• ই-পেপার

ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে আয় কমেছে ৬৯ কোটি ইউরো

আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

অনলাইন ডেস্ক
আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

দেশের বাজারে সবশেষ সমন্বয়ে বাড়ানো হয়েছে সোনার দাম। আজ বুধবার (১৭ জুন) মূল্যবান এই ধাতু দুটি বিক্রি হচ্ছে সবশেষ নির্ধারিত দামে। সবশেষ গত ১৫ জুন সোনার দাম বাড়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতু দুইটির দাম যথাক্রমে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা ও ২৩৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড ) মূল্য বেড়েছে। সেদিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এর আগে, সবশেষ গত ১৩ জুন সকালে দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ৩৯ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৩৬ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

ব্যাংক খাতের মূলধন পর্যাপ্ততা এখন ঋণাত্মক

অনলাইন ডেস্ক
ব্যাংক খাতের মূলধন পর্যাপ্ততা এখন ঋণাত্মক
ছবি: কালের কণ্ঠ

কোনো ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার পরিমাপ হলো তার মূলধন পর্যাপ্ততা। এটি নির্দেশ করে যে ব্যাংকটি সম্ভাব্য ব্যবসায়িক ঝুঁকি (যেমন খেলাপি ঋণ) মোকাবেলা করতে সক্ষম কিনা।

মূলধন পর্যাপ্ততা বা সিআরএআর হলো ব্যাংকের মূলধন এবং তার ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের অনুপাত। বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাসেল থ্রি অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সিআরএআর পর্যবেক্ষণ করে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর সিআরএআর সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ থাকার কথা। এর উদ্দেশ্য আমানতের অর্থ সুরক্ষিত রাখা, ব্যাংককে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচানো।

বাংলাদেশে খেলাপি হয়ে যাওয়া ঋণের বিপরীতে প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে পারছে না অনেক ব্যাংক। এর প্রভাবে ব্যাংক খাতে মূলধন ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছর শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (সিআরএআর) ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে গেছে। যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে চর্চিত ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর সিআরএআর সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ থাকার কথা। কার্যকর অর্থনীতির কোনো দেশের ব্যাংক খাতের গড় মূলধন ঋণাত্মক ধারায় চলে যাওয়াকে আধুনিক বিশ্বের বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বণিক বার্তা।

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের মূলধন সক্ষমতা ঋণাত্মক ধারায় চলে গেলেও এ সময়ে আগের চেয়েও শক্তিশালী হয়েছে প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার ব্যাংকগুলো। পাকিস্তানের ব্যাংক খাতে সিআরএআর এখন প্রায় ২১ শতাংশ। আর শ্রীলংকায় ১৯ শতাংশেরও বেশি। প্রতিবেশী ভারতের ব্যাংকগুলোর গড় সিআরএআর ১৭ দশমিক ২০ শতাংশ বলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫-এ তুলে ধরা হয়েছে। যদিও মাত্র তিন বছর আগেও অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়াত্বের মুখে পড়েছিল শ্রীলংকা ও পাকিস্তান। ডলার সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়েছিল দেশ দুটি।

মূলধন পর্যাপ্ততা ঋণাত্মক ধারায় চলে যাওয়াকে কোনো ব্যাংকের দেউলিয়াত্বের নির্দেশক ধরা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় দুই ডজন ব্যাংক এখন মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। এ ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তবে এ ঘাটতিও সঞ্চিতি সংরক্ষণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি ছাড়ের বদান্যতায় হয়েছে। এক্ষেত্রে নীতি ছাড় দেয়া না হলে দেশের ব্যাংক খাতের সিআরএআর ঘাটতি কয়েক গুণ বেড়ে যেত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোনো দেশের ব্যাংক খাতের সম্মিলিত সিআরএআর ঋণাত্মক ধারায় চলে যাওয়াকে বিরল ঘটনা বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংকও। এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘আধুনিক বিশ্বের আর কোনো দেশের ব্যাংক খাতের সিআরএআর ঋণাত্মক ধারায় থাকার কথা নয়। সে অর্থে বাংলাদেশের উদাহরণটি বিরল বলা যেতেই পারে। কোনো ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির সূত্রপাত হয় প্রভিশন ঘাটতি থেকে। আর প্রভিশন ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করে খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক আকারে বেড়ে গেলে। দেশের ব্যাংক খাতে এখন যে খেলাপি ঋণ দেখা যাচ্ছে, সেটি কোনো ব্যাংকিংয়ের ফল নয়। বরং এটি ঋণের নামে ব্যাংক লুটের বহিঃপ্রকাশ।’

