• ই-পেপার

ডা. জুবাইদা রহমান

রাজধানীতে ৯০% সিসিইউ, প্রান্তিক মানুষ কিভাবে সেবা পাবে

বিশ্বকাপ খেলাকে কেন্দ্র করে আদাবরে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বকাপ খেলাকে কেন্দ্র করে আদাবরে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত

রাজধানীর আদাবরে ব্রাজিলের ফুটবল ম্যাচের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে সন্ত্রাসী হামলায় নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বাদশাহ মিয়া নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে নবোদয় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত তাঁদের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহত বিএনপি নেতা বাদশাহকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর-আদাবর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বলেন, গত সোমবার রাতে ব্রাজিলের খেলা দেখা শেষে জয় উদযাপন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়।

 

 

অবৈধ সম্পদের মামলা

বেনজীরের বিরুদ্ধে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বেনজীরের বিরুদ্ধে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ
বেনজীর আহমেদ

১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মোট ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

২৩ জুন মামলাটিতে আরো আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। সব মিলিয়ে মামলাটিতে মোট ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হলো। মামলাটিতে মোট সাক্ষী ২৮ জন। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৬ জুলাই  দিন ধার্য করা হয়েছে। দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বেনজীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর থেকে মামলাটিতে ১৪ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। গতকালের ছয় সাক্ষীরা হলেননারায়ণগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল হাফিজ, চাঁদপুর হাজীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ মহাদেবপুরের সাব-রেজিস্ট্রার মো. রফিকুল ইসলাম, ভোলা চরফ্যাশনের সাব-রেজিস্ট্রার কাওসার খান, বন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুস সালাম, বাড্ডার সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম।

 

 

জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সোচ্চার ‘বন্দর রক্ষা কমিটি’

চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে বিদেশি শক্তির তৎপরতার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সোচ্চার ‘বন্দর রক্ষা কমিটি’

ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে বরাবরই বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। এবার এই বন্দর ঘিরে বিদেশি শক্তিগুলোর এক অদৃশ্য ও বেনামি তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। বন্দর রক্ষা কমিটির দাবি, বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বলি বানানোর চেষ্টা চলছে চট্টগ্রাম বন্দরকে। আর এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই লাভজনক টার্মিনালগুলো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। গতকাল বুধবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন কোনো অবস্থায়ই চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণ কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া না হয়।

সমাবেশে বন্দর রক্ষা কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করা হয়েছিল, যার নেতিবাচক প্রভাব বর্তমান নির্বাচিত সরকারের ওপরও দৃশ্যমান। তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতা হয়তো রয়েছে, তবে জাতীয় স্বার্থে সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে। সরকারকে দুর্বল অবস্থানে না থেকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। এতে বিদেশি শক্তির সঙ্গে দর-কষাকষির সক্ষমতাও বাড়বে। তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলন কোনোভাবেই সরকারবিরোধী নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব, সম্পদ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার দাবিতেই তাঁরা রাজপথে নেমেছেন।

সমাবেশে বক্তারা তথ্য-উপাত্ত দিয়ে জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বর্তমানে সম্পূর্ণ দেশীয় অপারেটরের ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবছরই এই টার্মিনালগুলো থেকে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। বক্তাদের অভিযোগ, বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর নজর মূলত এই লাভজনক টার্মিনালগুলোর দিকেই। দেশি ব্যবস্থাপনায় যেখানে বিপুল রাজস্ব আসছে, সেখানে কেন বিদেশিদের ডেকে এনে এই নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। সমাবেশে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে সরকারকে তা বিবেচনায় নিতে হয়। তাই জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে এক হতে হবে।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। এই হৃৎপিণ্ডের নিয়ন্ত্রণ কোনো বিদেশি পরাশক্তির ইশারায় অন্য কারো হাতে ছেড়ে দিলে দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হুমকিতে পড়বে। জাতীয় স্বার্থে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানান তাঁরা।

 

ঘুরে দাঁড়াতে আরো তিন মাস সময় পেল ৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে অবসায়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঘুরে দাঁড়াতে আরো তিন মাস সময় পেল ৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনিয়মের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী তিন মাস সময় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কম্পানিগুলো হলো প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফিন্যান্স কম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) ও প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স লিমিটেড। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কয়েকটি শর্তও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে তাদেরও অবসায়নের আওতায় আনবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে চারটি প্রতিষ্ঠানকে এসংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শর্তের মধ্যে রয়েছে এই চারটি কম্পানিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদ ও স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারদের মাধ্যমে নতুন মূলধন জোগান এবং প্রয়োজনীয় তারল্য সংস্থান করতে হবে। একই সঙ্গে নিজস্ব সম্পদ ও সম্পত্তি বিক্রয়, বকেয়া ঋণ আদায় এবং খেলাপি ঋণ নির্দিষ্ট মাত্রায় নামিয়ে এনে সাধারণ ও ব্যক্তিগত আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। আর যদি কোনো কম্পানি নির্ধারিত তিন মাস সময়ের মধ্যে শর্তগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে বাংলাদেশ ব্যাংক অবিলম্বে রেজল্যুশন কার্যক্রম শুরু করবে।

শর্ত সাপেক্ষে সময়প্রাপ্ত চারটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কিত মাসিক প্রতিবেদন প্রতি মাসের সাত তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগে দাখিল করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিআইএফসির খেলাপি ঋণ ৯৭.৩০ শতাংশ। লোকসান ৪৮০ কোটি টাকা।