• ই-পেপার

সাবেক এমপি ও আ. লীগ নেতা নূর মোহাম্মদ গ্রেপ্তার

সুদের টাকা না দেওয়ায় শিকল বেঁধে নির্যাতন, অতঃপর...

নোয়াখালী প্রতিনিধ
সুদের টাকা না দেওয়ায় শিকল বেঁধে নির্যাতন, অতঃপর...

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে সুদের টাকা আদায় করতে এক অটোরিকশাচালককে অপহরণ করে দুই দিন আটকে রেখে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার (২৮ জুন) বিকালে ৪টায় পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

​ভুক্তভোগী মো. রিপন ভোলার মনপুরা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে সুবর্ণচরের চরমজিদ ভূঁইয়ারহাট এলাকায় বসবাস করেন। অপরদিকে অভিযুক্ত আবুল কাশেম ওরফে কেদা কাশেম সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ ভূঁইয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা।

​ভুক্তভোগী রিপনের অভিযোগ, ‘গত বছর অটোরিকশা কেনার জন্য আমি চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ ভূঁইয়ারহাট এলাকার আবুল কাশেম ওরফে কেদা কাশেমের কাছ থেকে সুদে এক লাখ টাকা ঋণ করি। পরবর্তীতে আমি সেই এক লাখ টাকা পরিশোধও করি। কিন্তু এরপরও আমার কাছে সুদের আরও এক লাখ টাকা দাবি করা হয়।

​তিনি বলেন, হাতিয়ার চানন্দি ও হরণি ইউনিয়ন এবং সুবর্ণচরের বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকানির্বাহ করেন।
দুই দিন আগে আল আমিন বাজার এলাকা থেকে কেদা কাশেমের নেতৃত্বে ৭-৮ জন ব্যক্তি তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। এরপর চোখ বেঁধে তাকে হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের কমান্ডার বাজার এলাকার একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। সেখানে দুই দিন তাকে অনাহারে রেখে নির্যাতন করা হয় এবং ১ লাখ আনতে বলা হয়।

​তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা অটোরিকশাটি বিক্রি করে অভিযুক্তদের ৫০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু এরপরও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। উল্টো সুবর্ণচরের ভূঁইয়ারহাট এলাকায় কেদা কাশেমের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একটি কক্ষে তার পায়ে শিকল বেঁধে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।

​ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, রিপনকে খুঁজতে গিয়ে স্থানীয় আরও দুই যুবক অভিযুক্তদের হাতে আটক হন। পরবর্তীতে প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়। 

​তবে এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আবুল কাশেম ওরফে কেদা কাশেমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে ​চরজব্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দেবাশীষ সরকার জানান, ‘ভুক্তভোগীকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

নোয়াখালী

মামাতো বোনকে তুলে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ

নোয়াখালী প্রতিনিধি
মামাতো বোনকে তুলে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় এক কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সাকিব উদ্দিন (২২) নামে এক তরুণের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা করায় ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তের পরিবারের বিরুদ্ধে।

রবিবার (২৮ জুন) সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন। অভিযুক্ত উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য সোনাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী কিশোরী সম্পর্কে তার আপন মামাতো বোন।

স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে বসবাস করে আসছে। গত ২ জুন তারা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যান। এরপর ৫ জুন বিকেলে কিশোরী তার এক খালাতো বোনকে সঙ্গে নিয়ে বড় বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজবাড়িতে ফেরার পথে অভিযুক্ত সাকিব জোরপূর্বক তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা খালাতো বোন বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান। এরপর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কিশোরীর সন্ধান পাননি। পরে তাকে অভিযুক্তের বাড়ি থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। 

ভুক্তভোগীর বাবা জানান, ঘটনার পর তিনি অভিযুক্তের পরিবার এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে হাতিয়া থানায় ধর্ষণের অভিযোগে গত ১২ জুন মামলা করেন।

তিনি আরো জানান, মামলার পর থেকেই অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। গত ১৬ জুন অভিযুক্তের পরিবারের সদস্য ও বহিরাগত কয়েকজন মিলে তাদের বাড়িতে হামলা চালান। হামলায় তিনিসহ, জ্যাঠা-জ্যাঠি ও শিশুসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হন। পরে তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন এবং হামলার ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা করেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত সাকিব উদ্দিনের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

হাতিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনায় একটি এবং পরবর্তীতে হামলার ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

শিশুকে হত্যার পর পুকুরে ফেলে পালানোর চেষ্টা, আটক মা

জামালপুর প্রতিনিধি
শিশুকে হত্যার পর পুকুরে ফেলে পালানোর চেষ্টা, আটক মা
সংগৃহীত ছবি

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় আট মাস বয়সী ছেলে শাওনকে গলা টিপে হত্যার পর মরদেহ পুকুরে ফেলে পালানোর চেষ্টার অভিযোগে মা শ্রাবন্তী আক্তারকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয়রা।

রবিবার (২৮ জুন) ভোরে উপজেলার ভাবকি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাওন ওই এলাকার হুমায়ূন আহমেদ ও শ্রাবন্তী আক্তার দম্পতির ছেলে। পরে পুলিশ অভিযুক্ত মা শ্রাবন্তী আক্তারকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, 'প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে জামলপুর পৌরসভার কম্পপুর এলাকার মমতাজ আলীর মেয়ে শ্রাবন্তী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। রবিবার ভোররাত ৩টার দিকে স্বামী ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় শ্রাবন্তী শাওনকে নিয়ে ঘর থেকে বের হন। পরে তাকে গলা টিপে হত্যা করে বাড়ির পাশে পুকুরে মরদেহ ফেলে এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। 

পরে তিনি হেঁটে ভাবকি বাজারে পৌঁছলে নিরাপত্তাকর্মীদের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে বাড়িতে ফিরে যেতে বলা হলেও তিনি সেখানে না গিয়ে এক অটোরিকশাচালকের বাড়িতে গিয়ে অটোরিকশা ভাড়া করার চেষ্টা করেন। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাকে আটক করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এদিকে বাড়ির পাশে পুকুরে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় এক ব্যক্তি। পরে স্থানীয়রা শ্রাবন্তীকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করেন।

নিহত শিশুর ফুফু সুমাইয়া বলেন, ‘আমরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। ভোরে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে শাওনকে গলা টিপে হত্যা করে পুকুরে ফেলে পালিয়ে যান। পরে এলাকার লোকজন তাঁকে ধরে নিয়ে আসে। এ সময় এক শিশু পুকুরে শাওনের মরদেহ দেখে চিৎকার করলে আমরা সেখানে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি।’

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে অভিযুক্ত শ্রাবন্তী আক্তারকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি শিশুটিকে হত্যা করে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’

চকরিয়ায় গাড়ি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
চকরিয়ায় গাড়ি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী নোয়াহ গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেলের একজন আরোহী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুজন।

রবিবার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে আটটার দিকে মহাসড়কের চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের মোজাহেরপাড়ার রাস্তার মাথার আমিনের দোকান নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়।

নিহত মোটরসাইকেল আরোহীর নাম মো. মাহবুব আলম (২৫)। তিনি মোজাহেরপাড়ার মৃত আবুল কালামের ছেলে। আহতরা হলেন নিহতের ছোট ভাই মো. সাহেদ ও মো. রাসেল। তাদের উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সড়কের বাঁকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে লাকড়ি স্তূপ করে রাখার কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। এই কারণে দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে।

চকরিয়ার বানিয়ারছড়াস্থ চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মো. আরিফুল আমিন জানান, খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় পতিত গাড়ি দুটি জব্দ করাসহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। এই ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।