নিজের স্বপ্নের কথা শুনিয়েছেন। শিশুদেরকেও দেখিয়েছেন স্বপ্ন। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। বলেছেন, পড়াশোনা করতে। একইসঙ্গে সাহিত্য-সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় মনোনিবেশ করতে। শিশুদের আবদার মতো টি-শার্টে অটোগ্রাফ দিয়েছেন। একসঙ্গে খাবার খেয়েছেন। জানিয়েছেন, শিশুদের হাতের রান্না খাবেন।
বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীকন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের সঙ্গে শিশুদের আড্ডার কথা। প্রায় তিন ঘণ্টার এ আড্ডায় ছিল স্বপ্নের উঁকিবুকি। প্রায় ৯০ শিশু প্রধানমন্ত্রী কন্যাকে কাছে পেয়ে আপ্লুত হয়। মনোযোগ দিয়ে শিশুরা তার কথা শুনেন। শিশুরাও নানা প্রশ্ন ছুড়ে দেন।
আয়োজনটি হয় ঢাকায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কৃতি শিক্ষার্থীর সঙ্গে আড্ডা মঙ্গলবার আড্ডায় মাতেন জাইমা রহমান। গুলশানের লেকশোরে হোটেলে বেলা একটা থেকে ৪টা নাগাদ এ আড্ডা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের মেয়ে মেহভীন রহমান মুনিয়া এ আড্ডার আয়োজন করেন।
রিজার্ভ করা দুটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বাসে করে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার্থীরা কসবা ও আখাউড়া থেকে বাসে করে ঢাকায় যান। উপহার হিসেবে মুশফিকুর রহমানের দেওয়া টি-শার্ট, জুতা পরিহিত ছিল শিক্ষার্থীরা। দুই উপজেলার ইউএনও, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবকও তাদের সঙ্গে ছিলেন।
আয়োজনে থাকা একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, শুরু থেকেই বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন জাইমা রহমান। তিনি প্রতিটি শিশুর কাছ থেকে তাদের ইচ্ছার কথা জানতে চান। তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করেন যে পড়ালেখার পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়েও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। এসময় জাইমা রহমান তার ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। শিশুদের কাছে জানতে চান, তারা রান্না করতে পারেন কি-না। কয়েক শিশু হ্যাঁ বলার পর তাদের এলাকায় গেলে কি খাওয়াবে বলেও জানতে চান। শিশুরা জানায়, তারা বিরিয়ানি রান্না করে খাওয়াবে। এসময় জাইমা রহমান বিরিয়ানির সঙ্গে ইলিশ মাছ খাওয়ারও ইচ্ছা পোষণ করেন।
কথা হয় রামধননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিয়ান ওসমান রাহিনের সঙ্গে। আপ্লুত এ শিক্ষার্থী বলে, ‘আমার খুব ভালো লেগেছে। প্রধানমন্ত্রীকন্যা এত কাছে এসে আমাদের সঙ্গে গল্প করবেন ভাবতে পারিনি। ওনি আমাদেরকে বলেছেন পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করতে। বাবা-মায়ের কথা যেন মেনে চলি এ কথাও তিনি বলেছেন।’
উপস্থিত সহকারী শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস বাবলী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকন্যার সঙ্গে শিশুরা বেশ ভালো সময় কাটিয়েছে। ওনি প্রতিটা শিশুকে কাছে ডেকে তাদের কথা শুনেছেন। নিজের জীবনের কথা শুনিয়েছেন। অনেক স্বপ্নের কথা বলেছেন। শিশুদের টি-শার্টে অটোগ্রাফ দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে খাবার খেয়েছেন। প্রায় তিন ঘণ্টা সময় দিয়েছেন শিশুদেরকে।’
আখাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. দৌলত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকন্যার সঙ্গে আলোচনায় বসতে পেরে শিশুরা বেশ অনুপ্রাণিত হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবেও এটা নিয়ে বেশ আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রীকন্যা শিশু শিক্ষার্থীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং নিজের বিষয়েও শিশুদের সঙ্গে কথা বলেছেন।’
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া বলেন, ‘শিশুদের অনুপ্রেরণার জন্য এটা তো খুবই ভালো একটা উদ্যোগ। শিশুরা বেশ আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রীকন্যাও যেভাবে তাদেরকে কাছে টেনে নিয়েছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন সেটা ছিল দারুণ ব্যাপার। তিনি শিশুদেরকে বলেছেন যে আখাউড়া-কসবায় আসবেন এবং শিশুরা ওনাকে রান্না করে খাওয়াবে বলেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আসলে আমরা আশা করিনি তিনি এত বেশি সময় দেবেন। সব শিশুর কাছ থেকে কথা শুনবেন। সুযোগে আমিও আখাউড়ার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে একটা প্রেজেন্টেশন দিয়েছি। ওনি যদি ওনার বাবা-মায়ের সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেন তাহলে হয়তো এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। আখাউড়ার জন্য অনেক উপকার হবে।’