• ই-পেপার

ঋণের মূল টাকা পরিশোধ করেই পার পাবেন খেলাপিরা

আজ ব্যাংক হলিডে, বন্ধ থাকবে লেনদেন

অনলাইন ডেস্ক
আজ ব্যাংক হলিডে, বন্ধ থাকবে লেনদেন

ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে আজ (বুধবার) দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে গ্রাহক পর্যায়ের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে বন্ধ থাকবে দেশের শেয়ারবাজারের লেনদেনও।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাখা সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। এসব কার্যালয়ে শুধু প্রশাসনিক ও হিসাবসংক্রান্ত কাজ পরিচালিত হবে, গ্রাহকদের কোনো ধরনের ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিবছর ১ জুলাই ব্যাংক খাতে অর্ধবার্ষিক সমাপনী উপলক্ষে ব্যাংক হলিডে পালন করা হয়। এ সময় জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসের হিসাব-নিকাশ চূড়ান্ত করে অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ব্যাংকগুলো।

এ কারণে বুধবার কোনো শাখা থেকে টাকা জমা বা উত্তোলন করা যাবে না। বন্ধ থাকবে চেক নিষ্পত্তি, ডিমান্ড ড্রাফট, পে-অর্ডারসহ শাখাভিত্তিক সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম। তবে এটিএম, কার্ডভিত্তিক লেনদেন ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে। আন্তঃব্যাংক নিষ্পত্তিনির্ভর কিছু সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে।

প্রতি বছরের ১ জুলাই ও ৩১ ডিসেম্বর দুদিন ব্যাংক হলিডে। প্রথা অনুযায়ী আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার জন্য বার্ষিক হিসাব-নিকাশ শেষ করতে প্রতিবছর এ দুই দিন ব্যাংক হলিডে পালন করা হয়। অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই এবং পঞ্জিকা বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর তফসিলি ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ রাখা হয়। তবে এ দুদিন বাংলাদেশ ব্যাংকসহ তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখার দাফতরিক কার্যক্রম চলে।

এক বছরে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫৪৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার

অনলাইন ডেস্ক
এক বছরে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫৪৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার

এক বছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে তিন হাজার ৫৪৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ জুলাই থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩ হাজার ২১ কোটি ৩০ লাখ (৩০.২১৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার।

এদিকে চলতি জুন মাসের প্রথম ২৯ দিনে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ (২.৬৮৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ২৭০ কোটি ৭০ লাখ (২.৭০৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। ফলে জুন মাসের প্রথম ২৯ দিনের হিসেবে রেমিট্যান্স আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।

আজ থেকে বাধ্যতামূলক বাংলা কিউআর

কমবে জাল টাকা ও খুচরার ঝামেলা

অনলাইন ডেস্ক
আজ থেকে বাধ্যতামূলক বাংলা কিউআর

ছেঁড়া-ফাটা নোট, জাল ও খুচরা টাকার সংকট কমিয়ে দেশে ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আজ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হচ্ছে বাংলা কিউআর। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই একীভূত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় ধাপে ধাপে ট্রেড লাইসেন্স, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন, হাসপাতালের বিল, পরিবহন টোলসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবার অর্থও ডিজিটালভাবে পরিশোধ করা হবে বলে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি মাত্র কিউআর কোড ব্যবহার করে যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ পরিশোধের সুযোগ তৈরি হওয়ায় নগদ অর্থের ব্যবহার কমবে। ফলে জাল নোট গ্রহণের ঝুঁকি, খুচরা টাকার সংকট এবং নগদ অর্থ বহনের ঝামেলাও অনেকাংশে কমে আসবে।

জাল নোট প্রতিরোধের পাশাপাশি প্রায়ই খুচরা টাকার অভাবে ক্রেতাদের টাকা ফেরত দিতে সমস্যায় পড়তে হয়। তাদের মতে, ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়লে এসব সমস্যার সমাধান হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এ ব্যবস্থায় একজন মার্চেন্টের জন্য একটি বাংলা কিউআর কোডই যথেষ্ট হবে। গ্রাহকরা নিজ নিজ ব্যাংক বা এমএফএসের অ্যাপ ব্যবহার করে একই কিউআর স্ক্যানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা আলাদা কিউআর ব্যবহারের প্রয়োজন থাকবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, নতুন বা নবায়ন করা সব ট্রেড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন ক্যাশলেস পদ্ধতিতে গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে। একই ভাবে বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও বাংলা কিউআর চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবার অর্থ পরিশোধে বাংলা কিউআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে, যাতে দেশের ডিজিটাল লেনদেন আরো বিস্তৃত ও কার্যকর হয়। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; উদ্যোগটির সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষের আর্থিক সচেতনতা বা ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি এখনো সন্তোষজনক নয়। তাই স্কুলপর্যায় থেকেই আর্থিক শিক্ষা চালু করা এবং আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে জনগণকে ডিজিটাল আর্থিক সেবায় দক্ষ করে তুলতে হবে। তাহলেই বাংলা কিউআরের মতো উদ্যোগ থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কার্যকর বাস্তবায়ন, শক্তিশালী প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এবং সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলা কিউআর দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা করবে। একই সঙ্গে এটি নগদনির্ভর অর্থনীতি থেকে স্বচ্ছ, নিরাপদ ও আধুনিক ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে আরো বেগবান করবে।

