লন্ডনে অপহরণ, নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর শুক্রবার এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে ৩৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৩৪ বছরের কারাদণ্ডের মধ্যে ২৮ বছর তাকে কারাগারে থাকতে হবে। এরপর আরো ৬ বছর কঠোর শর্তযুক্ত লাইসেন্সে (বর্ধিত তত্ত্বাবধানে) থাকতে হবে। তিনি কমপক্ষে ১৮ বছর বা মোট সাজার দুই-তৃতীয়াংশ সময় না কাটানো পর্যন্ত প্যারোলে মুক্তির জন্য বিবেচিত হবেন না।
আইলওয়ার্থ ক্রাউন কোর্টে বিচার শেষে ৩৪ বছর বয়সী গগনদীপ সিংকে ফেব্রুয়ারিতে দুটি ধর্ষণের অভিযোগ, অবৈধভাবে আটক রাখা, ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর শারীরিক ক্ষতিসাধন এবং অপহরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
২৪ বছর বয়সী এক নারীকে পশ্চিম লন্ডনের হ্যানওয়েলের একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন করা হয়। মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর-পশ্চিম ধর্ষণ ও গুরুতর যৌন অপরাধ ইউনিটের গোয়েন্দা কনস্টেবল সীতারা আব্দুল বলেন, ভুক্তভোগীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও অকল্পনীয়।
তিনি আরো বলেন, ভুক্তভোগী সাহস করে সামনে এসে অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করতে সহায়তা করেছেন। তিনি নিজের জীবন নিয়েও শঙ্কিত ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা সেই বিশ্বাসের জন্য এবং এই তদন্ত ও পরবর্তী বিচার চলাকালীন তিনি যে ধৈর্য,সাহস ও দৃঢ়সংকল্প দেখিয়েছেন, তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। এমন ভয়াবহ অপরাধের মুখেও তার দেখানো সাহস তার অসাধারণ শক্তি ও সহনশীলতার প্রমাণ।
এক দিনেরও বেশি সময় ধরে নির্যাতনের শিকার হওয়ার হয়েছিলেন ভুক্তভোগী। তার মুখে ঘুষি মারা হয়েছে, মারধর ও বিবস্ত্র করা হয়েছে। এ ছাড়াও চাবুক মারা, শরীরের বিভিন্ন স্থান পুড়িয়ে দেওয়া এবং ধর্ষণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে পরবর্তীতে অপহরণকারীরা মুক্তি দেয়। তবে তাকে হুমকি দিয়ে সতর্ক করা হয়, যেন তিনি এ বিষয়ে কাউকে কিছু না জানান।
মুক্তি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সে তার মায়ের কাছে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা কথা খুলে বলেন। পরবর্তীতে তার মা পুলিশের কাছে একজন তৃতীয় পক্ষ হিসেবে প্রাথমিক অভিযোগ দায়ের করেন। অপহরণের সময় তার মেয়ের পরা পোশাকটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য জমা দেওয়া হয় এবং এর সূত্র ধরেই সিং গ্রেপ্তার হন।
ভুক্তভোগীর মা তার বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি যখন মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করি, তারা খুব পেশাদারিত্ব ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে আমার সঙ্গে কথা বলেন। আমাকে আশ্বস্ত করে যে, তৃতীয় পক্ষ হিসেবে আমিও বিষয়টি জানাতে পারি। যদিও আমার মেয়ে প্রথমে বিষয়টি নিয়ে এগোতে চায়নি। কিন্তু অপরাধগুলোর গুরুতর হয়োর কারণে তারা আমার উদ্বেগগুলোকে গুরুত্বের সেঙ্গে নেয় এবং তদন্ত চালিয়ে যায়।’
পুলিশের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমি কখনোই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইনি। এটা আমার কাছে ভীতিকর মনে হয়েছিল। আমি ভাবছিলাম, যদি পুলিশের কাছে যাই তাহলে আমি নিজেকে এবং আমার চারপাশের মানুষদের বিপদে ফেলতে পারি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার মা হলেন একমাত্র ব্যক্তি, যিনি কখনো হাল ছাড়েননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, পুলিশের কাছে যাওয়াই সঠিক কাজ। তিনি প্রমাণ হিসেবে আমার পোশাকগুলো রেখে দিয়েছিলেন এবং আমার ডাক্তারের সমস্ত কাগজপত্র সংরক্ষণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অপরাধীরা অন্য মানুষের সঙ্গেও এমনটা করতে পারে। এটা জেনে তিনি শান্তিতে থাকতে পারতেন না।’
তিনি বলেন, ‘সেই সময়টায় আমি লজ্জাবোধ করেছিলাম। কিন্তু যারা যৌন বা অন্য কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, দয়া করে এটা মনে রাখবেন যে, লজ্জা আমাদের জন্য নয়। আমরা বেঁচে থাকব এবং আমরা আবার নতুন করে জীবন শুরু করব।’









