• ই-পেপার

জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার আলোচিত সেই মিষ্টি সুবাস

ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, এনসিপি নেতা আরো ২ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, এনসিপি নেতা আরো ২ দিনের রিমান্ডে

জাতীয় দৈনিক ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা আনোয়ার হোসেনকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। 

রবিবার (২৮ জুন) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। 

রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত থেকে কারাগারে যাওয়ার সময় আনোয়ার বলেন, ‌‘আমার অপরাধ, আমি জুলাইযোদ্ধা। আমার বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে এনি চৌধুরীর খাস লোক বিএনপির সভাপতি মিঠু। আমাকে মারধর করলে যখন ঘরে দৌড়ে পালাই তখন মিঠু এক হাজার লোক নিয়ে বাড়ি ঘেরাও করে।’

অন্য জুলাইযোদ্ধাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না আপনাকে কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার বলেন, ‘আমাকে দিয়ে শুরু করছে। আমি এনি চৌধুরীর যত অন্যায় দুর্নীতি সব তুলে ধরছি। আওয়ামী লীগের সময়ও এসব অন্যায়-দুর্নীতি তুলে ধরছি। তখনো হামলা-মাইরের শিকার হয়েছি। কিন্তু বিএনপির আমলে আরো বেশি হয়েছি। বিএনপি আমারে অতিরিক্ত মারছে। বিএনপি আমার মা, বউ, ভাইসহ সবাইরে মারছে। ভাইয়ের ঘর ভাঙচুর করছে।’

আপনে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে গ্রেপ্তার হয়েছেন বললে আনোয়ার বলেন, ‘এটা আমার বাকস্বাধীনতা, বলতেই পারি।’

আপনি প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলা করেছেন কি-না জানতে চাইলে আনোয়ার বলেন, ‘এগুলো মিছা কথা।’

এর আগে গত সোমবার (২২ জুন) প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় করা মামলায় একই আদালত থেকে  তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

জামালপুরের সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ তিন দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
জামালপুরের সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ তিন দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর তেজগাঁও থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার জামালপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. নূর মোহাম্মদকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। 

রবিবার (২৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। 

তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ সোহেল সরকার তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। 

এর আগে গতকাল রাতে গুলশান থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আসামিপক্ষের আইনজীবী কামরুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে কামরুল হোসেন, আব্দুর রহিম, মাহবুব হোসেনসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। অপরদিকে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী এর বিরোধিতা করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ জুন সকাল পৌনে ১০টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণি সড়কে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের কর্মী ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. নূর মোহাম্মদ তাঁর ৩০-৩৫ জন অজ্ঞাতনামা সহযোগীসহ একটি অবৈধ মিছিল বের করেন। দেশের পরিস্থিতি অস্থির করা এবং জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে আসামিরা লাঠিসোঁটা ও উসকানিমূলক ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

একপর্যায়ে তাঁরা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত ককটেল, উসকানিমূলক ব্যানার, প্ল্যাকার্ড এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।ওই ঘটনায় হওয়া মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আসামি নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তারের পর সাক্ষ্য-প্রমাণে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানো প্রয়োজন।

১৭ বারের মতো পেছাল হাদি হত্যা মামলার তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ বারের মতো পেছাল হাদি হত্যা মামলার তদন্ত

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১৭ বারের মতো পিছিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রবিবার (২৮ জুন) মামলার তদন্তকারী সংস্থা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা নির্ধারিত দিনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে ওই অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট না হয়ে মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নারাজি আবেদন করেন।

গত ১২ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানির দিন বাদীপক্ষের আইনজীবী অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য সময় চাইলে আদালত ১৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। পরে ওই দিন বাদীপক্ষ অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করলে আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়ে সিআইডির কাছে তদন্তভার হস্তান্তর করেন।

গত ১২ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর গণসংযোগে বের হলে বিজয়নগর এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার শেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলায় হত্যা ধারাও যুক্ত করা হয়। তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও হাদির বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। পাশাপাশি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করাও হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি, হাবিবসহ তিন পুলিশের মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি, হাবিবসহ তিন পুলিশের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রবিবার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে হাবিবুর রহমান ছাড়া রামপুরা জোনের এডিসি রাশেদুল ইসলাম ও ওসি মশিউর রহমানকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এসআই তরিকুল ইসলামকে যাবজ্জীবন ও এএসআই চঞ্চলচন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ চারজন পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান ও সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। এ মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি পুলিশের সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। এদিন সকালে তাকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একজন মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে জীবন বাঁচাতে নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে ছিল। তারা সেই অবস্থায় তাকে নির্মমভাবে গুলি করে। আসামি নিজে স্বীকার করেছেন তিনি গুলি করেছেন। আমরা আসামিদের অপরাধের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেছি এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছি।’

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে রামপুরায় হোটেলে কাজ শেষে ফুফুর বাসায় ফিরছিলেন আমির হোসেন। বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের দুই পাশে পুলিশ-বিজিবির গাড়ি দেখে ভয়ে প্রাণ বাঁচাতে পাশে থাকা একটি নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের ছাদে ওঠেন তিনি। ওই সময় পুলিশও তার পিছু নেয়। এক পর্যায়ে জীবন বাঁচাতে ওই নির্মাণাধীন ভবনটির ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকেন আমির। কিন্তু তাকে দেখে ফেলে পুলিশ। পরে তার ওপর গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতে তিনতলায় পড়ে গেলে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন উদ্ধার করেন। এরপর বনশ্রীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওইদিন রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেন ভুক্তভোগী এই তরুণ।  

এ ঘটনাসহ দুজনকে হত্যার মামলায় পাঁচ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর পুলিশের খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান, রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। এ মধ্যে চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেফতার রয়েছেন।