• ই-পেপার

লক্ষ্মীপুর

অপহরণ মামলার পর দফায় দফায় হামলা, আতঙ্ক

বরিশাল

ছাত্রশক্তি নেতার মামলায় ৪ মৃত আ. লীগ নেতা আসামি

ছাত্রশক্তি নেতার মামলায় ৪ মৃত আ. লীগ নেতা আসামি
সংগৃহীত ছবি

আগ্নেয়াস্ত্রসহ সড়ক অবরোধ, বাধা দেওয়ায় ককটেল ও পেট্রল বোমা নিক্ষেপের অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুসহ ২৪৮ জন নেতাকর্মীর নামে মামলা করা হয়েছে। গত ১০ ও ১৬ জুন আসামিরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আসামিদের মধ্যে ৪ জন মৃত আওয়ামী লীগ নেতার নাম থাকার বিষয়টি প্রকাশ হলে ব্যপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) ব‌রিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপ‌লিটন ম‌্যা‌জিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মরজুক আব্দুল্লাহ। বিচারক এস এম শরীয়ত উল্লাহ অভিযোগ আমলে নিয়ে ব‌রিশাল মেট্রোপ‌লিটন পু‌লিশের উপ ক‌মিশনারকে তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন। 

মৃত ওই ৪ আসামি হলেন– খন্দকার রেজাউর রহমান, ২২৫ নম্বর আসামি এইচ এম হা‌ফিজুর র‌শিদ শিবলী,  ১৯৮ নম্বর আসামি আবুল ফারুক হুমায়ুন এবং  আলী হাওলাদার। তারা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা এবং মামলার ৩-৫ বছর আগে মারা গেছেন। 

মামলায় উল্লেখ করা হয়, আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চলতি বছরের ১০ ও ১৬ জুনে সড়ক অবরোধ ও মিছিল করেছেন। ঠেকাতে গেলে ছুড়েছেন ককটেল ও পেট্রল বোমা। এতে বিঘ্নিত হয়েছে দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় যে তারিখের ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। ওইদিন কোনো ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এর আগে, গত বছরের ১৪ মে ২৪৭ জনের নামে মামলা করেছিলেন তিনি। মারজুক তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল জেলার সাবেক সমন্বয়ক ছিলেন। সেসময় তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে।

ছাত্রশক্তি নেতার ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট লস্কর নুরুল হক। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, মারজুক বরিশাল অঞ্চলের ছেলে নয়। তিনি এর আগে আমাদের বিরুদ্ধে যে মামলাটি করেছিল তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এরপরও ওই মামলায় আমি এক মাসের বেশি সময় কারা ভোগ করেছি। ওই সময় আমি সহ অনেকের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। মামলাটি বিতর্কিত হয়ে যায়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই বিতর্কিত মামলায় অনেককে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। এ কারণেই মারজুক পুনরায় আরেকটি মামলা করতে সাহস পেয়েছে। এই মামলায় আসামির তালিকায় তিনি চারজন প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতার নাম যুক্ত করেছেন যারা তিন থেকে পাঁচ বছর আগে মারা গেছেন।

মামলার বাদী মারজুক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সবগুলো নাম আমি একা সিলেক্ট করিনি। তাই ভুল হতেই পারে।’

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আশিক সাঈদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মামলায় ঘটনার বিবরণ এবং যে তারিখগুলো দেখানো হয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় ওই তারিখে কোনো ঘটনা ঘটেনি। আর মৃত ব্যক্তিদের যদি ঘটনার পরে কোন মামলায় আসামি হিসেবে সম্পৃক্ত করা হয় তা সত্যি দুঃখজনক। যেহেতু বিজ্ঞ আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশকে দায়িত্ব দিয়েছে সেহেতু সঠিক ঘটনা উদঘাটন করেই আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি বিলুপ্ত

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি বিলুপ্ত

ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন ও সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিলের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, ভাঙ্গা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি অনিবার্য কারণবশত আজ ৩ জুলাই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।’

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ভাঙ্গা পৌরসভার হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লাবাসীর সংঘর্ষে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে সুমন শেখ (২০) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

 

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সুমন শেখের বাবা মিলন শেখ বাদী হয়ে ছেলেকে হত্যার অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং ৩০-৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয় ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও হাসামদিয়া মহল্লার বাসিন্দা সজীব মাতুব্বরকে (২৮)।

এদিকে গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে নিহত সুমনের বাড়িতে তার পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে ও কবর জিয়ারত করতে যান ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন ) আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল।

সেখানে তিনি এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘মামলা তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং এই মামলায় কেউ কোনো ইন্টারফেয়ার করবে না, করবে না এবং করবে না। আর এই ঘটনায় যারা অভিযুক্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আজকেই আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আপনারা খবর পাবেন যে, আজই তাদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত আমরা ঘোষণা করছি। এবং এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আপনারা জানতে পারবেন।’

সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির এ ঘোষণা আসে।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি বিলুপ্তের ঘোষণা নিশ্চিত করে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যচিব শাহরিয়ার শিথিল বলেন, ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে নানা সময়ে নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। সর্বোপরি এই কমিটির এক নেতা হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি হয়েছেন। এ মামলা যেন নিরপেক্ষ তদন্ত হতে পারে এবং মামলায় যেন কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বিস্তারের সুযোগ না ঘটে এ কারণে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সুপারিশে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। 

নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় বন্ধুদের সঙ্গে চা খেতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. নাজিম হোসাইন (২৪) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার মোটরসাইকেলে থাকা একই বাড়ির আবির নামে আরো এক তরুণ আহত হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দশঘরিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাজিম উপজেলার পরকোট ইউনিয়নের পূর্ব শোশালিয়া গ্রামের আটঘর এলাকার মিঝি বাড়ির আমিন উল্যার ছেলে। তিনি পেশায় একজন মোবাইল মেকানিক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাজিম ও তার প্রতিবেশী আবির মোটরসাইকেলে আটঘর এলাকা থেকে উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকায় চা খেতে যাচ্ছিলেন। পথে দশঘরিয়া এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে ঢাকা নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাজিম মারা যান। অন্যদিকে, আবিরকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, নিহতের স্বজনরা বিষয়টি পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে আমরা খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সীতাকুণ্ডে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
সীতাকুণ্ডে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডে একটি ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে রবিউল হোসেন নামক এক যুবক। এসময় গৃহবধূ চিৎকার করলে পালিয়ে যায় সে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার  উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের জেলেপাড়ায় জেলে বিপ্লব দাশ সাগরে মাছ শিকারে গেলে গভীর রাতে তার ঘরে ঢুকে যায় রবিউল হোসেন নামক এক যুবক। 
ঘরে ঢুকেই বিপ্লবের স্ত্রীকে একা পেয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এতে তিনি চিৎকার শুরু করলে পালিয়ে যায় ওই যুবক।

উপজেলার বাড়বকুণ্ড জেলেপাড়ার ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, তার স্বামী বিপ্লব মাছ ধরতে সাগরে যাওয়াতে বসতঘরে একা ঘুমাচ্ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রবিউল হোসেন নামে পাশের গ্রামের এক ব্যক্তি ঘরে ঢুকে লাইট জ্বালিয়ে গোপনে ভিডিও করে। এক পর্যায়ে সে গলায় চুরি ধরে শরীরের কাপড় টানাটানি করতে থাকে। এসময় বলতে থাকে এ ঘটনা থানা পুলিশকে জানালে গোপনে ধারণকৃত ভিডিও প্রকাশ করে দেবে। 

কিন্তু গৃহবধূ চিৎকার শুরু করলে অবস্থা বেগতিক দেখে ঘর থেকে বের হয়ে চলে যায়। এসময় একটি মোবাইল ও ৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় রবিউল।

ওই গৃহবধূর স্বামী বিপ্লব দাশ বলেন, বৃহস্পতিবার আমি মাছ ধরতে গেলে আমি ঘরে নেই নিশ্চিত হয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার রবিউল রাতে আমার ঘরে ঢুকে। পরে গলায় ছুরি ধরে আমার স্ত্রীর শ্লীলতাহানি করে, তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

গতকাল শুক্রবার সকালে সাগর থেকে ঘরে আসলে স্ত্রীর মুখে বিস্তারিত শুনে থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানান তিনি।
 
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি, আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।