• ই-পেপার

আইইউবিতে ‘নারী, সংস্কার ও ধর্ম’ শীর্ষক আন্তঃবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ‘সোশ্যাল বিজনেস ইনোভেশন সামিট’ অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ‘সোশ্যাল বিজনেস ইনোভেশন সামিট’ অনুষ্ঠিত
সংগৃহীত ছবি

সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে উদ্ভাবনী চিন্তা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে রাজধানীতে শুরু হয়েছে ‘সোশ্যাল বিজনেস ইনোভেশন সামিট ২০২৬’। মঙ্গলবার (৩০ জুন) নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) ক্যাম্পাসে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। এনএসইউর স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্স (এসবিই), ইউনূস সেন্টারের সহযোগিতা এবং ঢাকা ব্যাংক পিএলসি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি ও ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, উদ্যোক্তা ও সামাজিক ব্যবসা–সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ। আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি ও অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ইউনূস সেন্টার ও গ্রামীণ হেলথকেয়ার ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন থাইল্যান্ডের ইউনুস সেন্টার–এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফয়েজ এইচ শাহ, এনএসইউ’র স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম, তাইওয়ানের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের সহযোগী ডিন ড. চিয়েন-ওয়েন শেন, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুর রব এবং মালয়েশিয়ার আলবুখারি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক দাতো’ ইর. ড. মো. সালেহ বিন জাফার। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইউনুস সেন্টারের প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিল্পখাত ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. নেছার ইউ আহমেদ বলেন, ‘সামাজিক ব্যবসা আমাদের শেখায়, প্রকৃত সাফল্য শুধু মুনাফায় নয়, বরং মানুষের কল্যাণ করা। এ ধরণের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল গ্র্যাজুয়েট গড়ে তুলতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

অনুষ্ঠানে এনএসইউ উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, ‘নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি শিক্ষা, সামাজিক ব্যবসা ও উদ্ভাবনের সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সক্ষম করে তুলতে কাজ করছে। উদ্যোক্তা মনোভাব, সৃজনশীলতা এবং সমাজমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে তারা যেন বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারে এবং ইতিবাচক সামাজিক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে, সে লক্ষ্যেই আমাদের প্রচেষ্টা।’

উদ্বোধনী বক্তব্যে মিস লামিয়া মোরশেদ বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্ম সবচেয়ে শক্তিশালী, কারণ তারা সচেতন, সাহসী এবং অন্যায়ের সঙ্গে আপস করতে চায় না। তরুণদের এই উদ্যমই একটি উন্নত ভবিষ্যতের আশা জাগায়। আমি তরুণ উদ্যোক্তাদের এমন ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানাই, যা শুধু মুনাফা অর্জনের জন্য নয়, বরং মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সমাজের কল্যাণ এবং শূন্য কার্বন নিঃসরণ, সম্পদের বৈষম্যহীনতা ও বেকারত্বমুক্ত বিশ্ব গঠনে ভূমিকা রাখবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহে দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্পষ্ট হয়েছে। দেশের প্রয়োজনে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন, তা প্রশংসনীয়। আমি বিশ্বাস করি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভবিষ্যতেও মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলা এবং দেশের প্রয়োজনে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে যাবে।’

পরবর্তীতে ‘বিয়ন্ড প্রফিট : রিডিফাইনিং বিজনেস ফর দ্য নেক্সট জেনারেশন’ শীর্ষক প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই সেশনে সামাজিক ব্যবসা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণার প্রসঙ্গ তুলে ধরে থাইল্যান্ডের ইউনুস সেন্টার–এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফয়েজ এইচ শাহ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই বুঝতে হবে, সুনাম ও উদ্দেশ্যই ব্যবসার সাফল্যের মূল চালিকা শক্তি। অধ্যাপক ইউনূস দেখিয়েছেন, সামাজিক প্রভাব সৃষ্টি করেও লাভ করা সম্ভব। বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমেই এ ধরনের ভুল ধারণা দূর করা যায়।’

তাইওয়ানের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের সহযোগী ডিন ড. চিয়েন-ওয়েন শেন বলেন, ‘নিজেদের শক্তির জায়গায় বিনিয়োগ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কারণেই আজকের এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি, কার্যকর নীতি ও সফল বাস্তবায়ন অপরিহার্য।’

