• ই-পেপার

কোরআন থেকে শিক্ষা

  • পর্ব ১১৬৬

প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

প্রশ্ন-উত্তর

খাঁচায় পাখি পালন

 

প্রশ্ন : খাঁচাবন্দি করে পাখি লালন-পালন করার বিধান কী?

নাজিমুদ্দিন মোল্লা, মেহেরপুর

উত্তর : খাঁচাবন্দি করে পাখি লালন-পালন করা জায়েজ আছে। তবে তা যত্ন সহকারে রাখতে হবে। যেন ক্ষুধা-পিপাসায় কষ্ট না পায়। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৬৯, ফাতহুল বারী : ১/৭১৫, রদ্দুল মুহতার : ৬/৪০১)

 

হাদিসের আলো

প্রবৃত্তি জান্নাত লাভের অন্তরায়

প্রবৃত্তি জান্নাত লাভের অন্তরায়

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জাহান্নামকে মনোলোভা জিনিসগুলো দ্বারা ঘিরে দেওয়া হয়েছে এবং জান্নাতকে ঘিরে দেওয়া হয়েছে কষ্টসাধ্য কর্মগুলো দ্বারা।’

(বুখারি, হাদিস : ৬৪৮৭)

শিক্ষা

হাদিসবিশারদরা বলেন,

১. প্রবৃত্তি পরকালীন পুরস্কার লাভের অন্তরায় আর জাহান্নামের পথে সহায়ক।

২. আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত পুরস্কার লাভে নেক কাজে আত্মনিয়োগ ও প্রবৃত্তি দমন করা আবশ্যক।

৩. জাহান্নামকে মনোলোভা বিষয় দ্বারা ঘিরে দেওয়ার ব্যাখ্যা হলো পার্থিব জীবনের মোহ ও আকাঙ্ক্ষাগুলো মানুষের অন্তর থেকে জাহান্নামের ভয় দূর করে দেয়।

৪. দুনিয়ায় জান্নাত লাভের কাজগুলোকে কখনো কখনো কষ্টকর ও কঠিন বলেই মনে হয়।

৫. কষ্টকর কয়েকটি বিষয় হলো ইবাদতগুলো যত্নের সঙ্গে আদায় করা, পাপাচার পরিহার করা, রাগ দমন করা, ক্ষমা-সহনশীলতা প্রদর্শন করা, উপার্জনের টাকা দান করা, মন্দের পরিবর্তে ভালো করা।

(মাউসুয়াতুল হাদিসিয়্যা)

 

 

মালয়েশিয়ার ইসলাম উন্নয়ন বিভাগ

ধর্মীয় বই প্রকাশে আরো সতর্ক হওয়ার আহবান

নিহার মামদুহ
ধর্মীয় বই প্রকাশে আরো সতর্ক হওয়ার আহবান

মালয়েশিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট (জাকিম) দেশটির ন্যাশনাল বুক কাউন্সিল অব মালয়েশিয়াকে ধর্মীয় বই প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রকাশকদের প্রতি নিয়মিত সতর্কবার্তা দেওয়ার আহবান জানিয়েছে, বিশেষ করে যেসব ধর্মীয় গ্রন্থে পবিত্র কোরআনের আয়াত ও হাদিসের বাণী উদ্ধৃত করা হয়, সেগুলো প্রকাশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

জাকিমের মহাপরিচালক দাতুক ড. সিরাজউদ্দিন সুহাইমি আজ এক বিবৃতিতে বলেন, ধর্মীয় বইয়ের প্রকাশকরা যাতে ইসলামের বিধান ও প্রয়োজনীয় শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করেন, সে জন্য জাকিম সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর ইসলামী ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব রচিত একটি ধর্মীয় বইয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্যগত ও ধর্মীয় অসংগতি ধরা পড়ার পর সৃষ্ট বিতর্কের প্রেক্ষাপটে জাকিম এ বিবৃতি দিয়েছে।

ড. সিরাজউদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (ধর্মবিষয়ক) মন্ত্রী দাতুক ড. মোহদ নাঈম মোকতারের দৃঢ় অবস্থানকে জাকিম পূর্ণ সমর্থন জানায়। মন্ত্রী বলেছেন, প্রকাশকদের অবশ্যই ইসলামের পবিত্রতা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে এবং ধর্মীয় বই প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সেগুলো যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করাতে হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক লেখককে তাঁর বইয়ের বিষয়বস্তুর পূর্ণ দায়িত্ব বহন করতে হবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় বইয়ের প্রকাশকদের উচিত প্রকাশের আগে বইয়ের সব ধর্মীয় বিষয়বস্তু পর্যালোচনার জন্য ইসলামী শিক্ষায় পারদর্শী, যোগ্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া, যাতে প্রকাশিত গ্রন্থে কোনো ধরনের ভুল বা অসংগতি না থাকে।

সূত্র : বারনামা ডটকম

 

