ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। আর এই পুরস্কারের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যার নাম জড়িয়ে আছে, তিনি লিওনেল মেসি। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকা আবারও কি সেই সোনালি ট্রফি হাতে তুলবেন? বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন প্রশ্ন জোরালোভাবে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে ফুটবল অঙ্গনে।
বয়স ৩৮। অনেক ফুটবলারের জন্য এ সময়টা অবসরের কাছাকাছি। কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে যেন গল্পটা উল্টো। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে তিনি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন, মহানদের বয়স হয়, কিন্তু শ্রেষ্ঠত্বের শেষ হয় না।
এই হ্যাটট্রিক শুধু আর্জেন্টিনাকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেয়নি, মেসিকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের কাতারেও। জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে তিনি আরো একবার নিজের নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়।
বিশ্বকাপের আগে অবশ্য কিছু প্রশ্ন ছিল। ছয় নম্বর বিশ্বকাপ খেলতে নামা এই আর্জেন্টাইন কি এখনো আগের মতো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন? উত্তর এসেছে মাঠ থেকেই। গোল, অ্যাসিস্টের সুযোগ তৈরি, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুতেই ছিলেন আগের সেই চেনা মেসি।
শুধু জাতীয় দল নয়, ক্লাব ফুটবলেও কাটছে দারুণ সময়। ইন্টার হয়ে চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে ১৩ গোল ও ৭ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। আর আগের মৌসুমে করেছিলেন অবিশ্বাস্য ৪৩ গোল ও ২৫ অ্যাসিস্ট। বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন তিনি।
তবে ব্যালন ডি’অরের লড়াইটা সহজ হবে না। ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, নরওয়ের হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন আর্লিং হালান্ড। দুজনই গোল করেছেন প্রথম ম্যাচে। কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন মেসি, কারণ তিনি শুধু গোল করছেন না, ম্যাচের গল্পটাই বদলে দিচ্ছেন।
ব্যালন ডি’অরের ইতিহাস বলে, বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সাফল্য প্রায়ই ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলে। সেই হিসেবে আর্জেন্টিনা যদি আবারও বিশ্বকাপ জিততে পারে এবং মেসি যদি দলের নেতৃত্বে এমন পারফরম্যান্স ধরে রাখেন, তাহলে নবম ব্যালন ডি’অর তার হাতেই উঠতে পারে।
উত্তরটা অবশ্য এখনই জানা নেই। সামনে আরো অনেক ম্যাচ, অনেক নাটকীয়তা অপেক্ষা করছে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, ৩৮ বছর বয়সেও মেসি এমন ফুটবল খেলছেন, যা তাকে আবারও বিশ্বের সেরা হওয়ার আলোচনায় নিয়ে এসেছে।




