• ই-পেপার

নারায়ণগঞ্জ আদালতে হত্যা মামলার আসামিকে মারধর বিক্ষুব্ধ জনতার

শ্রীমঙ্গলে ১৭১তম সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উদযাপন

মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
শ্রীমঙ্গলে ১৭১তম সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উদযাপন
ছবি : কালের কণ্ঠ

‘হুল হুল হুলে হুল, ত্রিশে জুন হুলে হুল’—এই ঐতিহাসিক স্লোগানে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ১৭১তম মহান সাঁওতাল বিদ্রোহ (হুল দিবস)।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবসটি উপলক্ষে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মৌলভীবাজার জেলা সাঁওতাল সমাজ কল্যাণ পরিষদ। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে সিলেট বিভাগীয় সাঁওতাল জনগোষ্ঠী।

দিবসের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে স্থাপিত সাঁওতাল বিদ্রোহের নেতা সিধু মুর্মু ও কানু মুর্মুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয় বণিক, মৌলভীবাজার চা জনগোষ্ঠী আদিবাসী ফ্রন্টের নেতা পরিমল সিং বাড়াইক, কবি লুৎফর রহমান এবং সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী ও ইসমাইল মাহমুদ।

সাঁওতাল সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি সুজিত সাঁওতালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন সুমন সাঁওতাল, জবা সাঁওতাল, রনজিত সাঁওতাল, সমর সাঁওতাল, দয়ামনি সাঁওতাল, নরেশ সাঁওতাল, প্রদীপ সাঁওতাল, কমল সাঁওতাল, রাঙাচরণ সাঁওতাল, শ্যামল সাঁওতাল ও বিষ্ণু সাঁওতাল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দুলাল সাঁওতাল ও স্বপন মুর্মু।

বক্তারা ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন এবং জমিদার-মহাজনদের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তারা বিদ্রোহের নেতা সিধু মুর্মু, কানু মুর্মু, চাঁদ মুর্মু, ভৈরব মুর্মু এবং নারী নেত্রী ফুলমনি ও ঝানুর আত্মত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করেন। বক্তারা বলেন, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সাঁওতালদের এই সংগ্রাম আজও ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগায়।

আলোচনা সভা শেষে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাঁওতাল শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করেন। তাদের পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

শালবাড়ীর পালপাড়ায় সেই মুখরতা নেই

মো. তোফাজ্জল হোসেন, নিয়ামতপুর (নওগাঁ)
শালবাড়ীর পালপাড়ায় সেই মুখরতা নেই
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের মানিকপাটন শালবাড়ীর পালপাড়ার একটি কুমার পরিবারে। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

মৃৎশিল্পের জন্য বিখ্যাত একটি প্রাচীন জনপদ শালবাড়ী। নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার এই গ্রামে রয়েছে একটি কুমারপাড়া। কয়েক শ বছর ধরে সেখানে বসতি তাদের। বসতির বয়স যত, মৃৎপণ্য প্রস্তুতের বয়স তত। 

একটা সময় ছিল, শালবাড়ীর কুমারপাড়া মুখর থাকত কুমারদের কর্মচাঞ্চল্যে। তবে সেই দিন আর নেই। কালের বিবর্তনে চাহিদা কমে গেছে এ শিল্পের। তাই বাঁচার তাগিদে মৃৎশিল্পী বাপ-দাদার এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন, চলে গেছেন অন্য পেশায়। কেউ কেউ ধরে রাখলেও তারা নানা সমস্যায় জর্জরিত। 

মৃৎশিল্পীরা জানান, কালের বিবর্তনে প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতায়  এই শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। তাদের অনেকে বংশপরম্পরায় এ পেশায় নিয়োজিত। তাদের হাতের ছোঁয়ায় নিমিষেই তৈরি হয় সুন্দর সব মাটির পণ্য। দৃষ্টিনন্দন ফুলদানি, তৈজসপত্র, সরা, মটকা, সুরাই, পেয়াালা, পশু-পাখি, মাটির ব্যাংক ইত্যাদি। তবে এর আগের সেই জৌলুস আর নেই। 

সম্প্রতি সরেজমিন নিয়ামতপুরের শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের মানিকপাটন শালবাড়ীর পালপাড়ায় দেখা যায়, বাড়িতে বাড়িতেকাঠের তৈরি বিশেষ চাকা বা চাক। চাকে পা চালিয়ে মৃৎশিল্পীরা মাটি দিয়ে তৈরি করছেন পুতুল, ফুলের টব, হাঁড়ি পাতিলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। 

পাড়ার মৃৎশিল্পী নিপেন চন্দ্র পাল বলেন, ছোটবেলা থেকে বাপ-দাদাকে এ কাজ করতে দেখেছি। এ ব্যবসার মাধ্যমেই সংসার চলত। কিন্তু এখন সংসার আর চলে না। কোনো রকম দিন চলে যায়। তিনি বলেন, মাটি, বালু, খড় কিনতে হয়। এসব উপকরণের দাম এখন অনেক বেশি। তাই অধিকাংশ সময় দইয়ের পাতিলই তৈরি করে চলছি। বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম, তাতে এই পেশায় থেকে সংসার চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। 

