• ই-পেপার

কলেজ পর্যায়ে ক্রীড়া সামগ্রী দেবে মাউশি, ২৫ জুনের মধ্যে আবেদন

১৩ বছরে কুবিতে ভর্তি হয়নি বিদেশি শিক্ষার্থী

প্রসেনজিত দাস, কুবি
১৩ বছরে কুবিতে ভর্তি হয়নি বিদেশি শিক্ষার্থী
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) চলমান ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম প্রায় শেষের পথে। এরমধ্যে কোন আবেদন আসেনি বিদেশি শিক্ষার্থীদের থেকে। সর্বশেষ ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের পর থেকে যাবৎ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আগ্রহ দেখায়নি কোন শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিনে এ সংক্রান্ত কোন উদ্যোগও নিতে দেখা যায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের অ্যাকাডেমিক শাখা থেকে জানা যায়, ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরুর চার বছর পর ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে আইসিটি বিভাগে মো. জাহাঙ্গীর, মাধব কাহার গৌদ ও সিএসই বিভাগে মিথালেশ কুমার মুখিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এরপর সর্বশেষ ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে সিএসই বিভাগে ভর্তি হন সাজিদ ইকবাল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছরে ভর্তি হয়েছেন কেবল এই চারজন বিদেশি শিক্ষার্থী। তারপর আর কেউ ভর্তি হননি, কুবিতে ভর্তি হওয়ার আগ্রহও দেখায়নি কেউ।

এর আগে ২০২০-২১, ২০২১-২২, ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ এই চার শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত থাকায় বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে আলাদা কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি বলে জানিয়েছিল তৎকালীন প্রশাসন। তবে গত ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্বতন্ত্র পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিলেও নেওয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যাটা সম্প্রতি শূন্যের বৃত্তেই প্রতিবছর আবর্তিত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ার পেছনে রয়েছে অসংখ্য কারণ। এরমধ্যে, পরীক্ষার ফলাফল তৈরিতে দীর্ঘসূত্রিতা, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা না থাকা, বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে না থাকা, গবেষণায় পিছিয়ে থাকা, বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা কোন নীতিমালা না থাকা, শ্রেণিকক্ষে বাংলায় পাঠদান, আবাসিকতার সংকট, স্কলারশিপ ব্যবস্থা না থাকা, প্রতিকূল পরিবেশ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পিছিয়ে থাকা ইত্যাদি। 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রজেক্ট নির্মাণাধীন নতুন ক্যাম্পাস নিয়ে সকলে আশার বাণী শোনালেও, সেখানের পরিকল্পনায়ও রাখা হয়নি বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোন ভাবনা। তাদের ভবিষ্যৎ আবাসনের জন্য রাখা হয়নি আন্তর্জাতিক কোন হল কিংবা ডর্ম। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতেও কুবিতে আগ্রহ দেখাবে কিনা, সেটা নিয়েও দেখা দিয়েছে আশঙ্কা।

বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিসংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রাপ্ত আবেদন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীকালে, উক্ত আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের তাদের দাখিলকৃত পাসপোর্টসহ যাবতীয় সনদপত্রসমূহ পরীক্ষাপূর্বক ভর্তি করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ কর্তৃক প্রাথমিক অনুমতি প্রদান করা হয়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, মন্ত্রণালয়ের পদ্ধতি ছাড়াও, সরাসরি ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে কোনো নির্দেশনা না থাকলেও ভর্তি আবেদনের নির্দিষ্ট সময়সীমায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ই-মেইল ঠিকানায় মেইলের মাধ্যমে কেউ আগ্রহ প্রকাশ করলে সেক্ষেত্রে ভর্তি প্রক্রিয়ার কার্যক্রম শুরু হতো। তবে, ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ছাড়াও কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি-ইচ্ছুক হয়ে মেইল পাঠালে তাকে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে অন্তর্ভুক্ত করার কার্যক্রম শুরু করতে পারবে প্রশাসন।

সম্প্রতি বৈশ্বিক শিক্ষার বাজারে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ পরিধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে গতবছরের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তর চালু করা হয়েছে। এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে রয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মশিউর রহমান। 

এই দপ্তর চালু হওয়ার পর বেশ কয়েকটি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এরমধ্যে তুরস্ক এবং মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে শিক্ষার্থী বিনিময় চুক্তির আওতায় কার্যক্রমও চলমান। এই বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের এখানে না আসার পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য সীমাবদ্ধতা এবং সংকটকে তুলে ধরে দপ্তরটির পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মশিউর রহমান বলেন, ‘এখানে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। এখান রেজাল্ট কখন দেয়, সেটার কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কিন্তু তাদের তো এখানে অবস্থান করার একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। ফলে এটার কোন সমাধান নেই এখানে। যে কারণে তারা এখানে আগ্রহী হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো কোর্স, শিক্ষক প্রোফাইল নিয়ে ডিটেইলস নাই। ফলে তারা কিছু জানতে পারছে না। না জানলে আসবে কীভাবে?’

