• ই-পেপার

সব রেকর্ড ভেঙে রোনালদোসহ ‘৭ বুড়ো’ খেলবেন বিশ্বকাপে

মেসির চোখে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার চেয়ে ফেভারিট ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসির চোখে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার চেয়ে ফেভারিট ব্রাজিল

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে সম্ভাব্য শিরোপা দাবিদারদের নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকতা না থাকলেও ব্রাজিল সবসময়ই বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম বড় দাবিদার।

এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ‘ব্রাজিল সবসময়ই শিরোপার জন্য লড়াই করার মতো দল। তারা হয়তো কিছুদিন ধরে নিজেদের সেরা ছন্দে নেই, কিন্তু তাদের দলে এমন খেলোয়াড় আছে যারা যেকোনো বড় টুর্নামেন্ট জয়ের সামর্থ্য রাখে।’

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মনে করেন, বর্তমানে ব্রাজিলের পাশাপাশি ফ্রান্স, স্পেন এবং পর্তুগাল বিশ্বকাপের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদারদের মধ্যে রয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন, এই দলগুলো আর্জেন্টিনার চেয়ে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে টুর্নামেন্টে নামছে।

মেসির মতে, ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের খেলোয়াড় ভাণ্ডার ও গভীর স্কোয়াড। নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতার কঠিন চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেছেন মেসি। তিনি জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনা দলে কয়েকজন খেলোয়াড় চোট ও ফিটনেস সমস্যায় ভুগছেন। তবে দলের মানসিক দৃঢ়তা ও বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতার ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপকে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্ট হিসেবে দেখছেন মেসি। তার ভাষায়, ‘বিশ্বকাপে কোনো দলই নিরাপদ নয়। এখানে সবসময়ই অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটে।’

বিশ্বকাপের শিরোপাধারী হিসেবে আর্জেন্টিনা মাঠে নামলেও মেসির মন্তব্যে পরিষ্কার, ব্রাজিলকে তিনি এখনো সবচেয়ে ভয়ংকর প্রতিপক্ষগুলোর একটি হিসেবেই দেখছেন।

রিয়ালের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রস্তাব, কে সেই পরবর্তী সুপারস্টার

ক্রীড়া ডেস্ক
রিয়ালের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রস্তাব, কে সেই পরবর্তী সুপারস্টার
সংগৃহীত ছবি

রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ আবারও ফুটবল দুনিয়ায় আলোচনার ঝড় তুলেছেন। স্প্যানিশ টেলিভিশন অনুষ্ঠান হরিজন্তে-তে উপস্থিত হয়ে তিনি জানিয়েছেন, ক্লাব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঙ্কের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত রিয়াল মাদ্রিদ।

পেরেজের ভাষ্য অনুযায়ী, একক কোনো খেলোয়াড়ের জন্য প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করতে রাজি ‘লস ব্লাঙ্কোরা’। তবে সেই রহস্যময় ফুটবলারের নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

শুধু এটুকু জানিয়েছেন, খেলোয়াড়টি মিডফিল্ড থেকে আক্রমণভাগের কোনো পজিশনে খেলেন। ফলে সম্ভাব্য তারকাদের তালিকা এখন বেশ ছোট হয়ে এসেছে।

আরো পড়ুন
বাংলাদেশ থেকে বিশ্বকাপ দেখা যাবে যেসব চ্যানেলে

বাংলাদেশ থেকে বিশ্বকাপ দেখা যাবে যেসব চ্যানেলে

 

সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন পিএসজির পর্তুগিজ মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেস। অল্প বয়সেই প্যারিসিয়ান ক্লাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন তিনি। তার পরিপক্বতা, কর্মক্ষমতা ও নেতৃত্বগুণ রিয়ালের নজর কেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই ক্লাবের আরেক তারকা ভিতিনিয়াও রয়েছেন সম্ভাব্য তালিকায়। গত চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আলোচনায় আসেন এই পর্তুগিজ মিডফিল্ডার। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে সহায়তা করার ক্ষমতার কারণে তাকে দীর্ঘদিন ধরেই পর্যবেক্ষণ করছে রিয়াল।

এছাড়া বায়ার্ন মিউনিখের জার্মান তারকা জামাল মুসিয়ালার নামও ঘুরে ফিরছে আলোচনায়। যদিও ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ এই মিডফিল্ডারকে বিক্রির কোনো ইচ্ছা নেই বায়ার্নের। তবে তার ১৭৫ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজ থাকায় ১৫০ মিলিয়নের প্রস্তাব জার্মান ক্লাবকে অন্তত ভাবতে বাধ্য করতে পারে।

চমকপ্রদ সম্ভাবনার মধ্যে রয়েছে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজের নামও। সম্প্রতি বার্সেলোনার সঙ্গে তার নাম জড়ালেও বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব এলে অ্যাতলেতিকো তাদের অবস্থান বদলাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর নামটি হলো বার্সেলোনার তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল। বাস্তবতা বলছে, বার্সেলোনা কখনোই নিজেদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদকে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে বিক্রি করবে না। তবু ফুটবল ইতিহাসে লুইস ফিগোর মতো নাটকীয় দলবদলের নজির থাকায় এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে পেরেজ ইতোমধ্যেই মাইকেল ওলিসে, হ্যারি কেইন, জেরেমি ডোকু ও আর্লিং হালান্ডের মতো নামগুলোকে সম্ভাব্য তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। ফলে ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর ‘গ্যালাকটিকো’ কে হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে জল্পনা আরো বেড়েছে।

বাংলাদেশ থেকে বিশ্বকাপ দেখা যাবে যেসব চ্যানেলে

ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশ থেকে বিশ্বকাপ দেখা যাবে যেসব চ্যানেলে
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উন্মাদনা ও উত্তেজনার কোনো সীমা নেই। কিন্তু এবার বাংলাদেশে এই বৈশ্বিক আসরের খেলাগুলো সরাসরি দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

অবশ্য সেই শঙ্কার মেঘ কেটে যাওয়ার আভাস কিছুদিন ধরেই পাওয়া যাচ্ছিল। অবশেষে নিশ্চিত হয়েছে ঘরে বসেই টিভিতে বসে দেশীয় তিনটি চ্যানেলে দেখা যাবে খেলা। রাষ্ট্রীয় চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ছাড়াও এই ফুটবল মহাযজ্ঞের ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস ও সময় টেলিভিশন। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছ থেকেই সম্প্রচারস্বত্ব কিনেছে তারা।

শুরুতে ফিফার কাছ থেকে বাংলাদেশের জন্য একক সম্প্রচারস্বত্ব কিনেছিল সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক প্রাইভেট লিমিটেড। কিন্তু স্থানীয় বাজারে ভ্যাট ও ট্যাক্স মিলিয়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকায় সেই স্বত্ব বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়ে এক পর্যায়ে চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায় প্রতিষ্ঠানটি। সেখান থেকেই মূলত বাংলাদেশে সরাসরি বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে ঘনীভূত হয় অনিশ্চয়তা। তবে সর্বশেষ কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতায় অনেকখানিই কমে আসে স্বত্বমূল্য। চূড়ান্তভাবে এবার স্বত্বমূল্য ৩০ লাখ থেকে ৪০ লাখ ডলারের মধ্যে নির্ধারিত হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ কোটি থেকে ৪৯ কোটি টাকার কিছু বেশি।

টিভিতে সরাসরি বিশ্বকাপ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার আগেই অবশ্য বেশকিছু ডিজিটাল ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম তা সম্প্রচারের ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশিদের মনে স্বস্তি এনেছিল। মোবাইল ফোন ও স্মার্ট ডিভাইসে মাই রবি অ্যাপ, টফি ও বায়োস্কোপে ঘরে বসেই ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ উপভোগ করতে পারবে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।

তপুর জোড়া গোলে ইউরোপের মাটিতে প্রথম জয় বাংলাদেশের

অনলাইন ডেস্ক
তপুর জোড়া গোলে ইউরোপের মাটিতে প্রথম জয় বাংলাদেশের
সংগৃহীত ছবি

ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটা খেলল বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক এ ম্যাচের সব আলো নিজের দিকে কেড়ে নিয়েছেন তপু বর্মণ। একটা না, দুইটা গোল করলেন এই ডিফেন্ডার। শেষ পর্যন্ত তাঁর জোড়া গোলেই ম্যাচ জিতল থমাস ডুলির দল।

শুক্রবার (৫ জুন) ফিফা প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশকে আতিথেয়তা দেয় সান মারিনো। স্তাদিও অলিম্পিকো সেরাভালে স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের ২-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রথমার্ধে ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরেকবার জাল কাপান তপু। তাঁর জোড়া গোলের বিপরীতে সান মারিনোর হয়ে এক গোল শোধ দেন নিকোলাস জাকোপেত্তি।

এই ম্যাচ দিয়েই বাংলাদেশের ডাগ আউটে দাঁড়ান জার্মান কোচ থমাস ডুলি। শুরুর একাদশে সমিত সোম, ফাহামেদুল ইসলাম ও জায়ান আহমেদদের বসিয়ে রাখেন তিনি। তবে বিরতির পর একাদশে আনেন একাধিক পরিবর্তন। আর নিজের প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেন তিনি।

এদিন ম্যাচের ১৭তম মিনিটে প্রথম ভালো আক্রমণ শানায় বাংলাদেশ। তবে বক্সে জামাল ভূঁইয়ার শট আটকে যায় প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের বাধার মুখে। দুই মিনিট পর গোছালো আক্রমণে ডান দিক থেকে মোরছালিনের ক্রসে তপু বর্মণের হেডে লিড নেয় বাংলাদেশ।

৩১ মিনিটে ম্যাচে সমতায় ফেরে সান মারিনো। ডান দিক দিয়ে বেরার্দি বক্সে ঢুকে তপুকে কাটিয়ে কাটব্যাক দেন। বাংলাদেশের তিনজন ডিফেন্ডার বক্সে থাকলেও কেউ ক্লিয়ার করতে পারেননি, সেখান থেকে লক্ষ্যভেদ করেন নিকোলাস জাকোপেত্তি।

৩৮ মিনিটে সাদ উদ্দিনের সামনে ছিল কেবল গোলকিপার। কিন্তু এই ডিফেন্ডার উড়িয়ে মারেন পোস্টের উপরে দিয়ে।

বিরতির পর জামালের সঙ্গে তুলে নেওয়া হয় মোরছালিনকে। তাদের জায়গায় কোচ ডুলি মাঠে নামান সমিত সোম ও জায়ান আহমেদকে। আর ইসা ফয়সালের পরিবর্তে মাঠে নামেন জায়ান।

৪৮ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত বাংলাদেশ। হামজার দারুণ এক পাস ধরে এগিয়ে ডান দিক থেকে ক্রস দেন রফিকুল, কিন্তু গোলমুখের সামনে বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি সোহেল রানা।

তবে এই সময় দারুণ পাসিং ফুটবলের প্রদর্শনী দেখায় বাংলাদেশ। ৫৩ মিনিটে আরেকটি গোছালো আক্রমণের শেষটা সুন্দর হয়নি। ডান দিক থেকে এবার সাদের ক্রসে ফাহিম লাফিয়ে উঠে শট নিলেও গোলে রাখতে পারেননি। ৮ মিনিট পর কাপিচ্ছিয়োনির দারুণ ফ্রি কিক কর্নারের বিনিমেয় ক্লিয়ার করেন মিতুল।

খানিক পর বিশ্বনাথ ঘোষ ও ফাহিমেদুল ইসলামকে মাঠে নামান ডুলি। উঠে যান ফাহিম ও রফিকুল। বদলি হিসেবে বিশ্বনাথ নিজের নামের সঙ্গে সুবিচার করতে পারেননি। মাঠে নামার খানিক পরই ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন এই ডিফেন্ডার। কিন্তু বিশ্বনাথের সামনে কেবল প্রতিপক্ষের গোলকিপার থাকলেও তিনি শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।

প্রীতি ম্যাচে সাধারণত ৮ জন খেলোয়াড় পরিবর্তনের নিয়ম আছে। তবে দুই দলের সম্মতিতে ১১টি পরিবর্তন করা যায়। খেলার ৭৬ মিনিটে সোহেল রানা সিনিয়রকে তুলে কাজেম শাহ কিরমানিকে মাঠে নামানো হয়।

৮৬ মিনিটে সেই তপুর দ্বিতীয় গোলে ফের এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বক্সের একটু সামনে থেকে হামজার নেওয়া ফ্রি কিকে কেউ পা ছোঁয়াতে পারেননি। সেখান থেকে বিশ্বনাথের সাইড ভলিতে মাথা ছোয়ান তপু। গোলের পর জার্সি খুলে বুনো উল্লাসে ফেটে পড়েন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। গ্যালারিতে বাংলাদেশি দর্শকরাও মাতেন জয়ের আনন্দে। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।