একই পাড়ায় ধীরেন চন্দ্র পাল বলেন, ‘চৈত্রের শুরুতে কাজের খুব ব্যস্ততা থাকে আমাদের। বাকি সময় টিলেঢালা। তবে আগে যেমন হাতি, ঘোড়া, পুতুলসহ বাহারি জিনিসপত্র বানাতাম, এখন তা আর বানানো হয় না। খরচ বেশি, বেচাবিক্রিও নেই। তাই এখন আমরা শুধু দইয়ের পাতিলই বেশি তৈরি করি। মাঝে মধ্যে অর্ডার পেলে অন্য জিনিসপত্র তৈরি করি।’

মৃৎশিল্পী স্বপ্না বলেন, আমার বাবার বাড়িতেও এই মাটির কাজ হয়। শ্বশুরবাড়িতে এসেও এই কাজই করছি। আগে বেচাকেনা বেশি হতো, এখন আর হয় না। আগে আমি নিজেই হাঁট-বাজারে মাটির তৈরি  জিনিস বিক্রি করতাম। এখন আর চাহিদা না থাকায় যাওয়া হয় না। এখন বাড়িতেই দইয়ের হাঁড়ি তৈরি করি। এ দিয়েই কোনো রকম দিন চালাচ্ছি। 

নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. মুর্শিদা খাতুন বলেন, আমাদের অনেক পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী রয়েছে। কুমার সম্প্র্রদায় সেগুলোর একটি। প্লাস্টিকের এই যুগে তাদের উৎপাদন কমে গেছে। কেননা, মাটির পণ্যের প্রতি আধুনিক প্রজন্মের মানুষের আগ্রহ দিন দিন কমছে। তাদের বাঁচিয়ে রাখতে, ইতিহাস ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বিশেষ অনুদানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সুযোগ থাকলে স্থানীয়ভাবে আমি অবশ্যই তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

নড়াইলে মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন

নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলে মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন
ছবি : কালের কণ্ঠ

নড়াইল সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, অসৌজন্যমূলক আচরণ, মারধর, মোবাইল ফোন ভাঙচুর এবং মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. জিসানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের যদুনাথপুরে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে জিসানুর রহমান বলেন, গত রবিবার বিকেল ৩টার দিকে মাছের প্রদর্শনী প্রকল্পের বিষয়ে কথা বলতে তিনি নড়াইল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের সঙ্গে প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে গেলে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

তিনি দাবি করেন, চারটি ইউনিয়নে মাছের প্রদর্শনী প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে আবু রায়হান তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। পরে একটি প্রকল্প দেওয়া হলেও বাকি তিনটি না পাওয়ায় তিনি সেই তিনটির টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তা তাকে গালাগাল করেন।

জিসানুর রহমান আরো অভিযোগ করেন, অফিস থেকে বের হওয়ার সময় তাদের কথোপকথন মোবাইল ফোনে রেকর্ড করা হয়েছে—এমন সন্দেহে আবু রায়হান তার ফোন ছিনিয়ে নিয়ে মেঝেতে আছড়ে ভেঙে ফেলেন। পরে অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী তাকে মারধর করেন। এ সময় তার গলায় থাকা প্রায় ছয় আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন হারিয়ে যায় বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, ঘটনার প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নড়াইল সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান।

তিনি বলেন, ‘মাছের প্রদর্শনী প্রকল্পে কারা সুবিধাভোগী হবেন, তা নির্ধারণের জন্য আলাদা যাচাই-বাছাই কমিটি রয়েছে। আমি এককভাবে কাউকে এ প্রকল্প দিতে পারি না। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমার নামে মামলা করায় আমাকে বিপদে ফেলতেই তিনি এসব অভিযোগ করছেন।’

নারায়ণগঞ্জে পিস্তলসহ অস্ত্র মামলার আসামি গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে পিস্তলসহ অস্ত্র মামলার আসামি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি ম্যাগাজিন সংযুক্ত সচল পিস্তলসহ নাজির হোসেন (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ১/২ এনায়েতনগর এলাকার মিজি মেনশন সংলগ্ন একটি ইটের প্রাচীরঘেরা স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তার নাজির হোসেন মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার বেজগাঁও গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তেঁতুল গাছের শিকড়ের ভেতর লুকিয়ে রাখা একটি ম্যাগাজিন সংযুক্ত সচল পিস্তল উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই অস্ত্রসহ নাজির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের এনায়েতনগর এলাকায় আব্দুল আজিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে বেবী বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি সচল পিস্তলসহ এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।