ফরম পূরণের টাকা জমা দিয়েও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছিলেন না নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থী। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের। তার তাৎক্ষণিক ও জরুরি হস্তক্ষেপে অবশেষে ওই আট শিক্ষার্থী শনিবার (৪ জুলাই) থেকে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের টাকা নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র পাননি। কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের টাকা নিলেও তা বোর্ডে জমা দেননি বলে অভিযোগ ওঠে।
সংবাদ মাধ্যম থেকে বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর নির্দেশে শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে ওই আট শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের কার্যক্রম সম্পন্ন করে। ফলে শনিবার থেকে তারা নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদদাতার সঙ্গেও কথা বলেন।
ঘটনাটি জানার পর শিক্ষামন্ত্রী নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক ও লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর নির্দেশের পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। ইতোমধ্যে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ করার পরও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুলের কারণে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার অভিযোগ আসে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে। মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই শিক্ষার্থীরও ফরম পূরণ সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনিও শনিবার থেকে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।







