• ই-পেপার

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ১৯৮৮ মামলা

ঢামেক হাসপাতালের সামনে ফুটপাত থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢামেক হাসপাতালের সামনে ফুটপাত থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বাগান গেটের সামনের ফুটপাত থেকে এক নবজাতক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার বিকেলে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

আজ বিকেলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে শাহবাগ থানা-পুলিশের একটি দল ঢামেক হাসপাতালের বাগান গেটের সামনের ফুটপাতে যায়। সেখানে কালো কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় ওই নবজাতকের মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. লাভলু আহমেদ বলেন, ‘৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে আমরা বিকেলে ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে ফুটপাতে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় মৃত নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়।’

এসআই লাভলু আহমেদ আরো জানান, উদ্ধার হওয়া নবজাতকটির বয়স আনুমানিক এক দিন হতে পারে। কে বা কারা মৃত নবজাতকটিকে সেখানে ফেলে গেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

জনপরিসর নিয়ে শিল্প ও স্থাপত্য প্রদর্শনীর উদ্বোধন করল ব্রিটিশ কাউন্সিল

অনলাইন ডেস্ক
জনপরিসর নিয়ে শিল্প ও স্থাপত্য প্রদর্শনীর উদ্বোধন করল ব্রিটিশ কাউন্সিল

রাজধানীর বেঙ্গল শিল্পালয়ে ‘সহাবস্থানের স্থাপত্য: বঙ্গীয় বদ্বীপে জনপরিসরের স্থানিক আখ্যান’ শীর্ষক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। 

আজ রবিবার (২৮ জুন) প্রদর্শনীটি শুরু হয়েছে, যা আগামী ২৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

শিল্প ও স্থাপত্যের সমন্বয়ে আয়োজিত এ আন্ত বিষয়ক প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে নারীবাদী নৈতিকতা, জলবায়ু-সংবেদনশীল পরিকল্পনা এবং জনসম্পৃক্ততা বঙ্গীয় বদ্বীপে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক জনপরিসর গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারে। 

প্রদর্শনীতে স্থানীয় উপকরণ, কারুশিল্পের ঐতিহ্য এবং পরিবেশ-সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপত্যকর্ম স্থান পেয়েছে। এর মাধ্যমে স্থাপত্যকর্মের সঙ্গে মানুষ, স্থান ও প্রকৃতির পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়গুলো নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) বাংলাদেশ গ্র্যান্টস প্রোগ্রামের সহায়তায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থপতি সাইকা ইকবাল মেঘনা ও শুভ্র শোভন চৌধুরী। প্রদর্শনীটির কিউরেটরিয়াল দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং খ্যাতিমান শিল্পী ও কলা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ওয়াকিলুর রহমান।

প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। উদ্যোগটির প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘জনপরিসর, নগর পরিকল্পনা ও স্থাপত্যকে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে। ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোর মাস্টার প্ল্যানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এ পরিকল্পনা জেলা ও উপজেলা শহরেও সম্প্রসারণ করা হবে। প্রতিটি সরকারি প্রকল্পে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং তাদের যথাযথ অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। শহরকে বৃষ্টি, পানি ও জলবায়ুর বাস্তবতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে, এগুলোকে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখলে চলবে না।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান বলেন, ‘সহাবস্থানের স্থাপত্য প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। শিল্প, স্থাপত্য ও উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনী বঙ্গীয় বদ্বীপে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল জনপরিসর গড়ে তোলার নতুন ভাবনা তুলে ধরেছে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) কর্মসূচি এ ধরনের উদ্যোগকে সবসময় সমর্থন করে আসছে যা যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাওয়া খাতগুলোর মধ্যে একটি। পাশাপাশি, এটি বাংলাদেশে জলবায়ু-সংবেদনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ।’

