• ই-পেপার

যে ১০ জন নারী সাহাবি পৃথিবীতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন

জাদুটোনা থেকে মুক্তির পরিক্ষিত আমল

মুফতি ওমর বিন নাছির
জাদুটোনা থেকে মুক্তির পরিক্ষিত আমল
সংগৃহীত ছবি

মানুষের জীবনে কখনো কখনো এমন কিছু সমস্যা দেখা দেয়, যখন চিকিৎসা কোনো কাজে আসে না। কেননা এক্ষেত্রে কখনো কখনো কালো জাদু, বান ও বদনজরের মতো আধ্যাত্মিক কিছু বিষয় থেকে থাকে। তাই সেসব ক্ষেত্রে ইসলামী রুকাইয়াহর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে শিফা কামনা করা অত্যন্ত জরুরি। তবে মনে রাখতে হবে, প্রকৃত শিফাদাতা একমাত্র আল্লাহ। এসব আয়াত ও দোয়া কোনো স্বয়ংসম্পূর্ণ চিকিৎসা নয়; বরং আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রেখে তাঁরই সাহায্য কামনার একটি মাধ্যম। আয়াত ও দোয়াগুলো হলো,

১. সুরা ফাতিহা পড়া।

২. আয়াতুল কুরসি তথা সুরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াত পড়া।

اَللّٰهُ لَآ اِلٰهَ اِلَّا ھُوَۚ اَلْـحَيُّ الْقَيُّوْمُ لَا تَاْخُذُهٗ سِـنَةٌ وَّلَا نَوْمٌۭ لَهٗ مَا فِي السَّمٰوٰتِ وَمَا فِي الْاَرْضِۭ مَنْ ذَا الَّذِيْ يَشْفَعُ عِنْدَهٗٓ اِلَّا بِاِذْنِهٖ ۭ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ اَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَھُمْ ۚ وَلَا يُحِيْطُوْنَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهٖٓ اِلَّا بِمَا شَاۗءَۚ وَسِعَ كُرْسِـيُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ ۚ وَلَا يَـــــُٔـــوْدُهٗ حِفْظُهُمَاۚ وَھُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ

অর্থ : ‘আল্লাহ্; তিনি ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আসমানসমূহে যা কিছু আছে ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর অধীন। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে সে সবকিছু তিনি জানেন। আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর ‘কুরসি’ আকাশসমূহ ও পৃথিবীকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। তিনি সুউচ্চ সুমহান।’(সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৫)

৩. সুরা আরাফের জাদু বিষয়ক আয়াতগুলো পড়া। সে আয়াতগুলো হচ্ছে—

قَالَ إِنْ كُنْتَ جِئْتَ بِآيَةٍ فَأْتِ بِهَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ (106) فَأَلْقَى عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُبِينٌ (107) وَنَزَعَ يَدَهُ فَإِذَا هِيَ بَيْضَاءُ لِلنَّاظِرِينَ (108) قَالَ الْمَلَأُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ إِنَّ هَذَا لَسَاحِرٌ عَلِيمٌ (109) يُرِيدُ أَنْ يُخْرِجَكُمْ مِنْ أَرْضِكُمْ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ (110) قَالُوا أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَأَرْسِلْ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ (111) يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيمٍ (112) وَجَاءَ السَّحَرَةُ فِرْعَوْنَ قَالُوا إِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِنْ كُنَّا نَحْنُ الْغَالِبِينَ (113) قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ لَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ (114) قَالُوا يَا مُوسَى إِمَّا أَنْ تُلْقِيَ وَإِمَّا أَنْ نَكُونَ نَحْنُ الْمُلْقِينَ (115) قَالَ أَلْقُوا فَلَمَّا أَلْقَوْا سَحَرُوا أَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوهُمْ وَجَاءُوا بِسِحْرٍ عَظِيمٍ (116) وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ (117) فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (118) فَغُلِبُوا هُنَالِكَ وَانْقَلَبُوا صَاغِرِينَ (119) وَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ (120)قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعَالَمِينَ (121) رَبِّ مُوسَى وَهَارُونَ (122)

অর্থ : ‘সে বলল, তুমি যদি কোনো নিদর্শন নিয়ে এসে থাক, তাহলে তা পেশ কর যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক। তখন তিনি নিজের লাঠিখানা নিক্ষেপ করলেন এবং তৎক্ষণাৎ তা জলজ্যান্ত এক অজগরে রূপান্তরিত হয়ে গেল। আর বের করলেন নিজের হাত এবং তা সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের চোখে ধবধবে উজ্জ্বল দেখাতে লাগল। ফেরাউনের সাঙ্গ-পাঙ্গরা বলতে লাগল, নিশ্চয় লোকটি বিজ্ঞ-জাদুকর। সে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এ ব্যাপারে তোমাদের মতামত কি? তারা বলল, আপনি তাকে ও তার ভাইকে অবকাশ দিন এবং শহরে বন্দরে সংগ্রাহকদের পাঠিয়ে দিন। যাতে তারা পরাকাষ্ঠাসম্পন্ন বিজ্ঞ জাদুকরদের এনে সমবেত করে। বস্তুতঃ জাদুকররা এসে ফেরাউনের কাছে উপস্থিত হলো। তারা বলল, আমাদের জন্য কি কোনো পারিশ্রমিক নির্ধারিত আছে, যদি আমরা জয়লাভ করি? সে বলল, হ্যাঁ এবং অবশ্যই তোমরা আমার নিকটবর্তী লোক হয়ে যাবে। তারা বলল, হে মুসা! হয় তুমি নিক্ষেপ কর অথবা আমরা নিক্ষেপ করছি। তিনি বললেন, তোমরাই নিক্ষেপ কর। যখন তারা বাণ নিক্ষেপ করল তখন লোকদের চোখগুলো জাদুগ্রস্ত হয়ে গেল, মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলল এবং মহাজাদু প্রদর্শন করল। তারপর আমি ওহি যোগে মুসাকে বললাম, এবার নিক্ষেপ কর তোমার লাঠিখানা। অতএব সঙ্গে সঙ্গে তা সে তাদের সবকিছু গিলতে লাগল, যা তারা জাদুর বলে বানিয়েছিল। এভাবে সত্য প্রকাশ হয়ে গেল এবং ভুল প্রতিপন্ন হয়ে গেল যা কিছু তারা করেছিল। সুতরাং তারা সেখানেই পরাজিত হয়ে গেল এবং অতীব লাঞ্ছিত হলো। এবং জাদুকররা সেজদায় পড়ে গেল। বলল, আমরা ঈমান আনছি মহা বিশ্বের প্রতিপালকের প্রতি। যিনি মুসা ও হারুনের প্রতিপালক।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১০৬-১২২)

৪. সুরা ইউনুসের জাদুবিষয়ক আয়াতগুলো পড়া। সেগুলো হচ্ছে, 

وَقَالَ فِرْعَوْنُ ائْتُونِي بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيمٍ (79) فَلَمَّا جَاءَ السَّحَرَةُ قَالَ لَهُمْ مُوسَى أَلْقُوا مَا أَنْتُمْ مُلْقُونَ (80) فَلَمَّا أَلْقَوْا قَالَ مُوسَى مَا جِئْتُمْ بِهِ السِّحْرُ إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُ إِنَّ اللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ (81) وَيُحِقُّ اللَّهُ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ

অর্থ : ‘আর ফেরাউন বলল, আমার কাছে নিয়ে এস সুদক্ষ জাদুকরদিগকে। তারপর যখন জাদুকররা এল, মুসা তাদেরকে বললেন : নিক্ষেপ কর, তোমরা যা কিছু নিক্ষেপ করে থাক। অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, মুসা বললেন, যা কিছু তোমরা এনেছ তা সবই জাদু—এবার আল্লাহ এসব ভণ্ডুল করে দিচ্ছেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ দুস্কর্মীদের কর্মকে সুষ্ঠুতা দান করেন না। আল্লাহ সত্যকে সত্যে পরিণত করেন স্বীয় নির্দেশে যদিও পাপীদের তা মনঃপুত নয়।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৭৯-৮২)