মালয়েশিয়ার আলবুখারি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক দাতো’ ইর. ড. মো. সালেহ বিন জাফার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্যনিরাপত্তা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। এতে জ্ঞান বিনিময় ও পারস্পরিক শিক্ষা ত্বরান্বিত হবে এবং নিজ নিজ দেশের স্থানীয় সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা সহজ হবে।’

এরপর সামাজিক ব্যবসা ও টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একযোগে একাধিক ব্রেকআউট সেশন আয়োজন করা হয়। এসব সেশনের মধ্যে ছিল ‘রিইম্যাজিনিং ফুড সিকিউরিটি থ্রু সোশ্যাল বিজনেস: দ্য রিজক মডেল অ্যান্ড ইটস রিপ্লিকেশন পটেনশিয়াল’, ‘ইএসজি অ্যান্ড সোশ্যাল বিজনেস: অ্যাকাডেমিক পার্সপেকটিভস’, ‘ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স: দ্য ফিউচার অব মাইক্রোক্রেডিট’, ‘সোশ্যাল বিজনেস ইকোসিস্টেম ইন অ্যাকশন’, ‘হার ভেঞ্চার, হার ইমপ্যাক্ট: জেন্ডার ইকুইটি ইন সোশ্যাল এন্টারপ্রেনারশিপ’, ‘ফান্ডিং দ্য মিশন: ফাইন্যান্সিং সোশ্যাল ইনোভেশন ইন বাংলাদেশ’, ‘হেলথকেয়ার ইনোভেশন্স’, ‘ইভলভিং রোল অব অ্যাকাডেমিয়া ইন সোশ্যাল বিজনেস’, ‘ইএসজি মডেল ইমপ্লিমেন্টেশন: প্র্যাকটিশনার ইনসাইটস’ এবং ‘সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ ইন প্র্যাকটিস: হংকং পার্সপেকটিভস’। এ ছাড়াও সম্মেলনে ‘স্টার্টআপ অ্যান্ড সোশ্যাল বিজনেস ইনোভেশন সেশন’ এবং দিনব্যাপী ‘সোশ্যাল বিজনেস ইনোভেশন শোকেস’ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষার্থী, স্টার্টআপ এবং সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনী উদ্যোগ, প্রকল্প ও পণ্য প্রদর্শন করা হয়। 

‘সৃজন। স্থায়িত্ব। রূপান্তর।—পরবর্তী প্রজন্মের সামাজিক উদ্ভাবকদের ক্ষমতায়ন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত সোশ্যাল বিজনেস ইনোভেশন সামিট ২০২৬ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক উদ্ভাবনের প্রসারে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

জেসিআই ঢাকা ইস্ট-২০২৬ সালের জন্য সালমা আক্তার হীরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
জেসিআই ঢাকা ইস্ট-২০২৬ সালের জন্য সালমা আক্তার হীরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত
সংগৃহীত ছবি

জেসিআই ঢাকা ইস্ট’র সাধারণ সভা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চ্যাপ্টারের সাধারণ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় সংগঠনের সাংবিধানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করাসহ ২০২৬ মেয়াদের জন্য নতুন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচিত করা হয়। রোববার (২৮ জুন) এ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সালমা আক্তার হীরা জেসিআই ঢাকা ইস্ট-এর ২০২৬ সালের লোকাল প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত ও আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। দীর্ঘ বিরতির পর কোনো নারী হিসেবে এই চ্যাপ্টারের নেতৃত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করলেন।

নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা হলেন- লোকাল প্রেসিডেন্ট সালমা আক্তার হীরা, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আনিসুর রহমান রাজীব, জেনারেল লিগ্যাল কাউন্সেল আশিক এলাহী মজুমদার, ভাইস প্রেসিডেন্ট রাইনুল ইসলাম, ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ ইমতিয়াজ সামাদ, সেক্রেটারি জেনারেল ইশা খান, কোষাধ্যক্ষ মো. মেহেদী হাসান শুভ, লোকাল ডিরেক্টর ওমর ফারুক ও লোকাল ডিরেক্টর মো. জুবায়ের হোসেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের বক্তব্যে লোকাল প্রেসিডেন্ট সালমা আক্তার হীরা সদস্যদের আস্থা ও বিশ্বাসের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি কার্যকর নেতৃত্ব, সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং তরুণ নেতাদের জন্য অর্থবহ সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে জেসিআই ঢাকা ইস্ট’কে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

