• ই-পেপার

বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচই সহজ নয়, বুঝলেন স্কালোনিও

‘নকআউটে কেউ কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয় না’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘নকআউটে কেউ কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয় না’
কেপ ভার্দের প্রশংসা করেছেন মেসি। ছবি : রয়টার্স

জয়টা পেয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে আজ মায়ামিতে মানুষের হৃদয় জিতেছে কেপ ভার্দে। সেই তালিকায় আছেন খোদ লিওনেল মেসিও। তাই তো ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের প্রশংসা করতে ভুলেননি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

শেষ ৩২-য়ের ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে হারার আগে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে কেপ ভার্দে। প্রতিপক্ষের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী বলেছেন, ‘জানতাম ম্যাচটা অনেক কঠিন হতে যাচ্ছে। স্পেন ও উরুগুয়ের কাছে হারেনি তারা। তবে সবচেয়ে কঠিন কাজটি প্রথমে করতে পেরেছিলাম। তা হলো প্রথম গোলটি করা। এরপর ভেবেছিলাম চেনা ছন্দ খুঁজে পেয়ে স্বস্তিতে খেলব। কিন্তু হয়েছে ঠিক উল্টো। নিজেদের সবটুকু তারা মাঠে নিংড়ে দিয়েছে।’

 

নকআউটের ম্যাচে কেউ কাউকে ছাড় দেয় না বলে জানান মেসি। ৩৯ বছর বয়সী প্লেমেকার বলেছেন, ‘নকআউটের ম্যাচে কেউ কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয় না। নামের কারণে অনেকে হয়তো প্রতিপক্ষকে কম শক্তিশালী ভাবতে পারে। তবে আমরা জানতাম ম্যাচটা মোটেও সহজ হবে না। এটাই বিশ্বকাপকে বিশেষ করে তুলেছে। সব দলই খুব কাছাকাছি মানের এবং প্রতিটি ম্যাচই কঠিন।

মায়ামির ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে পরের ম্যাচে কাজে লাগাতে চান মেসি। ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক বলেছেন, ‘বরাবরের মতোই আমরা প্রচুর পরিশ্রম করেছি। নিজেদের সেরাটা দিতে পারি আর না পারি। 

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিশ্রাম নেওয়া। পরের ম্যাচটি নিয়ে ভাবা। আর আজকের লড়াই থেকে ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করা।’

শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মিশর। ম্যাচটি আগামী ৭ জুলাই আটলান্টা স্টেডিয়ামে হবে। শুরু হবে রাত ১০টায়।

রুদ্ধশ্বাস জয়ের ম্যাচে মেসির যত রেকর্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
রুদ্ধশ্বাস জয়ের ম্যাচে মেসির যত রেকর্ড
কেপ ভার্দের বিপক্ষে এক গোল করে অনেক রেকর্ড গড়েছেন মেসি। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের মালিক আগেই হয়েছেন লিওনেল মেসি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রথম গোলটি করে আজ সংখ্যাটা ২০ করেছেন তিনি। ৩-২ ব্যবধানের রুদ্ধশ্বাস জয়ের ম্যাচে আরও কিছু কীর্তি গড়েছেন ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ীরা। চলুন দেখে নেওয়া যাক—

৩০
বিশ্বকাপের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ৩০ ম্যাচ খেললেন মেসি।
২০
প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে ২০ গোল করেছেন মেসি।

১৪
রেকর্ড ১৮ দলের বিপক্ষে গোল করা প্রথম ফুটবলার মেসি।

১২
বিশ্বকাপের নকআউটে ১২ গোলে অবদান রাখলেন মেসি। যা সর্বোচ্চ (সমান ৬টি করে গোল ও অ্যাসিস্ট)। ১১ গোলে অবদান রেখে দুইয়ে আছেন পেলে ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। 

৮ 
বিশ্বকাপে টানা ৮ ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলারও মেসি।

৭+
একাধিক আসরে ৭ গোল করা প্রথম ফুটবলার মেসি। কাতার বিশ্বকাপের পর এবারও ৭ গোল করলেন তিনি। 

‘শক্তিশালী’ কেপ ভার্দের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
‘শক্তিশালী’ কেপ ভার্দের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

ম্যাচের দীর্ঘ একটা সময় মনে হচ্ছিল ফিফা র‍্যাংকিংয়ের ৬৭ তম দলের কাছে অঘটনের শিকার হবে না তো বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা! নবাগত কেপ ভার্দে যে খেলা দেখাল মেসিদের তাতে তাদের দুর্বল বলার আর কোন উপায় নেই। ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়েও দেখিয়েছে কিভাবে প্রত্যাবর্তন করতে হয়। শেষ পর্যন্ত মেসিদের গোলে নয় বরং নিজেদের আত্মঘাতী গোলেই হারতে হয়েছে ভোজিনহাদের।

