• ই-পেপার

বিশ্বকাপে রাজনীতি, রাজনীতির বিশ্বকাপ

অবসরে ফুটবল খেলা লোপেসই এখন কেপ ভার্দের রূপকথার নায়ক

ক্রীড়া ডেস্ক
অবসরে ফুটবল খেলা লোপেসই এখন কেপ ভার্দের রূপকথার নায়ক
রবার্তো লোপেস। ছবি : রয়টার্স

এক দশক আগেও রবার্তো লোপেসের দিন কাটত ব্যাংকের অফিসে। মর্টগেজ পরামর্শক হিসেবে ডেস্কে বসে কাজ করতেন, আর অবসরে খেলতেন স্থানীয় ক্লাব ফুটবল। তখন হয়তো তিনিও ভাবেননি, একদিন ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

আজ সেই লোপেসই কেপ ভার্দের জার্সিতে বিশ্বকাপ খেলতে প্রস্তুত। স্পেনের বিপক্ষে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকা এই ডিফেন্ডারের গল্প যেন সিনেমাকেও হার মানায়।

৩৩ বছর বয়সী লোপেসের জন্ম ও বেড়ে ওঠা আয়ারল্যান্ডে। তার বাবা কার্লোস লোপেস কেপ ভার্দের নাগরিক। ২০১৯ সালে এক অপ্রত্যাশিত বার্তা বদলে দেয় তার জীবন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে কেপ ভার্দের তৎকালীন কোচ রুই আগুয়াস তাকে জাতীয় দলে খেলার প্রস্তাব পাঠান।

মজার বিষয় হলো, পর্তুগিজ ভাষায় লেখা সেই বার্তাকে প্রথমে স্প্যাম ভেবে উপেক্ষা করেছিলেন লোপেস। এভাবে কেটে যায় আরো কিছু দিন। প্রায় নয় মাস পর দ্বিতীয়বার বার্তা পাওয়ার পর সেটি অনুবাদ করে দেখেন। তখনই জানতে পারেন, কেপ ভার্দে তাকে জাতীয় দলে চায়।

সে সময়ের কথা স্মরণ করে লোপেস বলছিলেন, ‘আমি খুবই উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছিলাম। এক সেকেন্ডও ভাবিনি। সঙ্গে সঙ্গে বলেছিলাম, অবশ্যই আমি খেলতে চাই।’

এরপর থেকেই শুরু হয় নতুন অধ্যায়। কেপ ভার্দের হয়ে নিয়মিত খেলতে থাকেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে সাত বছরের পথচলায় দেশের প্রথম বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার ইতিহাসের অংশও হয়ে যান।

বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনেও এসেছে নতুন আনন্দ। কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করার কয়েক দিন পরই প্রথম সন্তানের বাবা হন তিনি। ছেলে দিয়েগোকে কোলে নেওয়ার অনুভূতির সঙ্গে বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার আনন্দ মিশে গেছে এক সুতোয়।

লোপেস যেমন বলছিলেন, ‘ছোটবেলা থেকে প্রতিটি ফুটবলারের স্বপ্ন থাকে সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলার। আমার কাছে সেই মঞ্চ বিশ্বকাপ। পরিবারের নাম বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পারা গর্বের।’

মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি মানুষের দেশ কেপ ভার্দে এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটির জন্য এটি শুধু ফুটবল নয়, জাতীয় গৌরবেরও এক অনন্য মুহূর্ত।

আর সেই স্বপ্নযাত্রার অন্যতম মুখ রবার্তো লোপেস। যিনি প্রমাণ করেছেন, জীবনের কোনো স্বপ্নই অসম্ভব নয়। ব্যাংকের ডেস্কে বসে কাজ করা এক সাধারণ মানুষও একদিন বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের দেশের ইতিহাসের অংশ হতে পারেন।

রোনালদোকে বিশ্বকাপ জেতাতে ‘সুবিধা’ দেবে ফিফা, এক ধর্মগুরুর বিস্ফোরক দাবি

ক্রীড়া ডেস্ক
রোনালদোকে বিশ্বকাপ জেতাতে ‘সুবিধা’ দেবে ফিফা, এক ধর্মগুরুর বিস্ফোরক দাবি

বিশ্বকাপ চলাকালে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ঘানার খ্যাতনামা ধর্মীয় নেতা ও রেইন হাউস চ্যাপেল ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা এরিক বোয়াহেন উচে। তিনি দাবি করেছেন, বিশ্বকাপে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর বিদায়ি আসরকে স্মরণীয় করে তুলতে পর্তুগালকে চ্যাম্পিয়ন করার জন্য নাকি গোপন আলোচনা চলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে উচে বলেন, তিনি আধ্যাত্মিকভাবে এমন কিছু বৈঠক দেখেছেন যেখানে পর্তুগালকে ট্রফি জেতানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, ‘রোনালদোর কারণে পর্তুগালকে বিশ্বকাপ জেতানোর বিষয়ে ফিফা আলোচনা করছে। ফুটবলেও যে এত রাজনীতি আছে, তা আমি আগে জানতাম না।’

তিনি আরো দাবি করেন, এসব কথিত বৈঠকের সময় তার ‘আত্মা উপস্থিত থাকে’ এবং তিনি আলোচনা শুনতে পান। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উচের এই বক্তব্য দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। কেউ তার দাবিকে সমর্থন করেছেন, আবার অনেকেই এটিকে ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত বলে সমালোচনা করেছেন। অনেক ফুটবলপ্রেমী প্রশ্ন তুলেছেন, এমন গুরুতর অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ না থাকলে তা বিশ্বাসযোগ্যতা পায় না।

এদিকে বিশ্বকাপে পর্তুগালকে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রোনালদোর নেতৃত্বে দলটি নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন দেখছে। তবে ফিফা বা পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের দাবির বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, এরিক বোয়াহেন উচে এর আগেও ফুটবল ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে আলোচনায় এসেছেন। তবে পর্তুগাল ও রোনালদোকে ঘিরে তার সাম্প্রতিক মন্তব্য বিশ্বকাপের আবহে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলা মরক্কো একাদশের সবারই জন্ম দেশের বাইরে

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলা মরক্কো একাদশের সবারই জন্ম দেশের বাইরে
ছবি : রয়টার্স

২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন এক ইতিহাসের জন্ম দিল মরক্কো। ব্রাজিলের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে এমন একটি শুরুর একাদশ মাঠে নামিয়েছে দলটি, যেখানে ১১ জন ফুটবলারের কেউই মরক্কোর মাটিতে জন্মগ্রহণ করেননি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো জাতীয় দল পুরো একাদশে দেশের বাইরে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়দের নিয়ে ম্যাচ শুরু করেছে।

মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর জন্ম কানাডার মন্ট্রিলে। রক্ষণভাগে থাকা নুসাইর মাজরাউই জন্মেছেন নেদারল্যান্ডসে, ইসা দিয়প ফ্রান্সে, শাদি রিয়াদ ও আশরাফ হাকিমি স্পেনে।

মিডফিল্ডে ছিলেন ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া নিল এল আয়নাউই ও আয়ুব বুয়াদ্দি। আক্রমণভাগে জায়গা পাওয়া শেমসদিন তালবি ও বিলাল এল খান্নুসের জন্ম বেলজিয়ামে, সামির এল মুরাবেত ফ্রান্সে এবং ইসমাইল সাইবারি স্পেনে জন্মগ্রহণ করেন।

যদিও তারা বিভিন্ন দেশে জন্মেছেন, তবে সবাই মরোক্কান বংশোদ্ভূত। পারিবারিক শিকড়ের টানেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে মরক্কোকে বেছে নিয়েছেন তারা। এদের অনেকেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বয়সভিত্তিক দলে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

মরক্কোর ফুটবলে প্রবাসী প্রতিভাদের অবদান নতুন নয়। তবে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে পুরো শুরুর একাদশই দেশের বাইরে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া হওয়া নজিরবিহীন ঘটনা। বিষয়টি ফুটবলে বৈশ্বিক অভিবাসন ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের প্রভাবকেও নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া মরক্কো এবারও নিজেদের শক্তির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে প্রবাসে বেড়ে ওঠা খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখছে। আর সেই আস্থার প্রতিফলনই দেখা গেল ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে।

‘সোনালি প্রজন্ম’ নেই, নতুন বেলজিয়ামেই লুকাকুর আশাবাদ

ক্রীড়া ডেস্ক
‘সোনালি প্রজন্ম’ নেই, নতুন বেলজিয়ামেই লুকাকুর আশাবাদ
ছবি : সংগৃহীত

একসময় বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিধর দল হিসেবে পরিচিত ছিল বেলজিয়ামের ‘গোল্ডেন জেনারেশন’। কিন্তু তারকাখচিত সেই দল বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের নিয়ে আশাবাদী বেলজিয়ামের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোমেলো লুকাকু। 

২০১৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জনই ছিল বেলজিয়ামের সেরা সাফল্য। সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইনা ও থিবো কোর্তোয়া। যদিও এডেন হাজার্ড ও ভিনসেন্ট কোম্পানির মতো তারকারা এখন অবসরে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে লুকাকু বলেন, ‘আমাদের জন্য এটি একটি নতুন অধ্যায়। আগের মতো চাপ নেই। বরং আমরা দেখতে চাই তরুণরা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের কীভাবে তুলে ধরে।’

বর্তমান দলে অভিজ্ঞদের সঙ্গে রয়েছেন তরুণ প্রতিভা জেরেমি দকু, আমাদু ওনানা ও মাতিয়াস ফার্নান্দেজ পারদো। তাদের নিয়ে ভবিষ্যতের বেলজিয়াম গড়ার স্বপ্ন দেখছেন লুকাকু।

৩৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার জানান, তিনি, ডি ব্রুইনা, কোর্তোয়া ও থমাস মুনিয়ের যতদিন শারীরিকভাবে সক্ষম থাকবেন, ততদিন তরুণদের পাশে থেকে দলকে এগিয়ে নিতে চান।

চোটের কারণে মার্চের পর আর মাঠে নামতে পারেননি লুকাকু। নাপোলির হয়ে মৌসুমের শেষভাগও মিস করেছেন তিনি। তবু বিশ্বকাপ খেলতে মুখিয়ে আছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।

লুকাকু বলেন, ‘এটি আমার চতুর্থ বিশ্বকাপ। তবে প্রথমবারের মতো একেবারে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে খেলতে যাচ্ছি। দলীয় পরিবেশ দারুণ, তাই আমি রোমাঞ্চিত।’

বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ মিশর, ইরান ও নিউজিল্যান্ড। প্রথম ম্যাচেই তাদের মুখোমুখি হতে হবে সালাহর মিশরের সঙ্গে।

সালাহ সম্পর্কে লুকাকু বলেন, ‘সে সবসময় নিজেকে উন্নত করতে চায়। লিভারপুলে তার ক্যারিয়ার অসাধারণ। বহু বছর ব্যালন ডি’অর মানের ফুটবল খেলেছে। জাতীয় দলের জন্যও সে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়।’

তিনি আরো বলেন, ‘সালাহর মতো সেরাদের বিপক্ষে খেলাই আসল চ্যালেঞ্জ। মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হবে, তবে আমরা সেই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত।’