• ই-পেপার

এআই বাস্তবায়নে ২৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে মাইক্রোসফট

হোয়াটসঅ্যাপে ‘ইউজার নেম’ এখনই সেট করুন, না হলে পস্তাবেন!

অনলাইন ডেস্ক
হোয়াটসঅ্যাপে ‘ইউজার নেম’ এখনই সেট করুন, না হলে পস্তাবেন!
সংগৃহীত ছবি

স্মার্টফোনের দুনিয়ায় হোয়াটসঅ্যাপ এখন আর কেবল একটি সাধারণ মেসেজিং অ্যাপ নয়, বরং এটি আমাদের ডিজিটাল পরিচয়ের একটি বড় অংশ। এতদিন আপনার ফোন নম্বরই ছিল হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু সময় বদলেছে। মেটা খুব দ্রুত নিয়ে আসছে 'ইউজার নেম' ফিচার। আপনি যদি এখনই সচেতন না হন এবং পছন্দের ইউজার নেমটি নিজের নামে রেজিস্টার করে না রাখেন, তবে পরে আপনার কাঙ্ক্ষিত নামটি অন্য কেউ নিয়ে নিতে পারে। তাই ভিড়ের আগে নিজের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিত করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

হোয়াটসঅ্যাপে কেন দ্রুত ইউজার নেম সেট করা জরুরি?

বিশ্বজুড়ে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা তিন বিলিয়নেরও বেশি। সহজ ও জনপ্রিয় নামগুলো মুহূর্তের মধ্যে দখল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। একবার আপনার পছন্দের নামটি অন্য কেউ নিয়ে নিলে আপনি আর কখনোই সেই ইউজার নেমটি ব্যবহার করতে পারবেন না। তাই নিজের ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং বা ব্যক্তিগত পরিচয় সুরক্ষিত রাখতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এই ফিচার আপনার সুরক্ষা দেবে কিভাবে?

এতদিন অপরিচিত কাউকে মেসেজ করতে গেলেই আপনার ব্যক্তিগত ফোন নম্বরটি তাদের কাছে চলে যেত। কিন্তু এই নতুন ফিচারের ফলে আপনার ফোন নম্বরটি আর প্রকাশ্যে আসবে না। অপরিচিত ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক কাজে যোগাযোগের সময় আপনি ফোন নম্বরের পরিবর্তে আপনার ইউনিক ইউজার নেমটি ব্যবহার করতে পারবেন। এটি আপনার গোপনীয়তা বজায় রাখার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ফোন নম্বরকে সুরক্ষিত রাখবে। যেহেতু ফোন নম্বর এখন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ইউপিআই এবং সরকারি নথিপত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাই নম্বর গোপন রাখা এখন সময়ের দাবি।

নতুন আপডেটে থাকছে যা

গোপনীয়তার নিশ্চয়তা : প্রথমবার কোনো মেসেজ আদান-প্রদান বা গ্রুপে যুক্ত হওয়ার সময় নম্বর গোপন থাকবে।

নিরাপত্তা কি (Security Key) : বাড়তি সুরক্ষার জন্য চার অক্ষরের একটি কি সেট করার সুযোগ থাকবে।

পেশাদারিত্ব : ফ্রিল্যান্সার বা ব্যবসায়ী যারা ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন আলাদা রাখতে চান, তাদের জন্য এটি দারুণ একটি মাধ্যম।

সুপারঅ্যাপ হিসেবে যাত্রা : হোয়াটসঅ্যাপকে একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারঅ্যাপে রূপান্তরের অংশ হিসেবে এই ফিচারটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

ইউজার নেম রিজার্ভ করার সহজ নিয়ম

আপনার অ্যাপটি যদি সর্বশেষ ভার্সনে আপডেট করা থাকে, তবে এখনই এই ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

  • হোয়াটসঅ্যাপের ‘সেটিংস’ মেন্যুতে যান।
  • এরপর ‘অ্যাকাউন্ট’ অপশনে ক্লিক করুন।
  • ‘ইউজার নেম’ সেকশনে যান।
  • আপনার পছন্দের নামটি টাইপ করুন। নাম এভেইলএবল থাকলে সেটি সাথে সাথে রিজার্ভ করে নিন।

মনে রাখবেন, হোয়াটসঅ্যাপ নিজে থেকে আপনাকে নাম সাজেস্টও করবে। যদি আপনার পছন্দের নামটি ইতিমধ্যে কেউ নিয়ে ফেলে, তবে অ্যাপের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত অন্য একটি নাম বেছে নিন।

সতর্কবার্তা

মনে রাখবেন, এটি বাধ্যতামূলক নয় তবে নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখতে এটি অপরিহার্য। যদিও এই ফিচারটি চলতি বছরের শেষের দিকে পুরোপুরি কার্যকর হবে, তবে মেটা আগে থেকেই রিজার্ভেশনের সুবিধা দিচ্ছে যাতে ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দের নামটি হাতছাড়া না করেন।