এর জন্যে আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত বাড়ানোর কথা জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, কুবি কয়টা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেয়? এখানে যদি আমাদের পরিচিতিই না থাকে, তাহলে বিদেশিরা জানবে কীভাবে আমাদের সম্পর্কে। এর জন্য তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন এবং যোগদানের দিকে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছরে ভর্তি হওয়া মাত্র চারজন বিদেশি শিক্ষার্থীর প্রত্যেকেই প্রকৌশল অনুষদভুক্ত আইসিটি এবং সিএসই বিভাগের ছিলেন। এনিয়ে আক্ষেপ রয়েছে অনুষদটিতেও। 

প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. তোফায়েল আহমেদ বলেন, মাধব-জাহাঙ্গীর আমারই স্টুডেন্ট ছিলো। তারা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করেছিল, তারপর আমাদের এখানে তখন ভর্তি হয়েছিল। এখন অনেক বছর এখানে ভর্তি নেই। 

আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন নিয়ে তিনি বলেন, নীতিমালা করলে সেটা শিক্ষার্থীবান্ধব করতে হবে, যেন সরাসরি আবেদন করতে পারে। তাদের ভাষাগত অসুবিধা হবে কিনা সেটাও দেখতে হবে। বিদেশির বেশিরভাগই প্রযুক্তিগত বিষয় পড়তে আসে। আমাদের এখানে থাকা সুযোগ-সুবিধার ভিত্তিতে তারা এখানে চয়েজ করবে কিনা, এটাও দেখতে হবে। আবেদনের প্রক্রিয়াটা সহজ করতে হবে। তাদেরকে নিরাপদ আবাসন, সুযোগ-সুবিধা দিতে পারলে তারা হয়ত আকৃষ্ট হবেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নুরুল করিম চৌধুরী বলেন, এখানে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়া উচিত। পূর্বে ভর্তি হয়েছিল কিন্তু এখন যেহেতু হচ্ছে না, বিষয়টি আমাদের উপাচার্য স্যারের কাছে উপস্থাপন করব। কীভাবে সমাধান করা যায়, সেটি নিয়ে আলোচনা করব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশামতো র‌্যাংকিংয়ে পৌঁছাতে পারিনি। তারমধ্যে আমাদের ওয়েবসাইট আপডেট না হওয়ায় সেখানে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। তাদের আবাসন সংকট রয়েছে, কোর্স সম্পর্কিত তথ্য থাকে না। আমরা সবকিছু নিয়েই ভাবছি। আমরা আমাদের ঘাটতিগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কারিগরি শিক্ষার ভূমিকায় সেমিনার

পাবনা প্রতিনিধি
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কারিগরি শিক্ষার ভূমিকায় সেমিনার
ছবি: কালের কণ্ঠ

পাবনায় চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কারিগরি শিক্ষার ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২২জুন ) সকালে পাবনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের হল রুমে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কারিগরি শিক্ষার ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। 

পাবনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. সামসাদ খলিলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা ডাইনামিক সান পাওয়ার প্রাইভেট লিমিটেডের প্লান্ট ম্যানেজার মো. জহুরুল ইসলাম, পাবনা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. সিদ্দিকুর রহমান, পাবনা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোকসেদুল আলম। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পাবনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ মো. হুমায়ুন কবির। 

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এসেট প্রজেক্টের প্রোগ্রাম অফিসার প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম, পাবনা স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালের ম্যানেজার মো. আব্দুল খালেক, পাবনা সাইদ সাইমন এগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফরিদুল ইসলাম। 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাবনা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান। 

সেমিনারে আলোচকরা বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা : এটি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মস্তিস্ক। বিপুল পরিমাণ ডেটা বিশ্লেষণ করে প্যাটার্ন খুঁজে বের করা, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পূবাভাস দেওয়া এবং মানুষের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এআইকে এই বিপ্লবের কেন্দ্রে স্থাপন করেছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে। 

সেমিনার অনুষ্ঠানে পাবনার বিভিন্ন সরাসরি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

এলএলবি-বিবিএসহ ৪ পেশাদার বিষয়ে ভর্তি নিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

অনলাইন ডেস্ক
এলএলবি-বিবিএসহ ৪ পেশাদার বিষয়ে ভর্তি নিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অন-ক্যাম্পাসে ২০২৫-২০২৬ সেশনে ১ম বর্ষে এলএলবি-বিবিএসহ ৪ পেশাদার বিষয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৪ বছর মেয়াদি এই আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির অনলাইন আবেদন আগামী ২৫ জুন থেকে শুরু হচ্ছে।

এলএলবি, বিবিএসহ মোট ৪টি পেশাদার বিষয়ে এবারের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাবেন। এই আবেদন প্রক্রিয়া আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত ডিন ড. মো. আশেক কবির চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ভর্তি তথ্য জানানো হয়েছে। 

ভর্তির বিষয় ও আবেদন প্রক্রিয়া

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এবারের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলো—এলএলবি, বিবিএ, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট এবং নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স। আগ্রহী প্রার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট (www.nu.ac.bd/admissions) থেকে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের অনলাইন গেটওয়ে অথবা পে-স্লিপ ডাউনলোড করে প্রাথমিক আবেদন ফি বাবদ ১ হাজার টাকা সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় জমা দিতে হবে এবং ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফরমের প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করতে হবে।

ও-লেভেল, এ-লেভেল এবং বিদেশি সার্টিফিকেটধারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন না করে সরাসরি বা ই-মেইলের ([email protected]) মাধ্যমে ডিন বরাবর আবেদন করতে বলা হয়েছে।

আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা

২০২২/২০২৩ সালের এসএসসি এবং ২০২৪/২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসিতে আলাদাভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০-সহ উভয় পরীক্ষা মিলিয়ে অন্তত ৬.৫ থাকতে হবে। বিজ্ঞান শাখার ক্ষেত্রে উভয় পরীক্ষায় আলাদাভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫-সহ মোট জিপিএ ৭.৫ থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি, উচ্চ মাধ্যমিকে পঠিত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে (২০০ নম্বরের) ন্যূনতম গ্রেড পয়েন্ট ২.৫ থাকতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষা ও মেধা তালিকা

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এবার ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে ১ ঘণ্টার ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে কোনো নেতিবাচক নম্বর (নেগেটিভ মার্কিং) থাকবে না। পরীক্ষায় পাস নম্বর ৩৫। ভর্তি পরীক্ষার ১০০ নম্বর এবং এসএসসি ও এইচএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএ থেকে যথাক্রমে ৪০ শতাংশ ও ৬০ শতাংশ (সর্বমোট ২০০ নম্বর) হিসাব করে মেধা তালিকা প্রণয়ন করা হবে। ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও কেন্দ্র পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে এবং পরীক্ষার ৭ দিন আগে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে। পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

আর মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত ভর্তির সময় মোট ১৫ হাজার ১৪৫ টাকা ফি দিতে হবে। চূড়ান্ত ভর্তির পর মেধার ভিত্তিতে বিষয় পরিবর্তনের (মাইগ্রেশন) সুযোগ থাকলেও কোটায় ভর্তিকৃতদের এই সুযোগ থাকবে না। 

বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, অন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই আগে চালু কোনো কোর্সে অধ্যয়নরত কেউ নির্বাচিত হলে, তাকে আগের ভর্তি বাতিল করে এখানে ভর্তি হতে হবে।

এরপরও যদি একই শিক্ষাবর্ষে বা দুটি ভিন্ন শিক্ষাবর্ষে কোনো শিক্ষার্থীর দ্বৈত ভর্তি ধরা পড়ে তবে তার উভয় ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল হবে বলেও জানানো হয়েছে। 

ইবিতে ‘ডে-লেবার’ কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাইয়ে কমিটি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ইবিতে ‘ডে-লেবার’ কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাইয়ে কমিটি
সংগৃহীত ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিভিন্ন বিভাগ ও অফিসে দৈনিক মজুরীরভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়োগ যাচাই-বাছাইয়ে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল রবিবার গঠিত তিন সদস্যের কমিটিকে কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। 

কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনকে আহ্বায়ক, সদস্য সচিব উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) এ.জেড.এম. আছাফদ্দৌলা এবং উপ-হিসাব পরিচালক ইসরাফুল হককে সদস্য করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, ‘আমরা দৈনিক মজুরীরভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করব। ঐসকল কর্মচারীদের নিয়ে একটি সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে আমরা তাদের কথা শুনব।’

কমিটি গঠনের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান বলেন, ‘আগের নিয়োগ বিগত প্রশাসন দিয়েছেন। এই নিয়োগগুলো তারা কেন দিয়েছেন, এর যৌক্তিকতা কি এবং কীভাবে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেসব বিষয় যাচাই-বাছাইয় করবেন এই কমিটি। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা তাদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী শাসনামলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দৈনিক মজুরি এবং থোক বরাদ্দের ভিত্তিতে অস্থায়ী কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর পর থেকেই তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং আচরণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। গত  ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতিকে নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন ডে-লেবার হিসেবে কাজ করা কর্মচারী ফজলুর রহমান। এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ডে-লেবার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। 

পরে গত ০৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের এক শাখা কর্মকর্তাকে এক ডে লেবার কর্মচারী কর্তৃক মারধরের অভিযোগ ওঠে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ডে-লেবার ও থোক বরাদ্দে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে।