বীর ভোজিনিয়ার সামনে নতজানু স্পেন
শোভাযাত্রা

শিশু খুনের ঘটনায় উত্তাল আদিতমারী
সন্দেহভাজনের বাড়িতে আগুন ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর আরো ৫ জেলায় ৫ খুন

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সন্দেহভাজন এক যুবকের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ লোকজন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের গাড়িসহ একাধিক সরকারি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত নন্দিনী রায় (৭) আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের নলিনী কান্তের মেয়ে। সে ব্র্যাক পরিচালিত স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত সোমবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল নন্দিনী। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা অবস্থায় বস্তাবন্দি তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের রনজিৎ চন্দ্র রায়ের ছেলে বিধান চন্দ্র (২০) এবং তাঁর বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, সোমবার রাতে নন্দিনীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানাতে আদিতমারী থানায় গেলেও ওসি নাজমুল হক বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি।
মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুলিশ সন্দেহভাজনদের আটক করার পর হাজারো মানুষ তাদের ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানায়। এক পর্যায়ে সন্দেহভাজনের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। ঘটনাস্থলে যান জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হকসহ অন্য কর্মকর্তারা। আটক ব্যক্তিদের নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের বহর লক্ষ্য করে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ তিন দফা সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়দের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় বিধান চন্দ্রকে কোদাল হাতে ওই ভুট্টাক্ষেত থেকে ফিরতে দেখেছিলেন এক ব্যক্তি। বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
নন্দিনীর মা সাবিত্রী রানী অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ের কানে থাকা সোনার রিংয়ের লোভে নন্দিনীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলে তিনি নিজেও ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মাতামুহুরীতে শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ৪৫ ঘণ্টা পর ওয়াহিদুল ইসলাম (৭) নামের এক শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল সকালে উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ফজুমিয়াজির চরের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ওয়াহিদুল ইসলাম মাইজপাড়া নূরানী মাদরাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয়দের ধারণা, শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিয়ে হত্যার পর মরদেহ ডোবার কচুরিপানার মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
রায়পুরায় সংঘর্ষে দুজনের মৃত্যু
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নীলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে বুলবুল (৩৫) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সোনাকান্দি এলাকার হরজু মিয়ার ছেলে এবং আলাল মুন্সী গ্রুপের সমর্থক ছিলেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত সংঘর্ষে অনিক (২০) নামের এক যুবক নিহত হন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সংঘর্ষে অংশ নেওয়া কয়েকজনের পরনে বুলেট প্রুফ ভেস্ট এবং হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে।
পদ্মা নদীতে জেলের মরদেহ উদ্ধার
নাটোরের লালপুর উপজেলার রাইটার চর এলাকায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় গুলিতে নিহত হয়েছেন জেলে মো. সাহাবুল ইসলাম (৪৫)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মো. রবিউল ইসলাম (৩৭)।
পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে দুর্বৃত্তরা নদীতে একটি মাছ ধরার নৌকাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে সাহাবুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সাহাবুল ইসলাম পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা।
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সালিশ বৈঠকে হামলা, নিহত ১
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর উত্তরপাড়া এলাকায় সালিশ বৈঠকে হামলার ঘটনায় মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫০) নিহত হয়েছেন।
গত সোমবার সন্ধ্যায় পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েকজন আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম রকিব উর রাজা বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টিকটক নিয়ে বিরোধ, স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) আটক করেছে পুলিশ।
লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিরা)
যুক্তরাষ্ট্র ‘বিশ্বাসঘাতক’ শান্তিচুক্তি না মানার ঘোষণা ইসরায়েলের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান গত রবিবার গভীর রাতে ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণার পরদিন গত সোমবার সকালে ইসরায়েলে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা। পাকিস্তান ও ইরান উভয় দেশ জানিয়েছে, এই চুক্তির মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে বা যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুতা অবসানের বিষয়টি রয়েছে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এ শর্তটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, ইসরায়েল এই চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য নয়। এ বক্তব্যের পরপরই সোমবার ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননজুড়ে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট গত সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখনো এই চুক্তির বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছেন, ইসরায়েল এই চুক্তি মানতে বাধ্য নয় এবং লেবানন নিয়ে ইরানের কোনো শর্ত তাঁরা মানবেন না। এ বক্তব্যের সুর ধরে গত সোমবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাত্জ বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কোনো সময়সীমা ছাড়াই লেবানন, সিরিয়া ও গাজার নিরাপত্তা অঞ্চলগুলোতে অবস্থান করবে।
চুক্তিটি নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে এক্স অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেছেন চরম কট্টরপন্থী ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। তিনি লিখেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে এ চুক্তি ইসরায়েল এবং পুরো মুক্ত বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর।’ তিনি আরো বলেন, ইসরায়েলকে এখন একাই ইরানের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান চালিয়ে যেতে হবে। এদিকে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির এক্সে লিখেছেন, ‘ট্রাম্পের চুক্তি আমাদের ওপর বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না। ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অধীন রাষ্ট্র নয়, আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র।’
ইসরায়েলের মন্ত্রীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিজ দেশের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরাসরি সমালোচনা এড়িয়ে গেলেও বিরোধী দল ও ডানপন্থী শিবিরের নেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এমনকি নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকরাও ট্রাম্পের ওপর চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ইসরায়েলের ‘চ্যানেল ১৪ নিউজ’-এর সাংবাদিক ইনন মাগাল, যাঁকে ইসরায়েলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র হিসেবে গণ্য করা হয়, এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ইরান ও লেবাননের যুদ্ধে ইসরায়েলকে একা ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি ট্রাম্পকে পরাজিত ব্যক্তি এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ঘৃণ্য ব্যক্তি বলে আখ্যা দেন। ইনন মাগাল মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারকে ইঙ্গিত করে একটি সাধারণ ইহুদিবিদ্বেষী গালি ব্যবহার করে ‘লিটল জিউস’ (ছোট ইহুদি) বলে উল্লেখ করেন। একই টেলিভিশন চ্যানেলের আরেক সাংবাদিক শিমন রিকলিন গতকাল বলেন, ‘এ মুহূর্তে ইসরায়েলের সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন, তা হলো নিজের সার্বভৌমত্ব।’ তিনি বলেন, ইসরায়েলের যে নিজস্ব স্বার্থ আছে, তা এই ‘বিশ্বাসঘাতক আমেরিকা’কে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই সার্বভৌমত্ব প্রয়োজন।
ট্রাম্প যা বললেন : প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, লেবাননে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ‘আরো দায়িত্বশীল হতে হবে’ এবং ইসরায়েলের আগ্রাসন ও হিজবুল্লাহকে সামলানোর পদ্ধতিতে তিনি ‘খুশি নন’। এদিকে ইরান সতর্ক করে বলেছে, এখন থেকে লেবাননের ওপর যেকোনো ইসরায়েলি হামলা অথবা এর ভূখণ্ডে অব্যাহত দখলদারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত অন্তর্বর্তী চুক্তির লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে। যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় অসংখ্য ইরানি কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি মনে করেন ইরানের ‘এখন যৌক্তিক নেতৃত্ব রয়েছে’। তিনি বলেছেন, যে ইরানি নেতারা ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক’ ছিলেন, তাঁরা ‘এখন আর নেই’।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বর্তমান নেতারা ‘চরমপন্থী নন’ এবং তাঁরা ‘তাঁদের দেশকে সাহায্য করতে চান’। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁদের একটি ‘ভালো সম্পর্ক’ থাকবে। চূড়ান্ত চুক্তি হয়ে গেলে ইরানের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ‘ভালো’ হবে, কিন্তু ইরানের নেতাদের প্রথমে ‘নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে’।
কাতারের আশাবাদ : কাতার বলেছে, ইরান-মার্কিন চুক্তির ফলে বিশ্বে এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে বলে আশা করা যায়। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের জন্য শুক্রবার জেনেভায় কাতারের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।
মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার : ইরানের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এ ঘোষণার পর অন্তত তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী দুটি কার্গো জাহাজ সফলভাবে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় জাহাজগুলো যাত্রা শুরু করেছে। প্রেস টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক সূত্রগুলো বলছে, জাহাজগুলো এখন কোনো বাধা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে চলাচল করছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে থাকবেন গালিবাফ : ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ সমাপ্তকারী চুক্তির স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সুইজারল্যান্ডে যোগ দেবেন বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন ইরানের এক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া তথ্য মতে, মজিদ তাখত-রাভাঞ্চি বলেছেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান হবে সুইজারল্যান্ড, তবে সঠিক অবস্থান এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। স্বাক্ষরের পরপরই পরবর্তী দফার আলোচনা শুরু হবে।’ সূত্র : মেহের নিউজ, এএফপি, আল জাজিরা, মিডল ইস্ট আই
আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলে ভুল দেখেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী
পদ ছাড়লেন নির্বাহী পরিচালক

রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তে কোনো ভুল দেখেন না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায় এড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হাম চিকিৎসাসংক্রান্ত ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘প্রথমে আমরা লাইসেন্সটা বাতিল করেছি। আমি মনে করি, আমি কোনো ভুল করিনি। ছয়টি শিশুকে অবহেলায় মারা যেতে দেওয়া হবে, আর কর্তৃপক্ষ শান্তিতে থাকবে এটা হতে পারে না। দেশের স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা জরুরি। কোনো হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হলে তা উপেক্ষা করা হবে না। পরিবর্তন আনতে হলে স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টদের নিজেদের মধ্য থেকেই উদ্যোগ নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’
চিকিৎসকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসা একটি মানবিক ও মহৎ পেশা। রোগীদের প্রতি দায়িত্বশীলতা, সহমর্মিতা ও নৈতিক আচরণ ছাড়া মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। চিকিৎসকদের রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং মানবিক আচরণ করতে হবে।’
করোনাকালে চিকিৎসক ও নার্সদের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ‘তাঁদের পেশাদারি ও সাহসিকতার কারণেই বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে কম মৃত্যুহার বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।’ একই সঙ্গে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় চিকিৎসকদের আরো সক্রিয় হওয়ার আহবান জানান তিনি। স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১.০২ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তদন্ত চলছে
আদ-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, একটি বদ্ধ কক্ষে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা ছিল না, তদারকির ঘাটতি ছিল এবং দীর্ঘ সময় কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত ২৭ মে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নোটিশের জবাব দিলেও সরকার তাদের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে আদ-দ্বীন কর্তৃপক্ষ।
নির্বাহী পরিচালকের পদত্যাগ
এদিকে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন অধ্যাপক জামালুন্নেসা। গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিশুমৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ গভীরভাবে শোকাহত। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদারকি ব্যবস্থা জোরদার এবং বিদ্যমান প্রটোকল পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