এখনই সময় নিজের ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষিত করার। দেরি করলে আপনার পছন্দের নামটি অন্য কেউ নিয়ে যাবে, তখন আক্ষেপ করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না। তাই দ্রুত সেটিংস অপশনে গিয়ে আপনার ইউজার নেমটি নিশ্চিত করে নিন।

বিবিসির অনুসন্ধান

ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের ভিডিওর বিজ্ঞাপন

অনলাইন ডেস্ক
ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের ভিডিওর বিজ্ঞাপন
ছবিঃ রয়টার্স

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামকে সাধারণত ছবি ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হলেও, বিবিসির সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধান উদ্বেগজনক একটি চিত্র সামনে এনেছে। 

বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভারতে ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে শিশু যৌন নির্যাতনের ভিডিও বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছিল। এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, যেখানে মাত্র ৯৯ ভারতীয় রুপিতে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪০ টাকা) ওই ভিডিও কেনার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছিল।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়।

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস জানায়, বিষয়টি যাচাই করতে তারা ভারতে একটি পরীক্ষামূলক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট তৈরি করে। শুরুতে অ্যাকাউন্টটিতে সাধারণ কিছু কনটেন্ট অনুসরণ করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই ফিডে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বিজ্ঞাপন আসতে শুরু করে। পরে শিশুদের যৌন নির্যাতনের ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি ও ভিডিও বিক্রির বিজ্ঞাপনও দেখা যায়।

অনুসন্ধানে প্রায় ৩০টি ভিন্ন বিজ্ঞাপন শনাক্ত করা হয়। একই সঙ্গে প্রায় ২০টি প্রাপ্তবয়স্কদের পর্নোগ্রাফিসংক্রান্ত বিজ্ঞাপনও ওই অ্যাকাউন্টে প্রদর্শিত হয়। বিজ্ঞাপনগুলোতে ‘রেপ ভিডিও’ ও ‘চাইল্ড ভিডিও’র মতো শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং সেখান থেকে ব্যবহারকারীদের টেলিগ্রামের চ্যানেলে পাঠানো হচ্ছিল।

বিবিসি একটি বিজ্ঞাপন ইনস্টাগ্রামে রিপোর্ট করলে ২৪ ঘণ্টা পর প্ল্যাটফর্মটি জানায়, সেটি তাদের কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘন করেনি। পরে বিবিসি বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য চাইলে ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা কয়েকটি বিজ্ঞাপন সরিয়ে দেয়, সংশ্লিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে এবং নীতিমালা লঙ্ঘনকারী আরো কিছু লিংক ব্লক করে।

মেটা এক বিবৃতিতে জানায়, শিশুদের যৌন শোষণ একটি ভয়াবহ অপরাধ এবং এ ধরনের কনটেন্টের বিরুদ্ধে তারা কঠোর ব্যবস্থা নেয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে তারা নিয়মিত এসব কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণ করছে। তবে কোনো প্রযুক্তিই শতভাগ নির্ভুল নয় বলেও স্বীকার করেছে তারা।

টেলিগ্রামও জানায়, ২০২৬ সালে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত ২ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি গ্রুপ ও চ্যানেল সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা যায়, অভিযোগের পর একটি চ্যানেল বন্ধ হলেও অন্য একটি চ্যানেলে একই ধরনের ভিডিও বিক্রির কার্যক্রম চলতে থাকে।

ভারতের সাবেক সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মদন লোকুর বিষয়টিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম থেকে দায় এড়াতে পারে না এবং এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

মেটার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রায়ান বোল্যান্ডও বিবিসিকে বলেন, ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে অ্যালগরিদম অনেক সময় আরো আকর্ষণীয় বা চরম ধরনের কনটেন্ট দেখানোর চেষ্টা করে। যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এর ফলে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি—প্রায় ১৯ লাখ শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অনলাইন অভিযোগ ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে পাঠানো হয়। শিশু অধিকারকর্মীদের মতে, এ ধরনের অপরাধ দমনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় জরুরি।

শুল্কে ছাড়ের আগেই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনেছিলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
শুল্কে ছাড়ের আগেই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনেছিলেন ট্রাম্প
ছবিঃ রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শুল্ক নীতিতে আংশিক ছাড় দেওয়ার ঘোষণার একদিন আগেই অ্যাপল, এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন ও অ্যালফাবেটসহ বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনেছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত তার ২০২৫ সালের বার্ষিক আর্থিক তথ্য প্রকাশে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সিএনবিসির এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি-র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল ট্রাম্প একদিনেই ৩২৭টি শেয়ার কেনেন। এটি ছিল ওই বছরে তার সবচেয়ে ব্যস্ত শেয়ার কেনার দিনগুলোর একটি। সেদিন কেনা শেয়ারগুলোর বড় অংশই ছিল বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের।

এর কয়েক দিন আগে, ২ এপ্রিল ট্রাম্প ব্যাপক আমদানি শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যাকে তিনি ‘লিবারেশন ডে’ নামে অভিহিত করেন। ওই ঘোষণার পর টানা চার দিন যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১২ শতাংশের বেশি নেমে যায় এবং বেয়ার মার্কেটের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

এর মধ্যেই ৮ এপ্রিল ট্রাম্প প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনেন। আর পর দিন ৯ এপ্রিল নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘এখন শেয়ার কেনার দারুণ সময়।’

পরে একই দিনে তিনি আগের ঘোষিত কিছু শুল্ক থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন। এরপরই বাজারে বড় উত্থান দেখা যায়। ওই দিন এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে যায়, যা ইতিহাসের অন্যতম বড় এক দিনের উত্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।

আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প অ্যাপল, এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন ও অ্যালফাবেটের প্রত্যেকটির শেয়ারে ১ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে বিনিয়োগ করেছিলেন। শুল্ক নীতিতে পরিবর্তনের ঘোষণার পর এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। উদাহরণ হিসেবে, অ্যাপলের শেয়ার একদিনেই ১৫ শতাংশের বেশি এবং এনভিডিয়ার শেয়ার প্রায় ১৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ট্রাম্পের সব বিনিয়োগ স্বাধীন তৃতীয়পক্ষের আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে। ফলে তার ব্যক্তিগতভাবে লেনদেন পরিচালনা বা স্বার্থের সংঘাতের সুযোগ নেই। ট্রাম্পও সাংবাদিকদের বলেন, তার অর্থ পরিচালনার দায়িত্ব বাইরের তহবিল ব্যবস্থাপকদের হাতে।

তবে ট্রাম্পের এই শেয়ার কেনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনলাইন ফোরাম রেডিটের ওয়ালস্ট্রিটবেটস-এ অনেক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, বাজারে বড় নীতিগত পরিবর্তনের আগে এ ধরনের বিনিয়োগ স্বাভাবিক ছিল কি না। কেউ কেউ বিষয়টিকে সম্ভাব্য বাজার প্রভাব বা ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের আশঙ্কার সঙ্গেও তুলনা করেছেন। যদিও এ বিষয়ে কোনো অনিয়মের প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

এআইচালিত ড্রোন নির্মাতা কোয়ান্টাম সিস্টেমস পেল ১২০ কোটি ডলার

অনলাইন ডেস্ক
এআইচালিত ড্রোন নির্মাতা কোয়ান্টাম সিস্টেমস পেল ১২০ কোটি ডলার
প্রতীকী ছবি

জার্মানির প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম সিস্টেমস নতুন করে ১২০ কোটি ডলার (১.২ বিলিয়ন) যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৪,৭৯৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ পেয়েছে। এই অর্থ দিয়ে কম্পানিটি এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উৎপাদন এবং গবেষণা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সিএনবিসির বরাতে এক প্রতিবেদনে কম্পানিটি এ তথ্য জানায়।

 নতুন এই বিনিয়োগের পর প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ৮০০ কোটি ডলার (৮ বিলিয়ন) যা বাংলাদেশি প্রায় ৯৮,৬২৪ কোটি টাকা হয়েছে।

কোয়ান্টাম সিস্টেমস এমন ড্রোন ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই নির্দিষ্ট কাজ করতে পারে। এসব ড্রোন স্থল, আকাশ ও সমুদ্রে নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হয়।

কম্পানিটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সহ-প্রধান নির্বাহী ফ্লোরিয়ান সাইবেল বলেন, ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হবে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর। বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও সামরিক ব্যবস্থা একসঙ্গে কাজ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সেই লক্ষ্যেই তারা নতুন প্রযুক্তি তৈরি করছেন।

কোম্পানিটি জানায়, নতুন পাওয়া অর্থ দিয়ে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো, সরবরাহব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা, মিত্র দেশগুলোতে কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং সফটওয়্যার ও এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হবে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে এআইচালিত ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও সামরিক সফটওয়্যার তৈরিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিলরুম জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত এই খাতে ১৭৪০ কোটি ডলার যা বাংলাদেশি প্রায় ২,১৪,৫০৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। গত বছর এ খাতে মোট বিনিয়োগ ছিল ১১২০ কোটি ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১,৩৮,০৭৩ কোটি টাকা। 

কোয়ান্টাম সিস্টেমসের প্রযুক্তি ইতিমধ্যে ইউক্রেনে ব্যবহার করা হচ্ছে। কম্পানিটির দাবি, ২০২৫ সালে তাদের ড্রোন ব্যবহার করে সেখানে ১৯ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে জার্মানি, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, রোমানিয়া ও বাল্টিক অঞ্চলে কম্পানিটির উৎপাদন ও কার্যক্রম রয়েছে। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে আরো দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।