• ই-পেপার

নতুন পোশাকে পুলিশ

জুলাই আমাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, আত্মত্যাগ ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার শপথের মাস : মাসুদ সাঈদী

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই আমাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, আত্মত্যাগ ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার শপথের মাস : মাসুদ সাঈদী
পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। ছবি : সংগৃহীত

পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেছেন, ‘জুলাই আমাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, আত্মত্যাগ ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার শপথের মাস। জুলাই কেবল একটি মাসের নাম নয়, এটি দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও প্রতিরোধের প্রতীক।’

আজ বুধবার (১ জুলাই) সকালে ঢাকার একটি অডিটরিয়ামে জিয়ানগর নাগরিক ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত ‘জুলাই : বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার শপথের মাস’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট বদরুজ্জামান সোহেলের সভাপতিত্বে ও হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার রুহুল আমিন খান, প্রকৌশলী হাসান হাফিজুর রহমান, আলমগীর হোসেন, হাসানুজ্জামান প্রমুখ।

মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘জুলাইয়ের চেতনা হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নানা সময়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে এসেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় পিলখানা ট্র্যাজেডি, শাপলা চত্বরের ঘটনা, রাজনৈতিক মামলা, গ্রেপ্তার, গুম, নির্যাতন এবং বহু নেতাকর্মীর আত্মত্যাগ জাতির স্মৃতিতে অমলিন হয়ে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার সম্মানিত শহীদ পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে খুনি হাসিনা কারাগার থেকে চিকিৎসার নামে হাসপাতালে এনে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন শীর্ষ নেতা এবং বিএনপির একজন নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। এ ছাড়া বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম, খুন, নির্যাতন, পঙ্গুত্ব, কারাবরণ ও ঘরছাড়া জীবনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। যারা এসব ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং যারা জুলাই আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন—তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।’

তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই শহীদদের রক্ত, আহতদের আত্মত্যাগ এবং দীর্ঘ আন্দোলনের চেতনাকে কোনোভাবেই বিস্মৃত হওয়া যাবে না। যারা এই চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে বা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করবে, জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না।’

এমপি মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘জুলাইয়ের আত্মত্যাগের সঙ্গে গাদ্দারি বাংলার মানুষ কখনো মেনে নেবে না। শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করা এবং তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের সবার নৈতিক ও জাতীয় দায়িত্ব। ভবিষ্যতে আবার কেউ খুনি হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট হওয়ার চেষ্টা করলে তাকে বা তাদেরকেও আওয়ামী লীগের থেকেও করুণ পরিণতি বরণ করতে হবে।’

সভায় মাসুদ সাঈদী দেশের শান্তি, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

‘ম্যাংগো ডিপ্লোমেসি’

শুভেন্দু অধিকারীর জন্য আম পাঠাল বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
শুভেন্দু অধিকারীর জন্য আম পাঠাল বাংলাদেশ

প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করতে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার কাছে আম পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পৃথকভাবে রাজ্য দুটিতে ১১০০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমের চালান দুটি ভারতে যায়।

কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন এবং আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের কাছে এসব আম হস্তান্তর করা হয়েছে। শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে পাঠানো আমের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় আম্রপালি ও হাঁড়িভাঙ্গা জাতের আম।

জানা গেছে, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের জন্য ১০০টি কার্টনে ৫ কেজি করে মোট ৫০০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের জন্য ১২০টি কার্টনে ৫ কেজি করে মোট ৬০০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই মিশনের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে মোট ১১০০ কেজি আম।

এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার জন্য ১০০ কেজি করে আম বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাকি ৯০০ কেজি আম রাজ্য দুটির বিশিষ্ট ব্যক্তি, কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে বিতরণ করা হবে।

প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশের এই ‘ম্যাংগো ডিপ্লোমেসি’ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে অনলাইন প্রচারণা জোরদারের আহ্বান স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডেঙ্গু প্রতিরোধে অনলাইন প্রচারণা জোরদারের আহ্বান স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর
ছবি : কালের কণ্ঠ

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সরকার ইতোমধ্যে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জাতীয় কমিটি গঠন করেছে এবং কমিটি এ বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি অনলাইনভিত্তিক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘Improvement of Urban Public Health Preventive Services Project (IUPHPSP)’-এর আওতায় আয়োজিত ‘Workshop on Insights Dissemination of IUPHPS Project’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত ‘আইইউপিএইচপিএসপি’ একটি জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রকল্প। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য শহরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রোগ প্রতিরোধের সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা আরো শক্তিশালী করা। বিশেষ করে নগর এলাকায় প্রতিরোধমূলক জনস্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণ এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রকল্পটি কাজ করছে বলে কর্মশালায় বক্তারা জানান।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে ইতোমধ্যেই জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমি আশা করি, এই প্রকল্প এ ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পরও মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি অনলাইন প্রচারণা আরো বাড়াতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিরোধমূলক আচরণ গড়ে ওঠে।

প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি একটি পরিচ্ছন্ন শহর ও সুস্থ-সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। তার নেতৃত্বে আমরা সম্মিলিতভাবে সেই লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাব।’

কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান, এনডিসি এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জুলাইয়ে বীরত্বগাথা তুলে ধরতে মাসব্যাপী কর্মসূচি এনডিএফের

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাইয়ে বীরত্বগাথা তুলে ধরতে মাসব্যাপী কর্মসূচি এনডিএফের
সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হামলা, হুমকি ও নানা বাধা উপেক্ষা করে আহতদের চিকিৎসাসেবা, রক্ত ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করেছিলেন চিকিৎসকরা। এমনকি সরকারি পর্যায় থেকে আহতদের চিকিৎসা না দেওয়ার (নো ট্রিটমেন্ট) নির্দেশ থাকলেও নানা কৌশলে আহতদের চিকিৎসা দিয়ে বহু প্রাণ রক্ষা করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)।

সংগঠনটি বলছে, সেই বীরত্বগাথা, আত্মত্যাগ এবং মানবিক দায়িত্ববোধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই মাসব্যাপী ‘জুলাই উদযাপন’ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই অভ্যুত্থান : ইনসাফ, মেধা ও রাষ্ট্র বিনির্মাণ/রাষ্ট্র সংস্কার’ প্রতিপাদ্যে মাসব্যাপী এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় এনডিএফ। কর্মসূচির স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে—‘জুলাইয়ের আত্মত্যাগ থেকে আগামীর অঙ্গীকার’।

সংবাদ সম্মেলনে এনডিএফের অফিস সম্পাদক ডা. এ কে এম জিয়াউল হক জানান, জুলাই স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচির আওতায় গবেষণা, চিকিৎসাবিষয়ক সম্মেলন, স্মৃতিচারণ, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, তথ্যচিত্র প্রদর্শন, বিতর্ক ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ‘এনডিএফ ৩৬ জুলাই অ্যাওয়ার্ড’ প্রদানসহ নানা আয়োজন করা হবে। আগামী ৯ আগস্ট রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে দিনব্যাপী সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ আয়োজন শেষ হবে।

তিনি বলেন, এই আয়োজনের লক্ষ্য শুধু একটি অনুষ্ঠান করা নয়; বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার ও আহতদের সম্মাননা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের অবদান তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ন্যায়বিচার, মেধা, দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের চেতনা জাগ্রত করা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চিকিৎসক, নার্স, মেডিক্যাল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থী, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট এবং অ্যাম্বুলেন্সকর্মীরা জীবন ঝুঁকিতে ফেলে আহতদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। একই সময়ে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমও আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এনডিএফের সিনিয়র সহ-সভাপতি চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. এ কে এম ওয়ালিউল্লাহ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের পাশাপাশি চিকিৎসকরাও নীরবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। গুলিতে মাথার খুলি উড়ে যাওয়া, মস্তিষ্ক বাইরে বেরিয়ে আসা কিংবা ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো ভয়াবহ অবস্থায় থাকা আহতদের ঠাণ্ডা মাথায় চিকিৎসা দিয়ে অসংখ্য প্রাণ রক্ষা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু এনডিএফের উদ্যোগেই আন্দোলনের সময় আহতদের জন্য ৮৪ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীও সরবরাহ করা হয়, যাতে আহতদের চিকিৎসা ব্যাহত না হয়।

এনডিএফের সহ-সভাপতি ডা. আতিউর রহমান বলেন, আন্দোলনের সময় সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট দেখা দিলে সংগঠনের পক্ষ থেকে সেগুলো সরবরাহ করা হয়, যাতে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক ডা. নুরুদ্দিন তালুকদার দাবি করেন, সে সময় হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের অনেক সময় আহতদের পরিচয় গোপন করে চিকিৎসা দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের বলা হয়েছিল—‘নো ট্রিটমেন্ট, নো রিলিজ’। অনেক ক্ষেত্রে বাধার মুখে বলতে হয়েছে, তিনি গুলিবিদ্ধ নন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। এভাবেই নানা কৌশলে চিকিৎসা দিয়ে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।”

ডা. নুরুদ্দিন আরো বলেন, চিকিৎসকদের জন্য রোগীর জীবনই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সেই নৈতিক দায়িত্ব থেকেই এনডিএফের চিকিৎসকেরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

এনডিএফের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. আমিনুল হক খান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। সেই ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সবার।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে ধারণ করেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, মেধানির্ভর ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা থেকে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

এনডিএফের যুগ্ম সম্পাদক ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস এবং চিকিৎসকদের অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, মাসব্যাপী কর্মসূচিতে গবেষণাপত্র আহ্বান, স্মৃতিকথা সংগ্রহ, আলোকচিত্র ও তথ্যভিত্তিক প্রদর্শনী, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, শহীদ পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. উসামা রাইয়ান। সংবাদ সম্মেলনে এনডিএফের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।