• ই-পেপার

হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের প্রস্তুতি, লোহিত সাগরে যাচ্ছে জার্মানির দুটি জাহাজ

ট্রাক দিয়ে গাড়ি ঘিরে বিজেপি নেতাসহ তিনজনকে পুড়িয়ে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাক দিয়ে গাড়ি ঘিরে বিজেপি নেতাসহ তিনজনকে পুড়িয়ে হত্যা
ছবি : এনডিটিভি।

ভারতের ছত্তিশগড়ের কোরিয়া জেলায় বালু উত্তোলন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। দুটি ট্রাকের মাঝে আটকে একটি ফরচুনার এসইউভি গাড়িকে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে আগুনে পুড়ে গাড়িতে থাকা তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপি নেতা ও সাবেক জনপদ পঞ্চায়েত সভাপতি ভারত সিং, তিনি লাল্লা সিং নামেও পরিচিত ছিলেন। ঘটনাটি মঙ্গলবার গভীর রাতে সোনহাট থানার অন্তর্গত নওগাইন গ্রামে ঘটে। 

তদন্তকারীদের মতে, ভারত সিং ও তার সঙ্গীরা যে ফরচুনার গাড়িতে ছিলেন, সেটিকে ঘিরে ফেলা হয়। গাড়িটির সামনে ও পেছনে ট্রাক দাঁড় করিয়ে তাদের বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গাড়ির ভেতরেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান ভারত সিং।

এদিকে আহত মায়াঙ্ক সিং বিলাসপুরের অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই ঘটনার পর ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

নিহত ভারত সিংয়ের পরিবারের দাবি, তিনি বালু উত্তোলন নিয়ে চলা একটি বিরোধ মেটাতে আলোচনায় গিয়েছিলেন। তবে তাদের অভিযোগ, তাকে পরিকল্পিতভাবে সেখানে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। 

পুলিশ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন অক্ষত ত্রিপাঠি, বিশাল ত্রিপাঠি, সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠি ও মান্নু ত্রিপাঠি। অন্য অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, নাম উল্লেখ করা নয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা করা হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এলাকার বালু উত্তোলনের চুক্তি ভারত সিংয়ের পরিবারের কাছে ছিল। এরপর বালু উত্তোলন ও পরিবহন ঘিরে অর্থ আদায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, ভারত সিংয়ের গোষ্ঠী এবং বিজেপি নেতা মনোজ ত্রিপাঠীর পরিবারের মধ্যে এই বিরোধ কয়েক মাস ধরে চলছিল এবং ধীরে ধীরে তা তীব্র আকার ধারণ করে।

জানা গেছে, বালি পরিবহনে ব্যবহৃত টিপার ট্রাকগুলোর মালিক ছিল ত্রিপাঠি পরিবার। অভিযোগ অনুযায়ী, খনি থেকে উত্তোলিত বালির নিয়ন্ত্রণ ও অর্থ পরিশোধের বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে। 

স্থানীয়দের মতে, শুরুতে এটি খনি-সংক্রান্ত বিরোধ হলেও পরে তা প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে রূপ নেয়। মঙ্গলবার রাতে সংঘর্ষটি তার সবচেয়ে নৃশংস পর্যায়ে পৌঁছেছিল। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুরেশা চৌবে জানান, প্রাথমিক তদন্তে ত্রিপাঠি ও ঠাকুর গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বালু উত্তোলন-সংক্রান্ত বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। তার মতে, রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ঠাকুর পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষের মধ্যেই ফরচুনার গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে এবং তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

সোনহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) বিনোদ পাসওয়ানও দুই পক্ষের মধ্যে বালু উত্তোলন নিয়ে বিরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন লাল্লা সিং, তিনি একটি ক্রাশার ইউনিট পরিচালনা করতেন। অন্য পক্ষ ছিল ত্রিপাঠি পরিবার।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই বিরোধকে কেন্দ্র করে আগেও একাধিক মামলা হয়েছিল। এসএইচও জানান, লাল্লা সিং কিছু সময়ের জন্য অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করেছিলেন। তবে সম্প্রতি আবার সেই কার্যক্রম শুরু হয়। ঘটনার কয়েক দিন আগে মায়াঙ্ক সিং ত্রিপাঠি পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে মারধর করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছিল। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সাবেক বিধায়ক গোলাপ কামরো ও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।
এদিকে ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই বলেন, কোরিয়ার এই ঘটনার বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি জানান, কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং যারা দোষী প্রমাণিত হবে তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

পাকিস্তানের গুরুদুয়ারে শিখ দম্পতিকে গুলি করে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানের গুরুদুয়ারে শিখ দম্পতিকে গুলি করে হত্যা
সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানে গুরদুয়ারের ভিতরেই এক বৃদ্ধ শিখ দম্পতিকে গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত হামলাকারীরা। দেশটির খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মারদান শহরে একটি গুরুদ্বারে বুধবার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে। 

