কুমিল্লার লাকসামে ডাকাতদের হামলায় থানার ওসিসহ একদল পুলিশ কর্মকর্তা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ডাকাতদের ফেলে যাওয়া একটি মিনি ট্রাক থেকে ৮টি গরু উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৭ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ২টার দিকে লাকসাম উপজেলার বিজরা এলাকা এবং লালমাই উপজেলার ভূশ্চি সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে বিজরা এলাকায় টহলরত পুলিশের একটি দল সিএনজি চালিত অটোরিকশায় যাওয়ার সময় একটি ট্রাক তাদের বহনকারী অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে সড়কের পাশে ফেলে দেয়। ঘটনাস্থলে একটি গরুবোঝাই ও একটি খালি মিনি ট্রাক দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলীকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে ওসি অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে অভিযান শুরু করেন এবং আশপাশের থানাগুলোকে সতর্ক করতে বেতার বার্তা পাঠানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতদল প্রথমে বরুড়ার চন্ডীমুড়া বাজারের দিকে পালিয়ে যায়। পরে লালমাই উপজেলার বাগমারা-ভূশ্চি সড়ক দিয়ে পালানোর সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করে।
একপর্যায়ে ডাকাতদের একটি ট্রাক থেমে গেলে তারা উল্টো পুলিশের পিকআপ ভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পুলিশের গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আগুন ধরে যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ সুযোগে ডাকাতরা গরুবোঝাই ট্রাকটি ফেলে অন্য একটি গাড়িতে করে পালিয়ে যায়।
পরে পুলিশ ঢাকা মেট্রো-ন-২০-৮০৩৫ নম্বরের মিনি ট্রাকটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ট্রাকটিতে থাকা ৮টি গরুর মধ্যে ৪টি গাভী ও ৪টি বাছুর রয়েছে।
পুলিশ আরো জানায়, গরুবোঝাই ট্রাকটি নীলফামারী থেকে লাকসাম ও নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। পথে ডাকাতরা ট্রাকটির চালক ও গরুর সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তিকে নামিয়ে দিয়ে ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।
লাকসাম থানার ওসি কাজী কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, “পালিয়ে যাওয়া ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে গরুবোঝাই ট্রাকের চালক ও সঙ্গে থাকা ব্যক্তির এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।”