জেসিআই (জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল) হলো ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী সক্রিয় নাগরিকদের নিয়ে গঠিত একটি বিশ্বব্যাপী সদস্য-ভিত্তিক অলাভজনক সংগঠন, যা নিজ নিজ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে নিবেদিত। জেসিআই ঢাকা ইস্ট হলো জেসিআই বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা লোকাল অর্গানাইজেশন; এটি নেতৃত্ব উন্নয়ন, সামাজিক প্রভাব সৃষ্টি এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে তরুণ নেতাদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

অনুষ্ঠানে জেসিআই বাংলাদেশের জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের বিশিষ্ট কর্মকর্তারা, সিনেটররা, প্রাক্তন জাতীয় ও লোকাল প্রেসিডেন্টরা, বিভিন্ন লোকাল অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্টরা, সদস্যরা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন; যা সংগঠনের মধ্যে ঐক্য, নেতৃত্ব এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মনোভাবকে প্রতিফলিত করে।

বিইউপিতে ১৮তম বার্ষিক সিনেট সভা অনুষ্ঠিত

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বিইউপিতে ১৮তম বার্ষিক সিনেট সভা অনুষ্ঠিত
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর ১৮তম বার্ষিক সিনেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিইউপির সিনেট হলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিইউপির উপাচার্য ও সিনেট চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো . মাহবুব-উল আলম, বিএসপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল, পিএইচডি।

সভায় বিইউপির উপাচার্য ও সিনেট চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মাহবুব-উল আলম বিদায়ি সদস্যদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং নবনিযুক্ত সদস্যদের স্বাগত জানান।

সিনেট চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মাহবুব বলেন, বিইউপি বয়সে নবীন হলেও তার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকরা নিয়মিত প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন একাডেমিক প্রতিযোগিতা, গবেষণা, সেমিনার, কর্মশালা এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করছেন, যা বিইউপির ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতাকে আরো সুদৃঢ় করছে।

তিনি বলেন, বিইউপি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পাশাপাশি শৃঙ্খলা এবং নৈতিকতার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করে। শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খল, নৈতিকতাসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিইউপি প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। বিইউপি নতুন প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ, সততা, চরিত্র গঠন ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং দেশপ্রেম জাগ্রত করতে পড়াশোনার পাশাপাশি বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য, জাতীয় দিবসগুলোর তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য তুলে ধরে আলোচনা সভা, সিম্পোজিয়াম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।

তিনি উল্লেখ করেন, গবেষণালব্ধ জ্ঞান দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে বিইউপি থেকে নিয়মিত একাধিক আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গবেষণা জার্নাল প্রকাশ করা হচ্ছে।

সিনেট চেয়ারম্যান বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিইউপি এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলছে, যেখানে একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতার ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের পশ্চিম ক্যাম্পাসে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ সাধিত হয়েছে। আধুনিক সুবিধা সম্বলিত দৃষ্টিনন্দন চৌদ্দ তলা তিনটি একাডেমিক ভবন (এফএএসএস, এফএসটি এবং ইউটিলিটি বিল্ডিং), শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক দুইটি চৌদ্দ তলা আবাসিক হল এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য চৌদ্দ তলা দুইটি আবাসিক ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, আন্তর্জাতিকীকরণের ধারাকে আরও বেগবান করতে বিদেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বহুসাংস্কৃতিক শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে বিইউপি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এছাড়াও বিইউপির ট্রেজারার এয়ার কমডোর মো. রেজা এমদাদ খান, জিইউপি, বিইউপি, এনডিসি, পিএসসি, জিডি(পি), ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ১৪৩ কোটি ৯৯ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা ও ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ১৪৯ কোটি ৩৩ লক্ষ ৬২ হাজার টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন। সিনেট সদস্যগণ ট্রেজারার-এর বক্তৃতার ওপর আলোচনা করেন এবং সর্বসম্মতিক্রমে বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন করেন।

