ডায়াবেটিস না থাকলেও খাবারের পর রক্তে শর্করা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ভবিষ্যতে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেই নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। খাবারের পর শরীর কীভাবে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবার (১ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।
পুষ্টিবিদ নমামি আগারওয়ালের মতে, ভাত, রুটি বা পাউরুটির মতো কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খাওয়ার পর সেগুলো ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তে মিশে যায়। তখন অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন নিঃসরণ করে, যা গ্লুকোজকে শরীরের কোষে পৌঁছে দিয়ে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে। তবে খাবারের পর যদি রক্তে শর্করার মাত্রা খুব দ্রুত বেড়ে যায়, তখন সেটিকে পোস্ট-মিল বা পোস্টপ্র্যান্ডিয়াল ব্লাড সুগার স্পাইক বলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মোটে, অনেকের খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও খাবারের পর তা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে দুপুরের খাবারের পর ঘুম ঘুম ভাব, দ্রুত ক্লান্তি, কিছুক্ষণ পরই আবার ক্ষুধা লাগা এবং মিষ্টি বা নাশতা খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘদিন এমন অবস্থা চলতে থাকলে শরীরে প্রদাহ বাড়তে পারে। এতে ফ্যাটি লিভার, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম, হৃদ্রোগের ঝুঁকি এবং ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কাও বাড়তে পারে।
এ ঝুঁকি কমাতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন। খাবারে আগে প্রোটিন ও আঁশসমৃদ্ধ সবজি খাওয়া, শুধু সাদা ভাত বা পাউরুটির মতো কার্বোহাইড্রেট না খেয়ে তার সঙ্গে ডিম, পনির, ডাল, দই বা সবজি রাখা এবং খাবারের পর ১০–১৫ মিনিট হাঁটার অভ্যাস রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞড়া জানান, প্রতিটি খাবার নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। তবে শরীরের ক্ষুধা, শক্তির মাত্রা ও ক্লান্তির মতো সংকেতগুলো বুঝে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।




