• ই-পেপার

নারীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ, পাথরঘাটার ওসি প্রত্যাহার

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্বামীর পাটার আঘাতে স্ত্রী নিহত

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্বামীর পাটার আঘাতে স্ত্রী নিহত
প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পারিবারিক কলহের জেরে শিলপাটা দিয়ে স্বামীর আঘাতে স্ত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ঘাতক স্বামীকে আটক করেছে এপিবিএন পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে উখিয়া উপজেলার ১৮ নম্বর ময়নারঘোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এল-৩ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিনারা বেগম (২৯) একই এলাকার মো. আবু তাহেরের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক নানা বিষয়ে স্বামী আবু তাহের ও স্ত্রী মিনারা বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শনিবার দুপুরেও পূর্ববিরোধের জেরে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে আবু তাহের ঘরে থাকা শিলপাটা দিয়ে মিনারার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করেন। এ সময় চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে মিনারাকে ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘খবর পেয়ে এপিবিএন পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পৌঁছে মৃত অবস্থায় মিনারাকে উদ্ধার করে। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মারধরের কাজে ব্যবহৃত শিলপাটা জব্দ করা হয়। এসময় ঘটনাস্থলে জনতার হাতে আটক স্বামীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।’

উখিয়ার থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে উদ্ধার নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মিরসরাইয়ে ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের অজগর উদ্ধার, বনে অবমুক্ত

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের অজগর উদ্ধার, বনে অবমুক্ত
ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কৃষিজমির চারপাশে দেওয়া জালে আটকা পড়া ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি অজগর সাপ উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের ডাকঘর এলাকা থেকে অক্ষত অবস্থায় সাপটি উদ্ধার করেন ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশের সদস্যরা। পরে বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যানের আওতাধীন বাওয়াছড়া লেকসংলগ্ন গভীর জঙ্গলে অজগরটি অবমুক্ত করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের ডাকঘর এলাকায় কৃষিজমির চারপাশে দেওয়া জালে অজগর সাপ আটকে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশের উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের খবর দেন। সংবাদ পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে।

ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশের সদস্য নাইমুল ইসলাম নিলয় জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অক্ষত অবস্থায় অজগরটি উদ্ধার করা হয়। সাপটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ১৫ কেজি। পরে বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যানের আওতাধীন বাওয়াছড়া লেক এলাকার গভীর জঙ্গলে সাপটি অবমুক্ত করা হয়।

বড়তাকিয়া বিট কর্মকর্তা অরুণ রায় বলেন, ‘উদ্ধারকারী দলের সদস্য নাইমুল ইসলাম নিলয় একটি অজগর সাপ উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করার বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। বর্তমানে বর্ষা মৌসুম হওয়ায় খাদ্যের সন্ধানে বনাঞ্চল ছেড়ে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসতে পারে বলে ধারণা করছি।’

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে রংপুরের ২০ স্থানে একযোগে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে রংপুরের ২০ স্থানে একযোগে মানববন্ধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবিতে রংপুর জেলার ২০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি।

কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। নগরীর কাচারী বাজারে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিকল্প কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দ্রুত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়ে বাস্তবায়ন কাজ শুরুর দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

বক্তারা বলেন, তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন, জীবিকা ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিন ধরে নদীটির যথাযথ ব্যবস্থাপনা না হওয়ায় এর তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষ বন্যা, নদীভাঙন ও পানিসংকটের মতো নানা সমস্যায় ভুগছেন। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে পানি ছেড়ে দিলে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যা ও ভাঙনের কবলে পড়ে।

গাইবান্ধা সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম বলেন, ‘তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনরেখা। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নদীশাসন, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।’

রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এ টি এম আজম খান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন জনগণ সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চায়।’

গঙ্গাচড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, ‘শুধু আশ্বাসে আর কাজ হবে না। উত্তরাঞ্চলের মানুষ বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছে। নদীভাঙন, বন্যা, পানিসংকট ও কৃষি ক্ষতির স্থায়ী সমাধানে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

বক্তারা আরো বলেন, বর্ষাকালে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন ও আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নৌচলাচল ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতিও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

তাদের দাবি, সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাই দ্রুত প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

কাচারী বাজার ছাড়াও রংপুর প্রেসক্লাব, লালবাগ মোড়, ডিসি মোড়, কাউনিয়া তিস্তা সেতু এলাকা, মহিপুর তিস্তা সেতু, বুড়িরহাট বাজারসহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গঙ্গাচড়ার মহিপুর এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে মানববন্ধনে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশ থেকে বক্তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়া হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সরকারের কাছে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

দুর্গম পাহাড় থেকে অসুস্থ বম নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিল সেনাবাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্গম পাহাড় থেকে অসুস্থ বম নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিল সেনাবাহিনী
ছবি : কালের কণ্ঠ

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে স্ট্রোক করা এক বৃদ্ধাকে হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে রামকিল বম (৭৪) নামের ওই বম নারীকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়।

আজ সকালে রোয়াংছড়ির দুর্গম এলাকায় নিজ বাড়িতে আকস্মিকভাবে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন রামকিল বম। দ্রুত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়। পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চলের কারণে সড়কপথে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া অসম্ভব হওয়ায় সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়।

জরুরি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে বান্দরবান রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখান থেকে অসুস্থ নারীকে উদ্ধার করে বিকেলে চট্টগ্রাম সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালে আনার পরপরই ওই বৃদ্ধাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের সব সম্প্রদায়ের মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদান ও জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী।