• ই-পেপার

ব্রাজিলের বিপক্ষে খারাপ খেললেই মৃত্যু! হুমকিতে যা করে বসলেন কঙ্গোর ফুটবলার

আর্জেন্টিনার নকআউট ম্যাচের ভেন্যু ও সময়সূচী চূড়ান্ত

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনার নকআউট ম্যাচের ভেন্যু ও সময়সূচী চূড়ান্ত
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই দাপুটে জয়ে গতকাল রাতেই বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে গেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। আর আজ সকালে জর্ডান-আলজেরিয়া ম্যাচের পর আলবিসেলেস্তেদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াও নিশ্চিত।

গ্রুপ পর্বের বাধা তো পেরোনো গেল, তবে রাউন্ড অব ৩২-এ লিওনেল মেসিদের প্রতিপক্ষ কারা হচ্ছে? এই নিয়ে এখন ফুটবলবিশ্বে তুমুল জল্পনা-কল্পনা। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ সেরা হওয়ায় নকআউটে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের। এই গ্রুপে থাকা চার দল হলো– স্পেন, উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে এবং সৌদি আরব।

ইতোমধ্যে রাউন্ড অব বত্রিশের দিনক্ষণ ও ভেন্যু চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আগামী ৪ জুলাই মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন (আর্জেন্টিনা) এবং ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্স-আপ দল মুখোমুখি হবে। বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় শুরু হবে ম্যাচটি। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্য মজার ব্যাপার হলো, লিওনেল মেসি ও রদ্রিগো ডি পলের বর্তমান ক্লাব ইন্টার মায়ামির সাবেক হোম ভেন্যু এই হার্ডরক স্টেডিয়াম। ফলে ঘরের মাঠের চেনা আঙিনাতেই নকআউটের মিশন শুরু করবেন মেসিরা।

‘এইচ’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডে মুখোমুখি হবে দুই সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ে। অন্যদিকে সৌদি আরবের বিপক্ষে লড়বে কেপ ভার্দে। এই দুই ম্যাচের ফলের ওপরই পুরোপুরি নির্ভর করছে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে।

ফের বাড়তি সুবিধা? মেসির রেকর্ড গড়া গোল নিয়ে প্রশ্ন

ক্রীড়া ডেস্ক
ফের বাড়তি সুবিধা? মেসির রেকর্ড গড়া গোল নিয়ে প্রশ্ন

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগ কিংবা এফএ কাপ ফুটবল দুনিয়ায় যেখানেই চোখ রাখা যাক না কেন, ‘ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি’ বা ভিএআর যেন প্রতি সপ্তাহেই নতুন কোনো বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। এবার তো মঞ্চটা আরও বড়, ১০৪ ম্যাচের মহাকাব্যিক ফিফা বিশ্বকাপ!

বিশ্বকাপের বড় ম্যাচগুলোর প্রধান প্রধান বিতর্কিত ঘটনা, ভিএআর প্রোটোকল এবং ইএসপিএন-এর চুলচেরা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচের একটি বহুল আলোচিত ঘটনা।

সেদিন মাঠে লিওনেল মেসি যখন নিজের রেকর্ড ভাঙা বিশ্বকাপ গোলটি উদযাপন করছিলেন, তখন অস্ট্রিয়া শিবিরের চোখে-মুখে ছিল চরম হতাশা আর ক্ষোভ। তাদের দাবি ছিল, গোলের ঠিক আগের মুহূর্তে বিল্ড-আপে অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার জাভার শ্লাগারের ওপর ফাউল করেছিলেন আর্জেন্টিনার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। আর সেই ফাউল থেকেই মূলত বল কেড়ে নিয়ে গোলটি পায় আর্জেন্টিনা। তবে মাঠে থাকা মূল রেফারি অস্ট্রিয়ার সেই আবেদন নাকচ করে গোলের বাঁশি বাজান।

অন-ফিল্ড রেফারির দেওয়া গোলের সিদ্ধান্তটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে ভিএআর এবং এটিকে সম্পূর্ণ সঠিক গোল হিসেবে ঘোষণা করে।

