• ই-পেপার

শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির জন্য জরুরি নির্দেশনা

ঢাবি ও ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক হচ্ছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ঢাবি ও ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক হচ্ছে
সংগৃহীত ছবি

একাডেমিক ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে যৌথ কার্যক্রম ও গবেষণা প্রকল্প গ্রহণের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিগগিরই একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।

সম্প্রতি তুরস্ক সফরকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেক্টরের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেন।

বৈঠকে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চলমান যৌথ সহযোগিতামূলক শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরো গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সমঝোতা স্মারকের আওতায় বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ে যৌথ ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম ও সার্টিফিকেট কোর্স চালু করা হবে। পাশাপাশি উভয় বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক প্রকাশনা ও তথ্য-উপাত্ত বিনিময় করবে।

উল্লেখ্য, আধুনিক তুরস্কের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয় ১৪৫৩ সালে সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।

সাত মাসেও শেষ হয়নি নোবিপ্রবি ছাত্রদল আয়োজিত ফুটসাল টুর্নামেন্ট

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
সাত মাসেও শেষ হয়নি নোবিপ্রবি ছাত্রদল আয়োজিত ফুটসাল টুর্নামেন্ট
সংগৃহীত ছবি

বিজয় দিবস উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন, আকর্ষণীয় পুরস্কার এবং শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রত্যাশা নিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদল আয়োজিত আন্তঃবিভাগ ফুটসাল টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছিল। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর প্রায় সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচ। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত টুর্নামেন্টের প্রচারপত্রে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের জন্য যথাক্রমে ১৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর টুর্নামেন্টটি শুরুর কথা থাকলেও শুরু হয় ১০ ডিসেম্বরে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে টুর্নামেন্টের প্রাথমিক পর্বের খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর, ঈদুল ফিতরের বন্ধ শেষে ২য় পর্বের খেলাও অনুষ্ঠিত হয়। 

তবে বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হলেও ডিসেম্বরের মধ্যেই টুর্নামেন্ট শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টুর্নামেন্টটির নাম পরিবর্তন করে ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’ রাখা হয়।

আয়োজক সূত্র জানায়, টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাটিস্টিকস, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি, ফিজিক্স এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগ। তবে এখনো সেমিফাইনাল ও ফাইনালের সূচি ঘোষণা করা হয়নি।

টুর্নামেন্ট দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক শেখ আবরার নাসিফ বলেন, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর পর জাতীয় পর্যায়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুবরণ, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনকেন্দ্রিক ব্যস্ততা এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃবিভাগীয় প্রতিযোগিতা থাকায় আমরা কেন্দ্রীয় মাঠে খেলার আয়োজন করতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘আগামী ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস রয়েছে। এ কারণে এখনো খেলা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। দিবসের পর একটি কনসার্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই আয়োজনের মাধ্যমেই আমরা সেমিফাইনাল ও ফাইনাল সম্পন্ন করতে চাই।’

এ বিষয়ে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর পর জাতীয় পর্যায়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ও রাজনৈতিক ব্যস্ততা তৈরি হয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুবরণ, দেশনেতা তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এবং জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নানা কার্যক্রম ছিল। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আমাদের বড় পরিসরের কর্মসূচিও রয়েছে। এসব কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের ১৫ দিনের মধ্যেই আমরা সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচ একটি বড় কনসার্ট আয়োজনের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছি।’

তবে দীর্ঘ সময় ধরে টুর্নামেন্ট ঝুলে থাকায় অংশগ্রহণকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং অংশগ্রহণকারী দলগুলোর আগ্রহ ধরে রাখতে দ্রুত টুর্নামেন্ট শেষ করা প্রয়োজন।

চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চালু হচ্ছে দুটি করে নতুন বিষয় : মাহদী আমিন

বাসস
চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চালু হচ্ছে দুটি করে নতুন বিষয় : মাহদী আমিন

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে নতুন বিষয় চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ শ্রেণিতে ‘স্পোর্টস’ এবং ‘কালচার’ নামে দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষা এবং ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন’ নামে আরো দুটি নতুন বিষয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু সনদনির্ভর না রেখে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিকতা, সৃজনশীলতা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও কর্মমুখী দক্ষতাভিত্তিক করার লক্ষ্যে সরকারের ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সরকার এমন শিক্ষাব্যবস্থা চায়, যা শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাগরিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা, পারিবারিক শিক্ষা ও শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তুলবে। এ লক্ষ্যেই দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গার্লস গাইড, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে দেশব্যাপী ক্রীড়া, সংস্কৃতি, বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ইনোভেশন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলগত কাজের দক্ষতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ এবং কর্মজীবনমুখী দক্ষতা গড়ে তোলাই এসব উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। পাশাপাশি অষ্টম শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে আরো বেশি সম্পৃক্ত করতে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং হাতে-কলমে শেখার সুযোগ বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কর্মজীবনের জন্য আরো প্রস্তুত হয়ে উঠবে।

২০২৭ বর্ষ থেকে বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৭ বর্ষ থেকে বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা চালু

আগামী ২০২৭ বর্ষ থেকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিতে ‘পরীক্ষা পদ্ধতি’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা একটি নামমাত্র পরীক্ষা নেওয়া হবে। এখানে কোচিং সেন্টারে যাওয়ার কোনো প্রশ্ন আসে না। ক্যাচমেন্ট এরিয়া প্লাস পরীক্ষা এই দুইটার সমন্বয়ে ভর্তি নেওয়া হবে।

এর আগে যে ভর্তি পরীক্ষার সিস্টেম ছিল— তখন ব্যাপক অনিয়ম হতো বলে অভিযোগ করেন মন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে ভর্তি বাধ্যতামূলক করে। পরে বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই পদ্ধতি চালু হয়। পরবর্তীতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয় এবং এরপর থেকে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছিল। তবে ফের ৬ বছর পর ফের স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।