খিজির (আ.)-এর জীবন নিয়ে প্রশ্ন ও জবাব

মুফতি আবদুল্লাহ নুর
খিজির (আ.)-এর জীবন নিয়ে প্রশ্ন ও জবাব

ইসলামী ধর্ম বিশ্বাসে এক রহস্যময় ব্যক্তিত্বের নাম খিজির (আ.)। মুসলমানদের ভেতর যাঁর পরিচয়, অবস্থান ও জীবনকাল নিয়ে নানা বিশ্বাস প্রচলিত আছে। তাঁকে নিয়ে মানুষের বিশ্বাস ও কৌতূহলের যেন শেষ নেই। যেমন—খিজির (আ.) কে ছিলেন? তিনি নবী না ওলি? তিনি কি এখনো জীবিত আছেন? জীবিত থাকলে তিনি কোথায় থাকেন? অনেক বুজুর্গ ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি করেন, এসব দাবি সত্য? তিনি কেন আত্মপ্রকাশে আসেন না, যেন মানুষ তাঁর জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হতে পারে? কোরআন ও হাদিসের আলোকে এসব প্রশ্নের উত্তর তুলে ধরা হলো—

বিশুদ্ধ মত হলো খিজির (আ.) কোনো নবী ছিলেন না, তিনি আল্লাহর একজন নেককার বান্দা বা ওলি ছিলেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহর এই নেক বান্দার বর্ণনা এসেছে। সুরা কাহফের বর্ণনা অনুসারে আল্লাহ খিজির (আ.)-কে বিশেষ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেছিলেন। তিনি আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান ও দূরদর্শিতার কারণে এমন অনেক জিনিস অনুধান করতেন পারতেন, যা সাধারণ মানুষের জন্য সাধ্যাতীত। আল্লাহর নবী মুসা (আ.) জ্ঞান আহরণের জন্য খিজির (আ.)-এর সঙ্গী হন। কিন্তু তিনি শর্তানুসারে ধৈর্য ধারণ করতে পারেননি। ফলে তাঁরা উভয়ে ভিন্ন পথ অবলম্বন করেন। (বিস্তারিত দেখুন : সুরা কাহফ, আয়াত ৬৫-৭৮)

খিজির (আ.)-এর ব্যাপারে একটি প্রচলিত বিশ্বাস হলো তিনি এখনো জীবিত আছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত জীবিত থাকবেন। তাঁর ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের ঘটনাও প্রচলিত আছে। যেমন—তাঁর সঙ্গে অমুক ব্যক্তির সাক্ষাৎ হয়েছে, তিনি অমুক ব্যক্তিকে খিরকা প্রদান করেছেন, তিনি অমুককে বর দিয়েছেন ইত্যাদি। এসব দাবির পক্ষে কোরআন-হাদিস তো দূরের কথা, গ্রহণযোগ্য কোনো ঐতিহাসিক সূত্রও পাওয়া যায় না। উম্মতের মুহাক্কিক (গবেষক ও অনুসন্ধানী) আলেমরা একমত খিজির (আ.) জীবিত নেই। আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহ.) তাঁর ‘আল মানারুল মুনিফ ফিল হাদিসিস সহিহ ওয়াদ-দয়িফ’ বইয়ে ভিত্তিহীন হাদিসের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। তিনি জাল হাদিসের পরিচয় অংশে বলেছেন, যেসব হাদিসে খিজির (আ.)-এর জীবন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে তার সব মিথ্যা ও বানোয়াট। তাঁর জীবিত থাকার ব্যাপারে একটিও বিশুদ্ধ হাদিস নেই। তেমনি একটি বানোয়াট হাদিস হলো ‘একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ তাঁর পেছনে কথার শব্দ শুনলেন। মানুষ তাকিয়ে দেখলেন তিনি খিজির (আ.)।’

ইবরাহিম হারবি (রহ.)-কে খিজির (আ.)-এর জীবিত থাকার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়েছিল—তিনি কি এখনো আছেন? তিনি বলেন, মানুষের ভেতর এই বিশ্বাস শয়তানই ছড়িয়েছে। ইমাম বুখারি (রহ.)-কে খিজির ও ইলিয়াস (আ.) সম্পর্কে  জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তাঁরা দুজন কি জীবিত? তিনি বলেন, সেটা কিভাবে সম্ভব? অথচ নবী (সা.) বলেছেন, ‘এক শ বছর পর এখন যারা পৃথিবীতে আছে তাদের কেউ অবশিষ্ট থাকে না।’

(বুখারি ও মুসলিম)

অসংখ্য আলেম খিজির (আ.)-এর ব্যাপারে একই উত্তর দিয়েছেন। তাঁরা দলিল হিসেবে কোরআনের নিম্নোক্ত আয়াতটি পেশ করেন। আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি তোমার আগেও কোনো মানুষকে অনন্ত জীবন দান করিনি। তুমি মারা গেলে তারা কি চিরজীবী হয়ে থাকবে?’

(সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৩৪)

আর এটা যখন প্রমাণিত হলো খিজির (আ.) জীবিত নেই, তাই তাঁর অবস্থানস্থল, কাজগুলো ও আত্মপ্রকাশ বিষয়ক প্রশ্নও অর্থহীন। তবে এটা সত্য যে আল্লাহ খিজির (আ.)-কে প্রভূত জ্ঞান দান করেছিলেন। পবিত্র কোরআনে এর সাক্ষ্য পাওয়া যায়। ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর তারা সাক্ষাৎ পেল আমার বান্দাদের মধ্যে একজনের, যাকে আমি আমার কাছ থেকে অনুগ্রহ দান করেছিলাম এবং আমার কাছ থেকে শিক্ষা দিয়েছিলাম এক বিশেষ জ্ঞান।’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ৬৫)

আল্লাহ সবাইকে সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমিন।