়ান্ত বিজয়ের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই চুক্তিকে 'সম্ভাব্য রূপান্তরকারী' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এটি পুরোপুরি কার্যকর হলে ইরানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের বড় অংশই কমে যেতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও পরিবর্তন আসতে পারে।

সরকারের এই অবস্থানের পেছনে আরেকটি বড় যুক্তি হলো- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের ঘোষিত সব লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যায়নি, দেশে সরকার পরিবর্তন ঘটানো যায়নি, এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করাও সম্ভব হয়নি।

তবে এই 'সাফল্যের বর্ণনা' ইরানের ভেতরেই সমালোচনার মুখে পড়ছে। কট্টরপন্থি রাজনৈতিক শিবিরের কিছু সদস্য এমনকি চুক্তির খসড়াকে 'মার্কিন প্রভাবাধীন কাঠামো' বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির এক ডেপুটি চেয়ারম্যানের মন্তব্য অনুযায়ী, এটি ইরানকে কার্যত ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে।

গত কয়েক মাস ধরেই পার্লামেন্টের কট্টরপন্থি অংশ, রাষ্ট্রসমর্থিত গণমাধ্যম এবং কিছু রাজনৈতিক সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান আরো জোরালো হয়েছে। তাদের প্রধান যুক্তি হলো ওয়াশিংটনকে বিশ্বাস করা যায় না, এবং অতীতের আলোচনাও কৌশলগত প্রতারণার অংশ ছিল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই কট্টর বিরোধিতা কিছুটা কমে এসেছে, যা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে ইঙ্গিত দেয় যে চুক্তিটি শীর্ষ পর্যায়ের অনুমোদন পেয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে দেশটির ভেতরে পূর্ণ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।

অর্থনৈতিক বাস্তবতাও ইরানকে আলোচনার পথে ঠেলে দিচ্ছে। দীর্ঘ যুদ্ধ, কঠোর নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সীমাবদ্ধতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকট দেশটিকে চাপের মধ্যে ফেলেছে। সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগ এখন আর রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং দ্রব্যমূল্য, আয় এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরান সরাসরি অর্থ না পেলেও নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে তারা বিপুল অর্থনৈতিক প্রবেশাধিকার পেতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তেহরান চুক্তিটিকে 'নির্ভরতা' নয়, বরং পুনর্গঠন ও বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে।

তবে আলোচনার সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলো এখনো রয়েই গেছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সীমা, যাচাই প্রক্রিয়া, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের শর্ত, এবং আঞ্চলিক ইস্যু- এসব কিছুই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে নতুন দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে রেখেছে। ইসরায়েল ও লেবাননের পরিস্থিতি, গাজা-সংক্রান্ত উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান- সব মিলিয়ে এই সমঝোতার ভবিষ্যৎ এখনো ঝুঁকির মধ্যে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই- এই সমঝোতা কি সত্যিই একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান হয়ে উঠবে, নাকি এটি কেবল আরেকটি সাময়িক বিরতি হিসেবে ইতিহাসে জায়গা নেবে।
 

গভীর সমুদ্রে নতুন গ্যাসক্ষেত্রের খোঁজ পেল মায়ানমার

অনলাইন ডেস্ক
গভীর সমুদ্রে নতুন গ্যাসক্ষেত্রের খোঁজ পেল মায়ানমার
ছবি : ইরাবতী

মায়ানমার সরকার চারটি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে আয়েয়ারওয়াদি এবং তানিনথারি রিজার্ভের ব্লকগুলোও অন্তর্ভুক্ত। সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় (এমওআই) অনুসারে, নতুন ক্ষেত্রগুলোতে সম্মিলিতভাবে আনুমানিক ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে।

যদিও এমওআই নতুন ক্ষেত্রগুলোর নাম উল্লেখ করেনি, তবে তারা জানিয়েছে, সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্রটি তানিনথারির গভীর সমুদ্র এলাকায় অবস্থিত। প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ৯৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ থাকার ৯০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। তারা আরো জানায়, নতুন আয়েয়ারওয়াদি গ্যাসক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ডিসেম্বরে বিবিসি নিউজ বার্মিজ জানায়, তানিনথারি গ্যাসক্ষেত্রের এম১৫ ব্লকে আনুমানিক ৯৪ দশমিক ৬ টিসিএফ গ্যাস আবিষ্কৃত হয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মজুদ হতে পারে। গত সোমবার সরকারের ঘোষণায় সম্ভবত এম-১৫ ব্লকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আন্দামান সাগরে তানিনথারি অঞ্চলের দক্ষিণ উপকূলের কাছে কাদান দ্বীপের পাশের এই ব্লকের আয়তন ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি।

 প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের শাসনামলে ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ সিঙ্গাপুরভিত্তিক কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান সিএফজি (কানাডিয়ান ফোরসাইট গ্রুপ) এ ব্লকের অনুসন্ধান ও উন্নয়নের নিলামে জয়ী হয়। পরে তারা রাষ্ট্রায়ত্ত মায়ানমা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজের (এমওজিই) সঙ্গে উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) স্বাক্ষর করে।