আরিফ হোসেন খান আরো বলেন, ‘২০০৯ সাল-পরবর্তী সময়ে দেশের কিছু ব্যাংকে ঋণের নামে যে জালিয়াতি হয়েছে, সেগুলোকে কোনো অর্থেই ব্যাংকিং বলা যায় না। এটিকে লুট বলা যেতে পারে। এ ঋণ যারা নিয়েছে, তারা ঋণগ্রহীতা নয়, বরং লুটেরা। লুট হয়ে যাওয়া ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের জন্য আমরা টাকা ছাপিয়ে ধার দিতে বাধ্য হচ্ছি। কিন্তু এভাবে তো দীর্ঘদিন চলা যাবে না। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতিও জিম্বাবুয়ে কিংবা আর্জেন্টিনার পর্যায়ে পৌঁছতে পারে।’

দেশের আর্থিক খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি, ঝুঁকি ও স্থিতিশীলতা মূল্যায়ন করে প্রতিবছর ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট’ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্রতিবেদনের সর্বশেষ সংস্করণে দেখা যায়, ২০২৩ সাল শেষেও বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত বা সিআরএআর ছিল ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। কিন্তু ২০২৪ সাল শেষে এ হার এক ধাক্কায় ৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশে নেমে যায়। আর গত বছর (২০২৫ সাল) শেষে সিআরএআর ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে আসে।

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে মূলধন সক্ষমতা যখন ঋণাত্মক ধারায় চলে গেছে, ঠিক তখন প্রতিবেশী দেশগুলোর ব্যাংক খাত শক্তিশালী হয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্টের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে ভারতের ব্যাংক খাতে সিআরএআর ছিল ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ। গত বছর দেশটিতে এ হার ১৭ দশমিক ২০ শতাংশে উন্নীত হয়। আর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এখন পাকিস্তানের ব্যাংক খাতের মূলধন কাঠামো সবচেয়ে শক্তিশালী। গত কয়েক বছরের আর্থিক বিপর্যয় সত্ত্বেও ২০২৩ সালে পাকিস্তানের ব্যাংক খাতে সিআরএআর ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল। গত দুই বছরে এটি আরো বেড়ে ২০২৫ সালে দেশটির ব্যাংকগুলোর গড় সিআরএআর ২০ দশমিক ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়।

মূলধন কাঠামোর দিক থেকে শক্তিশালী অবস্থানে আছে শ্রীলংকার ব্যাংক খাতও। গত বছর দ্বীপরাষ্ট্রটির ব্যাংক খাতে সিআরএআর ছিল ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। এর আগে ২০২৩ সালেও শ্রীলংকার ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল। যদিও ২০২০ সালের কভিড মহামারী-পরবর্তী সময়ে শ্রীলংকার অর্থনীতিই দেউলিয়াত্বের মুখে পড়েছিল। এর জেরে দেশটির রাজাপাকসে সরকারের পতনও ঘটেছিল। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শ্রীলংকার মূল্যস্ফীতি ঠেকেছিল রেকর্ড ৬৯ শতাংশে।