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বলেন, ‘এই প্রকল্পের অংশ হতে পেরে আমরা আনন্দিত। সৃজনশীল অর্থনীতি, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা এ উদ্যোগের লক্ষ্য। শিল্পক্ষেত্রে এই দিকগুলোকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বিশেষ করে নকশা, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে সমাজকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে এবং বিভিন্ন মত ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, শিল্প ও স্থাপত্য কে কাজে লাগিয়ে কীভাবে সবার জন্য অভিন্ন জনপরিসর তৈরি করা যায় তা নিয়ে নতুনভাবে সবাইকে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে এ প্রদর্শনী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য দেন স্থপতি, শিক্ষাবিদ এবং বেঙ্গল ইনস্টিটিউট ফর আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপস অ্যান্ড সেটেলমেন্টসের মহাপরিচালক অধ্যাপক কাজী খালিদ আশরাফ। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এই ইনস্টলেশনটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর নির্মাণ–প্রক্রিয়া। এটি একটি সম্মিলিত প্রক্রিয়া। স্থাপত্যও মূলত সম্মিলিতভাবে গড়ে ওঠে। পোড়ামাটির টালি থেকে শুরু করে স্থানীয় উপকরণ, কারুশিল্প এবং এটি নির্মাণে যুক্ত মানুষের অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে এটি উপকরণ ও নির্মাণশৈলী নিয়ে এক ধরনের অনুসন্ধান। একই সঙ্গে এটি বর্ষা, বদ্বীপ ও জনপরিসরের মধ্যে একটি নতুন সংলাপের সূচনা করে। স্থাপনা, ভূদৃশ্য ও মানুষের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলারও সুযোগ তৈরি করে।’

শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে লিঙ্গসমতা এগিয়ে নেওয়া এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের চলমান অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন এ উদ্যোগ। একই সঙ্গে এটি নারী-নেতৃত্বাধীন সৃজনশীল উদ্যোগ এবং বিভিন্ন শাখার মধ্যে সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে। আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাজ গড়ে তোলা এবং সৃজনশীল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার বৃহত্তর প্রচেষ্টারও অংশ এ আয়োজন।

বিদেশে যাওয়ার আগে নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিতের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদেশে যাওয়ার আগে নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিতের প্রস্তাব

বিদেশে যাওয়ার আগে নারী কর্মীদের জন্য ভাষা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, শ্রম আইন, মানবাধিকার, আত্মরক্ষার কৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ বাধ্যতামূলক প্রাক-প্রস্থান প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার প্রস্তাব উঠেছে। একই সঙ্গে বিদেশে নির্যাতনের শিকার হলে দ্রুত উদ্ধার, আইনি সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয় ও দেশে ফিরে পুনর্বাসনের জন্য সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) রাজধানীতে ‘মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি নারী অভিবাসী শ্রমিকদের সমস্যা, সুরক্ষা ও টেকসই সমাধান’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। কর্মশালার আয়োজন করে ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট (ওয়াইডব্লিউডিআরসি) এবং নারী উন্নয়ন শক্তি (এনইউএস)। সহযোগিতায় ছিল ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ও গ্লোবাল ওয়ার্কফোর্স সার্ভিসেস।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন। তিনি বলেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে নারী শ্রমিকদের বিদেশে যাওয়ার আগে ভাষা শিক্ষা, শ্রম আইন, মানবাধিকার, আত্মরক্ষা, এইচআইভি ও এইডস প্রতিরোধ, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনাবিষয়ক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা উচিত।

প্রধান অতিথি বাংলাদেশ অভিবাসী অধিকার ফোরামের চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন খান বলেন, নারী শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য জাতীয় বাজেটে পৃথক বরাদ্দ রাখতে হবে এবং গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে কার্যকর শ্রম কূটনীতি জোরদার করতে হবে, যাতে তারা মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ ও দ্রুত কনস্যুলার সহায়তা পান।

সভাপতির বক্তব্যে ওয়াইডব্লিউডিআরসির নির্বাহী চেয়ারপারসন নুসরাত সুলতানা আফরোজ বলেন, নিরাপদ অভিবাসন শুধু কর্মসংস্থানের বিষয় নয়, এটি নারীর মর্যাদা, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। এ জন্য সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

কর্মশালায় মধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে ২৪ ঘণ্টার জরুরি সহায়তা কেন্দ্র ও নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন, অবৈধ দালাল ও মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, নির্যাতনের শিকার নারী শ্রমিকদের চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং দেশে ফিরে তাদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

নিমতলী-চুড়িহাট্টার মতো অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে ১১ দফা সুপারিশ বাপার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিমতলী-চুড়িহাট্টার মতো অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে ১১ দফা সুপারিশ বাপার

নিমতলী, চুড়িহাট্টা ও এফআর টাওয়ারের মতো অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে ১১ দফা সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘নিমতলী ট্র্যাজেডি : অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড থামবে কবে?’ শীর্ষক সেমিনারে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির।

১১ দফা সুপারিশগুলো হল : আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম ও ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পকারখানার সম্পূর্ণ স্থানান্তর করতে হবে। জাতীয় রাসায়নিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের আধুনিকায়ন করতে হবে। আইন ও বিল্ডিং কোডের কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল লাইসেন্সিং ও নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের জাতীয় ডেটাবেস ও প্রকাশ্য তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। ভবনের নিরাপত্তা সনদ বাধ্যতামূলক করতে হবে। জরুরি প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। আইন বাস্তবায়নে সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অগ্নিদুর্যোগমুক্ত ও নিরাপদ নগরায়ণে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার করতে হবে। নগর অগ্নি ও রাসায়নিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

সেমিনারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, সমাজের শিক্ষত ও ধনী শ্রেণিদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দেশের আমূল পরিবর্তন সম্ভব। শুধুমাত্র আর্থিক লোভের কারণে কিছু লোক আবাসিক এলাকায় কেমিক্যাল গোডাউনের জন্য বাসা ভাড়া দিয়ে থাকে। এতে নিমতলী-চুড়িহাট্টার মত অগ্নিদুর্ঘটনার শিকার হয় সাধারণ মানুষ। এ বিষয়ে স্থানীয় জনসাধারণকে সচেতন হতে হবে। সচেতনতার পাশাপাশি বিল্ডিংকোড নীতিমালার কঠোর প্রয়োগ দরকার।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন বলেন, দেশের যেকোনো ডিজাস্টারে প্রথমে ফায়ার সার্ভিস কাজ শুরু করে। ভবন তৈরির ক্ষেত্রে সঠিক নীতিমালা মানা হয় না। অনুমোদন ৫ তলা থাকলেও করা হয় ১০ তলা। এটা রাজউক জেনেও কার্যকর কোনো পদক্ষে নেয় না। এ ক্ষেত্রে দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আইনের কঠোর প্রয়োগের কোনো বিকল্প নাই।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, দুর্যোগ নিরসনে সরকারের সঠিক নীতিমালা তৈরি করা দরকার। পরিবেশ ও জনবান্ধবতার কথা চিন্তা করে ঢাকাকে আর বাড়ানো উচিত হবে না। সিটি গভর্নমেন্টের আয়তায় ঢাকাকে আনতে হবে। পরিবেশ ও জনবান্ধব উন্নয়নশীল ঢাকা গড়তে সঠিক ও পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মূল প্রবন্ধে বাপার যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, শিল্পায়নের প্রসার, রাসায়নিকভিত্তিক ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং নগর জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপদ রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, নগর পরিকল্পনা এবং আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ দাহ্য, বিস্ফোরক ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও ব্যবহার হলেও সেগুলোর নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এরই নির্মম পরিণতি ছিল ২০১০ সালের নিমতলী কেমিক্যাল ট্র্যাজেডি। নিমতলী, চুড়িহাট্টা, বনানীর এফআর টাওয়ার, সীতাকুণ্ড বিএম কনটেইনার ডিপো কিংবা সাম্প্রতিক বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ড, বিচ্ছিন্ন কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং নীতিগত ব্যর্থতা, দুর্বল নগর শাসন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার ধারাবাহিক প্রতিফলন।