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের একজন জগন্নাথ। অন্যজন তার স্ত্রী। তারা দুজনই দীর্ঘদিন ধরে হোতি থানার অন্তর্গত বাবু মহল্লা খাজা গঞ্জ বাজারে অবস্থিত সেই গুরুদুয়ারটির দেখাশোনার কাজ করছিলেন এবং গুরদুয়ার ভেতরেই বসবাস করতেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, অজ্ঞাত কয়েকজন হামলাকারী ওই দম্পতির ওপর গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। হামলার পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা এলাকা ঘিরে ফেলে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন। 

হত্যাকাণ্ডের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আইনপ্রণেতা সুরেশ কুমার, জেলা পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদ বাঙ্গাশ এবং এসপি ইনভেস্টিগেশন মারিয়া মুস্তাফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাদের সঙ্গে পুলিশের একটি বড় দলও ছিল।

কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের কাজ পর্যবেক্ষণ করেন এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার কারণ ও হামলাকারীদের পরিচয় জানতে বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত করা হচ্ছে।

ঘটনার পর রেসকিউ ১১২২-এর সদস্যরা নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্তে আরো তথ্য যুক্ত হবে বলে আশা করছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত দম্পতির ভগ্নিপতি অমরজিৎ লালের অভিযোগের ভিত্তিতে কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে দায়ের করা এ মামলায় হত্যা অভিযোগের পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। 

তদন্তকারীদের ধারণা, এটি সাধারণ অপরাধের ঘটনা নয়। তাই ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে পুলিশ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং এর পেছনে কোনো সংগঠিত গোষ্ঠী আছে কি না- এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য ঘটনাস্থলের আলামত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং আশপাশের এলাকার তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


 

জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বললেন, ‘আমিই বস’

অনলাইন ডেস্ক
জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বললেন, ‘আমিই বস’
ছবি : সংগৃহীত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার এক বৈঠকে বিশ্বনেতাদের বলেন, ‘আমিই বস’। একই সঙ্গে তিনি ও জি৭ নেতারা ইউক্রেন যুদ্ধে অগ্রগতি স্বীকার করেন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেন।

ফ্রান্সের অবকাশকেন্দ্র এভিয়ান-লে-বেঁ-এ ১৫ থেকে ১৭ জুন অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের সময় ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে। বৈঠকে তিনি এক যৌথ বিবৃতির পর বিশ্বনেতাদের সামনে এই কথা বলেন।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং তার মিত্ররা সম্মেলনে এসে ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, ইউক্রেনের প্রতিরোধ সফল হচ্ছে এবং শান্তি চুক্তির শর্ত নির্ধারণের অবস্থায় রাশিয়া নেই।

গত বছর কানাডায় অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলন ইউক্রেন বিষয়ে কোনো যৌথ অবস্থান ছাড়াই শেষ হয়েছিল। তবে এবার ভার্সাই প্রাসাদে এক নৈশভোজের আগে ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ও ট্রাম্প উভয়েই সম্মেলনকে সফল বলে আখ্যা দেন। তবে মস্কোকে শান্তি আলোচনায় আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে। 

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তাবিষয়ক এক অধিবেশনে বসার সময় ট্রাম্প সাংবাদিক ও জি৭ নেতাদের উদ্দেশে আবারও ‘আমিই বস’ মন্তব্যটি করেন।


 

গুগল ছেড়ে ওপেনএআইয়ে যোগ দিচ্ছেন এআই পথিকৃৎ নোয়াম শাজির

অনলাইন ডেস্ক
গুগল ছেড়ে ওপেনএআইয়ে যোগ দিচ্ছেন এআই পথিকৃৎ নোয়াম শাজির
সংগৃহীত ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব নোয়াম শাজির গুগল ছেড়ে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা 'ওপেনএআই'-এ যোগ দিচ্ছেন। তার এই সিদ্ধান্তকে গুগলের এআই পরিকল্পনার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।

গুগলের প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জেমিনি এআই মডেলের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি ছিলেন শাজির। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ওপেনএআইয়ে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি লেখেন, 'আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমি ওপেনএআইয়ে যোগ দিচ্ছি। সেখানে অসাধারণ একটি দলের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছি।' শাজিরের এই ঘোষণার পর প্রযুক্তি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ তিনি শুধু একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নন, বরং আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিত্তি গড়ে তোলার অন্যতম কারিগর হিসেবেও পরিচিত।

নোয়াম শাজিরকে বর্তমান এআই বিপ্লবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একজন হিসেবে ধরা হয়। টাইম ম্যাগাজিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জগতের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকাতেও তার নাম রয়েছে। গুগলে দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় কাজ করেছেন তিনি। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠানের একেবারে শুরুর দিকে যোগ দেন এবং সে সময় গুগলের প্রথম ১০০ কর্মীর একজন ছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের চ্যাটজিপিটি, জেমিনি এবং অন্যান্য বড় ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের পেছনে যে প্রযুক্তি কাজ করছে, তার ভিত্তি তৈরিতে শাজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ২০১৭ সালে প্রকাশিত একটি যুগান্তকারী গবেষণাপত্রের সহলেখক ছিলেন তিনি। এ গবেষণাকেই বর্তমান বড় ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম প্রযুক্তির সূচনা হিসেবে দেখা হয়। পরবর্তীতে এই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে চ্যাটজিপিটি, জেমিনি এবং অন্যান্য জনপ্রিয় এআই সেবা।

শাজির ২০২০ সালে তার সহকর্মী ড্যানিয়েল ডি ফ্রেইতাসের সঙ্গে গুগলে 'মীনা' নামে একটি উন্নত কথোপকথনভিত্তিক চ্যাটবট তৈরি করেন। পরে এই প্রযুক্তিকে আরো উন্নত করে 'ল্যামডা' নামে নতুন সংস্করণ তৈরি করা হয়। তিনি চেয়েছিলেন সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এই প্রযুক্তি উন্মুক্ত করা হোক। তার বিশ্বাস ছিল, এই চ্যাটবট ভবিষ্যতে সার্চ প্রযুক্তিকে আমূল বদলে দিতে পারবে। তবে নিরাপত্তা, ভুল তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম নিয়ে উদ্বেগের কারণে গুগলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই পরিকল্পনায় সম্মতি দেয়নি। এ নিয়ে হতাশ হয়ে ২০২১ সালে গুগল ছেড়ে দেন শাজির। গুগল ছাড়ার পর শাজির নিজের এআই কম্পানি 'ক্যারেক্টার.এআই' প্রতিষ্ঠা করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এরপর ২০২৪ সালে গুগল একটি বিশেষ চুক্তির মাধ্যমে তাকে আবার প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনে। ওই চুক্তির মূল্য ছিল ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। গুগলে ফিরে তিনি জেমিনি এআই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তবে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি আবার প্রতিষ্ঠান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। গুগল থেকে দ্বিতীয়বার বিদায় নেওয়ার সময় শাজির বলেন, সিদ্ধান্তটি নেওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। 

শাজিরের ওপেনএআইয়ে যোগ দেওয়ার খবর প্রকাশের পর নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ওপেনএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান। তিনি বলেন, ওপেনএআইয়ের শুরু থেকেই নোয়াম এমন একজন, যার সঙ্গে তিনি সবচেয়ে বেশি কাজ করতে চেয়েছিলেন। এতে শুধু ১০ বছর সময় লেগেছে। তার আশা, এই অপেক্ষা সার্থক হবে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, শাজিরের মতো একজন গবেষকের যোগদান ওপেনএআইয়ের গবেষণা ও পণ্য উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করবে।


শাজিরের নিয়োগকে ওপেনএআইয়ের জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত মাসে ওপেনএআই গোপনে প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির আবেদন জমা দিয়েছে। একই পথে হাঁটছে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকও।  বিশ্লেষকদের মতে, শাজিরের মতো বিশ্বখ্যাত এআই গবেষকের যোগদান বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জগতে পরিচিত হওয়ার অনেক আগেই নিজের অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়েছিলেন নোয়াম শাজির। কিশোর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্র দলের হয়ে হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ৩৫তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নেন। সেখানে পূর্ণ নম্বর পেয়ে স্বর্ণপদক জয় করেন। পরে বৃত্তি নিয়ে ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রথম সেমিস্টারেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উইলিয়াম লোয়েল পুটনাম গণিত প্রতিযোগিতায় ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেন। ১৯৯৬ ও ১৯৯৭ সালে তিনি ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত দলকে জাতীয় পর্যায়ে যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনে নেতৃত্ব দেন। পড়াশোনা শেষে অল্প সময়ের জন্য ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলির স্নাতকোত্তর কর্মসূচিতে ভর্তি হলেও ডিগ্রি শেষ করার আগেই গুগলে যোগ দেন তিনি।

শাজিরের ওপেনএআইয়ে যোগদান দেখিয়ে দিচ্ছে, বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দক্ষ এআই গবেষকদের নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। যেখানে সাধারণ অনেক কর্মী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় আছেন, সেখানে এআই বিশেষজ্ঞদের চাহিদা ও মূল্য ক্রমেই বাড়ছে। এর উদাহরণ দেখা গেছে গত বছরও। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মালিক মেটা ১৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ চুক্তির মাধ্যমে স্কেল এআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা আলেক্সান্দর ওয়াংকে নিজেদের দলে যুক্ত করে নেয়। বর্তমানে তিনি মেটার সুপারইনটেলিজেন্স ল্যাবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, নোয়াম শাজিরের ওপেনএআইয়ে যোগদান শুধুমাত্র একটি চাকরি পরিবর্তনের ঘটনা নয়। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পে নেতৃত্বের লড়াই আরো তীব্র হওয়ার ইঙ্গিতও বটে।