সব নাটকীয়তা শেষে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে মেসিবাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে শনিবার ভোরে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হোল্ডে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। তবে ম্যাচের প্রথম আসল সুযোগটি তৈরি করেছিল কেপ ভার্দেই, সপ্তম মিনিটে বক্সে ঢুকে অধিনায়ক রায়ান মেন্দেস খেই না হারালে তখনই লিড পেতে পারত তারা।

ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে আক্রমণ শানাতে থাকে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের হাইড্রেশন বিরতির পরপরই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণমেসি-জাদু! ২৯ মিনিটে নিজেদের অর্ধে দাঁড়িয়ে ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস এক নিখুঁত দূরপাল্লার লং-বল বাড়ান। প্রথম স্পর্শেই অবিশ্বাস্য দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কেপ ভার্দে গোলরক্ষক ভোজিনহাকে বোকা বানান মহাতারকা।

এই গোলের সাথে সাথেই ইতিহাসের নতুন পাতায় নাম লেখালেন এলএমটেন। প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে ২০টি গোলের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। একই সাথে বিশ্বকাপে টানা ৮ ম্যাচে গোল এবং একাধিক বিশ্বকাপে (২০২২ ও ২০২৬) অন্তত ৭টি করে গোল করার অতিমানবীয় বিশ্বরেকর্ডও নিজের করে নিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি আফ্রিকার দেশটি। বিরতির পর ৫৪ মিনিটে প্রথমবার এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে পরীক্ষায় ফেলেন দিরয় দুয়ার্তে। তার খানিক বাদেই মেন্দেসের ক্রস থেকে সেই দুয়ার্তেরই নিচু শটে লিসান্দ্রোর পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়ালে ১-১ সমতায় ফেরে ম্যাচ।

সমতায় ফেরার পর আর্জেন্টিনার সামনে স্রেফ চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলকিপার ভোজিনহা। ৬৩ মিনিটে মেসির শট, ৭৩ মিনিটে মেসির টপ কর্নার ঘেঁষা ফ্রি-কিক কিংবা ৮১ মিনিটে এনজোর নিশ্চিত হেডএকের পর এক অতিমানবীয় সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশায় ডুবিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে টেনে নেন এই বুড়ো।

ইতিহাস বলছে, আর্জেন্টিনার শেষ ১৩টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচের ৭টিই গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। কাতার বিশ্বকাপের নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্স বধের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে এক্সট্রা টাইমের দ্বিতীয় মিনিটেই আর্জেন্টিনাকে লিড এনে দেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দূরের পোস্টে জোরালো শটে জাতীয় দলের হয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ডিফেন্ডার।

কিন্তু নাটকের তখনও অনেক বাকি! হারার আগে হার না মানার পণ করা কেপ ভার্দে ১০৩ মিনিটে আবারও স্তব্ধ করে দেয় মায়ামিকে। মাক আলিস্টারকে কাটিয়ে বক্সের কোনা থেকে সিডনি লোপেজ কাবরালের নেওয়া ডান পায়ের দুর্দান্ত শট টপ কর্নার দিয়ে জালে জড়ালে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২!

শেষ পর্যন্ত ১১১ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত ও ভাগ্যনির্ধারক গোল। মেসির কর্নার থেকে বক্সে হেড নিয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, তবে বলটি কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার বারগেসের গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোল হিসেবে জালের ভেতর আশ্রয় নেয়। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ৫ মিনিট আগে আরও একবার ফ্রি-কিক থেকে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল কেপ ভার্দে। তবে এবার আর ভুল করেননি আর্জেন্টিনার ‘বাজপাখি’ এমিলিয়ানো মার্তিনেস। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক সেভে নিশ্চিত করেন আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোর টিকিট। 

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অতিরিক্ত সময়ে নিল কেপ ভার্দে

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অতিরিক্ত সময়ে নিল কেপ ভার্দে

নির্ধারিত সময় শেষে আর্জেন্টিনা ১-১ কেপ ভার্দে! রূপকথার মতোই মেসিসহ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গেল নবাগত কেপ ভার্দে।

ম্যাচের ২৯ মিনিটের মাথায় প্রথমে মেসির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। সেই গোলের লিডেই বিরতিতে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। 

বিরতির পর ৫৯ মিনিটে রায়ান মেন্দেসের বাড়ানো বলে দেরয় দুয়ার্তের গোলে সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে।

এরপর অনেক চেষ্টার পরও আর গোল পায়নি মেসিরা। এতেই নির্ধারিত সময় শেষে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।