এছাড়াও সিনেট সভায় ১৮তম বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপিত ও সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। ১৮তম বার্ষিক সিনেট সভাটি সঞ্চালনা করেন বিইউপির রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রাব্বি আহসান, এনডিসি, পিএসসি। ১৮তম বার্ষিক সিনেট সভায় মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিইউপির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রেমিট্যান্সসেবা সহজ করতে নগদ ও রূপালী ব্যাংকের চুক্তি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
রেমিট্যান্সসেবা সহজ করতে নগদ ও রূপালী ব্যাংকের চুক্তি
সংগৃহীত ছবি

দেশের প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আরো দ্রুত ও সহজে প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবা নগদ ও রূপালী ব্যাংক পিএলসির মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর দিলকুশায় রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এসংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে নগদের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ এবং রূপালী ব্যাংকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।

এই চুক্তির আওতায় বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ হাউস, মানি ট্রান্সফার অপারেটর (এমটিও) কিংবা ব্যাংকের মাধ্যমে রূপালী ব্যাংকে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবেন। রূপালী ব্যাংকের পক্ষে নগদ সরাসরি সেই অর্থ সুবিধাভোগীদের মোবাইল ওয়ালেটে পৌঁছে দেবে। ফলে দেশের যেকোনো স্থান থেকে উপকারভোগীরা ২৪ ঘণ্টা রেমিট্যান্স গ্রহণ ও ব্যবহার করতে পারবেন।

দেশে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করতে, নগদ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। রেমিট্যান্স গ্রহণে বাড়তি সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সময়ে সময়েই প্রবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও পুরস্কারভিত্তিক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি ‘হার না মানা হার’ শিরোনামে একটি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নগদের মাধ্যমে রেমিট্যান্স গ্রহণকারী প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের জন্য স্বর্ণের হার জয়ের সুযোগও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নগদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির চিফ কমার্শিয়াল অফিসার মোহাম্মদ শাহীন সারওয়ার ভূঁইয়া, রেমিট্যান্স বিভাগের প্রধান মো. আহসানুল হক বাশারসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। রূপালী ব্যাংকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, ব্যাংকটির উপব‍্যবস্থাপনা পরিচালক তাহমিনা আখতার, হাসান তানভীর ও মো. হারুনুর রশীদ, মহাব‍্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী, মো. ইসমাইল হোসেন শেখ, মো. মঈন উদ্দিন মাসুদ, সালামুন নেছা ও রেমিট্যান্স বিভাগের প্রধান এ কে এম জাকির হোসেনসহ ব্যাংকটির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, ‘প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এর প্রতিটি পয়সা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে এই অংশীদারির ফলে উপকারভোগীরা দ্রুত, নিরাপদ এবং ঝামেলাহীনভাবে সরাসরি নগদ ওয়ালেটে রেমিট্যান্স গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে দেশের যেকোনো প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা নগদের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সহজে এই অর্থ ব্যবহার কিংবা প্রয়োজন হলে সর্বনিম্ন খরচে ক্যাশআউট করতে পারবেন। এই উদ্যোগ বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং দেশের ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরো শক্তিশালী করবে।’ 

এ সময় রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক হিসেবে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স, নিরাপদ ও দ্রুত সময়ে উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা সব সময়ই বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। নগদের সঙ্গে এই চুক্তির ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও রেমিট্যান্স পৌঁছে দেওয়া আরো সহজ হবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ বৈধ পথে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাহকদের আরো উন্নত সেবা নিশ্চিত করবে।’

সম্প্রতি নগদে চালু হয়েছে ‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্ট সেবা এবং ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) সুবিধা। এর ফলে দেশের প্রায় ১০ লাখ বাংলা কিউআর মার্চেন্টের কাছে এখন নগদ অ্যাপ ব্যবহার করে সহজেই ক্যাশলেস পেমেন্ট করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে যেকোনো ব্যাংক হিসাব কিংবা মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নগদ ওয়ালেটে অর্থ গ্রহণ এবং নগদ থেকে ব্যাংক বা অন্য এমএফএস অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর সুবিধাও যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স পাওয়া পরিবারের সদস্যরা নগদ ওয়ালেটে অর্থ গ্রহণের পর তা সহজেই ব্যাংকে স্থানান্তর করতে পারবেন অথবা বাংলা কিউআর ব্যবহার করে কেনাকাটা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল পরিশোধ, সন্তানের স্কুল-কলেজের ফি প্রদানসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেন আরো দ্রুত, নিরাপদ ও সহজে সম্পন্ন করতে পারবেন।