গোল হওয়ার আগের অ্যাটাকিং ফেজটি (আক্রমণের মুহূর্ত) অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করে ভিএআর প্যানেল। তারা নিশ্চিত হন যে, গোলের বিল্ড-আপে কোনো ফাউল হয়নি। ম্যাক অ্যালিস্টার এবং শ্লাগারের মধ্যকার শারীরিক সংঘর্ষটিকে মাঠের রেফারির কোনো ‘স্পষ্ট ভুল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। আর তাই মাঠের রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউ (পিচসাইড মনিটর দেখার) দেওয়ার মতো কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পায়নি ভিএআর।

ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন এর মতে, ম্যাক অ্যালিস্টার ও শ্লাগারের মধ্যকার সেই ধাক্কাধাক্কিতে ভিএআর হস্তক্ষেপ না করে একদম সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে। কারণ, ঘটনাটি আদৌ ফাউল ছিল কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কের অবকাশ আছে।

সংঘর্ষের মুহূর্তে অস্ট্রিয়ান খেলোয়াড় শ্লাগারের পা মাটিতে শক্ত অবস্থানে ছিল না। বরং তার নিজের শরীরী মুভমেন্ট এবং ভরবেগই ম্যাক অ্যালিস্টারের দিকে ধাবিত হয়েছিল, যা আলটিমেটলি এই শারীরিক সংঘাতের অন্যতম কারণ।

চলতি বিশ্বকাপে ভিএআর-এর হস্তক্ষেপের ন্যূনতম সীমা বেশ উঁচুতে রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাঠের রেফারিং দল যখন একবার ঘটনাটিকে ফাউল না বলে ইশারা করেছে, তখন শতভাগ নিশ্চিত কোনো ভুল প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত ভিএআর-এর পক্ষে গোল বাতিলের সুপারিশ করার কোনো নিয়ম নেই।

নকআউটে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে?

ক্রীড়া ডেস্ক
নকআউটে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে?
ছবি : রয়টার্স

অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব বা শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর আজ সকালে জর্ডান-আলজেরিয়া ম্যাচের ফলাফলের পর ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাও নিশ্চিত হয়ে গেছে লিওনেল মেসিদের। গ্রুপসেরা হওয়ার পর এখন ফুটবল দুনিয়ায় তুমুল জল্পনা, রাউন্ড অব ৩২-এ কার মুখোমুখি হচ্ছে আলবিসেলেস্তেরা। 

গ্রুপ পর্বের এখনও এক ম্যাচ বাকি থাকলেও টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আর্জেন্টিনাকে লড়তে হবে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের বিরুদ্ধে। আর এই ‘এইচ’ গ্রুপেই রয়েছে স্পেন, উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে এবং সৌদি আরব। আগামী শনিবার সকাল ৬টায় এই গ্রুপের শেষ রাউন্ডে মুখোমুখি হবে স্পেন-উরুগুয়ে এবং সৌদি আরব-কেপ ভার্দে। এই দুই ম্যাচের ফলের ওপরই ঝুলে আছে মেসিদের প্রতিপক্ষের ভাগ্য।

চলুন দেখে নেওয়া যাক জটিল সব সমীকরণে আর্জেন্টিনার সামনে পড়তে পারে কোন দল—

স্পেন হবে যদি
উরুগুয়ে যদি শেষ ম্যাচে স্পেনকে হারিয়ে দেয় এবং অন্য ম্যাচে সৌদি আরব ও কেপ ভার্দে ড্র করে, তবে স্পেন রানার্সআপ হিসেবে আর্জেন্টিনার সামনে পড়বে। এমনকি উরুগুয়ে জিতলে এবং সৌদি আরব কেপ ভার্দেকে হারালেও স্প্যানিশদের রানার্সআপ হওয়ার পথ তৈরি হতে পারে।

কেপ ভার্দে হবে যদি
স্পেন যদি উরুগুয়েকে হারিয়ে দেয় এবং কেপ ভার্দে সৌদিকে হারায়, তবে স্পেন হবে গ্রুপসেরা আর কেপ ভার্দে রানার্সআপ। আবার স্পেন জিতলে এবং কেপ ভার্দে-সৌদি ম্যাচ ড্র হলেও আফ্রিকার দেশটিই হবে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ।

সৌদি আরব হবে যদি 
স্পেন উরুগুয়েকে হারালে এবং সৌদি আরব কেপ ভার্দেকে বড় ব্যবধানে হারালে রানার্সআপ হবে সৌদি। আবার স্পেন-উরুগুয়ে ম্যাচ ড্র হলে এবং সৌদি আরব কেপ ভার্দেকে হারালেও সমীকরণ একই থাকবে। সেক্ষেত্রে ২০২২ বিশ্বকাপের পর আবারও বিশ্বমঞ্চে মেসিদের সামনে পড়ার সুযোগ পাবে সৌদি।