ব্যাংক নির্বাহীসহ এ খাতের নীতিনির্ধাকরা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের টানা দেড় দশকের শাসনামলে দেশের খেলাপি ঋণ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। অলিগার্ক ও মাফিয়া শ্রেণীর চেয়ারম্যান-পরিচালকদের ব্যাংকে যথাযথ নিরীক্ষা হতো না। অনেক ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারির অভাব ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ব্যাংকগুলোর লুকানো খেলাপি ঋণ উন্মোচিত হয়েছে। ফলে খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ার প্রভাবেই ব্যাংক খাতের সিআরএআর অল্প সময়ে ঋণাত্মক ধারায় চলে গেছে।

বিপর্যয় সত্ত্বেও দেশের বেশকিছু ব্যাংকের মূলধন সক্ষমতা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে জানান অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে থাকা এ শীর্ষ নির্বাহী বলেন, ‘দেশে বেসরকারি খাতে এমন কিছু বড় ব্যাংকও রয়েছে, যাদের সিআরএআর ১৭-২০ শতাংশ। এ তালিকায় আমাদের সিটি ব্যাংকও রয়েছে। করপোরেট সুশাসন মেনে চলা ব্যাংকগুলো মূলধন কাঠামো শক্তিশালী করায় জোর দিয়েছে। সমস্যা হলো অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়ানো ব্যাংকগুলোর সিআরএআর এতটাই খারাপ অবস্থায় যে পুরো খাতকে ঋণাত্মক ধারায় নিয়ে গেছে। এ কারণে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আর দেশের সামগ্রিক রেটিংও খারাপ দেখাচ্ছে।’

ব্যাংক খাতে সিআরএআর ঋণাত্মক ধারায় চলে যাওয়ার মূলে রয়েছে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ। ২০২৪ সালের জুনেও দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। এটি ছিল মোট বিতরণকৃত ঋণের ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এরপর ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় ঠেকে। ওই সময় ব্যাংক খাতে বিতরণকৃত ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশই খেলাপির খাতায় ওঠে। গত বছরের শেষ তিন মাসে বিশেষ ছাড় দিয়ে পুনঃতফসিল করে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমানো হয়। তবে এর পরও চলতি বছরের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

বাংলাদেশে ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের এক-তৃতীয়াংশ খেলাপি হলেও প্রতিবেশী ভারতে এ হার এখন মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ। আর পাকিস্তানে খেলাপি ঋণের হার ৫ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। তিন বছর আগে দেউলিয়া হয়ে পড়া শ্রীলংকায়ও খেলাপি ঋণের হার এক অংকের ঘরে সীমাবদ্ধ।

দেশের ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততা কতটা নাজুক পরিস্থিতিতে পড়েছে, সেটি রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে। গত বছর শেষে সরকারের মালিকানাধীন এ ব্যাংকের প্রকৃত মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ৬৪ হাজার ৪০৬ কোটি টাকায় ঠেকেছে, যা পদ্মা সেতু নির্মাণ ব্যয়েরও প্রায় দ্বিগুণ। আর সঞ্চিতি সংরক্ষণে নীতি ছাড় দেয়া না হলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মূলধন ঘাটতি ছাড়াবে ৭০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। একই ভাবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে একীভূত হতে যাওয়া শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতিও দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি হবে।

ব্যাংক খাতের বিদ্যমান মূলধন ঘাটতি ও সিআরএআর ঋণাত্মক ধারায় চলে যাওয়াকে ‘ভয়ংকর’ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অর্থ সচিব ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি খুবই খারাপ। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার এ যুগে কোনো দেশে সিআরএআর ঋণাত্মক ধারায় চলে যাওয়ার ঘটনাটি অস্বাভাবিক ও অকল্পনীয়। এ পরিস্থিতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করাও অর্থহীন। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দেখুক, এ আহ্বান থাকল।’

প্রসঙ্গত, আর্থিক দুর্যোগ কিংবা পতনোন্মুখ ব্যাংকের আপৎকালীন ক্ষতি সামাল দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাসেল-৩-এর নীতি প্রবর্তন করা হয়। এ নীতির উদ্দেশ্য ছিল, বিপর্যয়ের সময়েও ব্যাংক যাতে নিজের মূলধনে চলতে পারে সেটি নিশ্চিত করা। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে বহু আগেই এ নীতি চর্চিত হয়ে আসছে। আর বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে ২০১৫ সালে চালু হওয়া এ ব্যাসেল বাস্তবায়নের সীমা ধরা হয়েছিল ২০১৯ সাল পর্যন্ত। এ নীতি অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে সাড়ে ১২ শতাংশ হারে মূলধন সংরক্ষণ করার কথা। কিন্তু বাংলাদেশে এ মূলধন পর্যাপ্ততার হার এখন ঋণাত্মক ধারায়।

ব্যাংক খাতে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ১০ লাখ কোটি, ৪ লাখ কোটির পুনঃতফসিল সুবিধা

অনলাইন ডেস্ক
ব্যাংক খাতে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ১০ লাখ কোটি, ৪ লাখ কোটির পুনঃতফসিল সুবিধা

দেশের ব্যাংকগুলো খেলাপি কমাতে ঋণ পুনঃতফসিল বাড়িয়েছে। গত বছর ব্যাংকগুলো ৯৮ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা দিয়েছে। এতে করে ব্যাংক খাতে গত বছর শেষে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা।

এর আগে, ২০২৪ সাল শেষে ব্যাংক খাতে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের স্থিতি ছিল তিন লাখ ৪৮ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এক প্রতিবেদন এসব তথ্য জানিয়েছে আমার দেশ।

গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালে ১২ হাজার ৭৭১ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়।

২০২২ সালে ৪৪ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে ৭৫ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে ৫৯ হাজার ৯২০ কোটি টাকা এবং ২০২৫ সালে করা হয় ৯৮ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যাংক খাতের পুনঃতফসিল ঋণের ৫৭ শতাংশ শীর্ষ ১০ ব্যাংকে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিবছরই খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করার পরিমাণ বাড়ছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে খেলাপি ঋণ কম দেখাতে নানা রকম ছাড় দেওয়া হয়। বিশেষ করে ২০২২ সালের জুলাইয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের পুরো ক্ষমতাই ব্যাংকগুলোর হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পর খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল অস্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে। কারণ, ব্যাংকের পর্ষদই এখন খেলাপি ঋণ নবায়নের সিদ্ধান্ত দিতে পারছে।

আবার রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা আসার কারণেও ঋণ নিয়মিত রাখতে পুনঃতফসিল সুবিধা দিতে বাধ্য হচ্ছে ব্যাংকগুলো। এছাড়া বিগত সরকারের সময়ে এ সংক্রান্ত নীতিমালাও শিথিল করা হয়। মাত্র আড়াই থেকে সাড়ে চার শতাংশ অর্থ জমা দিলেই ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পেত।

তবে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে অথবা মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে-এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুযোগ দিতে নীতিমালায় পরিবর্তন আনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাত্র দুই শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল বা নিয়মিত করার সুযোগ দেয়। এ ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর। ঋণ নিয়মিত হলে প্রথম দুই বছর ঋণ পরিশোধে বিরতি (গ্রেস পিরিয়ড) পাওয়া যায়।

প্রথম দফায় গত বছরের জুন পর্যন্ত যেসব গ্রাহক খেলাপি ছিলেন; তারাই এ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। পরে এ সময়সীমা ওই বছরের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্ব শেষ গত মাসে জারি করা এক সার্কুলারের মাধ্যমে তা চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

জানা গেছে, নীতি-সহায়তার আওতায় এক হাজার ৫১৬টি আবেদনের বিপরীতে এক লাখ ৯৬ হাজার ৪৭ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন আসে। এর মধ্যে ৩০০টি গ্রুপের ৯০০টি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো ২৫০টি ঋণ আবেদন বাস্তবায়ন করেছে। এর মাধ্যমে ২৬ হাজার ১১৪ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে।