৫. সুরা ত্বহা-র আয়াতগুলো পড়া। সেগুলো হচ্ছে,

قَالُوا يَا مُوسَى إِمَّا أَنْ تُلْقِيَ وَإِمَّا أَنْ نَكُونَ أَوَّلَ مَنْ أَلْقَى (65) قَالَ بَلْ أَلْقُوا فَإِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِيُّهُمْ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مِنْ سِحْرِهِمْ أَنَّهَا تَسْعَى (66) فَأَوْجَسَ فِي نَفْسِهِ خِيفَةً مُوسَى (67) قُلْنَا لَا تَخَفْ إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعْلَى (68) وَأَلْقِ مَا فِي يَمِينِكَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوا إِنَّمَا صَنَعُوا كَيْدُ سَاحِرٍ وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى (69)

অর্থ : ‘তারা বলল, হে মুসা, হয় তুমি নিক্ষেপ কর, না হয় আমরা প্রথমে নিক্ষেপ করি। মূসা বললেন, বরং তোমরাই নিক্ষেপ কর। তাদের জাদুর প্রভাবে হঠাৎ তাঁর মনে হলো, যেন তাদের রশিগুলো ও লাঠিগুলো ছুটাছুটি করছে। অতঃপর মুসা মনে মনে কিছুটা ভীতি অনুভব করলেন। আমি বললাম, ভয় কোরো না, তুমি বিজয়ী হবে। তোমার ডান হাতে যা আছে তুমি তা নিক্ষেপ কর। এটা তারা করেছে যা কিছু সেগুলোকে গ্রাস করে ফেলবে। তারা যা করেছে তা তো কেবল জাদুকরের কলাকৌশল। জাদুকর যেখানেই থাকুক, সফল হবে না।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ৬৫-৬৯)

৬- সুরা কাফিরুন পড়া।
৭- সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস ৩ বার করে পড়া।
৮- কিছু দোয়া দরুদ পড়া। তারপর এই দোয়াটি পাঠ করা, ‘আল্লাহুম্মা, রাব্বান নাস! আযহিবিল বাস। ওয়াশফি, আনতাশ শাফি। লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা। শিফাআন লা য়ুগাদিরু সাকামা।’ (৩ বার)

এ দোয়াগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিতে হবে। এরপর জাদুতে আক্রান্ত ব্যক্তি সে পানি পান করবে। আর অবশিষ্ট পানি দিয়ে প্রয়োজনমতো একবার বা একাধিক বার গোসল করবে। তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় রোগী আরোগ্য লাভ করবে। বিজ্ঞ আলেমরা এ আমলগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। তাই এসব আয়াত ও দোয়া যদি সরাসরি জাদুতে আক্রান্ত ব্যক্তির উপরে পড়ে তার মাথা ও বুকে ফুঁক দেওয়া হয় তাহলে সে আল্লাহর ইচ্ছায় নিরাময় হবে। সমস্ত জাদুটোনা ও বদনজর থেকে মুক্তি লাভ করবে। ইনশাআল্লাহ।

ইসলামে দক্ষতা অর্জন যখন ইবাদত

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
ইসলামে দক্ষতা অর্জন যখন ইবাদত
সংগৃহীত ছবি

বর্তমান বিশ্বে দক্ষতা (স্কিল) একটি বড় সম্পদ। শুধু ডিগ্রি নয়, বরং কর্মদক্ষতাও মানুষকে সামাজিক ও আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে। ইসলামের দৃষ্টিতে উপকারী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন শুধু দুনিয়াবি সফলতার উপায় নয়; বরং তাতে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত থাকলে তা ইবাদতেও পরিণত হতে পারে। বুখারি শরিফের প্রথম হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমল (এর প্রাপ্য হবে) নিয়ত অনুযায়ী। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে। তাই যার হিজরত হবে দুনিয়া লাভের অথবা কোনো মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই হবে, যে জন্য সে হিজরত করেছে।’ (বুখারি, হাদিস : ১)

