ধনভাঙ্গা গ্রামটি পরিচিত পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে। অনেকে পাখির গ্রাম বলেও ডাকে। প্রায় তিন দশক ধরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এ গ্রামের মানুষ পাখির ডাকে ঘুমিয়ে পড়ে, আবার পাখির ডাকে জাগে।
গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে বট, নিম, তেঁতুল, আম আর বাঁশঝাড়। রয়েছে আরো নানা প্রজাতির ছোট বড় গাছ। সেসব গাছের ডালে ডালে রাতচোরা, শামুকখোল, সাদা বক, কানা বক, শঙ্খচোরার সংসার। বাসা বেঁধেছে পানকৌড়ি ও হরিয়ালের মতো পাখিও।
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, প্রায় তিন দশক ধরে বৈশাখ মাসে পাখিরা সেখানকার গাছে গাছে বাসা বাঁধে, ডিম দেয়। জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসের দিকে বাচ্চা ফোটে। বাচ্চারা বড় হয়ে উড়তে শিখলে শীতের শুরুতে তারা অন্যদিকে চলে যায়। আবার বৈশাখ মাস এলে পাখিরা এখানে ভিড় করে। তবে সব পাখি চলে যায় না। সাদা বক ও পানকৌড়ির একটি অংশ সারাবছর এখানেই থাকে। 
বাসিন্দারা আরো জানান, ধনভাঙ্গা গ্রামের মানুষ পাখিগুলোকে নিজেদের সন্তানের মতো ভালোবাসে। কেউ যেন পাখিদের বিরক্ত না করে, সে বিষয়ে তারা সবসময় সতর্ক চোখ রাখেন। প্রতিদিন ভোরে আহার সংগ্রহে বের হয়ে সন্ধ্যার আগেই পাখিগুলো তাদের নীড়ে ফেরে। পাখিদের এ সৌন্দর্য দেখতে অনেকেই ছুটে আসেন দূর-দূরান্ত থেকে।
স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন বলেন, পাখিগুলো আমাদের গ্রামকে মুখর রাখে। কেউ যেন ক্ষতি না করে, সে জন্য আমরা সবাইকে সচেতন করি। এলাকার মানুষ এখন পাখিদের অভিভাবক। অনেক সময় ঝড়ে বাসা থেকে পাখির ছানা নিচে পড়ে আহত হয়। আমরা সে ছানাকে আবার ওপরে তুলে দিই। তবে এখানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের নজরদারি থাকলে পাখিরা সঠিক চিকিৎসা পেত।
হালুয়াঘাট সদর থেকে আসা দর্শনার্থী জাকির হোসেন ও রফিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এখানে পাখিদের দেখে খুব ভালো লাগছে। এত পাখি একসঙ্গে আমরা কোথাও দেখিনি। গ্রামের মানুষ এসব পাখিকে বিরক্ত করে না, এটা খুব প্রশংসনীয়। সরকারের উচিত পাখি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহাবুবুল আলম বলেন, পাখি প্রকৃতির অনন্য সম্পদ। অতিথি পাখিরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো কারণে কোনো পাখি আঘাত পেলে এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হলে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে সেবা দেব।