পুনঃতফসিল ঋণের ৪০% খেলাপি

ব্যাংক খাতে যে পরিমাণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে, তার মধ্যে আবার খেলাপি হয়েছে ৩৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ ঋণ। প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছর শেষে ব্যাংক খাতে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। এই ঋণের মধ্যে এক লাখ ৭৮ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা আবার খেলাপির খাতায় উঠেছে।

এর বাইরে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা, যা মোট পুনঃতফসিলকৃত ঋণের ৬০ দশমিক ১৩ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি পুনঃতফসিল ঋণ যে খাতে

আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে দেখা যায়, উৎপাদনশীল খাতের উদ্যোক্তারা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন।

২০২৫ সাল শেষে পুনঃতফসিলকৃত ঋণ স্থিতির মধ্যে ২৯ দশমিক ৫৬ শতাংশই ছিল শিল্প খাতের। দ্বিতীয় স্থানে ছিল বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাত, ১৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

এছাড়া পুনঃতফসিলকৃত ঋণের ১৩ দশমিক ০৫ শতাংশ চলতি মূলধন, আমদানিতে ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ, বাণিজ্যিক ঋণে ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ, ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ নির্মাণ, ৩ দশমিক ০১ শতাংশ কৃষি খাতে, জাহাজ নির্মাণে ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ৬ দশমিক ১৭শতাংশ অন্যান্য খাতে।

দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ ১০ লাখ কোটি টাকা

পুনঃতফসিলকৃত ঋণকে 'স্ট্রেসড' বা 'দুর্দশাগ্রস্ত' হিসেবে দেখায় আইএমএফ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।

একই সময়ে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। আবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আদায় অযোগ্য হওয়ায় ব্যাংকগুলো ৮৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করেছে। সব মিলিয়ে দেশের ব্যাংক খাতে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকার ঋণ এখন ঝুঁকিপূর্ণ বা দুর্দশাগ্রস্ত।

বিনিয়োগ বাড়াতে চার কৌশল

বিডার মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ পিপিপি কাঠামো শক্তিশালীকরণ ঋণের সুদহার কমাতে মুদ্রানীতি শিথিল করা আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজারে সংস্কার

অনলাইন ডেস্ক
বিনিয়োগ বাড়াতে চার কৌশল

বাংলাদেশকে অর্থনীতিতে এক বড় রূপান্তরের স্বপ্ন দেখছে নির্বাচিত বিএনপি সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে সেই রূপান্তরের কৌশলও তুলে ধরা হয়েছে। এ কৌশলের ওপর ভর করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির তুলনায় দেশের মোট বিনিয়োগ যেখানে ছিল ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ, আগামী ২০২৮-২৯ অর্থবছর নাগাদ তা ৩৬ দশমিক ৮২ শতাংশে উন্নীত করার মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

অর্থাৎ আগামী তিন বছরে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে জিডিপির প্রায় ৮ দশমিক ২৮ শতাংশ। প্রশ্ন হচ্ছে-এ বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রস্তাবিত বাজেটে কী কৌশল নেওয়া হয়েছে আর আগের বাজেটগুলোর উদ্যোগই বা কতটুকু সফল ছিল। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে বিনিয়োগ বাড়াতে চারটি কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো ১. বিভিন্ন খাতে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ বা বিনিয়ন্ত্রণকরণ, যার আওতায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (বিডা) কেন্দ্র করে বিনিয়োগসহায়ক সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। ২. সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং প্রকল্প পাইপলাইন সম্প্রসারণ। ৩. ঋণের সুদহার কমাতে মুদ্রানীতি পর্যায়ক্রমে শিথিল করা এবং ৪. আর্থিক ও পুঁজিবাজার সংস্কার, যার মাধ্যমে ঋণ মধ্যস্থতা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং দেশের শেয়ার বাজারের কার্যকারিতা ও গতিশীলতা বাড়ানোর জন্য আর্থিক খাত সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা।

