• ই-পেপার

মেসির সেই ট্যাকল নিয়ে ফিফার কাছে নালিশ করল আলজেরিয়া

স্কটল্যান্ডের কাছে হারলে কি ব্রাজিল বাদ পড়বে? কি বলছে সমীকরণ

ক্রীড়া ডেস্ক
স্কটল্যান্ডের কাছে হারলে কি ব্রাজিল বাদ পড়বে? কি বলছে সমীকরণ
ছবি : রয়টার্স

হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। এই দাপুটে জয়ের পর দুই ম্যাচ শেষে গ্রুপ ‘সি’-তে সেলেসাওদের সংগ্রহ এখন ৪ পয়েন্ট। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে আছে মরক্কো। ৩ পয়েন্ট নিয়ে ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে স্কটল্যান্ড, আর টানা দুই হারে হাইতির ঝুলিতে এখনও কোনো পয়েন্ট জোটেনি।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ এখন স্কটল্যান্ড। সমীকরণ যা বলছে, তাতে স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন জাগছে—ওই ম্যাচে যদি কোনো কারণে হেরে যায় ব্রাজিল, তবে কী ঘটবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ভাগ্যে? তারা কি আসর থেকে ছিটকে যাবে?

উত্তর হচ্ছে—না, স্কটল্যান্ডের কাছে হারলেও ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান এখনই থমকে যাবে না। ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটের কল্যাণে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের পাশাপাশি সেরা আটটি ‘তৃতীয় স্থানধারী’ দলও শেষ ৩২-এর টিকিট পাবে। ফলে পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেলেও নকআউট পর্বে ওঠার একটা সুযোগ ব্রাজিলের সামনে থাকবে।

বর্তমানে গোল ব্যবধানে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। ব্রাজিলের গোল ব্যবধান যেখানে +৩, সেখানে মরক্কোর +১ এবং স্কটল্যান্ডের শূন্য। শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ড যদি ব্রাজিলকে হারিয়ে দেয়, তবে তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৬-এ, আর ব্রাজিল আটকে থাকবে সেই ৪ পয়েন্টেই।

সেক্ষেত্রে ব্রাজিলের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে মরক্কো-হাইতি ম্যাচের ফলাফল।

মরক্কো যদি হাইতিকে হারিয়ে দেয়, তবে তাদের পয়েন্ট হবে ৭। সে ক্ষেত্রে মরক্কো ও স্কটল্যান্ড গ্রুপের শীর্ষ দুই দল হিসেবে সরাসরি শেষ ৩২-এ উঠবে, আর ব্রাজিল ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে যাবে।

আর মরক্কো-হাইতি ম্যাচটি ড্র হলে আফ্রিকান দলটির পয়েন্ট হবে ৫। সেক্ষেত্রেও স্কটল্যান্ড ও মরক্কো ব্রাজিলের ওপরে অবস্থান করবে। অর্থাৎ ব্রাজিল হারলে এবং মরক্কো অন্তত ১ পয়েন্ট পেলেই শীর্ষ দুইয়ে থাকার সরাসরি সুযোগ শেষ হয়ে যাবে সেলেসাওদের।

মরক্কো যদি হাইতির কাছে নাটকীয়ভাবে হেরে যায়, তবে সমীকরণ পুরোটাই বদলে যাবে। তখন স্কটল্যান্ড ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হবে। অন্যদিকে ব্রাজিল ও মরক্কো উভয়েরই পয়েন্ট থাকবে ৪। ফলে দ্বিতীয় স্থান নির্ধারণে চলে আসবে গোল ব্যবধানসহ অন্যান্য টাইব্রেকার হিসাব।

বর্তমান গোল ব্যবধানে মরক্কোর চেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ব্রাজিল। তাই স্কটল্যান্ডের কাছে অল্প ব্যবধানে হারলে এবং মরক্কো পরাজিত হলে রানার্সআপ হয়েই পরের পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকবে ব্রাজিলের। তবে বড় ব্যবধানে হারলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টে যেতে পারে।

ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা হলো, ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করলেও সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠার জোরালো সম্ভাবনা থাকবে তাদের। তবে সেটি নির্ভর করবে অন্য গ্রুপগুলোর চুলচেরা ফলাফলের ওপর।

অবশ্য অন্যের ওপর ভরসা না করে সবচেয়ে সহজ পথটি ব্রাজিলের নিজেদের হাতেই রয়েছে। স্কটল্যান্ডকে হারাতে পারলে তারা ৭ পয়েন্ট নিয়ে নিশ্চিতভাবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেবে। ম্যাচটি ড্র করলেও পয়েন্ট হবে ৫, যা শীর্ষ দুইয়ে থাকার জন্য যথেষ্ট হওয়ার কথা।

ওলিসের জন্য রেকর্ড প্রস্তাবের প্রস্তুতি রিয়াল মাদ্রিদের

ক্রীড়া ডেস্ক
ওলিসের জন্য রেকর্ড প্রস্তাবের প্রস্তুতি রিয়াল মাদ্রিদের
মাইকেল ওলিসে। ছবি : সংগৃহীত

রিয়াল মাদ্রিদের পরবর্তী ‘গ্যালাকটিকো’ হতে পারেন মাইকেল ওলিসে। ফরাসি এই উইঙ্গারকে দলে ভেড়াতে রেকর্ড অঙ্কের প্রস্তাব প্রস্তুত করছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় গণমাধ্যম সেন্ট্রাল ডিফেন্সা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওলিসেকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আনতে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ইউরোর সমমূল্যের একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে পুরো অর্থ নগদে নয়, চুক্তির অংশ হিসেবে দলের দুই ফরাসি মিডফিল্ডার অরেলিয়েন চুয়ামেনি কিংবা এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার একজনকে ছাড়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ দীর্ঘদিন ধরেই ওলিসের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ। বিশ্বকাপেও দারুণ ছন্দে থাকা এই তারকাকে ভবিষ্যতের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের অস্ত্র হিসেবে দেখছে ক্লাবটি। সে কারণেই তাকে দলে ভেড়াতে বড় ধরনের বিনিয়োগে প্রস্তুত লস ব্লাঙ্কোরা।

জানা গেছে, বায়ার্ন মিউনিখ অতীতেও চুয়ামেনি ও কামাভিঙ্গার প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওলিসের ট্রান্সফার ফি কমানোর পরিকল্পনা করছে রিয়াল। চুয়ামেনির বাজারমূল্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ইউরো এবং কামাভিঙ্গার মূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ইউরো।

তবে এখনো বায়ার্ন ওলিসেকে ছাড়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। জার্মান ক্লাবটি তাদের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে ধরে রাখতে চাইলেও রিয়াল শিবির আশাবাদী, বিশ্বকাপ শেষে ওলিসে যদি নিজেই মাদ্রিদে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তাহলে আলোচনার পথ সহজ হবে।

জার্মানিকে হটিয়ে ফের বিশ্বকাপে রেকর্ড ব্রাজিলের, ধারে কাছে নেই বাকিরা

ক্রীড়া ডেস্ক
জার্মানিকে হটিয়ে ফের বিশ্বকাপে রেকর্ড ব্রাজিলের, ধারে কাছে নেই বাকিরা
ছবি : রয়টার্স

মাঠের ট্রফি জয়ের লড়াই তো আছেই, তবে চলতি বিশ্বকাপে সমান্তরালভাবে চলছে এক অন্যরকম রাজকীয় মর্যাদার লড়াই। ফুটবল মহাযজ্ঞের ইতিহাসে দলগতভাবে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজেদের করে নেওয়ার এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ দ্বৈরথে মেতেছে দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও জার্মানি।

রেকর্ডের এই ইঁদুর-বিড়াল দৌড়ে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে সাময়িকভাবে সিংহাসনটা কেড়ে নিয়েছিল জার্মানি। তবে জার্মানদের সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি সেলেসাওরা। হাইতির বিপক্ষে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট আবারও নিজেদের মাথায় পরেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই চড়াও হয়ে খেলে ব্রাজিল। আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নেয় তারা। ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে একাই জোড়া গোল করে স্পটলাইট কেড়ে নেন ফরোয়ার্ড ম্যাথিউস কুনহা। এই ৩ গোলের সুবাদে বিশ্বকাপ ইতিহাসে ব্রাজিলের মোট গোলসংখ্যা এখন ২৪১টি। ফলে ২৩৯ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা জার্মানির চেয়ে ২ গোল এগিয়ে থেকে আবারও চূড়ায় বসল সেলেসাওরা। 

ব্রাজিল ও জার্মানি যখন গোলের ডাবল সেঞ্চুরি পার করে আড়াইশর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, সেখানে বাকি পরাশক্তিরা রয়েছে অনেক পিছিয়ে। চলতি আসরে আলজেরিয়ার বিপক্ষে অধিনায়ক লিওনেল মেসির চোখধাঁধানো হ্যাটট্রিকের পর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৫-তে। তালিকায় তারা অবশ্য তৃতীয় অবস্থানেই রয়েছে। অন্যদিকে, কিলিয়ান এমবাপ্পেদের দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফ্রান্সের গোলসংখ্যা এখন ১৩৯। এদিকে ১২৮ গোল নিয়ে পঞ্চম স্থানে আছে টানা তৃতীয় বারের মতো বিশ্বকাপে দর্শকের ভূমিকায় থাকা ইতালি। 
 

ব্রাজিল তারকা রাফিনিয়ার চোট কতটা গুরুতর

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিল তারকা রাফিনিয়ার চোট কতটা গুরুতর
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে ব্রাজিল। হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে মাঠ ছেড়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচে জোড়া গোল করে সেলেসাওদের জয়ের নায়ক মাতেউস কুনিয়া। তবে এমন দাপুটে জয়ের দিনেও ব্রাজিল শিবিরে আনন্দের চেয়ে বিষাদের সুরটাই বেশি ভারী। কারণ, দল জিতেছে ঠিকই, কিন্তু হারিয়ে ফেলেছে তাদের অন্যতম সেরা অস্ত্র রাফিনিয়াকে। ম্যাচের প্রথমার্ধেই চোট পেয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বার্সেলোনার এই অভিজ্ঞ উইঙ্গারকে। 

ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতির রক্ষণভাগে কাঁপুনি ধরিয়েছিলেন রাফিনিয়া। ১২তম মিনিটে বল জালে জড়িয়ে উদযাপনেও মেতেছিলেন, কিন্তু অফসাইডের কাটাকাতায় বাতিল হয় সেই গোল। তবে সেই আক্ষেপের চেয়েও বড় ধাক্কাটা আসে ম্যাচের ৪০তম মিনিটে। ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এরপর আর খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি তার পক্ষে। চিকিৎসকদের সহায়তায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই তারকা।

প্রাথমিক সূত্র ও স্টেডিয়ামে উপস্থিত সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্যমতে, রাফিনিয়ার এই চোট নতুন কিছু নয়। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ ক্লাব মৌসুমের শেষভাগে যে পুরোনো চোট তাকে ভুগিয়েছিল, এবারও ঠিক একই জায়গায় আঘাত পেয়েছেন তিনি। ব্রাজিলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের এক্সক্লুসিভ ফুটেজেও তার পুরোনো চোটের জায়গায় অস্বস্তির চিত্র ফুটে উঠেছে।

এর আগে গত মার্চেও জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় একই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছিলেন রাফিনিয়া। সেবার প্রায় দেড় মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে। যার খেসারত দিতে হয়েছিল তার ক্লাব বার্সেলোনাকেও। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দুটি মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি তিনি। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে আবারও সেই পুরোনো চোট ফিরে আসায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ব্রাজিলের টিম ম্যানেজমেন্টের।

রাফিনিয়ার এই ছিটকে যাওয়া সেলেসাওদের বিশ্বকাপ মিশনকে কতটা বাধাগ্রস্ত করবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না কোচ কার্লো আনচেলত্তি। শিষ্যের চোট নিয়ে নীরবতা ভেঙে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বিশ্বকাপে রাফিনিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে পরবর্তী মেডিকেল রিপোর্টের ওপর।

আনচেলত্তি বলেন, ‘আগামীকাল রাফিনিয়ার চোটের জায়গায় বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা (স্ক্যান) করা হবে। এই মুহূর্তে আসলে চোটের গভীরতা কতটা, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আমাদের মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষা করতেই হবে।’