• ই-পেপার

রূপপুরের বিদ্যুৎ কবে মিলবে, জানালেন মন্ত্রী

৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড : সমাজকল্যাণমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, আমরা একটি মানবিক সরকার। এবার সামাজিক সুরক্ষা খাতে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট রাখা হয়েছে। এর আওতায় আগামী ৪ বছরে পর্যায়ক্রমে ৪১ লাখ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে।

এই কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলো সরাসরি সহায়তা পাবে। এছাড়া দেশের বিপুল সংখ্যক প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণে শুধু ভাতাই নয়, তাদের কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

পেশায় চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন স্বাস্থ্য খাতের সরঞ্জামাদির ওপর ট্যাক্স কমানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে হার্টের ভাল্ব, অক্সিজেনেটর ও ভাস্কুলার স্টেন্টের মতো জীবনরক্ষাকারী উপকরণের ওপর থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স কমাতে হবে। এছাড়া ওষুধ রপ্তানি বাড়াতে ঔষধ প্রশাসনের ল্যাবরেটরিকে 'এমএল-থ্রি' (ML3) মানে উন্নীত করার ওপর জোর দেন তিনি।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর এদেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ মানুষ মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে। বিএনপি সবসময় ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করেছে। যারা বিগত দিনের সেই দুঃস্বপ্নকে ফিরিয়ে আনতে চায়, এদেশের ছাত্র-জনতা তা আর কখনো মেনে নেবে না।

প্রথমবারের মতো নাইজেরিয়ায় গেল বাংলাদেশের ১০ হাজার হ্যাচিং ডিম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রথমবারের মতো নাইজেরিয়ায় গেল বাংলাদেশের ১০ হাজার হ্যাচিং ডিম
সংগৃহীত ছবি

প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলল বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় রপ্তানি হলো প্যারেন্ট হ্যাচিং এগস (ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা উৎপাদনের উপযোগী ডিম)। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পোলট্রি প্রতিষ্ঠান কাজী ফার্মস লিমিটেডের মাধ্যমে ১০ হাজার ৪৪০টি হ্যাচিং ডিমের এই চালানটি পাঠানো হয়েছে। এর বাজারমূল্য ১৮ হাজার ৭২৯ মার্কিন ডলার।

রবিবার রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রপ্তানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাণিসম্পদ খাতের পণ্য রপ্তানি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হবে এবং সামগ্রিক উন্নয়নের গতি বাড়বে।

প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি খাতকে রপ্তানিমুখী হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, তারই ধারাবাহিকতায় প্রাণিসম্পদ খাত আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে বলে উল্লেখ করেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো হ্যাচিং এগস রপ্তানি সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে দেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণেও নতুন দিগন্তের সূচনা হলো।

অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আমরা আন্তর্জাতিক মানের ও রপ্তানিমুখী পোলট্রি শিল্প গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছি। এ ধরনের রপ্তানি উদ্যোগ দেশের পোলট্রি শিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান সরকারের আমলে এটিই দেশের প্রথম হ্যাচিং এগস রপ্তানির চালান। এই সফল উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য সম্ভাবনাময় বাজারে বাংলাদেশের পোলট্রি পণ্য রপ্তানির পথ আরও সুগম হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. সাখাওয়াত হোসেন, উপপরিচালক ডা. শারমিন সামাদ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কোয়ারেন্টাইন স্টেশনের ইনচার্জ ডা. মোহাম্মদ ওমর ফারুক। এ ছাড়া কাজী ফার্মস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান, পরিচালক কাজী জিশান হাসান ও কাজী জাহিন হাসানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ফেলোশিপ পেলেন কালের কণ্ঠের ২ প্রতিবেদক

সরকারি সেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতে আন্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি সেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতে আন্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের আহ্বান

সরকারি পরিষেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি ও সেবাপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন।

রবিবার (২৮ জুন) পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘সরকারি পরিষেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি ও অভিগম্যতা’ শীর্ষক সম্মিলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

দিনব্যাপী আয়োজিত এ সম্মিলনে দেশের ১০ জেলার ৩৩টি স্থানীয় নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এসব সংগঠন প্রান্তিক নারী, লিঙ্গীয় বৈচিত্র্যের মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, আদিবাসী ও দলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।

এ ছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারবিষয়ক সাংবাদিকতা ফেলোশিপ সম্পন্ন করায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের ১৬ জন সাংবাদিককে সনদ ও স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও অধিকারভিত্তিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হয়।

ফেলোশিপ পাওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক নিশাত বিজয় ও অনির্বাণ বিশ্বাস, দৈনিক আগামীর সময়ের মেহেরিন আশফিয়া জাহান, দৈনিক কালবেলার মুক্তা মনোয়ারসহ জাতীয় ও জেলা পর্যায়ের ১৬ জন সাংবাদিক।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সভাপতিত্ব করেন এশিয়ান এমসিসি, ক্রিশ্চিয়ান এইডের পার্টনারশিপ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি লিড নুজহাত জাবিন। স্বাগত বক্তব্য দেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী। সঞ্চালনা করেন ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ’ জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক।

এ সময় বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে আন্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয় আরো কার্যকর করা প্রয়োজন।

দ্বিতীয় পর্বে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. তরিকুল আলম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. সাজ্জাদুল ইসলাম, চ্যানেল আইয়ের সিনিয়র সম্পাদক মীর মনসুর জামান, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সহকারী কমিশনার মনোয়ারা আক্তার রিফাত, এশিয়া এমসিসি, ক্রিশ্চিয়ান এইডের প্রোগ্রাম অ্যান্ড পার্টনারশিপ লিড প্রিন্স সুমন বাড়ই, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী এবং আমরাই পারির প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে তাদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিজ্ঞতা ও দাবি তুলে ধরেন। আদিবাসী ও প্রান্তিক নারীদের পক্ষে বক্তব্য দেন দিপ্তী পাহান ও শেফালী বৈরাগী। লিঙ্গীয় বৈচিত্র্যের মানুষ ও দলিত জনগোষ্ঠীর পক্ষে বক্তব্য দেন অনিন্দিতা আফরা বাবুনি ও সংকর সরকার।

আয়োজকরা জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় ক্রিশ্চিয়ান এইড, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট এবং স্থানীয় নাগরিক সংগঠনগুলো যৌথভাবে ‘Expanding Civic Space through Active CSO Participation and Strengthened Governance System in Bangladesh (ECSAP)’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আদ্-দ্বীনের ভয়াবহ অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
আদ্-দ্বীনের ভয়াবহ অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতালের ভেতরে ‘বেকারি কারখানা’ পরিচালনার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবার পরিবেশ নষ্ট করে এমন কার্যক্রম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হাসপাতালের ভেতরে প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ, বেকারির ময়লা ও জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্ট দূষণ সাম্প্রতিক নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনার পেছনেও ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের গাফিলতি, সেন্ট্রাল এসি বন্ধ থাকা এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবের কারণে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে কীভাবে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বাণিজ্যিকভাবে বেকারি পরিচালনা ও বিপজ্জনক প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে রাখা হয়।

তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবার আড়ালে এমন বাণিজ্যিক মানসিকতা মেনে নেওয়া যায় না। দেশের মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসা খাতে কোনও ধরনের অব্যবস্থাপনা বা অবহেলা সরকার বরদাস্ত করবে না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, গত মে মাসে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চরম অবহেলার কারণে ছয়টি পরিবার সন্তান হারিয়েছে। হাইপারক্যাপনিয়ায় আক্রান্ত নবজাতকদের চিকিৎসার সময় এসি বন্ধ ছিল, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সাপোর্ট ছিল না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদেরও পাওয়া যায়নি। কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিষক্রিয়ায় শিশুদের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরো জানান, ঘটনার পরদিন নিজে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পেয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, এত বড় ঘটনার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহত শিশুদের পরিবারের পাশে দাঁড়ায়নি। বরং হাসপাতালের ভেতরে বেকারি কারখানা, প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ এবং জলাবদ্ধ পরিবেশ বজায় রেখেছে। এসব থেকে নির্গত দূষণ হাসপাতালের পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে এবং তা শিশু মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, হাসপাতাল চত্বরে যেভাবে দাহ্য প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে রাখা হয়েছে, তাতে সামান্য অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এসব অনিয়ম ও লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের কারণে স্বাস্থ্য অধিদফতর হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সরকারি তদারকিতে নতুন প্রধান নির্বাহী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, এই পদক্ষেপকে ‘দলীয়করণ’ বা ‘মাথা কেটে ফেলা’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মানুষের জীবন রক্ষায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং দেশের সব হাসপাতালকে কঠোর শৃঙ্খলার আওতায় আনা হবে।

সংসদে বিরোধী দলের এক সদস্যের বক্তব্যের জবাবে পবিত্র কোরআনের সূরা নজমের আয়াত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) ওহির ভিত্তিতেই কথা বলেছেন। কিন্তু রাজনীতিতে ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে—এ ধরনের বক্তব্য চরম শিরকের শামিল এবং যারা এমন কথা বলেন, তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।

বাজেট নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রতিফলনই এবারের বাজেট। তিনি দাবি করেন, এই বাজেটের অন্তর্নিহিত দর্শন অনুধাবনের সক্ষমতা সবার নেই।

অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে ভ্যাট চালুর সময়ও বিরোধিতা হয়েছিল। কিন্তু এখন ভ্যাট ছাড়া অর্থনীতি কল্পনা করা যায় না। বর্তমান রাজস্ব বাজেটের গুরুত্বও সময়ের সঙ্গে আরো স্পষ্ট হবে।