অর্থ মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ কৌশলের পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রস্তাবিত বাজেটে স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষায় উৎপাদন খাতের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে করছাড় ও বিশেষ শুল্ক অব্যাহতি সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সামাজিক অবকাঠামো খাতের সমস্যা দূর করে বেসরকারি বিনিয়োগের আস্থা ফেরাতে প্রস্তাবিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে বিপুল অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিনিয়োগবান্ধব সামগ্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার, প্রতিরক্ষাসহ পাঁচ বড় মন্ত্রণালয় ও বিভাগে এ বাজেটের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, বরাদ্দ বৃদ্ধি বা বড় অবকাঠামো প্রকল্প নিলেই বিনিয়োগ বাড়বে না। মূলধনের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারি ক্রয়ের স্বচ্ছতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বা গুণগত মান বাড়াতে হবে। প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিক ব্যয় বৃদ্ধি রোধ করা না গেলে লক্ষ্যপূরণ কঠিন হতে পারে। তবে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো সফল হলে এবং ২০২৬-২৭ সাল থেকে ঋণের খরচ কমলে বেসরকারি খাতের মূলধন দেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন ও ডিজিটাল সংযোগের মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে ব্যাপকভাবে যুক্ত হবে, যা টেকসই প্রবৃদ্ধির নতুন পথ দেখাবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আগের বাজেটগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বড় বড় মেগা প্রকল্প ও অবকাঠামোগত বরাদ্দ বা উদ্যোগ নেওয়া হলেও গলদ রয়ে গেছে প্রকল্প পরিচালনায়। সরকারি খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতার অভাব এবং গুণগত মানের ঘাটতির কারণেও আগের প্রকল্পগুলো থেকে কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যায়নি। অনেক প্রকল্পে ধারাবাহিক ব্যয় বেড়েছে। বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে মূলধনের কার্যকারিতাও নষ্ট হয়েছে। তাই প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন কৌশল হিসেবে সরকারি ক্রয়ের স্বচ্ছতা, প্রকল্প মূল্যায়ন এবং নিবিড় পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন কাঠামো শক্তিশালী করাকে সরকারের অন্যতম প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

মূলধনের বিশাল অঙ্ক : বিনিয়োগের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য পূরণ করতে হলে বাজার ও অর্থনীতিতে বিপুল পরিমাণ নতুন মূলধনের জোগান দিতে হবে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক হিসাব বলছে, বরাবরের মতোই মোট মূলধন গঠনে সবচেয়ে বড় একক অবদান বজায় রাখবে বেসরকারি খাত, যা জিডিপির প্রায় ২২ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার নিজস্ব বিনিয়োগ বর্তমানের ৬ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে এটি বাড়িয়ে ১৫ দশমিক ২ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার প্রক্ষেপণ করেছে। অর্থাৎ সরকারি মূলধনের জোগান বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি করতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য হলো পরিবহন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ডিজিটাল সংযোগ এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন-এই গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে কাঠামোগত বাধা দূর করা। এসব খাতে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে স্বল্পমেয়াদে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিনিয়োগে মূলধন গঠনে মূল ভূমিকা রাখবে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বাজেট পর্যালোচনায় বলেন, ‘বাজেটে বেসরকারি বিনিয়োগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য শুধু করসুবিধা বা প্রণোদনা যথেষ্ট নয়। বিনিয়োগকারীদের প্রধান উদ্বেগ এখন জ্বালানি সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা, উচ্চ সুদের হার, নীতিগত স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, ভূমি প্রাপ্তি, বন্দর দক্ষতা এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রশাসনিক জটিলতা। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির প্রায় ২২-২৩ শতাংশে আটকে আছে। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হলে বাস্তব সংস্কার, সুশাসন এবং নীতির ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন আস্থা, যাতে টাকা খাটিয়ে তাঁরা তা লাভসহ ফেরত পান। দেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আস্থা পাবেন।’

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন