• ই-পেপার

মেসির কীর্তি ছুঁলেন এমবাপ্পে

স্বপ্নের অভিষেক হালান্ডের

ক্রীড়া ডেস্ক
স্বপ্নের অভিষেক হালান্ডের
অভিষেকে গোল করেছেন হালান্ড। ছবি : রয়টার্স

স্বপ্নের অভিষেক আর্লিং হালান্ডের। বিশ্বকাপের অভিষেকে জোড়া গোল পেয়েছেন তিনি। হ্যাটট্রিক করার সুযোগ অবশ্য আছে তার সামনে। এখনো অর্ধেক ম্যাচ বাকি। 

তবে ইতিমধ্যে একটা দুর্দান্ত মাইলফলক গড়েছেন হালান্ড। ২৯ মিনিটে অভিষেক গোল পান তিনি। তাতে অভিষেকে গোল পাওয়ার দারুণ কীর্তি গড়েছেন নরওয়ের স্ট্রাইকার। ক্লাব ফুটবলের শীর্ষ লিগে প্রথম ম্যাচে গোল করার কীর্তিটা এবার বিশ্বকাপেও টেনে আনলেন তিনি।

 

আজ ইরাকের বিপক্ষে বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে গোল করা হালান্ড এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ, বুন্দেসলিগা ও প্রিমিয়ার লিগে। বিরতিতে যাওয়ার আগে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় গোলটিও পেয়েছেন তিনি। 

ম্যাচের ৪৩ মিনিটে পাওয়া হালান্ডের গোলটিতে অবশ্য অবদান রয়েছে ইরাকের এক ডিফেন্ডারের। সেই ডিফেন্ডার ব্যাক পাস করলে গোলরক্ষক জালাল হাসান দ্রুত শট নিলে একদম কাছাকাছি থাকা হালান্ডের পায়ে লেগে জালে জড়ায় বল। তার জোড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে নরওয়ে।

প্রথমার্ধ শেষে স্কোর ২-১। ৩৯ মিনিটে ইরাকের হয়ে ব্যবধান কমান আয়মান হুসেইন। যোগ করা সময়ে অবশ্য সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ইরাক। কিন্তু তাদের কপাল খারাপ। তৃতীয় মিনিটে ইব্রাহিম বায়েসের শট অবিশ্বাস্যভাবে ব্লক করেন মোলার উলফ। ২ মিনিট পর অল্পের জন্য একটি শট বাইরে যায়। আবার রেফারি বিরতির বাঁশি দেওয়ার আগে আকাম হাশিমের শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়।

একসঙ্গে ৩ কিংবদন্তিকে পেছনে ফেললেন এমবাপ্পে

ক্রীড়া ডেস্ক
একসঙ্গে ৩ কিংবদন্তিকে পেছনে ফেললেন এমবাপ্পে
গোলের পর এমবাপ্পের চিরচেনা উদযাপন। ছবি : রয়টার্স

প্রতিভার পরিচয় অনেক আগেই দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এখন শুধুই পদচিহ্ন রেখে যাওয়ার পালা। সেই কাজও সুনিপুণভাবে করে যাচ্ছেন। ২৭ বছর বয়সেই তো নিজেকে এমন এক পর্যায়ে নিয়েছেন যেখানে অনেকে ক্যারিয়ার শেষেও পৌঁছাতে পারেন না। স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায় তাদের।

তাই ম্যাচে নামলে কিংবা গোল করলেই কোনো না কোনো রেকর্ড গড়ে বসেন এমবাপ্পে। আজ যেমন নিউ জার্সি/নিউ ইয়র্ক স্টেডিয়ামে রেকর্ড গড়লেন। তাতে একসঙ্গে তিন কিংবদন্তিকে পেছনে ফেললেন তিনি। সেই তিন কিংবদন্তি হচ্ছেন-অলিভিয়ের জিরু, জা ফঁতে ও লিওনেল মেসি।

সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোলের প্রথমটিতে তিন কিংবদন্তির পাশে বসেন এমবাপ্পে। বসার সুযোগ পেয়ে পরে দ্বিতীয় গোলে সবাইকে ছাড়িয়ে যান ফ্রান্সের অধিনায়ক। ফঁতে-মেসির কীর্তিটা বিশ্বকাপের। সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় এতদিন ১৩ গোল নিয়ে তিনে ছিলেন দুজনই। আজ দুজনকে চারে ঠেলে তিনে ওঠেন এমবাপ্পে। 

বিশ্বকাপে এখন ১৪ গোল এমবাপ্পের। তার মতো সমান গোল জার্মানির সাবেক ফরোয়ার্ড গার্ড মুলারেরও। মেসি-ফঁতেকে পেছনে ফেললেও তার সামনে আছেন আরও দুই কিংবদন্তি। ১৫ গোল নিয়ে দুইয়ে আছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো। বিপরীতে ১৬ গোলে চূড়ায় জার্মানির সাবেক স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসা। দুজনকেই পেছনে ফেলার সুযোগ পাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদের স্ট্রাইকার।

অন্যদিকে ফ্রান্সের সর্বকালের সেরা গোলদাতা হয়েছেন এমবাপ্পে। এতদিন ৫৭ গোল নিয়ে চূড়ায় ছিলেন জিরু। আজ জোড়া গোল করে সাবেক সতীর্থকে পেছনে ফেললেন তিনি। ৫৮ গোলের সংখ্যা এখন তরতারিয়ে বাড়িয়ে নেওয়ার পালা তার।

এমবাপ্পের রেকর্ড গোলের রাতে ফ্রান্সের দাপুটে জয়

ক্রীড়া ডেস্ক
এমবাপ্পের রেকর্ড গোলের রাতে ফ্রান্সের দাপুটে জয়
জয়ের নায়ক এমবাপ্পেকে ঘিরে ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস। ছবি : রয়টার্স

প্রথমার্ধে অনেকটা নিজেদের ছায়া হয়ে ছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে-মাইকেল ওলিসেরা। বিরতির পর চেনা রূপে ফিরলেন তারা। আর সেটাই কাল হলো সেনেগালের। প্রতিপক্ষকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছে তারা। কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলের বিপরীতে অন্যটি করেছেন বদলি নামা ব্র্যাডলি বার্কোলা।

তবে নিউ জার্সি/নিউ ইয়র্ক স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে ভালো খেলে সেনেগালই। ২৫ মিনিটে তো গোল প্রায়ই পেয়েই গিয়েছিল তারা। ভাগ্যে পাশে থাকলে নিকোলাস জ্যাকসনের নামের পাশে গোল থাকত। কিন্তু তার নেওয়া শটটি ডান পাশের পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ভাগ্য এতটাই খারাপ যে, পোস্টে লেগে ফিরে আসা বলটি ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মেনিয়ঁর শরীরে লেগে জালে নয়, বাইরে যায়।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সবচেয়ে সুবর্ণ সুযোগটি পেয়েছিলেন ইসমাইল সার। কিন্তু প্লেস করতে গিয়ে যেভাবে ক্রসবারের ওপর দিয়ে বলটি মারলেন, তার ব্যাখ্যাই আসলে হয় না। ৬ গজ দূরত্ব থেকে গোলরক্ষক মেনিয়ঁকে একা পেয়েও উড়িয়ে মারলেন সেনেগালের ফরোয়ার্ড।

ফ্রান্স সবচেয়ে ভালো সুযোগ পায় ৫২ মিনিটে। তবে মাইকেল ওলিসেকে হতাশ করেন সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দো মেন্ডি। তার শটটি পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন মেন্ডি। ৫ মিনিট পর আরেকটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন তিনি। বক্সের মধ্যে থেকে ৫৭ মিনিটে নেওয়া এমবাপ্পের শট সামনে বেরিয়ে এসে পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন মেন্ডি।

ফিরতি মিনিটে পেনাল্টির আবেদন করেছিল ফ্রান্স। তবে ভিএআরে দেখার পরেও পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি রেফারি। হয়তো এমবাপ্পে বক্সে পরে যাওয়ার আগে সাদিও মানের কোনো ধরনের সংস্পর্শ না হওয়াতেই। ৬৪ মিনিটে ফ্রান্সকে লিড এনে দেওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপ্পে। ডি বক্সের বাইরে থেকে ডিফেন্স চেরা পাস দিয়েছিলেন ওলিসে। 

তবে এমবাপ্পে বলের নাগাল না পাওয়ায় গোলরক্ষক মেন্ডি বল ধরে ফেলেন। ৬৬ মিনিটে অবশ্য ঠিকই জালের দেখা পেয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। ১২ গজের কাছাকাছি থেকে ফ্রান্সকে উদযাপনের মুহূর্ত এনে দেন তিনি। তাকে অবিশ্বাস্য পাসটি দেন ওলিসে।

এই গোলে অলিভিয়ের জিরুকে ছুঁয়েছেন এমবাপ্পে। ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন দুজনই। তাদের গোলসংখ্যা ৫৭। ২ মিনিট পরেই সমতায় ফিরেছিল সেনেগাল। তবে গোল করা আগে জ্যাকসন অফসাইড হওয়া তা বাতিল হয়। 

৭৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন দেজিরে দুয়ে। তবে পিএসজির ফরোয়ার্ডের শট কর্নারের বিনিময়ে সেভ করেন মেন্ডি। ৮০ মিনিটে জ্যাকসন সতীর্থর ক্রসটা ঠিকমতো জালে রাখতে পারলে সমতায় ফিরতে পারত সেনেগাল।

উল্টো ৮২ মিনিটে আরেকটি গোল হজম করে সেনেগাল। বদলি নেমে গোলটি করেন ব্র্যাডলি বার্কোলা। আদ্রিয়েন রাবিওটের পাস থেকে সহজেই গোলরক্ষক মেন্ডিকে পরাস্ত করেন তিনি। 

যোগ করা সময়ে ব্যবধানে কমিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় সেনেগাল। ইব্রাহিম এমবায়ের জোরালো শট গোলরক্ষক মেনিয়েঁর হাতে লাগলেও পাওয়ার কারণে ঠিকই জালে জড়ায়। তবে ম্যাচে আর ফেরা হয়নি সেনেগালের। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে যে ব্যবধান ৩-১ করেন এমবাপ্পে। বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটের নিজের জোড়া গোলটি করেন তিনি। তাতে জিরুকে ছাড়িয়ে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা বনেছেন তিনি (৫৮)।

লিওনেল মেসিকেও পেছনে ফেললেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এখন দুইয়ে তিনি। ১৪ গোল তার। মেসির ১৩টি। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ১৬ গোল নিয়ে শীর্ষে আছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসা।

মেসিদের বিপক্ষে আলজেরিয়ার বাজি যাদের ওপর

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসিদের বিপক্ষে আলজেরিয়ার বাজি যাদের ওপর
সংগৃহীত ছবি

রাত পোহালেই যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামছে আলজেরিয়া। আট বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা আলজেরিয়ার খেলোয়াড়রা প্রস্তুত ম্যাচে আলো ছড়াতে।

রুসিয়া ডর্টমুন্ডের রামি বেনসেবাইনি চোটে ছিটকে যাওয়ায় তাদের রক্ষণভাগ কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। কিন্তু ভ্লাদিমির পেতকোভিচের দলের আসল শক্তি তাদের আক্রমণভাগের গতি।

ম্যাচে ফোকাস থাকবে ৩৫ বছর বয়সী রিয়াদ মাহরেজের ওপরও। সাবেক ম্যানচেস্টার সিটির তারকা পুরোনো ছন্দে হয়ত নেই, তবে তার বাঁ পায়ের ক্ষুরধার পাসিং এখনো যে কোনো দলের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে।

আল আহলি’র হয়ে এশিয়ান মঞ্চে তিনি মাঝেমধ্যে ঝলক দেখিয়েছেন, আর আলজেরিয়ার হয়ে বাছাইপর্বে তার পারফরম্যান্স ছিল আরও ধারাবাহিক। অভিজ্ঞ মাহরেজের পাশাপাশি আক্রমণভাগে রয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজন্মের এক প্রতিভা, ২০ বছর বয়সী ইব্রাহিম মাজা।

নিখাদ ড্রিবলিং ও কৌশলী খেলার জন্য পরিচিত মাজা যখন ছন্দে থাকেন, তখন চোখে লেগে থাকে তার পারফরম্যান্স। আলজেরিয়ার ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে ধরা হচ্ছে ইব্রাহিম মাজাকে।

তরুণ এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার লেভারকুজেনের হয়ে নিয়মিত খেলছেন এবং গেল মৌসুমে ৪৪ ম্যাচে ৫ গোল করেছেন। উইং ও মাঝমাঠ—দুই জায়গাতেই তার দক্ষতা আলজেরিয়ার আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ফরোয়ার্ড লাইনে আরেক ভরসার নাম আমিন গৌরি। ফরাসি ক্লাব মার্শেইয়ের এই স্ট্রাইকার গত মৌসুমে ২৮ ম্যাচে ১১ গোল করে দারুণ ফর্মে রয়েছেন।

ইনজুরির কারণে আফ্রিকা কাপ মিস করলেও বর্তমানে তিনি দলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু।

গৌরির সঙ্গে লড়াইয়ে আছেন আরেক ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ আমোরা, যিনি দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকে ভয়ংকর অস্ত্র হিসেবে পরিচিত। জার্মান ক্লাব ভলফসবুর্গে খেলা এই ২৬ বছর বয়সি ফরোয়ার্ড জাতীয় দলের হয়ে ৩৩ ম্যাচে ৮ গোল করেছেন।

এছাড়াও রয়েছে আনিস হাজ মুসা। ফেইনুর্ডের এই উইঙ্গার গতি ও ড্রিবলিংয়ের জন্য পরিচিত, গত মৌসুমে ১৪ গোল ও ৭ অ্যাসিস্ট করে নজর কেড়েছেন।

গোলপোস্টের নিচেও আলজেরিয়ার রয়েছে আলোচনা তৈরির মতো একটি নাম। কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদান আছেন সেখানে। আলজেরিয়ার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেকে প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবেও প্রমাণ করেছেন।