বিবিসি বার্মিজের প্রতিবেদনে সিএফজির ২০১৭ সালের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এই প্রকল্প থেকে মায়ানমারের মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশের সমান রাজস্ব আসতে পারে। ওই প্রতিবেদনে সিএফজি তখনকার বাজারদর অনুযায়ী ব্লকটির গ্যাসের মজুদের মূল্য প্রায় ২৮০ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করেছিল।

সিএফজির নেতৃত্বে রয়েছেন চীনা বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক সংনিং শেন। নতুন গ্যাস প্রকল্পটি সম্পর্কে তথ্যের জন্য ইরাবতী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং আয়েয়ারওয়াদি ও তানিনথারি অঞ্চলের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু কোনো উত্তর পায়নি।

গত বছর মায়ানমার অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজ (এমওজিই) এবং থাইল্যান্ডের গালফ পেট্রোলিয়াম মায়ানমার (জিপিএম) একটি উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এটি ছিল মায়ানমারের প্রথম নতুন অফশোর প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্পের চুক্তি।

মত্তমা উপসাগরে অবস্থিত মিন ইয়ে থু প্রকল্প (ব্লক এম-১০) নিয়ে এই চুক্তি ২০২৫ সালের ৩০ মে নেপিডোতে স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটি চালু হলে এটি মায়ানমারের সপ্তম বড় গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে যুক্ত হবে। বর্তমানে দেশের প্রধান গ্যাস প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ইয়াদানা, ইয়েতাগুন, জাওতিকা, শ্বে এবং আরো দুটি ছোট গ্যাসক্ষেত্র।

সরকার দাবি করে, এই প্রকল্পগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার উৎপাদন এবং শিল্প উৎপাদনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে সহায়তা করছে। মায়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল-গ্যাস প্রতিষ্ঠান এমওজিই দেশটির সামরিক সরকারের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। সামরিক বাহিনীকে অর্থায়নের অভিযোগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২২ সালে এবং যুক্তরাষ্ট্র ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।

থাইল্যান্ডভিত্তিক জিপিএম বর্তমানে ইয়েতাগুন গ্যাস প্রকল্প পরিচালনা করছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে মিন ইয়ে থু গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন শুরু করতে চায়। তবে অধিকার সংগঠন জাস্টিস ফর মায়ানমারের দাবি, জিপিএমের মূল কম্পানি বিভিন্ন শেল কম্পানির মাধ্যমে সামরিক সরকারকে অর্থ সহায়তা করে।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর মানবাধিকার ও নিরাপত্তা উদ্বেগে টোটাল এনার্জিস, শেভরন ও উডসাইডসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি কম্পানি মায়ানমার ছেড়ে যায়।
 

হেবরন চুক্তি বাতিলের দাবি, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে নতুন সংকটের আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
হেবরন চুক্তি বাতিলের দাবি, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে নতুন সংকটের আশঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত।

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ দাবি করেছেন, তিনি ১৯৯৭ সালের হেবরন চুক্তি বাতিল করেছেন। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বৃহত্তম শহর হেবরনে নির্মাণকাজের ওপর ফিলিস্তিনি পৌরসভার কর্তৃত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

১৯৯৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ইসরায়েল এবং প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হলো হেবরন চুক্তি। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিম তীরের হেবরন শহর থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করে ফিলিস্তিনিদের হাতে শহরের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করা।

হেবরন চুক্তির মাধ্যমে পশ্চিম তীরের হেবরন শহরটি দুটি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল। এর একটি অংশ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বেসামরিক নিয়ন্ত্রণে এবং অন্য অংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। চুক্তিটি ‘হেব্রন প্রোটোকল’ নামে পরিচিত।

স্মোট্রিচের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের ফলে হেবরনের নির্দিষ্ট এলাকায় ফিলিস্তিনি পৌরসভার নির্মাণসংক্রান্ত ক্ষমতা বাতিল বা সীমিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক আইনি পরিবর্তন বা বাস্তবায়নের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ফিলিস্তিনি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির সমালোচনা করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, হেবরন চুক্তি বাতিলের যেকোনো উদ্যোগ এলাকাটিতে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

এদিকে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এক ফিলিস্তিনি কিশোরী আহত হয়েছে এবং বেশ কিছু সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর ছোড়া গুলি ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর কাঁধে গিয়ে লাঘে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। শহরটিতে অভিযান চালানোর সময় ইসরায়েলি সেনারা গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার নিক্ষেপ করে এবং শহরের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়।

এদিকে, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা আল-লুব্বান আশারকিয়া এলাকার সড়কে চলাচলকারী বাসিন্দাদের দুটি গাড়িতে পাথর ছুড়ে হামলা চালায়। এতে গাড়িগুলোর জানালার কাচ ভেঙে যায়। এল-বিরেহ শহরেও ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান চালিয়ে বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে সাউন্ড বোমা, কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার ও গুলি ছোড়ে। এতে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল ব্যাহত হয়।

