• ই-পেপার

মুসলিমবান্ধব পর্যটনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ইন্দোনেশিয়ার উদ্যোগ

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-১১৬৯

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

সুতরাং জেনে রাখো, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই, ক্ষমা প্রার্থনা করো তোমার ও মুমিন নর-নারীদের ত্রুটির জন্য। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি এবং অবস্থান সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন।  (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ১৯)

আয়াতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

 

১. আয়াতে প্রথমে জ্ঞানার্জনের কথা বলা হয়েছে, অতঃপর তাওবা তথা আমলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর দ্বারা বোঝা যায়, জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি আমল থাকাও আবশ্যক।

২. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই আমি প্রতিদিন এক শ বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি।

৩. নবীজি (সা.) পাপমুক্ত ছিলেন, তবু তিনি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় ও উম্মতকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রতিদিন আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।

৪. আয়াতে জাম্বুন দ্বারা উদ্দেশ্য পাপ নয় এমন ভুল। যেমন ইজতিহাদি ভুল। এটা দোষের নয় এবং তা নবীদেরও হতে পারে।

৫. মুমিনদের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে। কারণ তাঁর দোয়া ও সুপারিশ আল্লাহর দরবারে কবুল করা হয়। পাশাপাশি এটা মুমিনদের জন্য মানসিক প্রশান্তিরও কারণ। (জাদুল মাসির : ৭/৪০৪)

ইসলাম কী বলে

মাইকে জুমার বয়ান ও নামাজ পড়ানো

আমার নাম হাবিব আনজার। আমার বাড়ি বরিশাল শহরে। আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব মসজিদের আজান দেওয়ার মাইকে জুমার বয়ান করেন এবং জুমার নামাজ পড়ান। এভাবে মাইকে জুমার বয়ান করা ও নামাজ পড়ানো কি বৈধ?

মুফতি আবদুল্লাহ নুর
মাইকে জুমার বয়ান ও নামাজ পড়ানো

প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, জুমার খুতবা ও নামাজে লাউড স্পিকারের আওয়াজ এতটুকু উঁচু রাখবে যেন উপস্থিত শ্রোতারা তা শুনতে পারে। লাউড স্পিকারের ব্যবহার করা হবে প্রয়োজন পূরণের জন্য। এগুলো ব্যবহার করে অনুপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে খুতবা ও কিরাতের আওয়াজ পৌঁছানোর কোনো প্রয়োজন নেই। নামাজের সময় লাউড স্পিকারের আওয়াজ ততটুকুই রাখবে, যা দিয়ে বিভ্রান্তি ছাড়া নামাজ আদায় করা যায়। বিনা প্রয়োজনে অতিরিক্ত আওয়াজ বৃদ্ধি করা পরিহারযোগ্য।

জুমার আগে যে বয়ান হয় তা যদি মাইকের মাধ্যমে প্রচার করা হয় এবং এর দ্বারা মানুষের কাছে উপদেশ পৌঁছে দেওয়া উদ্দেশ্য হয়, তবে তাতে কোনো দোষ নেই। মনে রাখতে হবে, বাইরের মাইক ব্যবহারের ফলে যদি মানুষের কষ্ট হয়, তাহলে তা ব্যবহার করা সঠিক নয়। যেমন মসজিদের পাশে যদি কোনো হাসপাতাল থাকে এবং সেখানে সব সময় অসুস্থ ব্যক্তিরা থাকে, মাইকের আওয়াজে তাদের কষ্ট হতে পারে। এমন অবস্থায় বাইরের মাইক ব্যবহার করবে না। ফাতাওয়ায়ে শামিতে লেখা হয়েছে, পূর্ব ও পরের সব আলেমরা একমত যে মসজিদ বা মসজিদের বাইরে সম্মিলিত দ্বিনি আলোচনা করা উত্তম। কিন্তু শর্ত হলো তার শব্দ ঘুমন্ত ব্যক্তি, মুসল্লি ও কোরআন তিলাওয়াতকারীর জন্য সমস্যার কারণ হবে না। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬৬০)

ফাতাওয়ায়ে শামিতে আরো লেখা হয়েছে, যদি এক ব্যক্তি ফিকহ লেখে এবং তার পাশে অন্য এক ব্যক্তি কোরআন তিলাওয়াত করে। ফিকহ লেখা ব্যক্তি কোরআন তিলাওয়াত শুনতে পারছে না, এমন অবস্থায় কোরআন পাঠকারীরই গুনাহ হবে। একই কারণে কেউ যদি ছাদে কোরআন তিলাওয়াত করে অথচ মানুষ ঘুমিয়ে আছে, তখন তিলাওয়াতকারী গুনাহগার হবে। কেননা সে তাদের কোরআন শ্রবণ থেকে বিরত থাকার কারণ হয়েছে অথবা সে তাদের ঘুম ভাঙ্গিয়ে কষ্ট দিচ্ছে। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৫৪০)

ফাতাওয়ায়ে আলমগিরিতে লেখা হয়েছে, যে ইমাম মানুষের প্রয়োজনের চেয়ে আওয়াজ উঁচু করে, সে অন্যায় করল। কেননা ইমাম উচ্চৈঃস্বরে কোরআন তিলাওয়াত করে যেন মানুষ তা শোনে এবং তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে। পাশাপাশি তাদের মনোযোগও স্থির থাকে। (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি : ১/৭২)

আল্লাহ সর্ববিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।

 

পশ্চিমা সমাজে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ইনশাআল্লাহ’

এরপর ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিব যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রথম দুই মুসলিম নারী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ফলে মার্কিন রাজনৈতিক সংবাদে আরবি ও ইসলামী পরিভাষার ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যেতে থাকে

আলেমা হাবিবা আক্তার
পশ্চিমা সমাজে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ইনশাআল্লাহ’

মুসলিম সমাজে নিত্য ব্যবহৃত শব্দযুগল ইনশাআল্লাহ জনপ্রিয় হচ্ছে পশ্চিমা সমাজেও। আরবি ইনশাআল্লাহ শব্দযুগল মূলত ইনশা ও আল্লাহ শব্দদ্বয়ের সমন্বয়ে গঠিত। যার অর্থ যদি আল্লাহ চান (তবে হবে)। সম্প্রতি মার্কিন অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে এক সাক্ষাৎকারে ইনশাআল্লাহ বলেন। সেই সাক্ষাৎকারের একটি শর্ট ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখ লাখ মানুষ তাঁর ভালোবাসা ও সহানুভূতি জানায়। তাঁর আগে স্টিং ও লিন্ডসে লোহানও ইনশাআল্লাহ বলে আলোচনায় এসেছিলেন। শুধু পশ্চিমা বিশ্বের তারকারা নন, বরং পশ্চিমা বিশ্বের সাধারণ মানুষের ভেতরও শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

জিডেল্ট গ্লোবাল নিউজ ডেটা বেইসের ওপর ভিত্তি করে দ্য ন্যাশনালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের পর ইংরেজিভাষি সংবাদমাধ্যমে ইনশাআল্লাহর ব্যবহার তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শব্দটির ব্যবহার পশ্চিমা সমাজে আগেও ছিল। তবে ২০১৬ সালে শিল্পী স্টিংয়ের ইনশাআল্লাহ গানের পর শব্দটি পশ্চিমা সমাজ ও সংস্কৃতিতে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে, ইংরেজিভাষি মূলধারার মাধ্যমেও তা স্থান করে নেয়।

জিডেল্ট সারা বিশ্বের হাজার হাজার অনলাইন, প্রিন্ট পত্রিকা, রেডিও-টেলিভিশনের ভাষা পর্যবেক্ষণ করে। ফলে তারা সহজেই চিহ্নিত করতে পারে একটি শব্দ কিভাবে মিডিয়ায় প্রবেশ করে এবং তা ছড়িয়ে পড়ে। সংস্থাটির তথ্য মতে, ইনশাআল্লাহ শব্দটি ধীরে ধীরে ইংরেজি ভাষার শব্দভাণ্ডারের অংশ হয়েছে। শুধু সংবাদমাধ্যমে নয়, বরং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও ইনশাআল্লাহ শব্দের জনপ্রিয়তা লক্ষণীয়। গুগল সার্চ ট্রেন্ডে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে meaning inshallah (ইনশাআল্লাহর অর্থ)-এর অনুসন্ধান ১৩০ শতাংশ বেড়েছে। translate inshallah from Arabic-এর অনুসন্ধান ৭০০ শতাংশ বেড়েছে এবং mashallah vs inshallah-এর অনুসন্ধান বেড়েছে ১৮০০ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান ইংরেজিভাষি মানুষের কৌতূহল বৃদ্ধির প্রমাণ।

সংবাদমাধ্যমে ইনশাআল্লাহ শব্দটির ব্যবহারে প্রথম উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যায় ২০১৭ সালে। তখন অভিনেত্রী লিন্ডসে লোহান ইনস্টাগ্রামে ইনশাআল্লাহ লিখে একটি পোস্ট করেছিলেন। এরপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন কি না তা নিয়েও ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা শুরু হয় এবং সংবাদমাধ্যমে শব্দটির ব্যবহার বেড়ে যায়।

দুই বছর পর ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিব যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম নারী সদস্য হন। এর ফলে মার্কিন রাজনৈতিক সংবাদে আরবি ও ইসলামী পরিভাষার ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যেতে থাকে। এরপর ২০২০ সালে আবারও শব্দটির ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার সময় ইনশাআল্লাহ শব্দটি ব্যবহার করেন। এর ফলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে শব্দটি নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় যুদ্ধ শুরু হলে পশ্চিমা বিশ্বের বহু মানুষ গাজার বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতাদের অনুসরণ করতে থাকেন। এর ফলে ইনশাআল্লাহ শব্দটি আরো পরিচিত হয়ে ওঠে। চলতি বছর অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ের একটি সাক্ষাৎকারে ইনশাআল্লাহ বলায় তা নতুন করে আলোচনায় আসে ও এর ব্যবহার বেড়ে যায়।

অভিধানে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার অনেক আগেই অনেক শব্দ সীমান্ত অতিক্রম করে মানুষের দৈনন্দিন ভাষায় প্রবেশ করে। সংবাদমাধ্যম, অভিবাসন, বিনোদনজগৎ ও সামাজিক ধর্মের মাধ্যমে সেগুলো ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে ওঠে। বর্তমানে ইনশাআল্লাহ, হাবিবিমাশাআল্লাহর মতো আরবি অভিব্যক্তি ইংরেজি কথোপকথনেও ক্রমেই অনুবাদ ছাড়াই ব্যবহৃত হচ্ছে।

     -দ্য ন্যাশনাল অবলম্বনে

ফলমূল দুনিয়ার সুখভোগ, আখিরাতের নিয়ামত

উম্মে আহমাদ ফারজানা
ফলমূল দুনিয়ার সুখভোগ, আখিরাতের নিয়ামত

দুনিয়ার অসংখ্য নিয়ামতের মধ্যে ফলমূল এমন নিয়ামত, যা মানুষের জীবনকে আনন্দময়, স্নিগ্ধ ও সুন্দর করে তোলে। এসব ফলমূল দুনিয়ার সুখভোগ, আখিরাতের নিয়ামত। আল্লাহ তাআলা বলেন : আমি আকাশ থেকে পরিমিত পরিমাণে পানি বর্ষণ করি, অতঃপর তা পৃথিবীতে সংরক্ষণ করি। আর আমি চাইলে তা অপসারণ করতেও অবশ্যই সক্ষম। তারপর সেই পানির মাধ্যমে আমি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙুরের বাগান। সেখানে তোমাদের জন্য আছে প্রচুর ফল-ফলাদি, যা থেকে তোমরা আহার করো। আর সৃষ্টি করি সিনাই পর্বত থেকে উৎপন্ন এক বৃক্ষ, যা তেল ও ভোজনকারীদের জন্য তরকারিস্বরূপ উপাদান উৎপন্ন করে। (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ১৮-২০)

দুনিয়ায় নানা স্বাদ, রং ও আকৃতির ফল দেখা যায়। শুধু এগুলোর দিকে তাকালেই মন মুগ্ধ হয়ে যায়। লাল, গোলাপি, সবুজ, গাঢ় লাল, হলুদ কিংবা হালকা গোলাপি! কত বিচিত্র রঙের সমাহার! অথচ আকাশের বৃষ্টি একই, মাটি একই, পানিও একই; কিন্তু সেই একই উপাদান থেকে উৎপন্ন ফলের রূপ, রং ও স্বাদ কতই না বৈচিত্র্যময়!

অনেক সময় গাছের পাতা ও বাহ্যিক আকৃতি এক রকম হলেও তাদের ফলের আকৃতি, স্বাদ, প্রকৃতি, রং ও সুগন্ধ সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়। আবার কখনো ফলের আকৃতি প্রায় একই হলেও কারো স্বাদ মিষ্টি, কারো টক, আবার কারো তিক্ত।

কিছু ফল কাঁটায় ঘেরা থাকে, অথচ তার ভেতরের স্বাদ হয় অপূর্ব মধুর। প্রতিটি ফলেরই একটি আবরণ রয়েছে, যা তার রস, সতেজতা ও কোমলতা রক্ষা করে।

একই নামের ফলও কখনো ডিম্বাকার, কখনো গোলাকার হয়। আবার একই ফলের রংও ভিন্ন হতে পারে। কিছু ফল গাছের অনেক উঁচুতে ধরে, যা সংগ্রহ করতে কষ্ট হয়; আবার কিছু ফল এত নিচুতে থাকে যে সহজেই তুলে নেওয়া যায়।

কিছু ফল গাছে ধরে, কিছু লতায়, কিছু মাটির ওপর জন্মায়, আবার কিছু মাটির নিচে। কোথাও ফল গুচ্ছাকারে জন্মায়, কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। কিছু ফল ভারী, কিছু হালকা। কিছু ফল তাজা খাওয়া হয়, আবার শুকিয়েও খাওয়া হয়।

কিছু ফল শুধু মরুভূমিতে জন্মায়, কিছু শুধু শীতপ্রধান দেশে, আবার কিছু শুধুই উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে। বছরের প্রতিটি ঋতুতেই নির্দিষ্ট কিছু ফল জন্মায়, যা অন্য সময় পাওয়া যায় না। কিছু ফল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়, আবার কিছু খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।

এসবই আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের ও আমাদের গবাদি পশুর জন্য ভোগের উপকরণ। যেমনমহান আল্লাহ বলেন, তোমাদের ও তোমাদের গবাদি পশুর উপভোগের জন্য।

(সুরা : আন-নাজিআত, আয়াত : ৩৩)

আল্লাহর এই অপার নিয়ামতের গভীরতা উপলব্ধি করতে তাঁর এই বাণী নিয়ে চিন্তা করুন : তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন। অতঃপর তার মাধ্যমে আমি সব ধরনের উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি। সেখান থেকে সবুজ অঙ্কুর বের করেছি, যার থেকে স্তরে স্তরে শস্যদানা উৎপন্ন হয়। আর খেজুরগাছের মোচা থেকে ঝুলে থাকে নিকটবর্তী গুচ্ছ। আরো আছে আঙুরের বাগান, জলপাই ও ডালিমযাদের কিছু একে অপরের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, আবার কিছু ভিন্ন। তোমরা লক্ষ করো তাদের ফলের দিকে, যখন তা ধরে এবং যখন তা পরিপক্ব হয়। নিশ্চয়ই এতে ঈমানদারদের জন্য রয়েছে বহু নিদর্শন। (সুরা : আল-আনআম, আয়াত : ৯৯)

আরো এক জায়গায় আল্লাহ বলেন : তিনিই সৃষ্টি করেছেন মাচায় ওঠানো বাগান এবং মাচাবিহীন বাগান, খেজুরগাছ, বিভিন্ন স্বাদের শস্য, জলপাই ও ডালিম, যাদের কিছু একে অপরের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, আবার কিছু ভিন্ন। যখন এগুলো ফল দেয় তখন তা থেকে খাও এবং ফসল কাটার দিন তার হক আদায় করো। আর অপচয় করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না। (সুরা : আল-আনআম, আয়াত : ১৪১)

দুনিয়ার ফলের সঙ্গে জান্নাতের ফলের তুলনা

জান্নাতের ফল কখনো মৌসুমের অপেক্ষায় থাকবে না। যখনই কেউ চাইবে, তখনই তা উপস্থিত হবে।

আল্লাহ বলেন, এবং তারা নিজেদের পছন্দমতো ফল বেছে নেবে। (সুরা : আল-ওয়াকিয়াহ, আয়াত : ২০)

জান্নাতের ফল চিরস্থায়ী, অবিরাম এবং অফুরন্ত। কখনো ফুরিয়ে যাবে না, কখনো নিষিদ্ধও হবে না।

জান্নাতবাসীরা কখনো ফলের অভাব, শেষ হয়ে যাওয়া কিংবা তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করবে না। তারা যখনই যা ইচ্ছা করবে, সেই ফল তাদের সামনে উপস্থিত হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জান্নাতের সেই চিরস্থায়ী নিয়ামত ও অফুরন্ত ফলের সৌভাগ্য দান করুন। আমিন।