• ই-পেপার

গাইবান্ধায় বসুন্ধরা শুভসংঘের ফল উৎসবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আনন্দ

বসুন্ধরার সহায়তায় সুদিনের স্বপ্ন : প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেলেন ৩০ নারী

শিবপুর থেকে জাকারিয়া জামান
বসুন্ধরার সহায়তায় সুদিনের স্বপ্ন : প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেলেন ৩০ নারী

সামনে নতুন সেলাই মেশিন নিয়ে বসে আছেন, পাশেই রাখা আছে একটি নিমগাছের চারা। সব মিলিয়ে যেন আজ তাদের উচ্ছ্বাস বাঁধনহারা। গত তিন মাস সেলাইয়ের নানা কাজ শিখেছেন, আজ পূর্ণতা পাওয়ার দিন। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছেন একটি নতুন স্বপ্ন, সেলাই মেশিন। এই সেলাই মেশিনেই নতুন সুন্দর আগামীর স্বপ্ন বুনবেন দরিদ্র অসচ্ছল নারীরা।

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারের ৩০ জন নারীর স্বপ্ন পূরণের সারথি হয়েছে দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ। শনিবার (২০ জুন) দেশসেরা সামাজিক সংগঠন বসুন্ধরা শুভসংঘের উপজেলা শাখার আয়োজনে শিবপুর উপজেলা অডিটরিয়ামে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়েছে।

বসুন্ধরা শুভসংঘের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান মনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ইমদাদুল হক মিলন। আলোচক ছিলেন নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াছমিন, শিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হারিস রিকাবদার, শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া প্রমুখ।

স্বামী হারানোর পর তিন সন্তানকে নিয়ে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা জুলেখা আক্তার। সংসারে উপার্জনক্ষম আর কেউ না থাকায় সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, পড়াশোনার খরচ চালানো—সব কিছুই হয়ে ওঠে তার জন্য কঠিন সংগ্রাম। তবে সেই সংগ্রামে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে একটি সেলাই মেশিন। বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে তিন মাসের বিনা মূল্যের প্রশিক্ষণ শেষে হাতে পাওয়া এই মেশিনে কাজ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন জুলেখা।

জুলেখার মতো শিবপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৩০ জন অসচ্ছল নারীকে প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সেলাই মেশিন, প্রশিক্ষণের সনদ, ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা এবং বই তুলে দেওয়া হয়।

সেলাই মেশিন পেয়ে উচ্ছ্বসিত সানজিদা আক্তার বলেন, ‘আমি নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা সেলাইকাজে দক্ষ হয়েছি। এখন মেশিন হাতে পাওয়ার পর কাজ করে নিজেরা স্বাবলম্বী হতে পারব। পরিবারের হালও ধরতে পারব। বসুন্ধরা গ্রুপ ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, তাদের সুসাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।’

বসুন্ধরা শুভসংঘের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান মনির বলেন, অসচ্ছল নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেলাই মেশিনগুলো তাদের আয়মুখী কাজে যুক্ত হতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় উপকারভোগীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় কয়েক বছর ধরে গ্রামীণ দরিদ্র নারীদের টেকসই উন্নয়নে কাজ করছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। এর ধারাবাহিকতায় শিবপুরের নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেন। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের সার্বিক নির্দেশনায় দেশজুড়ে মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। নারীরা স্বাবলম্বী হলে পরিবার ও সমাজ দুটোই এগিয়ে যায়। তাই দীর্ঘদিন ধরে অসচ্ছল নারীদের দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি সেলাই মেশিন উপহার দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষার অংশ হিসেবে তাদের মধ্যে দুটি করে গাছের চারাও বিতরণ করা হয়েছে।’

সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী বলেন, ‘অসচ্ছল নারীদের কর্মমুখী করে তোলার এই উদ্যোগ মানবতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সেলাই মেশিনের মাধ্যমে নারীরা নিজেরা আয় করতে পারবেন এবং পরিবারের দায়িত্বে ভূমিকা রাখতে পারবেন।’ তিনি শিবপুরে ভবিষ্যতেও বসুন্ধরা গ্রুপের এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

একটি সেলাই মেশিন শুধু কাপড় সেলাইয়ের যন্ত্র নয়—জুলেখা কিংবা সানজিদাদের কাছে এটি নতুন জীবনের সম্ভাবনা। সেলাই মেশিনের চাকা ঘুরলেই হয়তো ঘুরে দাঁড়াবে তাদের সংসার, বদলে যাবে সন্তানদের ভবিষ্যৎ, এমনই আশা প্রকাশ করেন অতিথিরা।

লালমনিরহাটে বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের গাছের চারা বিতরণ

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
লালমনিরহাটে বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের গাছের চারা বিতরণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

সবুজে সুন্দর আগামী গড়ার প্রত্যয়ে লালমনিরহাটে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে বসুন্ধরা টিস্যু ও বসুন্ধরা শুভসংঘ।

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় দেশব্যাপী চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২০ জুন) লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের মকড়া বটগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঈদগাহ মাঠ প্রাঙ্গণে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

সকালে বিদ্যালয় ও ঈদগাহ মাঠ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে বনজ, ফলদ, ঔষধি ও ফুলের গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ লালমনিরহাট জেলা শাখার উপদেষ্টা এবং শেখ শফিউদ্দিন কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ মো. এন্তাজুর রহমান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ লালমনিরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. নাঈম রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য খায়রুল ইসলাম, পশু চিকিৎসক ডা. আশরাফুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক মাহাবুব রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক চান মিয়া, সদস্য আমির হামজা, নাহিদ আলম রাব্বি, সুমাইয়া আক্তার, রাকিব হাসান, তাসিন শাহরিয়ার রিয়াদ, রেবেকা খাতুন, দীপা রানী এবং সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সজিবসহ অন্যরা।

প্রধান অতিথি মো. এন্তাজুর রহমান বলেন, গাছ শুধু প্রকৃতির শোভা নয়, এটি মানুষের জীবন ও পরিবেশ রক্ষার অন্যতম মাধ্যম। নির্বিচারে গাছ নিধন ও বন উজাড়ের কারণে জলবায়ু আজ ভয়াবহ হুমকির মুখে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সবাইকে বনায়নে এগিয়ে আসতে হবে।

বসুন্ধরা শুভসংঘ লালমনিরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. নাঈম রহমান বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ সব সময় জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশ রক্ষা সবার দায়িত্ব। প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তা পরিচর্যা করলে সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত হলে কমবে ধর্ষণ ও নির্যাতন : শুভসংঘের আলোচনাসভায় রাবি অধ্যাপক

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত হলে কমবে ধর্ষণ ও নির্যাতন : শুভসংঘের আলোচনাসভায় রাবি অধ্যাপক
ছবি : কালের কণ্ঠ

বসুন্ধরা শুভসংঘ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ‘ধর্ষণ, বলাৎকার ও নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মমতাজ উদ্দিন একাডেমিক ভবনের ২০৬ নম্বর কক্ষে এ আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনাসভার শুরুতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন রাবি বসুন্ধরা শুভসংঘের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক আরিফ মাহমুদ এবং কার্যকরী সদস্য মিরা আক্তার।

আরিফ মাহমুদ বলেন, ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতন শুধু আইনি নয়, এটি একটি সামাজিক সমস্যা। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণসমাজকে আরো দায়িত্বশীল করে তুলতে হবে।

মিরা আক্তার বলেন, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে শুধু অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; সমাজে সম্মান, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। নারী ও শিশু নিরাপত্তায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সোচ্চার হতে হবে।

আলোচনাসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (টিএসসিসি) পরিচালক ড. মুর্শিদা ফেরদৌস বিনতে হাবীব। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক এবং সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস।

