• ই-পেপার

চাঁদপুরে সিঁধ কেটে চুরি করতে বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধার মৃত্যু

ভালুকায় ট্রাকচাপায় বিক্রয় প্রতিনিধি নিহত

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ভালুকায় ট্রাকচাপায় বিক্রয় প্রতিনিধি নিহত
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের ভালুকায় ট্রাকচাপায় মো. বিল্লাল হোসেন ভূইয়া (৫০) নামের ওষুধ কম্পানির এক বিক্রয় প্রতিনিধি নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভালুকা-গফরগাঁও সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত বিল্লাল হোসেন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কুসুমপুর গ্রামের নান্নু ভূইয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভালুকা উপজেলার চাপরবাড়ী এলাকায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরে মোটরসাইকেলযোগে ভালুকা বাজারের দিকে যাওয়ার সময় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বগুড়ায় চালককে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাই

বগুড়া প্রতিনিধি
বগুড়ায় চালককে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাই
সংগৃহীত ছবি

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পর চালক আব্দুল মান্নান নামে একজনকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। 

সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার দড়িপাড়া গ্রামের কৈ-খালি বিলের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 

নিহত আব্দুল মান্নান (৪৫) বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের গেদা মুন্নার ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। 

জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো রবিবার (২৮ জুন) সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন মান্নান। তিনি বগুড়া শহরের চেলোপাড়া স্ট্যান্ড থেকে সারিয়াকান্দি রুটে অটোরিকশা চালান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সর্বশেষ সহকর্মীরা তাকে চেলোপাড়া স্ট্যান্ডে দেখেন। এরপর তিনি বাড়ি না ফেরায় সোমবার সকাল থেকে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে সারিয়াকান্দির কৈ-খালি বিল এলাকায় স্থানীয়রা একটি অজ্ঞাত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি মান্নানের বলে শনাক্ত করেন।

সারিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফম আসাদুজ্জামান জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পর শ্বাসরোধে চালক মান্নানকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

ওস্তাদ আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গনের ভূমি রক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সর্বদলীয় মানববন্ধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ওস্তাদ আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গনের ভূমি রক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সর্বদলীয় মানববন্ধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

উপমহাদেশের রাগ ও শাস্ত্রীয় সংগীতের মহাসাধক সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন’-এর ভূমি রক্ষার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সর্বদলীয় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সম্পত্তিকে প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ ঘোষণা করে সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব চত্বরে সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন সুরক্ষা কমিটির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সংগীতাঙ্গনের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট মো. সফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহীনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।

এ সময় বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসেন আকন্দ, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জহিরুল হক খোকন, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া খোকন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, জেলা সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন এবং সংগীতাঙ্গনের সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল আলমসহ অন্যরা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সহায়তায় পরিচালিত সংগীতাঙ্গনের ৪৯ শতক জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত এ প্রতিষ্ঠানের ভূমি কোনোভাবেই দখল হতে দেওয়া হবে না। ভূমিদস্যুদের প্রতিহত করতে দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

মানববন্ধন থেকে সংগীতাঙ্গনের জমি রক্ষায় আইনি লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর এই সম্পত্তিকে প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ ঘোষণা করে সংরক্ষণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ১৯৫৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুরাতন জেল রোড এলাকায় ৪৯ শতক জমিসহ বাড়িটি ক্রয় করেন। পরের বছর মৌখিক দানের মাধ্যমে সেখানে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ মিউজিক কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ‘সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন’ রাখা হয়। বর্তমানে সেখানে শাস্ত্রীয় সংগীতসহ শিল্পকলার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

কালাইয়ে দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে ৩০ পরিবারের ঘরে হাঁটু সমান পানি

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
কালাইয়ে দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে ৩০ পরিবারের ঘরে হাঁটু সমান পানি
ছবি : কালের কণ্ঠ

দীর্ঘদিনের খরার পর সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শুরু হওয়া বৃষ্টি কালাই পৌরশহরের কাজীপাড়া মহল্লার অন্তত ৩০টি পরিবারের জন্য দুর্ভোগ ডেকে আনে। প্রায় দেড় ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন বাড়িতে হাঁটুসমান পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রায় দুই শতাধিক মানুষ দুর্ভোগে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ড্রেনের মুখ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানি বের হতে পারেনি। ফলে পুরো মহল্লা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা কাজীপাড়া মহল্লায় পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে বাড়িঘরে ঢুকে পড়ে। সোমবারের বৃষ্টির পর দুপুর পর্যন্ত অনেক পরিবার ঘর থেকে বের হতে পারেনি।

বাসিন্দাদের দাবি, পৌরসভার নির্মিত একটি সরু ড্রেন দিয়েই এতদিন বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতো। তবে মহল্লার ছফির উদ্দিন, কালাম ও আবু সাঈদ নিজেদের জমির ওপর দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে দাবি করে ড্রেনের মুখ বন্ধ করে দেন। এরপর থেকেই জলাবদ্ধতা আরো তীব্র হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন ফারজানা, রজুফা বেগম, রেজিয়া, তমেজ উদ্দিন, বিউটি বেগমসহ অন্তত ৩০টি পরিবার।

ভুক্তভোগী রজুফা বেগম বলেন, “এটা নতুন সমস্যা নয়। বছরের পর বছর একই কষ্ট ভোগ করছি। বারবার পৌরসভায় জানিয়েও স্থায়ী সমাধান হয়নি। আজ চুলার ওপরও পানি উঠে গেছে। রান্না করতে পারিনি।”

স্থানীয় বাসিন্দা বালা মিয়া বলেন, “সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের মেঝে পানিতে তলিয়ে যায়। ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকলেও তা খুলে দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ নেই।”

আরেক বাসিন্দা ফারজানা বলেন, “দিন দিন এ এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরে পানি ঢুকে যায়। চারদিকে ময়লা-আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়ায়। অনেকবার অভিযোগ করেও কোনো সমাধান হয়নি।”

অভিযোগের বিষয়ে ছফির উদ্দিন বলেন, “নকশা অনুসরণ না করে আমাদের ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। দুই সীমানার মাঝখান দিয়ে ড্রেন নির্মাণের পরিবর্তে আমাদের জমির ওপর করা হয়েছে। তাই ড্রেনের মুখ বন্ধ করেছি। আগে জমির বিষয়টির সমাধান করতে হবে।”

এ বিষয়ে কালাই পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, “এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। কয়েকবার ড্রেন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয়দের বাধার কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। সোমবারও জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনের মুখ খুলতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”