এ ছাড়া রামাল্লার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত দেইর আবু মিশাল গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি ছুড়তে ছুড়তে প্রবেশ করে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পূর্বাঞ্চলের আস-সাওয়াহিরা আল-শারকিয়া এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তারা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে, বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালায় এবং তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করে পরে এলাকা ত্যাগ করে।

এদিকে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ দাবি করেছেন, তিনি ১৯৯৭ সালের হেবরন চুক্তি বাতিল করেছেন। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বৃহত্তম শহর হেবরনে নির্মাণকাজের ওপর ফিলিস্তিনি পৌরসভার কর্তৃত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

 

মাটির নিচে মৃত্যুর ফাঁদ, মাইনের হুমকিতে ৫৮ দেশ

অনলাইন ডেস্ক
মাটির নিচে মৃত্যুর ফাঁদ, মাইনের হুমকিতে ৫৮ দেশ
ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক মঙ্গলবার বলেছেন, বিশ্বের অন্তত ৫৮টি দেশ ও অঞ্চলে অ্যান্টিপারসোনেল মাইনের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে মায়ানমার, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইউক্রেনে এসব মাইনের কারণে অনেক বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, অ্যান্টিপারসোনেল মাইন নিষিদ্ধ করার আন্তর্জাতিক চুক্তি গ্রহণের প্রায় ৩০ বছর পরও এসব বিস্ফোরক মানুষকে হত্যা ও আহত করছে। অনেক ক্ষেত্রে মাইন পুঁতে রাখার কয়েক দশক পরেও এগুলো প্রাণহানির কারণ হচ্ছে। তুর্ক আরো বলেন, সব দেশের উচিত এই অস্ত্রের উৎপাদন, ব্যবহার ও হস্তান্তর বন্ধ করা এবং ইতিমধ্যে পুঁতে রাখা মাইন অপসারণের কাজ জোরদার করা।

সরকার, এনজিও, মানবিক সংস্থা ও সুশীল সমাজের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ল্যান্ডমাইন অ্যান্ড ক্লাস্টার মুনিশন মনিটরের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ২০২৪ সালেই ল্যান্ড মাইন এবং যুদ্ধের বিস্ফোরক ধ্বংসাবশেষের কারণে অন্তত ৯৪৫ জন নিহত এবং চার হাজার ৩২৫ জন আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘যেসব হতাহতের সামরিক বা বেসামরিক পরিচয় জানা গেছে, তাদের মধ্যে ২০২৪ সালে নথিভুক্ত মোট হতাহতের প্রায় ৯০ শতাংশই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।’

২০২৪ সালে সর্বোচ্চসংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে মায়ানমারে (২০২৯), সিরিয়ায় (১০১৫), এরপর আফগানিস্তানে (৬২৪) এবং তারপরে ইউক্রেন, নাইজেরিয়া, মালি, ইয়েমেন ও বুরকিনা ফাসোতে। যেখানে প্রত্যেকটিতে ২০০-এর বেশি হতাহতের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

একটি পৃথক বিবৃতিতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু ব্যান ল্যান্ডমাইনস’ বলেছে, ২০২৫ সালে মাইন এবং ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্রসহ যুদ্ধের বিস্ফোরক ধ্বংসাবশেষের কারণে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছে। তাদের অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।

ভলকার তুর্কের দপ্তর উল্লেখ করেছে, ১৯৯৯ সাল থেকে নথিভুক্ত অ্যান্টিপারসোনেল মাইনের কারণে হওয়া সব বেসামরিক হতাহতের ৪০ শতাংশেরও বেশি শিশু। ভলকার তুর্কের দপ্তর আরো বলেছে, হত্যা ও অঙ্গহানির পাশাপাশি অ্যান্টিপারসোনেল মাইন এলাকাগুলোকে প্রবেশ-নিষিদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করে। অ্যান্টিপারসোনেল মাইন মানুষের বিভিন্ন অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করে, বাস্তুচ্যুত মানুষের নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়া বিলম্বিত করে এবং কৃষিজমি চাষাবাদের অনুপযোগী করে তোলে।

অটোয়া মাইন নিষিদ্ধকরণ কনভেনশনের সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা ১৬২ হলেও, বিপুলপরিমাণ মাইন মজুদ থাকা বেশ কিছু দেশ এখনো এই চুক্তিতে যোগ দেয়নি বলে উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক।

সম্প্রতি এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং পোল্যান্ড এই চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেন চুক্তিটির বাস্তবায়ন স্থগিত রেখেছে। তুর্ক বলেন, যেসব দেশ এখনো চুক্তিটি অনুমোদন করেনি, তাদের দ্রুত তা করা উচিত। আর যেসব দেশ চুক্তি থেকে সরে গেছে, তাদের আবার এতে যোগ দেওয়া উচিত।