• ই-পেপার

হিলিতে ৯০ বছরের বৃদ্ধ মতিউরের ঠাঁই হলো রাস্তার পাশে, দেখার কেউ নেই

শ্রীমঙ্গলে তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ শুরু কাল

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
শ্রীমঙ্গলে তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ শুরু কাল
ছবি : কালের কণ্ঠ

পর্যটন শিল্পকে আরো সমৃদ্ধ ও গতিশীল করার লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল (সিজন-২)’। আগামীকাল শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৩টায় উপজেলার ফুলছড়া চা বাগান মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করা হবে।

উৎসবের উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আক্তার। ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে যোগ দেবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্মসচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, ট্যুরিজম বোর্ডের উপ-পরিচালক মহিবুল ইসলাম এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহিবুল্লাহ আকন।

সংবাদ সম্মেলনে সালেহা বিনতে সিরাজ বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ণিল জীবনধারা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটাতেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় স্থানীয় ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী স্টলের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব পণ্য, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং সংস্কৃতি দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরবে।

১৯ জুন শুরু হওয়া এ উৎসব চলবে ২১ জুন পর্যন্ত। এ সময় মেলা প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকরা জানান, শ্রীমঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরাই এ ফেস্টিভ্যালের প্রধান উদ্দেশ্য। পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শ্রীমঙ্গলকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

তিন দিনব্যাপী উৎসবকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎসব সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

ডাকাতদের হামলায় ওসিসহ পুলিশ অল্পের জন্য রক্ষা

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
ডাকাতদের হামলায় ওসিসহ পুলিশ অল্পের জন্য রক্ষা
প্রতীকী ছবি

কুমিল্লার লাকসামে ডাকাতদের হামলায় থানার ওসিসহ একদল পুলিশ কর্মকর্তা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ডাকাতদের ফেলে যাওয়া একটি মিনি ট্রাক থেকে ৮টি গরু উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৭ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ২টার দিকে লাকসাম উপজেলার বিজরা এলাকা এবং লালমাই উপজেলার ভূশ্চি সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে বিজরা এলাকায় টহলরত পুলিশের একটি দল সিএনজি চালিত অটোরিকশায় যাওয়ার সময় একটি ট্রাক তাদের বহনকারী অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে সড়কের পাশে ফেলে দেয়। ঘটনাস্থলে একটি গরুবোঝাই ও একটি খালি মিনি ট্রাক দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলীকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে ওসি অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে অভিযান শুরু করেন এবং আশপাশের থানাগুলোকে সতর্ক করতে বেতার বার্তা পাঠানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতদল প্রথমে বরুড়ার চন্ডীমুড়া বাজারের দিকে পালিয়ে যায়। পরে লালমাই উপজেলার বাগমারা-ভূশ্চি সড়ক দিয়ে পালানোর সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করে।

একপর্যায়ে ডাকাতদের একটি ট্রাক থেমে গেলে তারা উল্টো পুলিশের পিকআপ ভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পুলিশের গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আগুন ধরে যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ সুযোগে ডাকাতরা গরুবোঝাই ট্রাকটি ফেলে অন্য একটি গাড়িতে করে পালিয়ে যায়।

পরে পুলিশ ঢাকা মেট্রো-ন-২০-৮০৩৫ নম্বরের মিনি ট্রাকটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ট্রাকটিতে থাকা ৮টি গরুর মধ্যে ৪টি গাভী ও ৪টি বাছুর রয়েছে।

পুলিশ আরো জানায়, গরুবোঝাই ট্রাকটি নীলফামারী থেকে লাকসাম ও নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। পথে ডাকাতরা ট্রাকটির চালক ও গরুর সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তিকে নামিয়ে দিয়ে ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

লাকসাম থানার ওসি কাজী কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, “পালিয়ে যাওয়া ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে গরুবোঝাই ট্রাকের চালক ও সঙ্গে থাকা ব্যক্তির এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।”

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা : নিহত ১, আহত ৫

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা : নিহত ১, আহত ৫
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় বাসচালক মিজানুর রহমান ভূঁইয়া (৫৮) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বাতিসা এলাকার বসন্তপুর রাস্তার মাথা সংলগ্ন মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মিজানুর রহমান ভূঁইয়া কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ঘোষঘর গ্রামের মৃত আবদুল আজিজের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস চৌদ্দগ্রামের বাতিসা এলাকার বসন্তপুর এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় বাসচালক মিজানুর রহমান ভূঁইয়া ও কয়েকজন যাত্রী আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক বাসচালককে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক জব্দ করেছে।

মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। নিহত ব্যক্তির মরদেহের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। দুর্ঘটনাকবলিত উভয় যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মোটরসাইকেল নিয়ে দ্বন্দ্বে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
মোটরসাইকেল নিয়ে দ্বন্দ্বে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন
বামে লাল টি-শার্ট পড়া অভিযুক্ত মোহাম্মদ রাকিব শাহরিয়ার ও ডানে মৃত সাকিব শাহরিয়ার। ছবি : সংগৃহীত

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মোটরসাইকেল নিয়ে দ্বন্দ্বে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলা পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাগুরা গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 

গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত ব্যক্তির নাম সাকিব শাহরিয়ার (২২)। অভিযুক্তের নাম মোহাম্মদ রাকিব শাহরিয়ার (১৮)। তারা ওই গ্রামের এরশাদুল হকের ছেলে ও গোবিন্দগঞ্জ বন্দরের পরিচিত শিল্পী লাইব্রেরির মালিক জিয়ার নাতি। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাতে নিজেদের বাড়িতে মোটরসাইকেল চালানো ও সেটি কার কাছে থাকবে এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে ছোট ভাই রাকিব উত্তেজিত হয়ে বড় ভাই সাকিবকে ছুরিকাঘাত করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সাকিবকে পরিবারের লোকজন প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে অবস্থা তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে থাকা গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশও কাজ করছে। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত গা-ঢাকা দিয়েছেন।