মানুষ চায় অপরাধের বিচার হোক, অপরাধীরা শাস্তি পাক। আর সে কারণেই দুবাইয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হওয়ায় মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই তাঁকে দ্রুত দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু ‘বেনজীরের ডানহাত’ বা ‘দ্বিতীয় বেনজীর’ হিসেবে খ্যাত পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক গাজী মো. মোজাম্মেল হক কিভাবে এখনো দেশে সদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং কেন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, এমন প্রশ্ন বহু মানুষের।
বেনজীর আহমেদের কুকীর্তি ও অঢেল অবৈধ সম্পদ নিয়ে ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকেই নিয়মিতভাবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ শুরু করে কালের কণ্ঠ। ফলে এপ্রিল মাসে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক তাঁর ও তাঁর পরিবারের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অনুসন্ধানে নামে। ২০২৪ সালের ৪ মে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বেনজীর আহমেদ। কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানী টিম শুধু বেনজীর আহমেদ নয়, ‘দ্বিতীয় বেনজীর’ খ্যাত গাজী মো. মোজাম্মেল হকসহ আরো অনেকের দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ অপরাধের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে থাকে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠের সেই ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। সোমবার নিজ কার্যালয়ে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শকের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় তিনি বলেন, কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর দেশবাসী প্রথমবারের মতো বেনজীর আহমেদের অঢেল সম্পদের কথা জানতে পারে।
একইভাবে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের দুর্নীতির তালিকাও অনেক দীর্ঘ। তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল, ক্ষমতার অপব্যবহার, জোরপূর্বক জমি লিখে নেওয়া, নদী ভরাট, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও শত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধানও চালাচ্ছে। আদালতের আদেশে তাঁর ও পরিবারের নামে থাকা জমি জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, অপরাধ বিশ্লেষকরাও মনে করেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো বিচ্ছিন্ন নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসংখ্য অভিযোগের সমষ্টি। এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার বা আইনের আওতায় না আনতে পারা রাষ্ট্রের বড় ধরনের ব্যর্থতার পরিচয় বহন করে।
অপরাধ করেও অপরাধীরা পার পেয়ে গেলে তা অপরাধীদের পাশাপাশি অন্যদেরও অপরাধ করতে উৎসাহিত করে। দেশে অপরাধ দমন বা নিয়ন্ত্রণে পুলিশসহ অনেক সংস্থা রয়েছে। জবাবদিহির অভাবে তাদেরও অনেকে অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। আর সে কারণে অপরাধের মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। আমরা মনে করি, বেনজীরের পাশাপাশি নিকট অতীতে অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

