• ই-পেপার

হবিগঞ্জে কৃষিজমিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই ভাইয়ের মৃত্যু, আহত ২

মুন্সিগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল অজ্ঞাতপরিচয় নারীর

শ্রীনগর (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল অজ্ঞাতপরিচয় নারীর
সংগৃহীত ছবি

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ছনবাড়ী এলাকার আল-মদিনা জামে মসজিদসংলগ্ন রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রেললাইনের ওপর এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা দেওয়ান আজাদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রেললাইনে কাটা পড়া এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মুন্সীগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মৃত্যু

শ্রীনগর (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ছনবাড়ী এলাকার আল-মদিনা জামে মসজিদের পাশের রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রেললাইনের ওপর এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা দেওয়ান আজাদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রেললাইনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর মরদেহ পাওয়া যায়।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত নারীর পরিচয় জানা যায়নি।

পদ্মায় নাব্যতা সংকট

ডুবোচরে ব্যাহত নৌচলাচল, কমছে ইলিশ আহরণ

শরিফুল আলম ইমন, শরীয়তপুর প্রতিনিধি,
ডুবোচরে ব্যাহত নৌচলাচল, কমছে ইলিশ আহরণ
ছবি: কালের কণ্ঠ

পদ্মা নদীর নাব্যতা সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। শরীয়তপুরের জাজিরার মাঝিরঘাট পদ্মা সেতু পয়েন্ট থেকে নড়িয়ার সুরেশ্বর পয়েন্ট পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর জেগে ওঠায় ব্যাহত হচ্ছে নৌচলাচল। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় কমে গেছে ইলিশের বিচরণ ও আহরণ। এতে বিপাকে পড়েছেন জেলে, নৌযান চালক এবং নদীপাড়ের মানুষ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মার মাঝপথে গত দুই বছরে বেশ কয়েকটি বড় ডুবোচর তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জাজিরা অংশ থেকে নতুন চ্যানেল তৈরি হওয়ায় নদীর মূল প্রবাহ অনেকটা সরে গেছে। আগে যেখানে সরাসরি নৌপথ ব্যবহার করা যেত, এখন সেখানে চর পড়ে যাওয়ায় বড় নৌযানগুলোকে দীর্ঘপথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। নাব্যতা সংকটের কারণে নদীর অনেক অংশে পানি কমে গেছে। এতে মাঝনদীর স্বাভাবিক গভীরতা কমে গিয়ে নৌযান চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে। এবং রাতের অন্ধকারে চলাচল আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায়ই নৌযান ডুবোচরে আটকে পড়ছে। এদিকে নদীর তলদেশে পলি জমে ডুবোচর তৈরি হওয়ায় ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণেও প্রভাব পড়েছে। সেই সঙ্গে ভাঙনেরও ঝুঁকি রয়েছে।

স্থানীয় জেলেরা বলছেন, আগে এই অংশে জাল ফেললেই ইলিশ মিলত। এখন নদীর স্রোত ও গভীরতা বদলে যাওয়ায় মাছের চলাচলের পথও পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে আগের তুলনায় আহরণ কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পলি নেমে এসে পদ্মা নদীর বিভিন্ন অংশে জমা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা শেষে নদীর তলদেশে পলি সঞ্চিত হয়ে বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর ও নতুন চর সৃষ্টি করছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গভীরতাও কমে যাচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, গঙ্গা-পদ্মা-যমুনা অববাহিকা দিয়ে বছরে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন টন পলি বাংলাদেশে প্রবেশ করে, যার বড় একটি অংশ নদীর তলদেশে জমা হয়।

পাউবো জানায়, দীর্ঘদিন পরিকল্পিত ড্রেজিং না হওয়ায় শরীয়তপুর অংশে নাব্যতা সংকট আরো জটিল হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে মাঝিরঘাট পদ্মা সেতুর জিরো পয়েন্ট থেকে সুরেশ্বর পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ২৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার নদীপথে একটি হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সুরেশ্বর থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার নদীপথে পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এছাড়া নদীর গভীরতা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে নৌচলাচল ও জলজ সম্পদে। যাত্রীবাহী ট্রলার, কার্গো ও মালবাহী নৌযান চলাচলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে পদ্মা নদী ইলিশের অন্যতম অভিবাসন ও বিচরণ পথ হওয়ায় এর নাব্যতা সংকট মাছের উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নদীর মাঝপথে ডুবোচর সৃষ্টি এবং বিভিন্ন স্থানে গভীরতা কমে যাওয়ায় পদ্মার মূল স্রোত এখন ডান তীর ঘেঁষে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন করে ভাঙনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদীর কোথাও কোথাও গভীরতা নেমে এসেছে মাত্র ৫ থেকে ১০ ফুটে, আবার কিছু অংশে তা ৫০০ ফুটেরও বেশি। গভীরতার এই ব্যাপক তারতম্যের কারণে নদীর প্রবাহে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হচ্ছে, যা তীরভাঙনের ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য বলছে, গত এক দশকে এ অঞ্চলে নদীভাঙনে অন্তত ২০ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছে।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা ও মেঘনা নদীবেষ্টিত শরীয়তপুর জেলায় মোট ৭১ কিলোমিটার নদীপথ রয়েছে। এর মধ্যে নড়িয়া উপজেলার ৫ কিলোমিটার এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলার ১৫ কিলোমিটারসহ মোট ২০ কিলোমিটার

এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। নদীর গভীরতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় না থাকলে ইলিশসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছের বিচরণ ও প্রজনন ক্ষেত্র আরো সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

00

জাজিরার মাঝিরঘাট এলাকার জেলে শুক্কুর মাদবর ও নড়িয়ার সুরেশ্বরের জেলে হানিফ হাওলাদার জানান, তিন দশক ধরে পদ্মায় মাছ ধরলেও এখন আগের মতো ইলিশ মিলছে না। আগে কয়েক ঘণ্টা জাল ফেললেই ভালো পরিমাণ বড় আকারের ইলিশ পাওয়া যেত। এখন সারাদিন নদীতে থেকেও সেই তুলনায় অনেক কম মাছ মেলে। এতে আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় সংসার চালাতে বিকল্প পেশার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, নদীর মাঝখানে চর জেগে ওঠা এবং স্রোতের গতিপথ বদলে যাওয়ায় মাছের স্বাভাবিক বিচরণও কমে গেছে।

নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা এলাকার নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত সোহাগ মাঝি বলেন, ‘নদীর মূল স্রোত এখন তাদের এলাকা ঘেঁষে প্রবাহিত হওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। গত কয়েক বছরে তার প্রায় তিন বিঘা কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তিনি বলেন, বেরিবাঁধ দেওয়ার পর কিছুটা ভাঙন কমেছিল, তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডুবোচর সৃষ্টি ও নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় স্রোতের চাপ আবার বেড়েছে।’ স্থায়ী সমাধানে পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের দাবি জানান তিনি।

সুরেশ্বর-ঢাকা নৌপথে চলাচলকারী এমভি নড়িয়া-৫ এর মাস্টার মিজানুর রহমান বলেন, ‘নাব্যতা কমে যাওয়ায় নদীপথে চলাচল আগের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে তীব্র স্রোতের কারণে নৌযান নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়, আবার বর্ষা শেষে পলি জমে ডুবোচর তৈরি হওয়ায় অনেক সময় নৌযান আটকে যায়। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি ও সময়ের অতিরিক্ত ব্যয় হয়।’

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নদীতে পলি জমে ভরাট হয়ে বড় বড় চর সৃষ্টি হওয়ায় ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ ও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পদ্মা নদীর শরীয়তপুর অংশে একসময় ইলিশের ব্যাপক বিচরণ থাকলেও এখন নদীর গভীরতা ও প্রবাহ কমে যাওয়ায় সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে।

তিনি বলেন, ‘শরীয়তপুরে পদ্মার প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হলেও নাব্যতা সংকটের কারণে ইলিশের চলাচল আগের মতো স্বাভাবিক নেই। ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে চর অপসারণ জরুরি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সজল পারভেজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নদীর নাব্যতা ঠিক রাখতে ড্রেজিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। নদীর বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে মাঝিরঘাট থেকে সুরেশ্বর পর্যন্ত হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ চলছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নোয়াখালীতে ময়লার স্তূপে মিলল নবজাতকের মরদেহ

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে ময়লার স্তূপে মিলল নবজাতকের মরদেহ
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালী জেলা শহরে রাস্তার পাশের ময়লার স্তূপে পড়ে থাকা একটি বাজারের ব্যাগ থেকে সদ্য জন্ম নেওয়া এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে নোয়াখালী পৌর এলাকার উত্তর ফকিরপুরে বিশ্বনাথসংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে কয়েকজন পথচারী ময়লার স্তূপে একটি বাজারের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হলে সেটি খুলে দেখেন। এ সময় ব্যাগের ভেতরে সদ্য ভূমিষ্ঠ এক নবজাতকের মরদেহ দেখতে পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, জন্মের পর নবজাতকটিকে কেউ সেখানে ফেলে রেখে গেছে।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। একই সঙ্গে ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।