• ই-পেপার

কালিয়াকৈরে বসুন্ধরা শুভসংঘের নতুন কমিটির আয়োজনে মাদক প্রতিরোধে সচেতনতা সভা

মাদক ও  ইন্টারনেট আসক্তি থেকে দূরে রাখতে কিশোর-কিশোরীদের মাঝে ফুটবল বিতরণ করল বসুন্ধরা শুভসংঘ

নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদক ও  ইন্টারনেট আসক্তি থেকে দূরে রাখতে কিশোর-কিশোরীদের মাঝে ফুটবল বিতরণ করল বসুন্ধরা শুভসংঘ
ছবি : কালের কণ্ঠ

মাদক, অপরাধ ও ইন্টারনেট আসক্তি থেকে দূরে রেখে কিশোর-কিশোরীদের মাঠমুখী করতে এবং সুস্থ বিনোদনের সুযোগ করে দিতে বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বসুন্ধরা শুভসংঘ রোয়াংছড়ি উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলার ওয়াগই পাড়ার কিশোর-কিশোরীদের মাঝে এসব ফুটবল বিতরণ করা হয়।

সামাজিক উন্নয়ন, ক্রীড়া চর্চা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খেলাধুলা যুবসমাজকে সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক বিকাশ, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও দলগত চেতনা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

ফুটবল বিতরণ অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা শুভসংঘের পার্বত্য অঞ্চল সমন্বয়ক উয়ই সি মার্মা বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। বসুন্ধরা শুভসংঘ বিশ্বাস করে, আজকের ক্রীড়াপ্রিয় তরুণরাই আগামী দিনের সচেতন, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ক্রীড়া, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

সংগঠনের উপদেষ্টা আপন তঞ্চঙ্গ্যা বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বর্তমান সময়ে মোবাইল ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের কারণে অনেক শিশু-কিশোর খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাদের মাঠমুখী করতে এবং সুস্থ জীবনধারায় অভ্যস্ত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।’

অন্যান্য বক্তারা বলেন, পাহাড়ি এলাকার শিশু-কিশোরদের সুস্থ বিনোদন ও প্রতিভা বিকাশের অন্যতম মাধ্যম হলো খেলাধুলা। এই উদ্যোগ তাদের মধ্যে ক্রীড়াচর্চার আগ্রহ বাড়াবে এবং দলগত চেতনা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে ভূমিকা রাখবে।

বসুন্ধরা শুভসংঘ রোয়াংছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি শিমল তঞ্চঙ্গ্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পিন্টু তঞ্চঙ্গ্যা, সাধারণ সম্পাদক মং মং সাই মারমা, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিলাল তঞ্চঙ্গ্যা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শুভ্র তঞ্চঙ্গ্যা, তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক অন্টর তঞ্চঙ্গ্যা এবং সদস্য আথই মারমাসহ সংগঠনের অন্য সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা।

ফুটবল হাতে পেয়ে স্থানীয় কিশোর-কিশোরীরা আনন্দ প্রকাশ করে এবং সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে কিশোর-কিশোরীদের হাতে ফুটবল তুলে দেন।

সবুজের স্বপ্ন বুনতে রাজশাহী কলেজে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
সবুজের স্বপ্ন বুনতে রাজশাহী কলেজে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ
সংগৃহীত ছবি

ইট-পাথরের বিস্তৃত নগরসভ্যতার ভিড়ে যখন প্রকৃতি প্রতিনিয়ত হারাচ্ছে সবুজ আবরণ, এমন কঠিন সময়ে পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতার এক অনন্য বার্তা নিয়ে রাজশাহী কলেজে অনুষ্ঠিত হলো বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি। 

শনিবার (২৭ জুন) রাজশাহী কলেজে বসুন্ধরা টিস্যু ও বসুন্ধরা শুভসংঘের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। কলেজ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় গাছের চারা। 

আয়োজকরা জানান, ‘আমাদের মতো তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠতে পারে সবুজে ঘেরা একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ। তাই প্রত্যেকে যদি নিজের জীবনে অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব করি, তবে অদূর ভবিষ্যতে দেশের পরিবেশ রক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

এসময় বসুন্ধরা শুভসংঘ রাজশাহী কলেজ শাখার সভাপতি মিরাতুজ জাহান মিলি, সাধারণ সম্পাদক রাফাত আহমেদ প্রীতম, সাংগঠনিক সম্পাদক সারোয়ার আলম শাফি ,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিথিলা ফারজানা আশা ও শাহেদ ইসলাম, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক ডি এম আল আমিন, সদস্য সাইয়েদ বিন আনোয়ার ফারদিন অন্তরসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জাবিতে বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

জাবি প্রতিনিধি
জাবিতে বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের যৌথ উদ্যোগে ‎‘সবুজে সুন্দর আগামী’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ফিল্ড এলাকায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সেন্ট্রাল ফিল্ডের চারপাশ এবং বিভিন্ন আবাসিক হল প্রাঙ্গণে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ক্যাম্পাসকে আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

‎কর্মসূচির উদ্বোধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। বসুন্ধরা শুভসংঘ তরুণ সমাজকে সঙ্গে নিয়ে দেশজুড়ে যে সবুজায়নের উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রাকৃতিক ও জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ ক্যাম্পাসে এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা আরও বৃদ্ধি করবে। আমরা আশা করি, আজ রোপণ করা চারাগুলো ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসকে আরও প্রাণবন্ত ও সবুজ করে তুলবে।’

‎কর্মসূচি শেষে অনুভূতি প্রকাশ করে বসুন্ধরা শুভসংঘ জাবি শাখার সভাপতি প্রত্যাশা রানী বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে আমাদের ক্যাম্পাসে সফলভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ ক্যাম্পাসকে আরো সবুজ, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব করে তুলবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। এ মহৎ উদ্যোগের জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। একই সঙ্গে কর্মসূচি সফল করতে যারা সহযোগিতা করেছেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আসুন, শুধু গাছ লাগিয়েই নয়, সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমেও একটি সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।’

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে মৌলভীবাজারে বসুন্ধরা শুভসংঘের ফল উৎসব

বসুন্ধরা শুভসংঘ
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে মৌলভীবাজারে বসুন্ধরা শুভসংঘের ফল উৎসব
সংগৃহীত ছবি

শুভ কাজে সবার পাশে থাকার প্রত্যয় নিয়ে বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে বসুন্ধরা শুভসংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখা উদ্যোগে ফল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। নানা রঙের ফল, হাসি-আনন্দ আর ভালোবাসায় মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর ১২টায় মৌলভীবাজারের ব্লুমিং রোজেস বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ফল উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন শিক্ষক, অভিভাবক ও অতিথিরা।

বসুন্ধরা শুভসংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি ও বিশিষ্ট সংগঠক এম. মুহিবুর রহমান মুহিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুৎফুন নাহার শারমীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, এনআরবিসি ব্যাংক-এর ম্যানেজার মো. সাজ্জাদুর রহমান পিন্টু এবং শেখ বোরহান উদ্দিন (রহঃ) ইসলামী সোসাইটি (বিআইএস)-এর মহাসচিব মো. নাজমুল হোসাইন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোপান ছামী।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ডি ডি রয় বাবলু, প্রধান শিক্ষক মল্লিকা রানি, বসুন্ধরা শুভসংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখার কার্যকরী পরিষদের সদস্য রাকিব হোসেন ইমনসহ শুভসংঘের সদস্যরা।

সভাপতির বক্তব্যে এম. মুহিবুর রহমান মুহিব বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ মানুষের পাশে থাকার লক্ষ্য নিয়ে দেশব্যাপী নানা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই অংশ হিসেবে আজকের এই আয়োজন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া আমাদের সামাজিক দায়িত্বের অংশ।’

তিনি বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপ শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। তাদের বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের মানুষের কল্যাণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফুন নাহার শারমীন বলেন, ‘আজকের আয়োজনটি সত্যিই ব্যতিক্রমী। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য এমন একটি সুন্দর উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে আমি আনন্দিত। বসুন্ধরা শুভসংঘের মতো সংগঠনের মানবিক কার্যক্রম সমাজকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

বিশেষ অতিথি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বসুন্ধরা দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান। শিল্প উন্নয়নের পাশাপাশি তারা মানবিক কাজেও অবদান রাখছে। আজকের এই আয়োজন তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বসুন্ধরা শুভসংঘের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হোক—এটাই প্রত্যাশা।’

ফল উৎসবে প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের হাতে বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফল তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন শিক্ষার্থী অভিভাবক, শিক্ষক ও বসুন্ধরা শুভসংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সদস্যরা। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বসুন্ধরা শুভসংঘের এমন উদ্যোগ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি সমাজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।