উপকূলের সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের নেতারা। তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবন-জীবিকা এবং প্রাণ-প্রকৃতি চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় দীর্ঘ মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে।
শনিবার (৬ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ইয়ুথ ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম ও লিডার্স আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে এসব কথা বলেন তারা।
ফোরামের সদস্য যুধিষ্ঠির চন্দ্র বিশ্বাসের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের আহ্বায়ক আমিনুর রসুল বাবুল, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, গ্রীণ ভয়েসের সমন্বয়কারি হুমায়ুন কবির সুমন, লিডার্সের ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর শাকিল আহমেদ, ইয়ুথ ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের আহ্বায়ক সাদিয়া সুলতান শাপলা ও যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ জিয়া রানা প্রমুখ।
সমাবেশে আমিনুর রসুল বলেন, উপকূলীয় অঞ্চল বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরবন দেশের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি কার্বন শোষণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া চিংড়ি, কাঁকড়া ও সামুদ্রিক মৎস্য রপ্তানি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কিন্তু জাতীয় বাজেটে জলবায়ু খাতে বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এ সকল বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান নিখিল চন্দ্র ভদ্র। তিনি বলেন, উপকূলের পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়ন, সুন্দরবন সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।
মানববন্ধনে ২১দফা দাবি তুলে ধরে বলা হয়, দেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলার সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের জন্য উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে। সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলকে দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করতে হবে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও বাঁধে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি উপকূলীয় পরিবারকে দুর্যোগ সহনশীল আবাসনের আওতায় আনতে হবে।








