ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় টানা ১৪ দিন ধরে আটকে আছেন তিন যুবক। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ভন্দুরচর সীমান্তে অনিশ্চয়তা ও মানবেতর পরিবেশে দিন কাটছে তাদের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভন্দুরচর সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬৬ নম্বর মেইন পিলারসংলগ্ন শূন্যরেখায় ওই তিন যুবক অবস্থান করছেন। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তা প্রতিহত করে। এরপর থেকেই তারা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাঝখানে আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় আটকে রয়েছেন।
আটকে থাকা তিনজন হলেন দেশের সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ (২১) এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাঈম মিয়া (২২)।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের ওই এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বসতি নেই। খোলা আকাশের নিচে রোদ, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যেই তাদের দিন-রাত কাটছে। নিরাপদ আশ্রয় বা মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
ভন্দুরচর এলাকার বাসিন্দা আলতাফ আলী বলেন, ‘এ পরিস্থিতি শুধু ওই তিন যুবকের জন্যই নয়, সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের জন্যও একটি অস্বস্তিকর মানবিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। দুই বাহিনী নিজ নিজ অবস্থানে সতর্ক থাকলেও মাঝখানে আটকে থাকা তিনজনের দুর্ভোগ বাড়ছে।’
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা রাকিব বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই তাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়। কাপড়-চোপড় ভিজে যায়। রাতে ভেজা কাপড় পরেই থাকতে হয়।’
এ বিষয়ে জানতে জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
দুই সপ্তাহ ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা তিন যুবক কবে স্বজনদের কাছে ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সমাধানের ইঙ্গিত মেলেনি। ফলে সীমান্তের শূন্যরেখায় তাদের প্রতীক্ষা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।