উরুগুয়ে হবে যদি
যদি শেষ ম্যাচে উরুগুয়ে এবং কেপ ভার্দে উভয় দলই জয় তুলে নেয়, তবে রানার্সআপ নির্ধারণে আসবে গোল ব্যবধানের হিসাব। বর্তমানে দুই দলেরই গোল ব্যবধান শূন্য এবং গোল সংখ্যাও সমান (২টি করে)।

গোল ও ব্যবধান সমান থাকলে দেখা হবে ‘ফেয়ার প্লে’ বা কার্ডের হিসাব। যেখানে কেপ ভার্দের চেয়ে একটি হলুদ কার্ড কম দেখে এখন পর্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে এগিয়ে আছে উরুগুয়ে।

আবার যদি শেষ রাউন্ডের দুটি ম্যাচই ড্র হয়, তাহলেও উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দের মধ্যে গোল পার্থক্য, গোল সংখ্যা, ফেয়ার প্লে এবং শেষ পর্যন্ত ফিফা র‌্যাঙ্কিং বিবেচনা করে রানার্সআপ নির্ধারণ করা হবে।

পয়েন্ট টেবিলের বর্তমান চিত্র বলছে, আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে কেপ ভার্দে। ভোজিনহার নেতৃত্বে আফ্রিকার এই ছোট দেশটি সৌদিকে হারাতে পারলে ইতিহাস গড়ে নকআউটে মেসিদের মুখোমুখি হবে। তবে উরুগুয়ে যদি স্পেনকে স্তব্ধ করে দেয়, তবে নাটকীয়ভাবে নকআউটের শুরুতেই দেখা যেতে পারে আর্জেন্টিনা-স্পেন হাইভোল্টেজ মহারণ! সব উত্তর মিলবে আগামী শনিবার সকাল ৬ টায় গ্রুপ ‘এইচ’-এর শেষ দুটি ম্যাচের ফল হাতে পাওয়ার পর। 
 

গল্প লিখতেই থাকুক কেপ ভার্দে

জামাল ভূঁইয়া
গল্প লিখতেই থাকুক কেপ ভার্দে

বিশ্বকাপের সৌন্দর্যই হচ্ছে এখানে সব হিসাব সব সময় মেলে না। কাগজে-কলমে যারা শক্তিশালী, মাঠে তারাই সব সময় জেতে না।

প্রায় প্রতি বিশ্বকাপেই এমন কিছু দল আসে, যাদের নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয় না, কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার পর তারাই সবচেয়ে বড় চমক হয়ে ওঠে। এবারের বিশ্বকাপে আমার কাছে সেই দলটির নাম কেপ ভার্দে।

সত্যি বলতে, বিশ্বকাপ শুরুর আগে কেপ ভার্দেকে নিয়ে আমার কোনো প্রত্যাশা ছিল না। আমি ভেবেছিলাম, তারা হয়তো অভিজ্ঞতা অর্জন করতেই এসেছে।

গ্রুপে যখন স্পেন ও উরুগুয়ের মতো মতো দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে হয়েছিল, কেপ ভার্দের জন্য ম্যাচগুলো খুব কঠিন হবে। কিন্তু ফুটবল আবারও প্রমাণ করেছে, মাঠের লড়াইয়ের আগে কোনো ফল বলে দেওয়া সম্ভব নয়। দুই ম্যাচে কেপ ভার্দের দুই পয়েন্ট। অনেকের কাছে হয়তো সংখ্যাটা খুব বড় কিছু মনে না-ও হতে পারে; কিন্তু এই দুই পয়েন্টের মূল্য বুঝতে হলে দেখতে হবে তারা কাদের বিপক্ষে খেলেছে।

স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দল, যাদের বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস আছে, তাদের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে ড্র করা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। প্রথম ম্যাচের পর কেউ হয়তো বলতে পারত, এটা এক দিনের ভালো খেলা। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেও একই দৃঢ়তা দেখানোর পর আমার মনে হয়েছে, এটি আর কোনো দুর্ঘটনা নয়। এটি একটি দলের পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের ফল। আমার কাছে মনে হয়েছে, কেপ ভার্দের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলগত নৈপুণ্য।

তারা এমন কোনো দল নয়, যেখানে এক বা দুজন তারকা পুরো ম্যাচের চেহারা বদলে দেন, বরং পুরো দল একসঙ্গে লড়াই করে। সবাই নিজেদের দায়িত্ব বোঝে। মাঠে তাদের মধ্যে একটা বিশ্বাস দেখা যায়, যা অনেক বড় দলেও সব সময় দেখা যায় না। বিশেষ করে তাদের রক্ষণভাগ আমাকে মুগ্ধ করেছে। আধুনিক ফুটবলে বড় দলগুলোকে আটকানো খুব কঠিন। স্পেনের মতো দল বলের দখল রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে; কিন্তু কেপ ভার্দে অসাধারণ জমাট রক্ষণে সেই চাপ সামলেছে।

গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার কথাও আলাদা করে বলতে হবে। আমার মনে হয়েছে, এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তিনি দলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। একজন ভালো গোলরক্ষক শুধু গোল বাঁচান না, তিনি পুরো রক্ষণভাগকে আত্মবিশ্বাস দেন। ভোজিনিয়া ঠিক সেই কাজটাই করছেন। তবে উন্নতির জায়গাও আছে। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে একসময় মনে হয়েছিল, কেপ ভার্দে কিছুটা আত্মতুষ্ট হয়ে পড়েছে। এগিয়ে যাওয়ার পর কয়েক মিনিটের জন্য তাদের মনোযোগে ঘাটতি দেখা যায়। আর আন্তর্জাতিক ফুটবলে সেই সুযোগ বড় দলগুলো খুব কমই নষ্ট করে। উরুগুয়েও করেনি। ভবিষ্যতে আরো বড় সাফল্য পেতে হলে এই জায়গায় তাদের সতর্ক হতে হবে। এখন তাদের সামনে সবচেয়ে বড় সুযোগ নক আউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার। কয়েক সপ্তাহ আগেও হয়তো কেউ এই সম্ভাবনার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবেনি, কিন্তু আজ সেটা বাস্তবতা। পরের ম্যাচে তারা যদি অন্তত এক পয়েন্ট পায়, তাহলে নক আউটে যাওয়ার সুযোগ আরো উজ্জ্বল হবে। আর জয় পেলে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গল্পগুলোর একটি লিখে ফেলবে।

কেপ ভার্দের সাফল্য আমাকে আরেকটি বিষয় নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। ৪৮ দলের বিশ্বকাপ নিয়ে শুরুতে অনেক বিতর্ক ছিল। অনেকেই বলেছিল, দলের সংখ্যা বাড়লে প্রতিযোগিতার মান কমে যাবে। ছোট দলগুলো বড় ব্যবধানে হারবে। ম্যাচগুলো একপেশে হয়ে যাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যা দেখেছি, তাতে আমি অবাক হয়েছি। এই বিশ্বকাপে গোল হচ্ছে, নাটকীয়তা হচ্ছে, অঘটন ঘটছে। ছোট দলগুলো বড় দলগুলোর চোখে চোখ রেখে লড়াই করছে। দর্শক হিসেবে এর চেয়ে বেশি আর কী চাই? আমার বিশ্বাস, বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য এখানেই। এটি শুধু ট্রফি জয়ের লড়াই নয়, এটি স্বপ্ন দেখার মঞ্চও। এখানে এমন দলও নিজেদের গল্প লিখতে পারে, যাদের নিয়ে কেউ ভাবেনি। কেপ ভার্দে এখন সেই গল্পই লিখছে। তারা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে ফুটবলে নাম, ইতিহাস কিংবা বাজেট সব সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিশ্বাস, সাহস এবং দল হিসেবে লড়াই করার মানসিকতা। আর সেই কারণেই আমি বলব, কেপ ভার্দে শুধু ড্র-ই করেনি; তারা পুরো ফুটবলবিশ্বের ভালোবাসা অর্জন করেছে। যদি এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে, তাহলে এবারের বিশ্বকাপে তাদের যাত্রা আরো অনেক দূর যেতে পারে। আর সেটা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ তারা এরই মধ্যে প্রমাণ করেছে, ফুটবলে অসম্ভব বলে আসলে কিছু নেই।