• ই-পেপার

স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, হাসপাতালের দুর্নীতিতে আপস নয় : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পুকুরে মহিষের গোসল করা দেখতে গিয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
পুকুরে মহিষের গোসল করা দেখতে গিয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বৈগ্রাম দক্ষিণপাড়া এলাকায় পুকুরে মহিষের গোসল করা দেখতে গিয়ে রোহান (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুর পরিবার সহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে উপজেলার বৈগ্রাম দক্ষিণপাড়ায় মহিষের গোসল করা দেখতে গিয়ে শিশু রোহান পুকুরে পড়ে ডুবে যায়। পরে পরিবারের লোকজনসহ স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু রোহানকে মৃত ঘোষণা করেন। পানিতে ডুবে নিহত শিশু রোহান বৈগ্রাম দক্ষিণপাড়া এলাকার হারুন রশীদের ছেলে। হারুন রশীদ পেশায় একজন মুদি দোকানদার। 

বাবা হারুন রশীদ বাড়িতে দোকানের কাজে ব্যস্ত আর মা বাড়িতে গৃহিণীর কাজ করছিল। এরমধ্যে শিশু রোহান বাড়ি থেকে বাহির হয়ে খেলতে খেলতে পুকুর পাড়ে গিয়ে মহিষের গোসল করা দেখতে থাকে। অসাবধানতাবসত শিশু রোহান পুকুরে পড়ে ডুবে যায়।

বৈগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য মো. মশিউর রহমান বকুল পরিবারের বরাত দিয়ে জানান,  দুপুর প্রায় ১২টার দিকে বৈগ্রাম দক্ষিণপাড়া ভাত ভঙ্গা কবরস্থান পুকুরে মহিষের গোসল করাচ্ছিল জনৈক ব্যক্তি। শিশু রোহান মা-বাবার অজান্তে বাড়ি থেকে বাহিরে এসে খেলতে খেলতে চলে যায় কবরস্থান পুকুর পাড়ে। সেখানে দাড়িয়ে থেকে মহিষের গোসল করা দেখতেছিল। 

অসাবধানতাবশত শিশু রোহান পুকুরে পড়ে ডুবে যায়। মা-বাবা অনেক খোঁজার পরে জানতে পারে কবরস্থান পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছে শিশু রোহানকে। মুহূর্তে সেই পুকুরে গিয়ে শিশু রোহানকে খুঁজতে শুরু করে বাবা হারুন রশীদ। পরে শিশু রোহান পানিতে ডুবে যাওয়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার দিতে শুরু করে বাবা। স্থানীয়রা তার চিৎকার শুনে দৌড়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাকিমপুর হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু রোহানকে মৃত ঘোষণা করেন। 

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,  দুপুর ১টার দিকে পুকুরে পড়ে ডুবে যাওয়া এক শিশুকে নিয়ে আসে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। তবে ধারণা করা হচ্ছে পথিমধ্যে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

ফেনীতে পৃথক জায়গায় ট্রেনে কাটা পড়ে দুজনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
ফেনীতে পৃথক জায়গায় ট্রেনে কাটা পড়ে দুজনের মৃত্যু

ফেনীতে পৃথক স্থানে ট্রেনে কাটা পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যার দিকে শহরের নাজির রোড ও সদর উপজেলার শর্শদি রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।

নিহতরা হলেন ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের মধ্যম শিলুয়া গ্রামের মৃত আলী আশরাফের স্ত্রী রেজিয়া বেগম (৬০) এবং ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের গজারিয়াকান্দি গ্রামের ইউছুফের ছেলে আবু সুফিয়ান তোরাব (২২)।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ফেনী রেলস্টেশন অতিক্রম করার পর সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে শহরের নাজির রোড এলাকায় রেজিয়া বেগম ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

অন্যদিকে, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের ফতেহপুর এলাকায় পৌঁছালে আবু সুফিয়ান তোরাব ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন।

ফেনী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমান বলেন, নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মৌলভীবাজার

দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এনসিপি নেতাকে অপহরণের অভিযোগ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এনসিপি নেতাকে অপহরণের অভিযোগ
মৌলভীবাজার এনসিপির মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হুসাইন। সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে দলের এক নেতাকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে শ্রীমঙ্গল থানায় উপস্থিত হয়ে আইনগত সহায়তা চান তিনি।

শুক্রবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে মৌলভীবাজার পুলিশ কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

শ্রীমঙ্গল থানা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এনসিপির মৌলভীবাজার জেলা শাখার মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হুসাইন থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করেন, রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে জুনেদের নেতৃত্বে দলের কয়েকজন তাকে গলায় ছুরি ধরে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে শ্রীমঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। এসময় তাকে এহসান জাকারিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ালে মেরে গুম করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের ২ নম্বর পুল এলাকায় তাকে নামিয়ে দিয়ে তারা চলে যায়।

তিনি আরো জানান, কুলাউড়ায় কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমের সফর উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ ও মতবিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, শুক্রবার সকালে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব চত্বর থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর কুলাউড়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় জেলা এনসিপির সদস্য সচিব রুহুল আমিন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়ার সঙ্গে ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি এবং এনসিপির অন্যান্য কয়েকজন নেতাকর্মীর মধ্যে দাওয়াত প্রদান, কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

কুলাউড়ায় কর্মসূচি চলাকালীন সময়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

এ ছাড়া কুলাউড়ার কর্মসূচি শেষে মৌলভীবাজার শহরের শমশেরনগর রোডে আরেক দফা এহসান জাকারিয়ার সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের কোদালিপুর এলাকার জাম্বু মিয়ার গ্যারেজের পেছন থেকে আব্দুল্লাহ আল হুসাইনকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তাকে শ্রীমঙ্গল শহরের ২ নম্বর পুল এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনাটি এনসিপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে এবং এতে দলের নিজস্ব নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ এবং অধিকতর তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

লালপুরে ইটভাটা ব্যবসায়ীর বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
লালপুরে ইটভাটা ব্যবসায়ীর বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

নাটোরের লালপুর উপজেলায় ব্রিকফিল্ডের ব্যবসায়ীর বাড়ি ঘণ্টাব্যাপী ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিনগত ভোর ৪টার দিকে উপজেলার জোতদৈবকি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

অভিযোগ অনুযায়ী, ব্রিকফিল্ড ব্যবসায়ী আব্দুল হালিমের বাড়িতে ভোর প্রায় ৪টার দিকে হামলা চালানো হয়। হামলায় নেতৃত্ব দেন দক্ষিণ লালপুর গ্রামের সানাউল্লাহর ছেলে সাকলাইন। তার সঙ্গে লোকমানের ছেলে মোহনসহ ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি অংশ নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী আব্দুল হালিম জানান, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এসময় নগদ ৩২ লাখ টাকা, প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মোট প্রায় ৫৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। হামলাকারীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

হালিমের স্ত্রী মোছা. মুন্নি বেগম অভিযোগ করেন, হামলার সময় সাকলাইন তাদের মেয়ের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। এসময় পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন বলে জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল হালিম বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা। অন্যদিকে অভিযুক্ত সাকলাইন স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং তার পরিবারের সদস্যরাও একই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে এলাকায় পরিচিত।

এ ঘটনার পেছনে পূর্ব শত্রুতা ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল বলে স্থানীয়দের একটি অংশ জানিয়েছে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাকলাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রকাশ্যে এ ধরনের হামলার ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।