• ই-পেপার

টঙ্গীতে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৬

গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

একদিন পর পরীক্ষার সুযোগ পেলেন নাটোর ও বগুড়ার ৯ এইচএসসি পরীক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক
একদিন পর পরীক্ষার সুযোগ পেলেন নাটোর ও বগুড়ার ৯ এইচএসসি পরীক্ষার্থী
সংগৃহীত ছবি

ফরম পূরণের টাকা জমা দিয়েও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছিলেন না নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থী। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের। তার তাৎক্ষণিক ও জরুরি হস্তক্ষেপে অবশেষে ওই আট শিক্ষার্থী শনিবার (৪ জুলাই) থেকে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের টাকা নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র পাননি। কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের টাকা নিলেও তা বোর্ডে জমা দেননি বলে অভিযোগ ওঠে।

সংবাদ মাধ্যম থেকে বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর নির্দেশে শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে ওই আট শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের কার্যক্রম সম্পন্ন করে। ফলে শনিবার থেকে তারা নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদদাতার সঙ্গেও কথা বলেন।

ঘটনাটি জানার পর শিক্ষামন্ত্রী নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক ও লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর নির্দেশের পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। ইতোমধ্যে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ করার পরও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুলের কারণে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার অভিযোগ আসে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে। মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই শিক্ষার্থীরও ফরম পূরণ সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনিও শনিবার থেকে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

নিখোঁজের ৩ দিন পর পরিবারের কাছে ফিরল কিশোরী

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নিখোঁজের ৩ দিন পর পরিবারের কাছে ফিরল কিশোরী
ছবি: কালের কণ্ঠ

নাটোরের লালপুর থানা পুলিশের সহায়তায় নিখোঁজ এক কিশোরী তিন দিন পর পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে।

পুলিশ জানায়, গত ৩০ জুন সন্ধ্যায় আব্দুলপুর রেলস্টেশন এলাকায় ১৪-১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়রা লালপুর থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কে হেফাজতে রাখে।

প্রাথমিকভাবে তার পরিচয় জানা না গেলেও পরে অনুসন্ধানের মাধ্যমে তার নাম রুমা খাতুন (১৪) বলে শনাক্ত করা হয়। তিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গুনবাহা গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, ভুলবশত ট্রেনে উঠে সে আব্দুলপুর রেলস্টেশনে নেমে পড়ে।

পরবর্তীতে লালপুর থানা পুলিশের যোগাযোগের মাধ্যমে তার পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে তার ভাই মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন থানায় এসে উপস্থিত হন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপস্থিতিতে কিশোরীকে তার ভাইয়ের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজটি করেছি। কিশোরীকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা সন্তুষ্ট।

গৌরীপুরে পিকআপ চালক হত্যা : বহিষ্কৃত যুবদল নেতাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
গৌরীপুরে পিকআপ চালক হত্যা : বহিষ্কৃত যুবদল নেতাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বহিষ্কৃত যুবদল নেতা সোয়েব মুন্সি। সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পিকআপ চালক ও উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি মানিক মিয়া (৪০) হত্যার অভিযোগে বহিষ্কৃত এক যুবদল নেতাসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে নিহতের স্ত্রী সেলিনা খাতুন বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও বহিষ্কৃত নেতা সোয়েব মুন্সি (টেরা সোয়েব)সহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, জমিসংক্রান্ত ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন রাতে গৌরীপুর পৌর শহরের সতিষা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মানিক মিয়াকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সোয়েব মুন্সির নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন তাকে দফায় দফায় মারধর ও নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করেন, গুরুতর আহত মানিককে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার আগে অস্ত্রের মুখে তাকে দিয়ে ‘স্বামী মাদক ব্যবসায়ী’—এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও ধারণে বাধ্য করা হয়। পরে ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে প্রচার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ জুলাই ভোরে মানিক মিয়ার মৃত্যু হয়।

ঘটনার দুই দিন পর নিহতের স্ত্রী সেলিনা খাতুন বাদী হয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

পুশ ইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ভারতে ফেরত পাঠাল বিজিবি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
পুশ ইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ভারতে ফেরত পাঠাল বিজিবি
ছবি: কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে তাদের ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।

৫২ বিজিবি বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে জুড়ীর কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিজিবি তাদের আটক করে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজন পুরুষ, সাতজন নারী এবং এক শিশু রয়েছে।

আটকের পর তাদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই করে বিজিবি। তবে কেউই বাংলাদেশের নাগরিকত্বের পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে অনুপ্রবেশের সুযোগ না দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই তাদের ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ ইনের বিষয়ে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিজিবি সব সময় সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।

এ ঘটনার পর জুড়ী সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।