• ই-পেপার

দক্ষিণ কোরিয়ার কইকা স্কলারশিপের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের থেকে আবেদন আহ্বান

মূল্যস্ফীতি ও জিডিপির হিসাব পদ্ধতি সংস্কার করছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
মূল্যস্ফীতি ও জিডিপির হিসাব পদ্ধতি সংস্কার করছে সরকার
ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশের অর্থনৈতিক সূচকের হিসাব আরো নির্ভুল ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত করতে মূল্যস্ফীতি, ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই), মজুরি হার সূচক এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাব পদ্ধতিতে বড় ধরনের সংস্কার আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে দুটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হবে। একই সঙ্গে অতীতে প্রকাশিত অর্থনৈতিক তথ্যও পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

শনিবার (২০ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আয়োজিত সিপিআই, মূল্যস্ফীতি, মজুরি হার সূচক ও জিডিপি প্রণয়নবিষয়ক মতবিনিময়সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে নির্ভুল পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে বর্তমান হিসাব পদ্ধতি পর্যালোচনা করে আরো আধুনিক, বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য কাঠামো প্রণয়ন করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, অতীতে প্রকাশিত অর্থনৈতিক তথ্যের মধ্যেও কোনো অসংগতি বা বিকৃতির সম্ভাবনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে এর উদ্দেশ্য কাউকে দায়ী করা নয়; বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান ব্যবস্থা গড়ে তোলা। জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে বাস্তবভিত্তিক তথ্য প্রকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে ৭৪৯টি পণ্য ও সেবার মূল্যতথ্যের ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হিসাব করা হয়। শহর ও গ্রামের বিভিন্ন বাজার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একাধিক ধাপে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করা হয়। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আরো উন্নত পদ্ধতি অনুসরণ করে মূল্যস্ফীতি নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে মানুষের প্রকৃত ভোগব্যয়ের চিত্র আরো সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়।

বিবিএস কর্মকর্তারা জানান, গঠিত কারিগরি কমিটি বর্তমান সিপিআই ও জিডিপি প্রণয়ন পদ্ধতির বিস্তারিত মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ দেবে। পরে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকেরা পরিসংখ্যান আইন-২০১৩ সংশোধন, নিয়মিত জরিপ পরিচালনা, পরিসংখ্যান খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থার সক্ষমতা জোরদারের সুপারিশ করেন। তাদের মতে, এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে সরকারি অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে, উন্নয়ন পরিকল্পনা আরো কার্যকর হবে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।

সিলেটের মানুষ দেশকে যা দিয়েছে, তার প্রতিদান পায়নি : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটের মানুষ দেশকে যা দিয়েছে, তার প্রতিদান পায়নি : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘সিলেট অঞ্চলের মানুষ দেশকে যা দিয়েছে, সেই অনুযায়ী তারা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের প্রতিদান পায়নি। এটা নিয়ে এখন আমাদের সবাইকে আওয়াজ তুলতে হবে। সিলেটের সার্বিক উন্নয়নের জন্য দায়িত্ব নিয়ে এখানকার সব কৃতিজন, রাজনীতিবিদ ও আমলাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

আজ শনিবার (২০ জুন) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘সিলেটের কৃতিজন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ‘পুণ্যভূমি সিলেটের যে ১১৩ জন কৃতিজনের জীবনী এই গ্রন্থে স্থান পেয়েছে, তাদের পাশাপাশি আরো অনেক শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও আমলা আছেন, যারা সমাজের জন্য অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তাদের সেই অনন্য কাজ ও অবদান নিয়েও আগামীতে বই লেখা উচিত।’

নতুন প্রজন্মের মাঝে এই গৌরবময় ইতিহাস ছড়িয়ে দেওয়ার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব, সিলেটের কৃতি ও কৃতিত্ববান মানুষদের নিয়ে লেখা এসব বই যেন প্রতিটি লাইব্রেরিতে রাখা হয়, যাতে আমাদের যুবসমাজ সহজেই এই ইতিহাসের সংস্পর্শে আসতে পারে। তবে কেবল বই পৌঁছে দিলেই হবে না, তরুণদের মাঝে বই পড়ার নিয়মিত চর্চা বাড়াতেও আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে ‘সিলেটের কৃতিজন’ গ্রন্থের সম্পাদক ও প্রকাশক আলাউদ্দিন আল আজাদ তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘এই গ্রন্থ রচনার পেছনে আমাদের একটিই মূল প্রেরণা, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাসের আয়নার সামনে দাঁড় করানো। যেন তারা নিজেদের শিকড়কে দেখতে পায় এবং উপলব্ধি করতে পারে যে, তাদের পূর্বপুরুষরা কেবল নিজেদের জন্য নয়, বরং দেশ ও জাতির জন্য এক গৌরবময় ও ঈর্ষণীয় উত্তরাধিকার রেখে গেছেন।’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছ, এমপি, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, বাংলাদেশ বিচিত্রার প্রধান উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদসহ সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকবৃন্দ।

ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি আবদুস সাদেকের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি আবদুস সাদেকের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত
ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি খেলোয়াড় ও সংগঠক আবদুস সাদেকের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) বাদ আসর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের বায়তুস সোবহান জামে মসজিদে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা আগামীকাল রবিবার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বনানী ওল্ড ডিওএইচএস মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

আবদুস সাদেক শনিবার সকাল ৮টায় রাজধানীর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দুরারোগ্য ক্যান্সারে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। 

প্রসঙ্গত, আবদুস সাদেকের ছোট ভাই দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। এ ছাড়া মরহুমের বড় ছেলে টি স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ইশতিয়াক সাদেক।

অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের তারকা খেলোয়াড় ছিলেন আবদুস সাদেক। ফুটবল ও ক্রিকেটেও ছিলেন সমান পারদর্শী।

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী ক্রীড়া চক্রের (ঢাকা আবাহনী লিমিটেড) প্রথম ফুটবল অধিনায়ক ও হকি অধিনায়ক ছিলেন তিনি। শুধু তারকা খেলোয়াড়ই নন, তিনি ছিলেন সফল কোচ ও সংগঠকও। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর চরম দুঃসময়ে আবাহনীকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখায় ১৯৯৬ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন আবদুস সাদেক। বাবা অ্যাডভোকেট আবদুস সোবহান ব্রিটিশ আমলে ছিলেন খ্যাতনামা সাঁতারু। তাঁর ছোট ভাই দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানও একসময় ছিলেন হকির তারকা খেলোয়াড়। 

পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পরপরই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের রোষানলে পড়ে পূর্ব পাকিস্তান। বাঙালির মেধা-মনন বিকাশের সুযোগ ছিল না বললেই চলে। সেই বৈরী পরিবেশেও পাকিস্তানের জাতীয় হকি দলে ডাক পান আবদুস সাদেক। এমনকি ১৯৬৮ সালের অলিম্পিক দলেও ডাক পেয়েছিলেন। তবে ইনজুরির কারণে খেলা হয়নি। পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের হয়ে তিনি ইউরোপ সফর করেন। ১৯৬৯ সালে দেড় মাসের ইউরোপ ট্যুরে আবদুস সাদেকরা জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডে খেলেছেন। ফেরার পথে মিসরের সঙ্গেও একটা ম্যাচ খেলেছেন। সেই ইউরোপ ট্যুরে মাঠে কারিশমা দেখানোর কারণে আবদুস সাদেক দ্রুত পরিচিত পান। বিশেষ করে দলের সেরা তারকা রশিদ জুনিয়রের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। ১৯৬৮ সালের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান দলের সেরা তারকারাও ইংরেজি জানতেন না। তবে আবদুস সাদেক জানতেন। এ কারণে সবার কাছে তাঁর কদর ছিল আলাদা।

শুধু আবদুস সাদেকই নন, তাঁর ছোট ভাই আহমেদ আকবর সোবহানও হকিতে বেশ নাম কুড়িয়েছিলেন। হকিতে রাইট হাফে খেলতেন তিনি। পূর্ব পাকিস্তান যুবদলে দুই ভাই একসঙ্গে খেলেছেন। স্বাধীনতার পর জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে ১৯৭৩ সালে কুমিল্লা জেলা দলের অধিনায়ক ছিলেন আবদুস সাদেক। ফাইনালে তাঁর ছোট ভাইয়ের একমাত্র গোলেই কুমিল্লা সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

আবাহনীর প্রথম ফুটবল ও হকি অধিনায়ক
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভাব ঘটে আবাহনী ক্রীড়াচক্রের। ক্লাব প্রতিষ্ঠাতা শেখ কামাল একজন সুযোগ্য নেতা খুঁজছিলেন নতুন দলকে পরিচালনার জন্য। তিনি বেছে নেন দেশের সেরা তারকাকে। আবদুস সাদেক স্বাধীনতার আগে ভিক্টোরিয়া ও দিলকুশার মতো জনপ্রিয় ক্লাবে খেলে বেশ নাম কুড়িয়েছিলেন। শেখ কামাল ঢাকা আবাহনীর ফুটবল ও হকি দলের নেতৃত্বের ভার তুলে দেন তাঁর কাঁধে। হকিতে আবাহনীকে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন করে আস্থার প্রতিদান দেন।

আবদুস সাদেক কারিশমায় অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন আবাহনী
ফুটবল ক্যারিয়ার ছেড়ে ১৯৭৭ সালে আবাহনী প্রশিক্ষকের দায়িত্ব নেন আবদুস সাদেক। নতুন দায়িত্ব পেয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। সেবার লিগে কোনো ম্যাচেই হারেনি আবাহনী। তিন ম্যাচ ড্র ছাড়া বাকি সব ম্যাচেই দাপুটে জয়। বাংলাদেশে প্রথম দল হিসেবে আবাহনী অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল রেকর্ড সৃষ্টি করে। স্বাধীন বাংলাদেশে সেবারই প্রথম কোনো দল অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

সফল সংগঠক
প্রশিক্ষকের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর সংগঠক হিসেবে আবদুস সাদেকের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরই প্রচেষ্টায় ১৯৮৫ সালে ঢাকায় এশিয়া কাপ হকি অনুষ্ঠিত হয়। অথচ ওই বছরের আয়োজক হওয়ার কথা ছিল জাপানের। এশিয়ান হকি ফেডারেশনের বৈঠকে সাদেকের কথায় মুগ্ধ হয়ে পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইরানের সমর্থনে আয়োজকের দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের হকি বা ফুটবলে যখনই সমস্যা দেখা গেছে, তিনি প্রথমে এগিয়ে এসেছেন। স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশে এমন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০১৭ সালে ঢাকায় দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপ হকির আসর বসে। এখানেও বড় ভূমিকা রাখেন আবদুস সাদেক। হকির ফ্লাডলাইট, ইলেকট্রনিক স্কোর বোর্ডসহ অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি এসেছে তাঁর প্রচেষ্টায়। ঢাকায় আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের সভাপতি নেগ্রে আসার পর প্রথম দেখায় আবদুস সাদেককে চিনে নেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সাদেক একজন কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড়। আমার বিশ্বাস, সাদেকের হাত ধরে হকির উন্নয়ন সম্ভব হবে।’

আবাহনীর দুঃসময়ের কাণ্ডারি
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর আবাহনী ক্লাব টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। অনেকে তখন ভয়ে ক্লাবে আসতেন না। এমনকি অনেক সংগঠক বিদেশেও চলে যান। কিন্তু এ দুঃসময়ে শেখ কামালের হাতে গড়া আবাহনীকে টিকিয়ে রাখার গুরুভার কাঁধে তুলে নেন আবদুস সাদেক। ধানমণ্ডির নিজ বাসভবনে তিনি সবাইকে নিয়ে আবাহনীকে মাঠে নামানোর নেতৃত্ব দেন। বিপদের সময় তাঁর সাহসিকতার কারণে হয়তো মাথা উঁচু করে টিকে আছে আজকের আবাহনী। আবদুস সাদেকের অসামান্য অবদানের কথা চিন্তা করে আবাহনী লিমিটেড তাঁকে করেছে ‘আজীবন সদস্য’। ক্রীড়াঙ্গনের এই জীবন্ত কিংবদন্তির জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এক সম্ভ্রান্ত ক্রীড়া পরিবারে।

বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের নেতৃত্বে
১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে হকিতে প্রথম জাতীয় দল গঠন করা হয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন টেস্টে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন আবদুস সাদেক। সেখানে হকি টেস্টে একটিতে জয়, একটিতে ড্র ও একটিতে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ প্রথম এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়। হকিতে আবদুস সাদেকই অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রস্তাবিত বাজেটে ৫ দফা সুপারিশ বাপার

নিজস্ব প্রতিবেদক
জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রস্তাবিত বাজেটে ৫ দফা সুপারিশ বাপার

জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর ৫ দফা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, জবাবদিহিতাহীন ও আমলাতান্ত্রিক উপায়ে তৈরি বাজেট পরিবেশগত সংকট মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। প্রকৃত অর্থে সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে মেগা প্রজেক্টের নামে পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসব বন্ধ করতে হবে।

শনিবার (২০ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা।

বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত সুপারিশে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি প্রশমনে বর্তমান ০.৭৬ শতাংশ বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি অন্তত ৩ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত থেকে পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের জন্য সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত বন্ড চালু করে তহবিল গঠন করা যেতে পারে।

সুপারিশে বলা হয়, উচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী শিল্প ও লাক্সারি গাড়ি আমদানিতে বিশেষ কার্বন কর আরোপ করে সেই অর্থ পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যবহার করতে হবে। যেসকল শিল্প বর্জ্য শোধনাগার চালায় না, তাদের ওপর কঠোর জরিমানা আরোপ করে সেই তহবিলে কেন্দ্রীয় শোধনাগার নির্মাণ করতে হবে।

সুপারিশে আরো বলা হয়, মহানগরগুলোর ল্যান্ডফিলে বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প গ্রহণ করে পরিবেশ রক্ষা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে হবে। প্লাস্টিক রিসাইক্লিং শিল্পে কর ছাড় এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। ক্লাইমেট টেকনোলজি স্টার্টআপদের জন্য বিশেষ ইনকিউবেশন সেন্টার ও সিড ফান্ড প্রদান করতে হবে। মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রকে শক্তিশালী করে নদীর গতিপথ ও বনভূমি দখল রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং করতে হবে। সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় কৃত্রিম বাঁধের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন ম্যানগ্রোভ বনায়ন সৃষ্টি করে সাইক্লোন থেকে রক্ষার প্রাকৃতিক দেয়াল তৈরি করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাপার সদস্য ফারহান হোসেন জয়। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের আগের আমলেই আমরা দেখেছি পলিথিন ব্যান হতে। এই সরকারই আগেরবার বেবি-ট্যাক্সির কালো ধোঁয়া থেকে ঢাকাকে মুক্ত করে সিএনজি মোটরে এনেছিল। এবারো সরকার পরিবেশ ও নাগরিকদের স্বার্থে কাজ করবে বলে আশা করি।

তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও কঠোর জবাবদিহিতা ছাড়া এই বরাদ্দ শুভঙ্করের ফাঁকি হবে।

বাপা সহসভাপতি অধ্যাপক এম. ফিরোজ আহমেদ বলেন, কার্বন ট্রেডিং কিয়োটো-প্রটোকলের মাধ্যমে বিক্রি করা সম্ভব হলেও বাংলাদেশ তা করতে ব্যর্থ। ফ্লাইওভার তৈরির মাধ্যমে শহরে বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পেয়েছে; আন্ডারগ্রাউন্ড যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হলে দূষণের মাত্রা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হতো। পয়ঃবর্জ্য ও শিল্প দূষণ সুপেয় পানির উৎস বাধাগ্রস্ত করছে।

বাজেটে ‘গ্রিন জব’ বলতে সরকার আসলে কী বুঝাতে চেয়েছে, সেটি সরকারকে স্পষ্ট করার আহ্বান জানান বাপার সহসভাপতি জাকির হোসেন। তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। বাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থ দুর্নীতিমুক্তভাবে খরচ করতে হবে। পরিবেশের বাজেট করার আগে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে।