ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ২০২৬ বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গোল করে ইতিহাস গড়েছেন। ৪১ বছর ১৩৮ দিন বয়সে গোল করে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়স্ক গোলদাতা হয়েছেন। আর সেই কারণেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি নাম— রজার মিলা।
ফুটবলপ্রেমীদের নতুন প্রজন্মের অনেকেই হয়তো রজার মিলাকে মাঠে খেলতে দেখেননি। কিন্তু বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার যে রেকর্ডটি আজও অটুট, সেটির মালিক এই ক্যামেরুন কিংবদন্তি।
১৯৫২ সালের ২০ মে ক্যামেরুনে জন্ম নেওয়া রজার মিলা ছিলেন আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম পথিকৃৎ। আশির দশকে ফ্রান্সের বিভিন্ন ক্লাবে খেলার পাশাপাশি জাতীয় দলের জার্সিতেও নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান তিনি।
তবে মিলাকে বিশ্ব ফুটবলে অমর করে রেখেছে ১৯৯০ ও ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ। ১৯৯০ ইতালি বিশ্বকাপে ৩৮ বছর বয়সে খেলতে নেমে চার গোল করেন তিনি এবং ক্যামেরুনকে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কর্নার ফ্ল্যাগের পাশে তার বিখ্যাত নাচের উদযাপনও সেই আসরে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতার রেকর্ডটি প্রথম গড়েন ১৯৯০ সালেই। কিন্তু চার বছর পর যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে নিজের সেই রেকর্ড নিজেই ভেঙে দেন। ১৯৯৪ সালে রাশিয়ার বিপক্ষে গোল করার সময় তার বয়স ছিল ৪২ বছর ৩৯ দিন। আজও বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত বেশি বয়সে আর কেউ গোল করতে পারেননি।
মজার ব্যাপার হলো, ১৯৮৮ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছিলেন মিলা। পরে ক্যামেরুনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পল বিয়ার অনুরোধে জাতীয় দলে ফিরে আসেন তিনি। সেই প্রত্যাবর্তনই বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম অনন্য কাহিনিতে পরিণত হয়।
রোনালদো এখন বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়সী গোলদাতা হলেও রজার মিলার রেকর্ড এখনো অনেকটাই নিরাপদ। তবে পর্তুগিজ তারকা এই বিশ্বকাপে যতবার গোল করছেন, ততবারই নতুন প্রজন্মের সামনে ফিরে আসছে ক্যামেরুনের সেই কিংবদন্তির নাম।
এদিকে রোনালদোর এই গোল আরেকটি ইতিহাসও গড়েছে। তিনি বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েছেন। ২০০৬ থেকে ২০২৬— টানা ছয় বিশ্বকাপেই জালের দেখা পেয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ বয়সী গোলদাতাদের তালিকায় এখন শীর্ষ পাঁচে আছেন রজার মিলা, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, পেপে, লিওনেল মেসি এবং সুইডেনের গুন্নার গ্রেন।