প্রধান আলোচক ড. মুর্শিদা ফেরদৌস বিনতে হাবীব বলেন, নৈতিকতার অবক্ষয়, পারিবারিক শিক্ষার ঘাটতি, সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের অন্যতম কারণ। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সব স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।

বিশেষ আলোচক অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক বলেন, সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে তরুণদের একটি অংশ অপরাধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অপরাধকে সামাজিকভাবে ঘৃণিত হিসেবে প্রতিষ্ঠা, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা জরুরি।

অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। তিনি সামাজিক প্রতিরোধের পাশাপাশি প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আরো কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর আরো সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে নিরাপদ সমাজ গড়া সম্ভব।

সভায় বসুন্ধরা শুভসংঘ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাহবুব হাসান বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।

সাধারণ সম্পাদক আলফাজ উদ্দিন টনিকের সঞ্চালনায় সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভসংঘের সদস্যরা অংশ নেন। তারা বিষয়ভিত্তিক মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতনমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বসুন্ধরা শুভসংঘ পটিয়া শাখার উদ্যোগে ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্যোগ

রানা মিত্র পটিয়া, চট্টগ্রাম
বসুন্ধরা শুভসংঘ পটিয়া শাখার উদ্যোগে ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্যোগ

তরুণ সমাজকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ পটিয়া  উপজেলা শাখার উদ্যোগে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এলাকার শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণীরা অংশগ্রহণ করেন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎকে আরো সমৃদ্ধ করার সুযোগ পান।

পুরো আয়োজনটিতে সহযোগিতায় ছিলেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি এস এম এ জুয়েল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন–বসুন্ধরা শুভসংঘের নেতৃবৃন্দের মধ্যে মো. সোলাইমান, মো. তানবির, সৈয়দ আহনাফ, জাহেদুল ইসলাম, সাইমুন ইসলাম শাকিব, মো. জাবেদ হোসেন, আব্বাস, নওরিন মুনিরা আনিকা, আফরিন গুহ, নাদিয়া, নুসরাত, পারভীন, মেহেরুন নেছা মনি, রুপ কুমার আইচ, মো. কাইয়ুমসহ শুভসংঘের বন্ধু ও স্বেচ্ছাসেবকরা।

চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি  এস এম এ জুয়েল বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন স্মার্ট বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রায় তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, যুগোপযোগী দক্ষতাও অর্জন করতে হবে। কম্পিউটার শিক্ষা বর্তমানে চাকরি, ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং এবং উচ্চশিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বসুন্ধরা শুভসংঘ সবসময় সমাজের উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে কাজ করে আসছে। আমরা চাই তরুণরা প্রযুক্তি শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলুক এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখুক।’

শুভসংঘ বন্ধু মো. সোলাইমান বলেন, ‘অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে না। তাদের জন্য এই বিনামূল্যের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রশিক্ষণ তাদের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে।’

বক্তারা বলেন, বর্তমানে প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং, ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি ও বেসরকারি চাকরি—সবখানেই কম্পিউটার জ্ঞানের প্রয়োজন রয়েছে। তাই তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে এমন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী সুমাইয়া তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা অনেকেই কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নেওয়ার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক কারণে সুযোগ পাইনি। বসুন্ধরা শুভসংঘ আমাদের জন্য বিনামূল্যে এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা কম্পিউটারের মৌলিক ব্যবহার, এমএস অফিস, ইন্টারনেট পরিচালনা, টাইপিং দক্ষতা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল টুলস সম্পর্কে জানতে পারব, যা আমাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শুভসংঘের নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, সমাজের উন্নয়নে শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে বসুন্ধরা শুভসংঘ ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তারা সমাজের বিত্তবান ও সচেতন ব্যক্তিদেরও এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের সফলতা ও দেশের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষা, মানবিক সহায়তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে সংগঠনটি আরও ব্যাপক পরিসরে কাজ করবে।