• ই-পেপার

রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে ১০ জেলা : রেলপথমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএম-এর নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএম-এর নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে ড. লরা টম্ বন্দ। ছবি : সংগৃহীত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) নবনিযুক্ত চিফ অব মিশন ড. লরা টম্ বন্দ। এ সময় তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে ড. লরা টম্ বন্দকে বাংলাদেশে আইওএম-এর চিফ অব মিশন হিসেবে স্বাগত জানাই। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার ও আইওএম-এর মধ্যকার দৃঢ় অংশীদারি আরো এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করি।’

ড. টম্ বন্দ এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার দায়িত্ব গ্রহণ করছেন, যখন বাংলাদেশ বহুমাত্রিক অভিবাসন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। একদিকে নিরাপদ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারিত হচ্ছে, অন্যদিকে মায়ানমারে সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে পালিয়ে আসা ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ, যা বিশ্বের দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতি সংকটগুলোর মধ্যে অন্যতম।

ড. টম্ বন্দ বলেন, ‘বাংলাদেশের সামগ্রিক অভিবাসন পরিস্থিতি অত্যন্ত গতিশীল এবং এতে যেমন সুযোগ রয়েছে, তেমনি চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আমি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী, যাতে অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে এবং সুশাসিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অভিবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিবাসন টেকসই উন্নয়নে অর্থবহ অবদান রাখতে পারে।’

বাংলাদেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা ও লবণাক্ততার অনুপ্রবেশসহ জলবায়ুজনিত বিভিন্ন ঝুঁকি রয়েছে। আর এসব কারণে সৃষ্ট বাস্তুচ্যুতি ও দুর্যোগের বিষয়টি উল্লেখ করে নতুন চিফ অব মিশন নিয়মিত অভিবাসনের পথ সম্প্রসারণ এবং জলবায়ুজনিত অভিবাসন মোকাবেলায় সমন্বিত সরকারি ও আঞ্চলিক উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে আইওএম-এর সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

আইওএম-এর চিফ অব মিশন অভিবাসনের পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা প্রদানে সংস্থাটির অব্যাহত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসন জোরদার করা, স্বাস্থ্য ও প্রাক-বহির্গমন সেবা উন্নত করা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের সুরক্ষা ও পুনঃএকত্রীকরণে সহায়তা প্রদান।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, আইওএম রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলাকে অগ্রাধিকার হিসেবে অব্যাহত রাখবে এবং কক্সবাজারে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় জনগোষ্ঠীদেরও সহায়তা করবে।

কানাডার নাগরিক ড. লরা টম্ বন্দ এর আগে সাড়ে ছয় বছর মোজাম্বিকে আইওএম-এর চিফ অব মিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সেনাবাহিনীতে কমিশন পেলেন ১৮৪ অফিসার ক্যাডেট

অনলাইন ডেস্ক
সেনাবাহিনীতে কমিশন পেলেন ১৮৪ অফিসার ক্যাডেট

চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে এ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে কৃতি ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

সেনাবাহিনী প্রধান নবীন অফিসারদের উদ্দেশে বলেন, শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের ওপর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হলো। তিনি সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষিত, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত একটি পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কমিশনপ্রাপ্ত ১৮৪ জন অফিসারের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী রয়েছেন। এ ছাড়া ফিলিস্তিনের ৪ জন, তানজানিয়ার ১ জন, জাম্বিয়ার ১ জন এবং মালদ্বীপের ১ জন ক্যাডেট বিএমএ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তারা নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগদান করবেন।

৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকস ক্যাডেট হিসেবে সোর্ড অব অনার এবং সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক অর্জন করেন। তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর শ্রেষ্ঠ বিদেশি ক্যাডেট হিসেবে বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স অর্জন করেন।

পরে প্রশিক্ষণ সমাপনকারী ক্যাডেটরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও অভিভাবকরা নবীন অফিসারদের র‍্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন।

এদিকে কুচকাওয়াজ শেষে সেনাবাহিনী প্রধান বিএমএতে ২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের উদ্বোধন করেন। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং অফিসার ক্যাডেটদের পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়াতে ১ম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের পাশাপাশি নতুন এ ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিএমএতে নবনির্মিত সিএমএইচ ভাটিয়ারি, বিএমএ পার্ক, বিএমএ সুইমিং পুল ও এমইএস অফিস কমপ্লেক্স প্রকল্পের উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনী প্রধান।

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ‘ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশিজ’ প্রতিনিধিদলের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ‘ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশিজ’ প্রতিনিধিদলের বৈঠক

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ‘ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশিজ’ (VfGB) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. হাসানাত এম. হুসাইন। এ সময় উভয়ের সঙ্গে প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

‘ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশিজ’-এর প্রতিনিধিরা প্রবাসীদের কল্যাণে আরো কার্যকর নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবি-দাওয়া অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বিরোধী দলের সহযোগিতা চান।

একই সঙ্গে প্রবাসীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং দেশে বিনিয়োগ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আরো সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি প্রবাসীদের কল্যাণ, অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের আশ্বাস দেন।

স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান ‘যার যার ধর্মীয় রীতিতে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান ‘যার যার ধর্মীয় রীতিতে’

জাতীয় সংসদের সদস্যরা নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বৈঠকের শুরুতে তিনি এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

এর মাধ্যমে সংসদকক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের অবসান ঘটল।

স্পিকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন সংসদ সদস্য আপত্তি ও মতামত তুলে ধরেছিলেন। সে কারণে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 
কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭(১) ধারায় বলা হয়েছে, সংসদের বৈঠক চলাকালে কোনো সদস্য সংসদে প্রবেশ, সংসদকক্ষ ত্যাগ কিংবা নিজ আসন গ্রহণ বা ত্যাগ করার সময় সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। বিধিতে সম্মান প্রদর্শনের কথা উল্লেখ থাকলেও কিভাবে তা করতে হবে, সে বিষয়ে বাধ্যতামূলক কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই। অতীতে বিধিতে থাকা ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি ২০০৬ সালে সংশোধনের মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়। যার যার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সেদিন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান সংসদকক্ষে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে আপত্তি জানান। পরে স্পিকার বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আশ্বাস দেন।

এরপর বুধবার বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক বিষয়টির সুরাহা করার অনুরোধ জানান। তাদের উত্থাপিত প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতেই স্পিকার কার্যপ্রণালি বিধি পর্যালোচনা করে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।