• ই-পেপার

বিশেষজ্ঞদের চোখে ওটা পেনাল্টি ছিল না, সেনেগালের কোচের মত কি

‘ওয়ান লাস্ট ডান্স’ কার?

বোরহান জাবেদ
‘ওয়ান লাস্ট ডান্স’ কার?
একে-অপরের মুখোমুখি হওয়ায় আজ একজনের বিশ্বকাপ যাত্রা থামবে। ছবি : রয়টার্স

একজন কথা বলেন গোলের ভাষায়। অন্যজনের ভাষা প্রকাশের মাধ্যম পাস, ছন্দ আর খেলার নিয়ন্ত্রণ। একজনের নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে আকাশছোঁয়া লাফ কিংবা বজ্রগতির কোনো শট। অন্যজনের কথা মনে পড়লে ফুটে ওঠে নিখুঁত এক মিডফিল্ড অর্কেস্ট্রার ছবি। দুই চরিত্রের প্রথমজন পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। দ্বিতীয়জন ক্রোয়েশিয়ার মধ্যমণি লুকা মডরিচ।

শেষ ষোলোতে দুই দলের ম্যাচটি তাই শুধু দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এটি বিশ্ব ফুটবলের দুই জীবন্ত কিংবদন্তির একজনের ‘ওয়ান লাস্ট ডান্স’-এর মতো বিদায়ের বিষাদে লেখা গল্পও হয়ে উঠতে চলেছে।
দুজনের বয়সই ৪০ ছাড়িয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম ৪০ বছরের বেশি বয়সী দুই আউটফিল্ড ফুটবলার (গোলকিপার নন এমন ফুটবলার) একই ম্যাচে মুখোমুখি হবেন।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ৪০ পেরিয়ে বিশ্বকাপ খেলার কীর্তি ছিল শুধু ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলার। সেই বিরল তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন রোনালদো ও মডরিচ। বয়সের সীমা পেরিয়ে তাঁরা যেন প্রমাণ করছেন, কিংবদন্তিদের ক্যালেন্ডার অন্য নিয়মে চলে।
তবে শেষ ষোলোতে পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া মহারণের আগে দুই তারকাকে নিয়ে কানাঘুষাও আছে। এর বড় অংশ জুড়ে যে প্রশ্নটি দেয়ালে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, সেটি হচ্ছে—দুজন এই মুহূর্তে দলের জন্য কতটা কার্যকর? ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে রোনালদোর এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়েছিল সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হয়েই।

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোলে তা কিছুটা দমানো গিয়েছিল বটে। তবে কলম্বিয়ার বিপক্ষে রোনালদোর ফের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স সমালোচনা নতুন করে বেগবানও করেছে। ‘আমি ২৩ বছর ধরে পেশাদার ফুটবল খেলছি। যখনই কিছু খারাপ হয়, তখনই বলা হয়, ক্রিস্তিয়ানো শেষ, সে বুড়িয়ে গেছে’—এ কথায় রোনালদো অবশ্য বুঝিয়ে দিয়েছেন যে ‘আউটসাইড নয়েজ’ তাঁকে বিচলিত করে না তেমন। নক আউটের বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে পর্তুগিজ সমর্থকরা তাই আশাবাদী হতেই পারেন।

11

তবু বিতর্ক থামছে না। মডরিচের ব্যাপারটা অবশ্য রোনালদোর মতো আলোচিত নয়। বরাবরের মতো নীরবতাই তাঁর সঙ্গী। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার ভরাডুবির প্রথম ম্যাচে তাঁকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঘণ্টাখানেক পরে তুলে নেন কোচ জলাতকো দালিচ। ভাবা হচ্ছিল, বয়স হয়তো এবার সত্যিই তাঁকে ছুঁয়ে ফেলেছে। পানামার বিপক্ষে দলের ১-০ গোলে জয়ের ম্যাচে খেলেন ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এরপর ঘানার বিপক্ষে নিকোলা ভ্লাসিচের জয়সূচক গোলে অসাধারণ অ্যাসিস্ট করে আবারও বুঝিয়ে দেন, বড় মঞ্চে তাঁর মস্তিষ্ক এখনো আগের মতোই তীক্ষ। 

মডরিচের ক্যারিয়ারকে সংখ্যায় মাপা কঠিন। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলা, ২০২২ সালে সেমিফাইনালে পৌঁছে দেওয়া—মাত্র ৪০ লাখ মানুষের একটি দেশকে ধারাবাহিকভাবে বিশ্ব ফুটবলের অভিজাতদের কাতারে তুলে আনার পেছনে সবচেয়ে বড় কারিগর তিনিই। মডরিচ কি আরেকবার পারবেন? নাকি এবার শেষ হাসিটা রোনালদোই হাসবেন! 

এবার পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্টের ভবিষ্যদ্বাণী—আর্জেন্টিনাকে হারাবে কেপ ভার্দে

ক্রীড়া ডেস্ক
এবার পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্টের ভবিষ্যদ্বাণী—আর্জেন্টিনাকে হারাবে কেপ ভার্দে
ম্যাচ জয়ের পর গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের উদ্দেশে মেসিদের ধন্যবাদজ্ঞাপন। ছবি : রয়টার্স

কেপ ভার্দের বিপক্ষে হারবে আর্জেন্টিনা। এই বাজি ধরার লোক খুব একটা পাওয়া যাবে না। কেননা শক্তি-সামর্থ্য প্রতিপক্ষের থেকে ঢের এগিয়ে আলবিসেলেস্তারা। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে তার প্রমাণ মিলছে।

৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দের বিপরীতে আর্জেন্টিনা শীর্ষে। বর্তমানে অবিশ্বাস্য ছন্দেও আছে ৩ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এবারের বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচ জিতে অপরাজিত তারা। ম্যাচের চিত্র একাই বদলে দিতে যিনি অভ্যস্ত সেই লিওনেল মেসিও আছেন দুর্দান্ত ছন্দে। ৬ গোল নিয়ে বর্তমানে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে।

এমন দুরন্ত ছন্দে থাকা আর্জেন্টিনাকে নাকি হারাবে কেপ ভার্দে। সেটিও আবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে এসে। অনেকে না করলেও বিশ্বাস করেন ঘানার ওঝা নানা কোয়াকু বনসাম। তার মতে, শেষ ৩২-এর ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে বিদায় করবে কেপ ভার্দে।’

ওঝার সুরে কথা বলেছেন কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্টও। বিবিসিকে জোসে মারিয়া নেভেস বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারে। আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামব। যখন কোনো দলের ওপর প্রত্যাশা কম থাকে; কিন্তু জয়ের ক্ষুধা থাকে প্রবল, তখন অনেক কিছুই সম্ভব।’

 

এবার আর্জেন্টিনার হার নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্টও। জোসে ম্যানুয়েল রামোস-হোর্তা বলেছেন, ‘মেসি তার প্রথম হার দেখবে। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা কেপ ভার্দের ফুটবলারদের সঙ্গে পেরে উঠতে পারবে না।’

ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ম্যানুয়েল। তিনি বলেছেন, ‘কেপ ভার্দের মানুষের শারীরিক ও মানসিক শক্তি অতুলনীয়। তাদের কঠোর খাদ্যাভ্যাসের মূল কারণ। তারা ‘কাচুপা’ খায়, যা ভুট্টা, শিম, বিভিন্ন ধরনের মাংস ও উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ অন্যান্য উপাদানের মিশ্রণে তৈরি। কঠিন প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে অসাধারণ সহনশীলতা গড়ে তুলেছে তারা।’

অন্যরা বিশ্বাস না করলেও কেপ ভার্দের জয় দেখছেন ম্যানুয়েল। তিনি বলেছেন, ‘কেপ ভার্দের ওপর কে আস্থা রাখেনি? অথবা বলা ভালো, কে-ই বা আসলে তাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছিল? তবে আমি বিশ্বাস রেখেছিলাম এবং এখনো রাখি। আমার মতে, কেপ ভার্দে ইতিমধ্যেই জিতে গেছে।’

শেষ ৩২-এর ম্যাচে আগামী ৪ জুলাই ভোর ৪টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে। ম্যাচটি হবে মায়ামি স্টেডিয়ামে।

১০ জনের দল নিয়ে বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্র

ক্রীড়া ডেস্ক
১০ জনের দল নিয়ে বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্র
ফ্রি কিকে গোল করার পর সতীর্থদের সঙ্গে টিলম্যানের উদযাপন। ছবি : রয়টার্স

নায়ক থেকে খলনায়ক হতে পারতেন ফ্লোরিয়ান বালোগান। সেটা হতে দেননি তার সতীর্থরা। উল্টো ৮২ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে জয় এনে দিয়েছেন মালিক টিলম্যান।

সান ফ্রান্সিসকোয় বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের জয়ে স্বাগতিকদের ষোলোকলা পূর্ণ হয়েছে। বিশ্বকাপের তিন আয়োজকই শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আগে মেক্সিকো ও কানাডাও পরের রাউন্ডে সুযোগ পেয়েছে।

হাসিমুখে মাঠ ছাড়ার আগে বড় ধাক্কা খেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে প্রথম গোলের নায়ক বালোগানকে হারায় তারা। এরিয়াল বল দখলের লড়াইয়ে বসনিয়ার মুহারোমোভিচের পায়ে পাড়া দেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার। ভিএআরে ফাউলের মুহূর্তটি দেখার পর শাস্তি হিসেবে বালোগানকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।

এতে করে বাকি সময় একজন কম নিয়ে খেলতে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে। তবে প্রতিপক্ষের ১০ জনের সুবিধা নিতে পারেনি বসনিয়া। অথচ, তাদের সুযোগ ছিল সমতায় ফেরার। ৪৫ মিনিটে করা বালোগানের এক গোলেই তো ততক্ষণে এগিয়ে ছিল প্রতিপক্ষ।

সমতায় তো ফিরতে পারেনি উল্টো আরেকটি গোল হজম করে বসনিয়া। ম্যাচের ৮২ মিনিটে দারুণ এক ফ্রি কিকে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় গোলটি করেন টিলম্যান। তার আগে বক্সের মধ্যে থেকে বসনিয়ার গোলরক্ষককে একা পেয়ে তার পায়ের ফাঁক গলে গোলটি করেন বালোগান। যুক্তরাষ্ট্রের স্কোর ২-০ না হয়ে আরও বাড়তে পারত। কেননা অফসাইডে তাদের ২টি গোল বাতিল হয়েছে।

রূপকথার প্রত্যাবর্তনে সেনেগালকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম

ক্রীড়া ডেস্ক
রূপকথার প্রত্যাবর্তনে সেনেগালকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম

অবিশ্বাস্য নাটকীয় এক ম্যাচের সাক্ষী হল সিয়াটল স্টেডিয়াম। ম্যাচে শুরুতে দুই গোলে এগিয়ে গিয়েছিল সেনেগাল। শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে দুই গোল শোধ করে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নেয় বেলজিয়াম।

অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে যখন টাইব্রেকারের দিকে গড়াচ্ছিল ম্যাচ তখনই ১২০ মিনিটের মাথায় বেলজিয়ামের ইউরি টিলেমান্সকে ডি বক্সে ফাউল করে বসেন সেনেগালের লামিনে কামারা। ভিএআর দেখে বিতর্কিত এক পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

ম্যাচের ১২৫ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে শেষ ষোলোয় পৌঁছে দেন টিলেমান্স।

এর আগে, প্রথমার্ধের ২৫ মিনিটে হাবিব দিয়ারার গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সেনেগাল। বিরতির পর ইসমাইলা সারের গোলে লিড ডাবল করে মানের দল।

ম্যাচ একপ্রকার যখন নিশ্চিত, শুধু জয় উদযাপনই বাকি সেনেগালের এমন সময় ৮৬ মিনিটে ১ গোল শোধ করেন রোমেলু লুকাকু। এর তিন মিনিটের মাথায় ইউরি টিলেমান্সের গোলে অবিশ্বাস্যভাবে ২-২ গোলে সমতা ফেরায় বেলজিয়াম। এরপরেই ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্র-বসনিয়া ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে খেলবে বেলজিয়াম।