পবিত্র কোরআন মানুষকে ঈমান-তাকওয়ার পাশাপাশি কর্মদক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও উৎপাদনশীলতার শিক্ষা দেয়। মানুষ যে বিষয়ে সাধনা করে, চেষ্টা করে, মহান আল্লাহ তাকে সে বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ সহজ করে দেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর এই যে মানুষ যা চেষ্টা করে, তাই সে পায়।’ (সুরা : নাজম, আয়াত : ৩৯)

মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের একেকজনকে একেক জগতে দক্ষতা দেন। একেকজনের মধ্যে একেক গুণ দিয়ে দেন, যা পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষায় অতি জরুরি। তাই তো রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী তাঁদের গড়ে তুলতেন। যেমন—তিনি যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর প্রখর মেধা ও আমানতদারি দেখে তাঁকে ওহি লেখার দায়িত্ব দেন এবং বিদেশি ভাষা শেখার নির্দেশ দেন। পরবর্তীকালে তিনি কোরআন সংকলনের মতো ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন। এটি প্রমাণ করে, ভাষা ও প্রশাসনিক দক্ষতাও ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ।

(সিয়ারু আ’লামিন নুবালা : ২/৪২৮-৪২৯, তাহযীবুল আসমা ওয়াল-লুগাত : ১/২০০—২০১; আসহাবে রাসুলের জীবনকথা : ৪/৭৭)
এমনিভাবে মুআজ ইবনে জাবাল (রা.)ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করেন। ফলে মহান আল্লাহ তাঁকে বহু গুণে গুণান্বিত করেন। তিনি ছিলেন একাধারে একজন মুফতি, প্রাদেশিক গভর্নর, দূত, সাহসী সেনাপতি, বিজয়ী যোদ্ধা, জাকাত উসুলকারী, মজলিসে শুরার সদস্য ও কোরআন-হাদিসের শিক্ষক। তাঁর ব্যাপারেই রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে শরিয়তের হালাল-হারাম সম্বন্ধে অধিক বিজ্ঞ মুআজ ইবনে জাবাল।’ (আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা : ৭/২৭১—২৭২, আল-ইসতিআব : ৩/১৪০২—১৪০৩, আল-আ’লাম [জিরিকলী] : ৭/২৫৮)

মহানবী (সা.)-এর আরেক সাহাবি আবু মাহযুরাহ (রা.)। তিনি ছিলেন, মহানবী (সা.)-এর মনোনীত চার মুয়াজ্জিনের একজন। তাঁর অসাধারণ কণ্ঠ ও মেধা দেখে মহানবী (সা.) তাঁকে প্রথমে ইসলামের দাওয়াত দেন এবং পরবর্তী সময়ে আজান শিক্ষা দেন। ঐতিহাসিকদের মতে, তিনি আজীবন মসজিদে হারামের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৩/১১৭, সাহাবায়ে কেরামের আলোকিত জীবন, পৃষ্ঠা : ৩৫০)

এতে বোঝা যায়, ইবাদতের ক্ষেত্রেও প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার গুরুত্ব রয়েছে। পাশাপাশি যাকে দিয়ে ইসলামের যে কাজটা সহজ ও সুন্দর হবে, তাকে সে প্রশিক্ষণ দিয়ে সে দায়িত্বে রাখা উত্তম।

দক্ষতা উন্নয়নের সবচেয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় এক অভাবী ব্যক্তির ঘটনায়। সাহায্য চাইতে এলে রাসুল (সা.) তাকে ভিক্ষা দিয়ে বিদায় করেননি; বরং তার ঘরের কিছু জিনিস বিক্রি করিয়ে একটি কুঠার কিনে নিজ হাতে তাতে হাতল লাগিয়ে দেন এবং কাঠ কেটে বিক্রি করে জীবিকা অর্জনের পরামর্শ দেন। অল্প কিছুদিন পর লোকটি স্বাবলম্বী হয়ে ফিরে আসে, তখন তার কাছে ১০ দিরহাম ছিল। সে তার নিজের উপার্জিত অর্থের বিনিময়ে কাপড় ও খাবার কিনেছিল। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৬৪১ অবলম্বনে)

এ ঘটনার মাধ্যমে নবীজি (সা.) শিখিয়েছেন, সাময়িক সাহায্যের চেয়ে মানুষের স্কিল ডেভেলপমেন্টের ব্যবস্থা করে তাদের আত্মনির্ভর করে তোলা অধিক কল্যাণকর।

বর্তমান যুগের মুসলমানদের জন্য ইসলামের ফরজ জ্ঞানের পাশাপাশি প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভাষা শিক্ষা, ব্যবসা, কৃষি—সব খাতের জ্ঞান অর্জন করাই গুরুত্বপূর্ণ। হ্যাঁ একজন ব্যক্তির জন্য সব বিষয়ে পারদর্শী হওয়া সম্ভব নয়। তবে যার যে বিষয়ে সম্ভাবনা আছে, তাকে ইসলামের মৌলিক জ্ঞানের পাশাপাশি সে বিষয়ে এগিয়ে দেওয়া সবার দায়িত্ব। প্রত্যেক মুসলমানের ওপর যেমন ইসলামের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা ফরজ, তেমনি দুনিয়ায় ইসলামের গৌরব সমুন্নত রাখতে জাগতিক জ্ঞানেও স্বনির্ভর হতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ইসলামকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে সঠিক পদ্ধতিতে জ্ঞান অর্জন করাও ইবাদত হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। মহান আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমিন।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২ ‍জুলাই ২০২৬

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২ ‍জুলাই ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আজ বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, ১৬ মহররম, ১৪৪৮।
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—
জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৬ মিনিটে।
আসরের সময় শুরু ৪টা ৪২ মিনিটে।
মাগরিব ৬টা ৫৪ মিনিটে।
এশার সময় শুরু ৮টা ২০ মিনিটে।
আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫১ মিনিটে 
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৫ মিনিটে।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

যে ৭ গুনাহ মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়

অনলাইন ডেস্ক
যে ৭ গুনাহ মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়
প্রতীকী ছবি

ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী মুমিনের জন্য পরীক্ষার হলের মতো। পরকালে সফল হতে অবশ্যই এই পরীক্ষায় সফলকাম হতে হবে। এরপরই মিলবে কাঙ্ক্ষিত জান্নাত। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘জমিনের ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোর শোভাবর্ধন করেছি, যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি যে, আমলের ক্ষেত্রে কারা উত্তম।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত: ৭)

অপর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে তাদের সুসংবাদ দাও, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৫)। আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারা জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৮২)

এজন্য দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে গুনাহ বা পাপ কাজ থেকে নিজেকে রক্ষার পাশাপাশি আল্লাহর হুকুম ও রাসুল (সা.) এর আদর্শ এবং তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে বান্দাদের নানা বিষয়ে আদেশ-নিষেধ করেছেন নবীজি। এরমধ্যে একটি হাদিসে তিনি ধ্বংসকারী সাতটি কাজ থেকে বিরত থাকার কথা বলেছেন।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে তোমরা বিরত থাকবে। এ কথা শুনে সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! (সা.) সেগুলো কি? জবাবে নবীজি (সা.) বললেন, (১) আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, (২) যাদু, (৩) আল্লাহ তা’আলা যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, শরীয়ত সম্মত ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করা, (৪) সুদ খাওয়া, (৫) ইয়াতিমের (এতিম) সম্পদ গ্রাস করা, (৬) রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং (৭) সরল প্রকৃতির সতী মুমিন নারীদের অপবাদ দেয়া। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৫৭৮)