ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার এবং মাদকবিরোধী কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় ২৫০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদ শেখ বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। সংঘর্ষ চলাকালে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে তিনিও রয়েছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১ গ্রামের বাসিন্দা এবং মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া মৌজার পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। স্থানীয় আধিপত্য, বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সংঘর্ষে ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ান দীপু, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, তিনজন উপ-পরিদর্শক, কয়েকজন পুলিশ সদস্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, দায়িত্বরত সাংবাদিকসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
সংঘর্ষের কারণে প্রায় চার ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দাঙ্গার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে ২৫০ জনকে শনাক্ত করে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, মামলায় এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