১৬ বছরের পাওনা, ১৮ মাসের আন্দোলনেও সুরাহা নেই

২০১০-১২ সালের ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়াসহ প্রতিজনে প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকার পাওনা দাবি আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান চান আন্দোলনকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ বছরের পাওনা, ১৮ মাসের আন্দোলনেও সুরাহা নেই

২০১০-১২ সালের ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়াসহ প্রতিজনে প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকার পাওনা দাবি করছেন গ্রামীণফোনের (জিপি) চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাঁদের দাবি, প্রায় ১৬ বছর ধরে এ পাওনা পরিশোধ না হওয়ায় গত ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে এলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বসুন্ধরায় জিপি হাউসের সামনে পূর্বঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি শুরুর আগেই পুলিশ ছয় আন্দোলনকারীকে থানায় নিয়ে যায়। 

‘গ্রামীণফোন ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কর্মসূচি শুরুর আগেই পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে ভাটারা থানায় নিয়ে যায়। এতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হয়। যদিও ভাটারা থানার পুলিশ বলছে, তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়নি; জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া, পরবর্তী ১৭ বছরের লভ্যাংশ এবং অন্যান্য আইনসংগত পাওনা মিলিয়ে প্রায় চার হাজার সাবেক কর্মীর প্রত্যেকের প্রাপ্য প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। তবে তাঁদের ভাষ্য, এই অঙ্ক আদায় করাই তাঁদের উদ্দেশ্য নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধানেই তাঁরা আগ্রহী।

জিপি হাউসের সামনে আন্দোলনরত অবস্থায় সাবেক কর্মী সাদিয়া আফরিন বলেন, ‘গত ১৬ বছরেও তাঁদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। প্রায় ১৮-১৯ মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও কোনো সরকারই এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। তিনি দাবি করেন, এরই মধ্যে সাতজন সাবেক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। আমাদেরও কি তাহলে লাশ হতে হবে? আমরা কম্পানির ক্ষতি চাই না, আলোচনার মাধ্যমে একটি যৌক্তিক সমাধান চাই।’

আরেক সাবেক কর্মী মৌটুসী বলেন, ‘আমরা একটি আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে এসেছিলাম। কিন্তু কোনো ধরনের সহিংসতা ছাড়াই আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।’ কেন ন্যায্য দাবির আন্দোলনে পুলিশি হস্তক্ষেপ করা হলো, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

পরে আন্দোলনকারীরা রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী অডিটরিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তাঁরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পাওনা পরিশোধ না হওয়ায় তাঁরা নিজেদের গ্রামীণফোনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশীজন হিসেবে বিবেচনা করছেন। একই সঙ্গে তাঁরা প্রতিষ্ঠানটির জন্য কয়েকটি প্রস্তাবও তুলে ধরেন।

এর মধ্যে আগামী এক বছরে প্রায় ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থার্ড-পার্টি কর্মীদের নিয়মিত চাকরির আওতায় আনা, ডিস্ট্রিবিউশন হাউসের কর্মীদের শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা, কলরেট ও মোবাইল ডেটার মূল্য কমানো, ডেটার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রস্তাব রয়েছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, পাওনাসংক্রান্ত বিরোধের গ্রহণযোগ্য সমাধানে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে আলোচনায় বসতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং ক্ষতিপূরণের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানান তাঁরা। অন্যথায় দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আরো বিস্তৃত করার ঘোষণা দেন।

গ্রামীণফোনের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ আন্দোলন নতুন নয়। ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি একই দাবিতে জিপি হাউসের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। সেদিন আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার ও লাঠিপেটা করে। নারীসহ কয়েকজনকে আটকও করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা। কিন্তু আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের পাওনা নিয়ে এখনো কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি।